অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার টাকা আটকে? স্ট্যাটাস চেক করুন ও জুলাই আপডেট
জুলাই আসতে চলেছে, কিন্তু অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা এখনো অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি? চিন্তা বাড়ছে তো? অনেকেই ভাবছেন, টাকা আদৌ আসবে তো? কী বলছে সরকার, কী করতেই বা হবে — সবটাই জানুন একটু সহজ ভাষায়।
আসলে জুন মাসের প্রথম কিস্তির টাকা অনেকের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে বটে, কিন্তু যারা নতুন আবেদন করেছেন বা কারও সামান্য গোলমাল হয়েছিল, তাদের মনটা মোটেই শান্ত নেই। সবাই প্রায় একটাই প্রশ্ন করছে — জুলাইয়ে টাকা নিশ্চিত পাব তো? জেনে রাখুন, একটু দেরি হলেও ভয় পাবেন না। অনেক সময় টেকনিক্যাল সমস্যা বা ভেরিফিকেশনের কারণে টাকা আটকে যায়।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার স্ট্যাটাস চেক করুন
তাই আগে দেখে নিন, আপনার ফর্মের অবস্থা কী। খুব সহজ—মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে রাজ্য সরকারের সামাজিক সুরক্ষা পোর্টাল (https://socialsecurity.wb.gov.in/ অথবা https://socialregistry.wb.gov.in/) খুলুন। তারপর আধার লিঙ্কড নম্বরে আসা ওটিপি দিয়ে লগ-ইন করুন। স্ক্রিনে 'Track Application' বা ‘অ্যাপ্লিকেশন স্টেটাস’ অপশন পাবেন, ওখানে ক্লিক করলেই হলো।
এরপর, আপনার অ্যাপ্লিকেশন আইডি, আধার নম্বর, বা মোবাইল নম্বর দিয়ে, ক্যাপচা পূরণ করুন। সার্চ করলে জানতে পারবেন ফর্মের বর্তমান অবস্থা। Approved বা Verified লেখা থাকলে বুঝে নিন, যাচাইকরণ শেষ, এবার টাকা আসা শুধু সময়ের অপেক্ষা—সাধারণত ১ থেকে ৭ জুলাইয়ের মধ্যেই পেয়ে যাবেন দ্বিতীয় কিস্তি।
কিন্তু Pending at BDO/SDO দেখা গেলে আন্দাজ করুন অফিসে ফাইলটা আটকে আছে, পুরো খতিয়ে দেখা এখনো বাকি। এ ক্ষেত্রে একটু ধৈর্য ধরুন—১৫ থেকে ৩০ দিনও লাগতে পারে। স্টেটাস একটু পরপর চেক করুন।
Bank Account Invalid বা Rejected দেখালে? তাহলে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ, জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট, অথবা আধারের সঙ্গে নামের মিল নেই—এরকম কোনো সমস্যা আছে। অবিলম্বে আধার লিঙ্কড সিঙ্গল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে স্থানীয় BDO অফিসে হাজির হোন। আর যদি ফর্ম বাতিল হয়ে যায়, বুঝে নিন আপনি এই প্রকল্পের শর্ত মেটাতে পারেননি, বা তথ্যগত কোনো বড় ভুল আছে।
তাহলে মোট কথা—প্রথমে সরকারি পোর্টালে ঢুকে ফর্মের স্টেটাস চেক করুন। ঘাবড়াবেন না, একটু অপেক্ষা আর নিয়মিত খোঁজ রাখলেই কাজ মসৃণ চলবে।
লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে যে সংখ্যক মহিলা সুবিধা পেতেন, অন্নপূর্ণা ভান্ডারে সেই সংখ্যাটা প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ কমে গেছে। অনেকেই ভাবছেন, কেন এত কম মহিলা এই স্কিমের টাকা পাচ্ছেন? অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানালেন, মূল সমস্যা আসলে সরকারি নিয়মে। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা সরাসরি আধার-লিঙ্ক করা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে ডিবিটি-র মাধ্যমে। কারও তথ্য ভুল থাকলে, বা যাচাই ঠিকঠাক না হলে, টাকা পৌঁছতে দেরি হচ্ছে বা আটকে যাচ্ছে।
