পশ্চিমবঙ্গ স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড প্রকল্প ২০২৬ – আবেদন, যোগ্যতা ও সুবিধা
পশ্চিমবঙ্গ স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড প্রকল্প – পশ্চিমবঙ্গ সরকার শিক্ষার্থীদের আর্থিক ঝামেলা ছাড়াই পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে এই স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড প্রকল্প চালু করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ৩০ জুন ২০২১-এ এই প্রকল্প শুরু করেন। মাধ্যমিক থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা, গ্র্যাজুয়েশন-পোস্টগ্র্যাজুয়েশন, প্রফেশনাল ডিগ্রি অথবা অন্য যেকোনো কোর্সের জন্য, এমনকি দেশের বাইরেও পড়াশোনার খরচ মেটাতে এই প্রকল্প কাজ করে।
এটা বরাবর পশ্চিমবঙ্গের ছেলেমেয়েরা বছরে ৪% সরল সুদের হারে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারে। লোন শোধে সময়ও দেয়—একেবারে ১৫ বছর পর্যন্ত, মোরাটরিয়াম ও ছুটিসহ।
এই স্কিমে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক লোন দেয়—রাজ্য সমবায় এবং জেলা কুপব্যাঙ্ক, অনুমোদিত রাজ্য কুপব্যাঙ্ক, পিএসইউ, প্রাইভেট ও আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলোও আছে তালিকায়।
সুবিধাসমূহ
- পড়াশোনার নানা খরচে আর্থিক সাহায্য পাবে, যাদের আর্থিক দিক থেকে চাপে পড়তে হয়।
- কোর্সের জন্য কম্পিউটার বা ল্যাপটপ কেনার টাকাও মেলে।
- ১০ লাখ পর্যন্ত জামানত ছাড়াই ঋণ নিতে পারেন।
- টোটাল লোনের ২০% জীবনযাপনের খরচ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে কোর্স চলাকালীন।
- ট্যুর, প্রজেক্ট, ইনস্টিটিউশন ছাড়া অন্য খরচের জন্য মোট ঋণের ৩০% পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে।
- চাইলে বিদেশে গিয়ে পড়াশুনা করতে পারেন এই ঋণেই।
যোগ্যতা
- পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হতে হবে বা অন্তত গত ১০ বছর ধরে এখানকার বাসিন্দা হতে হবে।
- বয়স হতে হবে ৪০ বছরের কম।
- যাঁরা উচ্চ শিক্ষা নিচ্ছেন, কম্পিটেটিভ পরীক্ষার জন্য পড়ছেন বা যেকোনো কোর্স করছেন।
প্রয়োজনীয় দলিলপত্র
- আবেদনকারী আর গ্যারান্টারের ছবি (স্ক্যান করে)
- অভিভাবকের সিগনেচার
- আধার কার্ড
- দশম শ্রেণির সার্টিফিকেট
- ঠিকানার প্রমাণ
- কলেজে ভর্তি হওয়ার রিসিপ্ট
- আবেদনকারী এবং অভিভাবকের প্যান কার্ড
- সাম্প্রতিক পরীক্ষার মার্কশিট
কীভাবে আবেদন করবেন?
দুটি উপায় আছে—অনলাইনে ও অফলাইনে। অনলাইনে করতে চাইলে ওয়েবসাইটের পোর্টালে যেতে হবে, নিজের নাম, জন্ম তারিখ, আধার নম্বর, মোবাইল আর ই-মেল দিন। পাসওয়ার্ড তৈরি করুন, দরকারি তথ্যগুলো জমা দিন (আধার নম্বর, দশম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বোর্ডের নাম) এবং মোবাইল নাম্বার ভেরিফাই করুন। রেজিস্ট্রেশন একবার হয়ে গেলে একটি ইউজার আইডি পাবেন। এবার সেটার মাধ্যমে সাইন ইন করুন, ড্যাশবোর্ডে গিয়ে বিশদ বিবরণ লেখেন, সব দলিল আপলোড করুন।
আরেকটু খেয়াল রাখার মতো বিষয় বলতে গেলে, এখানে ৪% সুদের হারে ১০ লাখ পর্যন্ত লোন মেলে, সময় ১৫ বছর। দেশের বাইরে যারা পড়তে যাবেন, তাঁদের জন্যও এই স্কিমগুলো খোলে। কোর্সের মাঝপথে চাইলে লোনের জন্য আবেদন করা যায়, তবে ভবিষ্যতের কোনো কোর্সের জন্য বা পুরোপুরি ফ্রি কোর্স কিংবা কোনো ফি আগেই মিটিয়ে থাকলে তার জন্য লোন পাওয়া যায় না।
পশ্চিমবঙ্গ স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার শর্ত
পশ্চিমবঙ্গ স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড পেতে হলে, অন্তত ক্লাস ১০ পাশ করা লাগে। আর, তোমাকে পশ্চিমবঙ্গে টানা ১০ বছর থাকতে হয়েছে—এই শর্তটা না মানলে কার্ডটা দেয় না। বয়সও খুব বেশি হতে পারবে না, ৪০ বছরের নিচে থাকতে হবে আবেদন করার সময়।
