Annapurna Bhandar Re Registration: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম বাতিলের পর পুনরায় কি আবেদন করা যাবে? ৩০০০ টাকা হাতছাড়া?
অন্নপূর্ণা যোজনার দ্বিতীয় দফার টাকা যখন বেশি ১.৩ কোটি মহিলার হাতে পৌঁছেছে, ঠিক তখনই অনেকের মন খারাপ। কারণ, প্রায় ২৬ লাখ আবেদনপত্র এক ঝটকায় ছেঁটেই ফেলেছে সরকার। অনেকে বুঝতেই পারেননি, কেন তাঁদের আবেদন বাতিল হয়েছে। এখন যাদের ফর্ম কাটা গেল, প্রধান প্রশ্ন ঘুরছে—তারা আবার আবেদন করতে পারবেন?
সবকিছু শুরু হয়েছে ডিজিটাল স্ক্রিনিংয়ের কড়া নজরদারিতে। রাজ্য প্রশাসন খুব সোজাসাপ্টা হিসেব কষেছে—১ কোটি ৬০ লাখ আবেদন এসেছিল, সেখান থেকে ২৬ লাখ একবারেই বাদ। একটা গোপন সমীক্ষা হয়, সেখান থেকে ধরা পড়ে প্রায় ২৭ লাখ আবেদনে গলদ আছে।
বাদ পড়ার কারণ: কারও ভারতের নাগরিকত্ব নেই, কারও নাম ভোটার লিস্ট থেকে উধাও, কেউ আবার বহুদিন আগে মারা গেছেন, কেউ বা এলাকা ছেড়ে অন্য কোথাও চলে গেছেন। কেউ কেউ আবার একাধিক অ্যাকাউন্টে টাকা তুলছিলেন। এই সব খামতির কারণেই অনেক ফর্ম বাতিল হয়ে গেছে।
সরকারের নিয়মটা আগাগোড়া স্পষ্ট—শুধু ভারতীয় নাগরিকদের এই সুযোগ। কেউ ভোটার তালিকা বা আধার কার্ডে মিস ম্যাচ লুকোলেন বা SIR তালিকায় নাম নেই, সেটাও ধরা পড়লেই ফর্ম বাতিল।
এই কড়া স্ক্রিনিংয়ে অনেকে নতুন আবেদনের আশা ছেড়ে দিয়েছেন। তবুও মানুষ জানতে চাইছেন—নতুন করে আবেদন করার সুযোগ আসবে কি না। আপাতত সে বিষয়ে সরকারি তরফে কিছু ঘোষণা হয়নি। তাই যাঁদের ফর্ম বাতিল হয়েছে, তাঁরা আপাতত অপেক্ষায় থাকুন—রাজ্য বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন কোনও আপডেট এলে তখনই জানা যাবে।
কারা সরকারি নিয়মে এই টাকা একদমই পাবেন না?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অনেক আগেই পরিষ্কার জানিয়েছিলেন কারা এই প্রকল্পের টাকাটা পাবেন, কারা পাবেন না। সরকার এবার নতুন নিয়ম জারি করেছে—
- যেসব মহিলারা নিয়মিত আয়কর দেন, তাঁদের জন্য এই টাকা নেই।
- যাঁরা কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার, পঞ্চায়েত, পুরসভা বা স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, কিংবা কোনো সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, তাঁরাও এই স্কিমের আওতায় পড়েন না।
- যদি কোনো মহিলার সরকারিভাবে পেনশন চলে আসে, তিনিও অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
ব্যতিক্রম: CAA আইনের আওতায় যাঁরা নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন এবং যাঁদের SIR-সংক্রান্ত মামলা এখনও ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে, তাঁদের মামলার নিষ্পত্তি না-হওয়া পর্যন্ত এই আর্থিক সুবিধা চলতে থাকবে।
অনলাইনে নজরদারি – স্বচ্ছতা পোর্টাল
পুরো প্রসেসটা যাতে স্বচ্ছভাবে চলে আর কোনোভাবে প্রতারণা না হয়, তার জন্য রাজ্য সরকার বিশেষ এক অনলাইন পোর্টাল আনছে। এখানে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ব্লক স্তরের সব সুবিধাভোগীর তালিকা সাধারণ মানুষের চোখের সামনে তুলে ধরা হবে।
জনগণের ভূমিকা: এলাকার বাসিন্দারা চাইলে নিজেরাই লিস্ট দেখে নিতে পারবেন কারা সুযোগ পাচ্ছেন। কেউ দেখলেন, তালিকায় অযোগ্য কারও নাম চলে এসেছে বা যোগ্য কারও নাম বাদ পড়েছে—এখনই সেই অভিযোগ বা আপত্তি এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মেই জমা দিতে পারবেন। বোঝাই যাচ্ছে, এবার পুরো বিষয়টা অনেকটাই মানুষের নিজের হাতে থাকছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, এই পোর্টাল চালু হলে আবেদনকারীরা নিজেরা নিজেদের অবস্থান দেখতে পারবেন এবং কোনো অসঙ্গতি দেখলে তাড়াতাড়ি নজরে আনতে পারবেন। এতে ভুয়ো আবেদন রুখতে আরও সুবিধা হবে এবং যোগ্যরা যাতে বঞ্চিত না হন, সেটাও নিশ্চিত হবে।
অন্নপূর্ণা যোজনা বাতিল ও স্বচ্ছতা পোর্টাল – সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১: কাদের আবেদন বাতিল হয়েছে?
যাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব নেই, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ, আধার-ভোটার মিসম্যাচ, মৃত বা অন্যত্র চলে যাওয়া, একাধিক অ্যাকাউন্ট—এসব কারণে প্রায় ২৬ লাখ আবেদন বাতিল হয়েছে।
প্রশ্ন ২: বাতিল হওয়া আবেদনকারীরা আবার আবেদন করতে পারবেন?
এখনো সরকারি কোনো ঘোষণা নেই। আপাতত অপেক্ষা করতে হবে। কোনো নতুন আপডেট এলে তা জানানো হবে।
প্রশ্ন ৩: কারা এই টাকা পাবেন না?
আয়করদাতা, কেন্দ্র/রাজ্য/পঞ্চায়েত/পুরসভায় চাকরিজীবী, সরকারি পেনশনভোগী—এঁরা টাকা পাবেন না। তবে CAA আবেদনকারী ও SIR ট্রাইব্যুনালের মামলার সময় সুবিধা চলবে।
প্রশ্ন ৪: স্বচ্ছতা পোর্টাল কী কাজ করবে?
সুবিধাভোগীদের তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। স্থানীয় মানুষ চাইলে তালিকা দেখে আপত্তি বা অভিযোগ জানাতে পারবেন, যাতে অযোগ্যরা বাদ পড়ে এবং যোগ্যরা সুবিধা পান।
প্রশ্ন ৫: বাতিলের কারণ কীভাবে জানতে পারব?
সরকারি পোর্টালে লগইন করে নিজের আবেদনের স্ট্যাটাস দেখতে পারেন। তবে নির্দিষ্ট কারণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করা ভালো।
অন্নপূর্ণা যোজনা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ লিংক
গুরুত্বপূর্ণ ব্লগ লিংক
এই পোস্টটি শেয়ার করুন
শেয়ার বাটনে ক্লিক করলেই সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শেয়ার হবে।