পশ্চিমবঙ্গ যুবশক্তি ভরসা কার্ড ২০২৬ – বেকার যুবক-যুবতীদের মাসিক ৩,০০০ টাকা
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুবশক্তি ভরসা কার্ড প্রকল্পের আওতায় শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীরা মাসিক ৩,০০০ টাকা ভাতা পাচ্ছেন। পূর্ববর্তী যুবসাথী প্রকল্পের ভাতা দ্বিগুণ করে এই নতুন প্রকল্প চালু করা হয়েছে। নিচে সম্পূর্ণ আবেদন পদ্ধতি, যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় নথি বিস্তারিত দেওয়া হলো।
মাসিক ভাতা (টাকা)
লক্ষ সুবিধাভোগী
এককালীন অনুদান
বছর ন্যূনতম বয়স
যুবশক্তি ভরসা কার্ড কী?
প্রকল্পের বিবরণ
যুবশক্তি ভরসা কার্ড (Yuva Shakti Bharosa Card) পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য একটি কল্যাণমূলক প্রকল্প। এটি পূর্ববর্তী 'যুবসাথী' প্রকল্পের স্থলাভিষিক্ত হয়ে মাসিক ভাতার পরিমাণ দ্বিগুণ করেছে। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো বেকার যুবসমাজকে আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করা এবং তাদের চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়তা করা।
সুবিধার পরিমাণ
প্রতি মাসে যোগ্য বেকার যুবক-যুবতীদের ৩,০০০ টাকা ভাতা প্রদান করা হবে। পূর্ববর্তী যুবসাথী প্রকল্পে ছিল মাত্র ১,৫০০ টাকা। পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত এককালীন ১৫,০০০ টাকা অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
সরকারি পোর্টাল
আবেদন ও ভাতার স্থিতি জানার জন্য সরকারি পোর্টাল wb.gov.in বা www.wbswpension.gov.in ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে আজ পর্যন্ত এই প্রকল্পের জন্য একটি স্বতন্ত্র আবেদন পোর্টাল খোলা হয়নি। চালু হলে সরকারি ভাবে জানানো হবে বলে আশা করা যায়।
কারা এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য?
যোগ্যতা যাচাই করুন
আপনি নিচের পোর্টালে গিয়ে মোবাইল নম্বর/আধার দিয়ে যোগ্যতা যাচাই করতে পারেন:
wbswpension.gov.in
যুবশক্তি ভরসা কার্ডের জন্য যোগ্যতার শর্তাবলি
- আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
- আবেদনকারীর বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
- ন্যূনতম মাধ্যমিক পাস বা সমতুল্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
- আবেদনকারীকে সম্পূর্ণ বেকার হতে হবে, অর্থাৎ কোনো সরকারি বা বেসরকারি চাকরি করছেন না।
- স্থানীয় এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে নিবন্ধিত হতে হবে।
- আবেদনকারীর নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকা আবশ্যক, যা আধারের সাথে লিঙ্ক করা আছে।
- আবেদনকারী যদি অন্য কোনো সরকারি পেনশন বা ভাতা পান, তাহলে তিনি এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য নন।
প্রয়োজনীয় নথি
বাধ্যতামূলক নথি
- আধার কার্ড (আধার ওটিপি ভেরিফিকেশনের জন্য)
- পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণ (রেশন কার্ড)
- শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র (মাধ্যমিক)
- বেকারত্বের স্ব-শপথ পত্র
- ব্যাঙ্ক পাসবুকের প্রথম পাতা
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি (২ কপি)
অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি
- এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে নিবন্ধনের সনদ
- মোবাইল নম্বর (ওটিপি যাচাইয়ের জন্য)
- আয়ের সনদপত্র (ইনকাম সার্টিফিকেট) [যদি থাকে]
- ভোটার কার্ড
বিশেষ দ্রষ্টব্য
সমস্ত নথির ফটোকপিতে Self Attested সই করতে হবে। আবেদন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা ফি চাইলে সেটি প্রতারণা। আবেদনের সময় নথিপত্র জাল করবেন না। ভেরিফিকেশনের সময় জাল নথি ধরা পড়লে যোগ্যতা বাতিল হবে।
কীভাবে আবেদন করবেন? (ধাপে ধাপে)
অনলাইন ও অফলাইন আবেদন পদ্ধতি
- ফর্ম সংগ্রহ করুন: স্থানীয় BDO অফিস, পঞ্চায়েত অফিস বা পৌরসভা থেকে যুবশক্তি ভরসা কার্ডের ফর্ম সংগ্রহ করুন। অথবা অফিসিয়াল পোর্টাল থেকে ফর্ম ডাউনলোড করুন।
- ফর্ম পূরণ করুন: ফর্মে নির্ভুল তথ্য লিখে ফর্মে লাগানো ছবি আটকে দিন। ফর্মে ভাতার পরিমাণ ৩,০০০ টাকা লিখুন।
- প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করুন: সব কাগজপত্রের স্ব-স্বাক্ষরিত কপি ফর্মের সঙ্গে জমা দিন।
- জমা দিন: পূর্ণ ফর্ম স্থানীয় BDO অফিস, পঞ্চায়েত অফিস বা পৌরসভায় জমা দিন। আবেদনের একটি রশিদ সংগ্রহ করে রাখুন।
- অনলাইন স্ট্যাটাস চেক করুন: যদি আবেদন অনলাইনে করা যায়, তাহলে অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়ে আবেদনকারীর আইডি/মোবাইল নম্বর দিয়ে আবেদনের স্থিতি জানুন।
