অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার: এক পরিবারে দুই মহিলা আবেদন করলে নিয়ম কী?
একই পরিবারে দুজন মহিলা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য যোগ্য হলে কি হবে? অনেকেই এ নিয়ে দ্বিধায় পড়েছেন। আসল বিষয়টা একেবারে সোজা—যদি একই পরিবারে দুজন যোগ্য মহিলা থাকেন, দুজনেই সম্পূর্ণ নির্দ্বিধায় আবেদন করতে পারবেন। বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে, পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হলেই চলবে। মেয়ে, বৌমা, শাশুড়ি—এক বা একাধিক—সবাই আলাদা আলাদা আবেদন করতে পারেন। এমনকি এক ছাদের তলায় একসঙ্গে থাকলেও বা একসঙ্গে রান্না করলে কোনো সমস্যা নেই। নিয়মানুযায়ী, যোগ্য হলে প্রত্যেকেই মাসে তিন হাজার টাকা পাবেন।
তবে কোনো বাড়িতে একাধিক পরিবার থাকলে, সেই তথ্য স্পষ্ট করে আলাদা আত্মীয়াবান্ধব ও পরিবারের প্রধান হিসেবে আলাদা দুটো আবেদন করতে হবে। এক্ষেত্রে, কারো জন্যই আবেদন বাতিল হওয়ার ভয় নেই, শুধু নিয়মমাফিক ডকুমেন্ট আর তথ্য ঠিকঠাক সাবমিট করা চাই।
জুলাই মাসে টাকা পাবেন কিনা, সেটা কিভাবে বুঝবেন?
অনেকেই এখনো জানতে পারছেন না, জুলাই মাসে টাকা হাতে পাবেন কিনা। আবেদনের অবস্থা জানতে socialregistry.wb.gov.in ওয়েবসাইটে গিয়ে সিটিজেন বা ফ্যামিলি লগইন সেকশনে যায়; তারপর নিজের জেলা বাছুন, আবেদন করার সময় যে ফোন নম্বর দিয়েছিলেন সেটি লিখুন, এবং সেখানে পাওয়া ওটিপি সাবমিট করুন। যদি দেখেন নতুন ফর্ম খুলে যাচ্ছে, মানে আপনার তথ্য এখনো অনলাইনে ধরা পড়েনি। তখন টাকা পেতে দেরি হতে পারে। কিন্তু যদি দেখেন অ্যাপ্লিকেশন সাবমিটেড দেখাচ্ছে, তাহলে তো কাজ অনেকটাই এগিয়েছে—১ জুলাই থেকেই টাকা পাওয়ার আশা করতে পারেন।
এবার অন্য বিষয়টা—লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে আগের মতো নয়, বিজেপি সরকার এবার অনেক তথ্য যাচাই করছে, কেননা ডকুমেন্ট ঠিক আছে কি না, বা কার হাতে সুবিধা যাবে সেটা দেখছে সরকার। যারা এখনো আবেদন করেননি বা কোনো ঝামেলায় পড়েছেন, তাঁরা সরাসরি রাজ্য সরকারের সোশ্যাল রেজিস্ট্রি পোর্টালে গিয়ে আবেদন করে ফেলুন। আর একটা ব্যাপার খেয়াল রাখবেন, ডিবিটি (Direct Benefit Transfer) লিঙ্ক না করলে টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকবে না।
সবমিলিয়ে, নিয়ম জানুন, ঠিকভাবে ফর্ম পুরুন করুন, প্রয়োজনীয় তথ্য ও ডকুমেন্ট দিন—তাহলেই তিন হাজার টাকা আপনার হাতে। কোনো সন্দেহ থাকলে সরকারি পোর্টালেই যাচাই করুন, অন্য কোথাও বিভ্রান্ত হবেন না। July মাসের প্রথম থেকেই অনেকে টাকা পাচ্ছেন, আপনার অ্যাপ্লিকেশন একদম ঠিক থাকলে আপনিও পাবেন। না পেলে একটু সময় দিন, সরকার বলেছে ধাপে ধাপে সবাইকে দেওয়া হবে।
এক বাড়িতে শাশুড়ি-বউমা – দুজনেই কি পাবেন?
এখন সবার মনে একই প্রশ্ন—এক বাড়িতে দু’জন মহিলা, ধরুন শাশুড়ি-বউমা, কি দুজনেই অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা পাবেন? নিয়মটা একটু বড়সড় পরিবর্তনের পর ঠিক কী বলছে, সেটাই বুঝে নেওয়া দরকার।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চলে গেছে, জায়গা নিয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনা। বাংলার মহিলারা ব্যাপারটা নিয়ে যথেষ্ট উৎসাহী—কারণ ১৫০০ টাকার বদলে এবার ৩০০০ টাকা মিলবে। জুন থেকে ফর্ম ফিলআপ শুরু হয়েছে, চলবে ২৫ অগাস্ট পর্যন্ত। এরই মধ্যে প্রথম দফার টাকা ঢুকে গেছে ব্যাঙ্কে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আরও অনেক মহিলা জুলাইয়ের ১ তারিখে টাকা পেয়ে যাবেন।
এখন বড় প্রশ্ন—এক বাড়িতে যদি দু’জন মহিলা ফর্ম ফিলআপ করে থাকেন, দুজনেই কি টাকা পাবেন?
রাজ্য প্রশাসনের নির্দেশিকা বলছে, এক পরিবারের একাধিক যোগ্য মহিলা সদস্য আবেদন করতে পারেন। কেউ বাদ যাবে না, যদি তাঁরা সমস্ত শর্ত মানেন। যেমন—বয়স ২৫ থেকে ৬০, পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আধার ও ডিবিটি লিঙ্ক থাকতে হবে। এই শর্তগুলো মানতেই হবে, নইলে টাকা ধরা দেবে না।
মা-মেয়ে, শাশুড়ি-বউমা, দুই বোন—যে কেউ যদি ফর্ম পূরণ করেন এবং যোগ্যতা থাকে, আলাদা আলাদাভাবে আবেদন করে ৩ হাজার টাকা পেতেই পারেন। আবার যদি এমন হয়, একই বাড়িতে আলাদা দুই দম্পতি থাকেন, তাঁদের রেশন কার্ড-আধার আলাদা, তাহলে তাঁদেরকে দুটো আলাদা পরিবার হিসাবে ধরা হবে। সেক্ষেত্রে, উভয় পরিবার থেকেই সংশ্লিষ্ট মহিলারা আবেদন করতে পারেন।
সংক্ষেপে, বাড়িতে দু’জন মহিলা দাবি করলে, এবং যদি দু’জনের যোগ্যতা ঠিক থাকে, তাহলে দুজনেই অন্নপূর্ণার টাকা পেতে বাধা নেই। শুধু নিয়ম-কানুনের দিকে খেয়াল রাখলেই চলবে।
গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সরাসরি লিংক
এই পোস্টটি শেয়ার করুন
শেয়ার বাটনে ক্লিক করলেই সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শেয়ার হবে।