ফর্ম বাতিল হয়েছে? আবার আবেদন বা সংশোধনের সুযোগ ঠিকই পাবেন
Annapurna Bhandar update: ফর্ম বাতিল হয়েছে? আবার আবেদন বা সংশোধনের সুযোগ ঠিকই পাবেন অন্নপূর্ণায়—এটা নিজে মুখেই জানালেন মন্ত্রী।
আসলে কথা মতো কাজ চলছে। অন্নপূর্ণা প্রকল্পে টাকা পাচ্ছেন ঠিক ওইসব মহিলা যাঁরা সত্যি সত্যি যোগ্য। সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই পশ্চিমবঙ্গের মহিলারা পাবেন অন্নপূর্ণায় মাসে ৩,০০০ টাকা। শুভেন্দু অধিকারী ও অমিত শাহ সবাই এই আশ্বাস দিয়েছিলেন। এবার ভোট মেটার পর নতুন বিজেপি সরকার ১ জুলাই থেকে যোগ্য মহিলাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠিয়েছে।
Annapurna bhandar scheme অন্নপূর্ণা ভান্ডার স্কিম 2026
যারা টাকা পেলেন না, মূলত যাদের ফর্ম বাতিল হয়েছে, তাদের নিয়ে কিন্তু অনেকের মনেই প্রশ্ন—এবার কি ফেরার কোনো সুযোগ আছে? এই বিষয়টা নিয়েই স্পষ্ট জানালেন মন্ত্রী মালতী রাভা রায়। উনি বললেন, ''ভুল তথ্য, খামতি নথি, বা তথ্য না মিললে ফর্ম বাতিল হতে পারে। কিন্তু সরকারের লক্ষ্য একটাই—যোগ্য মা-বোনদের যেন নথি সংক্রান্ত ভুলে বাদ না পড়তে হয়। এসব ভুল যদি থেকে যায়, তাহলে সংশোধন করে আবার আবেদন করা যাবে।'' নতুন আবেদনও নেওয়া হচ্ছে। মানে, সুযোগ একেবারে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না, হাতে আবার থাকা যাচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও বললেন, ''১ জুলাই থেকে টাকা পাঠানো শুরু। ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদনকারীর তথ্য আপলোড হয়ে গেছে। শুধু ৩ জুন প্রথম ধাপে ২৭ লক্ষ জনের টাকা পাঠানো হয়েছিল। তারপর কয়েক দফায় সবগুলো পরীক্ষা ও আপলোডের কাজ হয়েছে। যাচাইয়ের পর দেখা গেছে, ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদনকারীর মধ্যে ২৬ লাখের মতো ফর্ম বাতিল হয়েছে, বাকি ১ কোটি ৩০ লক্ষের বেশি মহিলার টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে।''
তো, যাদের ফর্ম বাতিল হয়েছে, তারা চিন্তা না করে নথি ঠিকঠাক করে আবার আবেদন করলেই চলবে। পুরনো ভুল না কাটলেও নতুন করে আবার ফর্ম পূরণ করা যাচ্ছে। কাজেই যাঁরা যোগ্য, তাদের জন্য রাস্তা খোলা থাকলো।
Annapurna bhandar status check west bengal
অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা এখনও পাননি? তাহলে দেখে নিন, আপনি তালিকাভুক্ত আছেন কিনা—না হলে, এবারও টাকা পাবেন না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার নেতাজি ইন্ডোরের মঞ্চ থেকে আবার স্পষ্ট জানালেন কারা এই প্রকল্পের যোগ্য, আর কারা নন।
তিনি পরিষ্কার কথায় বললেন(Annapurna bhandar scheme bengali), “লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে যাদের অ্যাকাউন্টে টাকা গিয়েছিল, সেই পুরনো তালিকা দেখে আমরা সার্ভে করেছি। দেখতে পেয়েছি, প্রায় ২৭ লক্ষ মহিলার নাম আছে, যারা ভারতীয় নন, বা ভোটার লিস্টে তাঁদের নাম নেই। মৃত ব্যক্তির নামও ছিল। কেউ এখানে থাকেন না, অথচ তালিকায় নাম আছে—এমন লোকেরও নাম এসেছে। কেউ তিন জায়গায় ভোটার লিস্টে, তিন জায়গায় টাকা তুলেছেন! এই সব নাম আমাদের কাটতে হয়েছে, কারণ সরকারের টাকা কেবল ভারতীয় নাগরিকেরাই পাবেন। অন্য কাউকে দেওয়া হবে না।”