এটা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও বললেন, "যাঁদের এখনও নাম নথিভুক্ত হয়নি, তারা দুশ্চিন্তা করবেন না। আবেদন এখনো নেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীরাও বাড়ি গিয়ে আবেদনপত্র পূরণে সাহায্য করবেন।"
১ জুলাই নতুন কিস্তিও আসছে, ইতিমধ্যেই ভেরিফিকেশন শেষ হয়েছে ও পোর্টালে আপলোডও হয়ে গেছে। কে কারা এই সুবিধা পাবেন না, সেটা আগেই রাজ্য সরকার জানিয়ে দিয়েছে। আসলে, লক্ষ্মীর ভান্ডারে অনেকেই নানা ডকুমেন্ট ছাড়াই সুবিধা পেতেন। কিন্তু এবার নিয়ম অনেক কড়া হয়েছে। তাই অনেকের নাম কাটা পড়েছে। বারবার আপডেট হচ্ছে তালিকা। সরকার বলছে, কাগজপত্র ঠিক থাকলে, ভুল-ত্রুটি সংশোধন হলেই আবার সুবিধা মিলবে।
কে বাদ পড়ছেন? স্পষ্ট ঘোষণা সরকারের
অনেকে হয়তো অন্নপূর্ণা প্রকল্পের ৩ হাজার টাকা পাবেন না। ঠিক কারা বাদ পড়তে চলেছেন, এবার তা স্পষ্ট হয়ে গেল। রাজ্য সরকারের নতুন ঘোষণা আসতেই খবরটা ছড়িয়ে পড়েছে।
আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিয়েছিলেন, ১ জুলাই থেকে প্রায় এক কোটি পাঁচ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা পাঠাবে সরকার। তৃণমূল যুগে শুরু হয়েছিল ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’—সেখানে প্রতি মাসে ১৫শো টাকা দিত সরকার। এখন বিজেপি সরকার সেই টাকার অঙ্কটা দ্বিগুণ করেছে।
তবে শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, 'লক্ষ্মীর ভান্ডার' চালানোর সময় অনেক অনিয়ম হয়েছিল, এমনকি বহু পুরুষও এই প্রকল্পের টাকা পেয়েছিলেন। এবার এসব রুখতেই সরকার নতুন নিয়ম এনেছে। সবাইকেই নথিপত্র কড়াভাবে যাচাই করা হচ্ছে। শুধু ফর্ম জমা দিলেই হবে না, ভোটার তালিকায় নাম আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানালেন, ‘সবাই তো পেলেন না, কিছু মানুষের নাম বাদ যাবেই। আগে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা অনেকেই পকেট মানি হিসেবে নিচ্ছিলেন, তারা এবার সুবিধা পাবেন না।’ তাঁর মতে, এইবার আর্থিক সামর্থ্য যাচাই করে দেওয়া হচ্ছে টাকা, তাই প্রকৃত প্রাপকের কাছেই সুবিধা পৌঁছবে। তিনি বললেন, ঠিকভাবে পরিকল্পনা করতে পারলে কোনও সমস্যা হবে না।
এখনও ফর্ম ফিলাপ চলছে। অনলাইন-অফলাইন দু’ভাবেই আবেদন করা যাচ্ছে। ফর্ম জমা দিলে পরে অ্যাপ্লিকেশন নম্বর, আধার, মোবাইল নম্বর দিয়ে সহজেই আবেদন স্ট্যাটাস জানা যাবে। সঙ্গে সঙ্গে ফোনে OTP আসবে; সেটি যাচাই করলেই জানা যাবে, আপনার আবেদন কেমন এগোচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সরাসরি লিংক
এই পোস্টটি শেয়ার করুন
শেয়ার বাটনে ক্লিক করলেই সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শেয়ার হবে।