কৃষক বন্ধু প্রকল্প ২০২৬ – আবেদন, যোগ্যতা ও টাকা চেক পদ্ধতি
কৃষক বন্ধু প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটা বড় উদ্যোগ, চালু হয়েছিল ১ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে। মুখ্যমন্ত্রী এই প্রকল্পটা চালু করেন মূলত কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা দিতে, আর কেউ অকালমৃত্যুর শিকার হলে পরিবারের আয় যাতে চলে না যায়—সেটা নিশ্চিত করতেই এমন ব্যবস্থা।
এই প্রকল্পে দুটো দিক আছে—
- কৃষক বন্ধু (নিশ্চিত আয়)
- কৃষক বন্ধু (ডেথ বেনিফিট)
নিশ্চিত আয় প্রকল্পে, যাদের জমি এক একর বা তার বেশি, তারা প্রতি একর প্রতি বছরে ১০,০০০ টাকা পাবেন। যাদের জমি এক একরের কম, তারা প্রতি বছরে মোট ৪,০০০ টাকা পাবেন। সঙ্গে, ডেথ বেনিফিট—কোনো কৃষকের অকাল মৃত্যু হলে পরিবার ২ লাখ টাকা পাবে।
পশ্চিমবঙ্গের যে কোনো কৃষক, যাঁর চাষযোগ্য জমি আছে, তিনি এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারেন। ১৭ জুন ২০২১-এ এর নাম বদলে রাখা হয় কৃষক বন্ধু (নতুন)। যাবতীয় টাকা সরাসরি কৃষকদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয় ডিবিটি (ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার) মাধ্যমে।
কে যোগ্য?
- আবেদনকারী পশ্চিমবঙ্গের কৃষক হতে হবে।
- জমির মালিকানা বা অধিকার সংক্রান্ত নথি থাকতে হবে। হতে পারে ROR, পাত্তা, ফরেস্ট পাত্তা, কিংবা ভাগচাষি হিসেবে রেজিস্ট্রেশন।
- ভোটার আইডি দরকার, আধার কার্ড চাই, এবং ব্যাংক পাসবুকের প্রথম পাতার কপি বা বাতিল চেক জমা দিতে হবে।
- আবেদন করতে গেলে নিজের সাম্প্রতিক রং পাসপোর্ট ফটো আর মোবাইল নাম্বারও দিতে হবে।
- কৃষকেরা বছরে দুই কিস্তিতে এই সুযোগ পাবেন। এক একর বা তার বেশি থাকলে রবি ও খারিফ—দুই মৌসুম মিলিয়ে মোট ১০,০০০ টাকা।
- এক একরের কম হলে দুই মৌসুমে মোট ৪,০০০ টাকা।
- মৃত্যু হলে, পরিবারের দাবিদার ২ লাখ টাকা পাবেন, যদি কৃষকের বয়স ১৮-৬০ বছরের মধ্যে হয়।
- ভোটার কার্ড বাধ্যতামূলক।
আবেদন কোথায় জমা দেবেন?
- আপনার স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতে ফর্ম জমা দিন।
- সঙ্গে জমির নথি, ভোটার আইডি, আধার, ব্যাংক ডিটেলস, ফটো, নম্বর লাগবে।
- সব কিছু ঠিকমতো জমা দিলে অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ পাবেন।
- কর্তৃপক্ষ কাগজপত্র যাচাই করে, পরে যেটা সিদ্ধান্ত হয় সেই অনুযায়ী মোবাইল নম্বরে মেসেজ যাবে।
ডেথ বেনিফিট ক্লেম কিভাবে করবেন?
- রেজিস্টার্ড কৃষক মৃত্যুবরণ করলে দাবিদার এই সুবিধা চাইতে পারেন।
- এর জন্য আবেদনপত্র পূরণ করে জমা দিতে হবে। সঙ্গে দিতে হবে মৃত কৃষকের পরিচয়পত্র, মৃত্যুর শংসাপত্র, দাবিদারের পরিচয়পত্র, জমির অধিকার সংক্রান্ত নথি, ও ডিক্লারেশন ফর্ম।
- কৃষি দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর নথি যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
অফিসিয়াল যোগাযোগের নম্বর ও ইমেল:
- হেল্পলাইন: ৮৫৯৭৯৭৪৯৮৯, ৬২৯১৭২০৪০৬
- ইমেল: krishak.bandhu@ingreens.in
এইভাবেই সরাসরি, কোনো ঝামেলা ছাড়াই কৃষকরা সুবিধা পান। সব কাগজপত্র ঠিক থাকলেই কাজ সহজ।
কৃষক বন্ধু প্রকল্পের টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে কিনা, সেটা জানার জন্য অনেকে চিন্তায় থাকেন।
আসলে, একদিনে সবার অ্যাকাউন্টে টাকা যায় না। তাই কাউকে আজ টাকা ঢুকেছে, তো কেউ হয়তো দু’-একদিন পরে পেতে পারেন। চিন্তা না করে দু’-একটা সহজ উপায়ে দেখে নিন টাকাটা ঢুকেছে কিনা।
কৃষক বন্ধু স্ট্যাটাস চেক (krishak bandhu status check)
প্রথমত, আপনি চাইলে সরাসরি কৃষকবন্ধুর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (krishakbandhu.net) যেতে পারেন। সেখানে “কৃষক তথ্য” বা Farmers Information বলে একটা অপশন থাকবে। সেখানে ক্লিক করার পর ভোটার আইডি নম্বর দিয়ে সার্চ করুন। যদি “Transaction Successfully” লেখা দেখতে পান, তাহলে একবার নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স চেক করে দেখুন। টাকা ঢুকে থাকলে ক্লিয়ার হয়ে যাবে। আর সেখানে কিছু রেকর্ড না পেলে, আপনার CSC বা কৃষি সহকারীর অফিসে যোগাযোগ করুন।
আরও সহজ একটা উপায় আছে—আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট দেখুন, বা মোবাইলে যে নম্বরটা ব্যাংকে দেওয়া রয়েছে, সেই নম্বরে কোন মেসেজ এসেছে কিনা সেটা খেয়াল করুন। কৃষক বন্ধু প্রকল্পের টাকা আসলে সাধারণত ২০০০ টাকার মতো আসে। এমন মেসেজ বা এন্ট্রি দেখলে বুঝবেন—টাকা ঢুকে গেছে।
এই প্রকল্পে রবি আর খরিফ ফসলে চাষের জন্য কৃষকরা বছরে দু’বার ৪০০০ থেকে ১০০০০ টাকা পান। কেউ যদি ৬০-র আগে মারা যান, সেক্ষেত্রে পরিবারকে রাজ্য সরকার এককালীন ২ লাখ টাকার সাহায্যও দেয়। অ্যাকাউন্টের তথ্য ঠিকঠাক থাকলে এবং অতিরিক্ত কোনও সমস্যা না থাকলে, একটু অপেক্ষা করলেই আপনার টাকাও চলে আসবে। যত সহজভাবে সম্ভব, নিজেই চেক করে নিন—বাড়তি দৌড়াদৌড়ি করার দরকার নেই।
গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সরাসরি লিংক
এই পোস্টটি শেয়ার করুন
শেয়ার বাটনে ক্লিক করলেই সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শেয়ার হবে।