আগে তৃণমূলের সময় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে মহিলারা মাসে দেড় হাজার টাকা পেতেন। বিজেপি ক্ষমতায় এসে প্রকল্পের নাম বদলে করেছেন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’, এবং টাকার অঙ্কও এখন দ্বিগুণ। বুধবার কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, ও হুগলির পাঁচজন মহিলার হাতে এই প্রকল্পের শংসাপত্র তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। সঙ্গে ছিলেন অন্য মন্ত্রী ও মুখ্যসচিবরা।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বললেন, “১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদন পড়েছিল, তার মধ্যে ২৬ লক্ষ ফর্ম বাতিল করা হয়েছে। কারণ, ওরা ক্রাইটেরিয়া মেনেনি। অবশিষ্ট ১ কোটি ৩০ লক্ষের বেশি আবেদন যাচাই-বাছাই করে যোগ্য বলে মানা হয়েছে। আজ দুপুর ১টায় মোট ১ কোটি ৯ লক্ষ ৯২ হাজার ৩৭৮ জনের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। রাত ১২টার মধ্যে বাকিদেরও টাকা পাঠানো হবে।”
আসলে যাচাই-বাছাই কঠোরভাবেই চলছে। ভোটার লিস্টে না থাকলে, ভারতীয় নাগরিক না হলে, একাধিক স্থানে নাম থাকলে, বা কেউ মৃত হলে—তাঁদের কোনওভাবেই সুবিধা মিলবে না। মুখ্যমন্ত্রী আবারও স্পষ্ট জানালেন, সরকারের এই টাকা একমাত্র যোগ্য ভারতীয় নারীরাই পাবেন।
বিজেপি সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি এইবার সত্যি করে দেখাল। কথা ছিল, বাংলার যোগ্য মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনায় ৩০০০ টাকা করে সরাসরি অ্যাকাউন্টে পাবেন। ১ জুলাই থেকেই সেই টাকা পৌঁছেছে অনেকের হাতে।
কিন্তু সবাই কি পেলেন?(Annapurna bhandar scheme bengali) একেবারে নয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই জানালেন, আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ, কিন্তু যাচাইয়ের পর ২৬ লাখের মতো ফর্ম বাতিল হয়ে গেছে। মানে, ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মহিলা এই সুবিধা পাচ্ছেন। প্রথম দফার টাকা পাঠানো হয়েছিল জুনের ৩ তারিখ, তখন ২৭ লাখ নারী পেয়েছেন। এবার আরও বেশি মানুষ পেলেন এই অর্থ।
নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা মালতী রাভা রায় জানালেন, যারা সব নথিপত্র ঠিকঠাক দিয়ে আবেদন করেছেন, তথ্যের কোথাও গরমিল নেই, তাদের নিয়ে চিন্তার কিছু নেই—অর্থ পৌঁছবেই। যাদের এখনও টাকা আসেনি, একটু ধৈর্য ধরলেই বিকেলের মধ্যে পৌঁছে যাবে বলেই আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কারও প্রতি পক্ষপাত নেই, সরকার চায়, প্রকৃতপক্ষে যাঁরা যোগ্য, তাঁরাই যেন এই টাকাটা পান।
তবে একটা কথা, যাঁরা সরকারি চাকরিতে রয়েছেন, তাঁদের জন্য এই প্রকল্প নয়। আর ফর্মে ভুল অথবা অসম্পূর্ণ নথি থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে। সরকার চায়, কারও নথিপত্রে সমস্যার জন্য যেন বঞ্চিত হতে না হয়। তাই যাদের ভুল হয়েছে তারা সংশোধন করে আবার আবেদন করতে পারবেন। এখনও নতুন আবেদন নেওয়ার সময় আছে, দেরি করবেন না। এই যোজনা নারীদের জন্য বড় এক পথ খুলে দিয়েছে।
সংক্ষেপে—বেশিরভাগ মহিলা পেয়েছেন টাকার বার্তা। কেউ বাদ পড়লে, সেটা সাধারণত কাগজপত্রের অসঙ্গতির জন্য। ঠিক করে আবার আবেদন করলেই সুযোগ থাকবে।
গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সরাসরি লিংক
এই পোস্টটি শেয়ার করুন
শেয়ার বাটনে ক্লিক করলেই সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শেয়ার হবে।