সুবিধাসমূহ
মাসিক আর্থিক সহায়তা
যোগ্য সুবিধাভোগীরা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা পাবেন। এই অর্থ সরাসরি DBT পদ্ধতিতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এই সহায়তা চাকরি পাওয়া পর্যন্ত চলবে।
এককালীন অনুদান
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য সরকার অতিরিক্ত ১৫,০০০ টাকা এককালীন অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এটি বই কেনা, কোচিং ফি, বা অন্যান্য প্রস্তুতির খরচে ব্যবহৃত হবে।
দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ
কার্ডধারী যুবক-যুবতীদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থায় নিখরচায় বিভিন্ন কর্মমুখী কোর্সের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। এটি তাদের চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াবে।
যুবসাথী প্রকল্পের সাথে পার্থক্য
যুবসাথী প্রকল্প
পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকার ২০২১ সালে চালু করেছিল। মাসিক ভাতা ছিল ১,৫০০ টাকা। দ্রুত চালু করার কারণে লাখ লাখ যুবক অ্যাপ্লিকেশন করলেও অনেকের নাম উঠেনি যাচাইয়ের অভাবে। প্রায় ৫৫ লক্ষ যুবক নিবন্ধিত হলেও সবাই ভাতা পাননি।
যুবশক্তি ভরসা কার্ড
- মাসিক ভাতা: ৩,০০০ টাকা (দ্বিগুণ)
- এককালীন অনুদান ১৫,০০০ টাকা
- কঠোর যাচাই ব্যবস্থা
- ডিবিটি মাধ্যমে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে
- স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিগত ত্রুটি মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি
জরুরি হেল্পলাইন ও যোগাযোগ
হেল্পলাইন নম্বর
📞 1800 102 2345
📞 033-23341563
📞 033-23371797
সোম-শুক্র, সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কল করুন।
ইমেইল সাপোর্ট
support.swpension-wb@gov.in
secy.wcdsw@gmail.com
যেকোনো প্রশ্ন বা অভিযোগের জন্য ইমেইল করুন।
অফিসিয়াল পোর্টাল
wbswpension.gov.in
jaibangla.wb.gov.in
সকল আপডেট ও স্ট্যাটাস চেকের জন্য ভিজিট করুন। তবে যুবশক্তি ভরসা কার্ডের জন্য নির্দিষ্ট বিভাগ এখনো চালু হয়নি।
‘যুবশক্তি’ নিয়ে একেবারে চূড়ান্ত ঘোষণা হয়ে গেছে বললেই চলে। রাজ্য সরকার এখন ঝাঁপিয়ে পড়েছে বাংলার বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য এই নতুন প্রকল্প চালু করতে। এবার আর ১,৫০০ টাকার ভাতা নয়—‘যুবশক্তি’ এলেই মিলবে গড়গড়ে মাসে ৩,০০০ টাকা। আর, সব কিছু ঠিকঠাক চললে পরবর্তী মাসেই এই টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করবে।
পুরনো ‘যুবশ্রী’ প্রকল্প তো ছিলই, সেখানে ১,৫০০ টাকা বেকার ভাতা মিলত। নতুন ‘যুবশক্তি’ তাতে শুধু টাকার অঙ্কই বাড়াল না, বরং পদক্ষেপটাও অনেক বড়। পাশাপাশি, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এককালীন ১৫,০০০ টাকার অনুদানের কথাও বলা হয়েছিল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে। যদিও, এই এককালীন টাকার ব্যাপারে সরকার কিছু চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়নি এখনও।
এবার যোগ্যতা নিয়ে সংক্ষেপে বলি—আপনাকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতেই হবে, বয়স থাকতে হবে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। মাস্ট, ন্যূনতম মাধ্যমিক পাশ হতে হবে। বেকার মানে, সময়টায় আপনি একেবারে কর্মহীন, সেটা প্রমাণও করতে হবে। সহজ কথায়, চাকরি নেই, পড়াশোনা শেষ, বসে আছেন, তাহলেই মূলত আবেদন করা যাবে।
সরকার এবার একেবারে কড়া যাচাই করবে। আগের ‘যুবশ্রী’ প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের নথিও স্ক্রিনিং হবে। যাতে কোনো ভাবেই অযোগ্য কাউকে টাকা না যায়—এই নিয়েই এতটা জোর দেওয়া হচ্ছে যাচাইকরণে।
আবেদন করতে গেলে যেসব নথি লাগবে, একবার ঠিক করে দেখে রাখুন: ভোটার আইডি, জন্ম শংসাপত্র বা মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, শেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কশিট, নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ডিটেলস, Aadhaar কার্ড—এসব সব এক জায়গায় গুছিয়ে রাখুন। স্ক্যান কপি রাখলে সুবিধা হবে।
এখনও প্রকল্পের অফিশিয়াল লঞ্চের দিনক্ষণ সরকার ঘোষণা করেনি। তবু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কাজ শেষ, পোর্টাল প্রস্তুত। সবুজ সংকেত পেয়েই খুব শিগগির বিজ্ঞপ্তি জারি হতে চলেছে। সূত্র বলে, হয়তো আগামী মাসেই রাজ্যের কয়েক লাখ বেকার যুবক-যুবতী এই ভাতা পেতে শুরু করবে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন—এবার অপেক্ষা শুধু সরকারি বিজ্ঞপ্তির!
এবারের বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের যুবদের গুরুত্ব দিয়ে একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগ দেখা গেছে। অনেক দিন ধরেই রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীরা সরকারি আর্থিক সহায়তার কথা বলে আসছিলেন, বিশেষ করে যাঁরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এবার সরকার সেই দাবিগুলোর দিকে নজর দিয়ে বেশ কিছু নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করল।
‘ভরসা কর্মসূচি’ নামের এই নতুন স্কিম মূলত আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের শিক্ষিত বেকারদের জন্য। বাজেট অনুযায়ী, ২১ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীরা অক্টোবর ২০২৬ থেকে মাসে ভাতা পাবেন। গ্র্যাজুয়েটদের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা, আর অন্যদের জন্য ২ হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছে। তবে এই স্কিমের জন্য ওই পরিবারের বাৎসরিক আয় ১ লাখ টাকার কম হতে হবে এবং তাঁদের অন্য কোনও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত থাকা চলবে না।
নির্বাচনী প্রচারে বিজেপি যেমন যুবদের বিশেষ আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এবার সেটাই বাস্তব রূপ পাচ্ছে। ‘ইয়ুথ শক্তি ভরসা কার্ড’-এ মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার কথা আগেই বলা হয়েছিল। সরকার গঠনের পর সেই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। এখন বাজেটে তার জন্য ফাইন্যান্সিয়াল ব্লুপ্রিন্টও পরিষ্কার হয়ে গেল।
এখানেই শেষ নয়। সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের কথা ভেবে রাজ্যের সব জেলায় ফ্রি কোচিং সেন্টার খোলা হবে। সরকারি বা সরকারপোষিত কলেজের যারা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তারা এককালীন ৩০ হাজার টাকা সহায়তাও পাবে। এই উদ্দেশ্যে বাজেটে ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। এতে শুধু আর্থিক চাপ কমবে না, চাকরিপ্রার্থীরা আরও অনেক বেশি উৎসাহ পাবে সরকারি চাকরির প্রস্তুতিতে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
📰 সর্বশেষ আপডেট
ভাতা দ্বিগুণের ঘোষণা
১৫ মে ২০২৬-এ পশ্চিমবঙ্গ সরকার যুবশক্তি ভরসা কার্ড প্রকল্প চালুর ঘোষণা দেয়। যুবসাথীর ১,৫০০ টাকার পরিবর্তে এখন মাসিক ৩,০০০ টাকা দেওয়া হবে। জুন ২০২৬ থেকে ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে।
এখনো আবেদন শুরু হয়নি
এই মুহূর্তে যুবশক্তি ভরসা কার্ডের জন্য একটি স্বতন্ত্র অনলাইন আবেদন পোর্টাল চালু হয়নি। আবেদনের নির্দিষ্ট তারিখ ও বিস্তারিত পদ্ধতি সরকারি পোর্টালে শীঘ্রই প্রকাশিত হবে বলে সরকার জানিয়েছে।
যুবসাথী তথ্য যাচাই
রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার যুবসাথীর ৫৫ লক্ষ উপভোক্তার তথ্য যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রায় ২৬ লক্ষ আবেদন স্থগিত থাকায় তাদের ভাতা থেমে গিয়েছিল। নতুন করে তাদের তথ্য যাচাই করে যুবশক্তি প্রকল্পের আওতায় আনার চিন্তাভাবনা হচ্ছে।