এখন, সুবিধার কথা বলি। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই স্কিমটা চালু করেছে ছাত্রদের পড়াশোনার খরচ যাতে সহজে মেটানো যায়, সেজন্য। এখানে জামানত-ছাড়া, মাত্র ৪% সুদে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লোন নিতে পারবে। তুমি একটা ডেডিকেটেড ক্রেডিট কার্ড পাবে, সেটা দিয়েই ইচ্ছেমতো লোনের টাকা তুলতে পারবে।
আর কোথায় কাজে লাগবে? ভারতে বা বিদেশে পড়াশুনার জন্য, যেকোনো কোর্স চলুক—স্নাতক, মাস্টার্স, পিএইচডি, এমনকি পোস্টডক্টরালও পড়ো—সবার জন্য চালু আছে। শুধু টিউশন ফি না, হোস্টেলের খরচ, ল্যাপটপ কেনা, স্টাডি ট্যুর বা প্রজেক্টেও এই টাকা ব্যবহার করতে পারবে।
লোনটা শোধ করতে সময়ও দেয় অনেক—১৫ বছর। চাইলে যেকোনো সময় পুরো টাকা একসাথে মিটিয়ে দিতে পারো, এতে বাড়তি কোনো প্রসেসিং ফিও লাগবে না। যদি পড়ার সময়ে সুদ কিস্তি করে দাও, বাকিটা পরে দিলে, তখনও ১% সুদের ছাড় পাবে। আর, এখানকার নিয়ম অনেক সহজ; প্যারেন্টস বা অভিভাবক ছাড়া আর কোনো গ্যারান্টর লাগবে না, কোন অদ্ভুত সমান্তরাল বা জামানতের ঝামেলা নেই।
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- নিজের আর গার্ডিয়ানের রঙিন ছবি
- নিজের আর গার্ডিয়ানের সিগনেচার
- নিজের আধার কার্ড
- দশম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট
- গার্ডিয়ানের ঠিকানার প্রমাণ
- কলেজে ভর্তির প্রমাণ
- প্যান কার্ড (না থাকলে, গার্ডিয়ান বা অঙ্গীকার)
- ফি-র ডিটেল্স দেওয়া ডকুমেন্ট, ব্রোশিওর যে পৃষ্ঠায় সব লেখা আছে সেটার কপি
এই কাগজগুলো আগে গুছিয়ে রাখো।
অনলাইন আবেদন পদ্ধতি (ধাপে ধাপে)
আবেদনের প্রসেস খুব বেশি কঠিন না। পশ্চিমবঙ্গ স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড স্কিমের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ঢোকো। সেখানে 'স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড' অপশনে ক্লিক করো। নতুন ইউজার হলে রেজিস্ট্রেশন দাও—সব ডিটেলস পুরে সাবমিট করো, তোমার একটা ইউজার আইডি আর পাসওয়ার্ড হবে। এরপর লগইন করো, 'স্টুডেন্ট লগইন' বেছে নাও। তোমার অ্যাপ্লিকেশন আইডি আর পাসওয়ার্ড দিয়ে ঢুকো।
এরপর ড্যাশবোর্ডে গিয়ে অ্যাপ্লিকেশন ডিটেলস দেখো, 'ঋণ আবেদন সম্পাদনা করুন' ক্লিক করো। দরকারি সব তথ্য—ব্যক্তিগত, কো-অ্যাপ্লিকেন্ট, বর্তমান আর স্থায়ী ঠিকানা, কোর্স ও আয়ের তথ্য আর ব্যাংক একাউন্টের ডিটেলস—লিখে 'সংরক্ষণ করুন এবং অবিরত থাকুন' দাও। ভুলে যেও না, সব জরুরি ডকুমেন্ট আপলোড করো। যখন সব ফাইনাল, তখন আবেদন জমা দাও। "হ্যাঁ" ক্লিক করলে আবেদন সাবমিট হয়ে যাবে।
এই ব্যবস্থা মেনে সহজে পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র ক্রেডিট কার্ড পাওয়া যায়। এখনই দেরি কোরো না—বাকি পড়াশোনার প্ল্যান শুরু করো!
হেল্পলাইন নাম্বার: ১৮০০-১০২-৮০১৪
ইমেইল: wbscc@bangla.gov.in / contactwbscc@gmail.com
উচ্চ শিক্ষা বিভাগের হেল্পডেস্ক: highereducationwb@gmail.com
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)
১. পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্প চালু করার কারণ কী?
— মহামারির সময় রাজ্যে বেকারত্ব বেড়েছিল। সেই কারণে সরকার এই প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
২. আমি WBSSC স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের জন্য কতবার আবেদন করতে পারি?
— এখন পর্যন্ত সরকার আবেদন করার ওপর কোনো নির্দিষ্ট সীমা দেয়নি। তাই আপনি চাইলে একাধিকবার আবেদন করতে পারেন।
৩. স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের জন্য কি ন্যূনতম আয়ের কোন শর্ত আছে?
— সাধারণত, ছাত্রদের নিজস্ব কোনো আয়ের উৎস থাকে না। সেই কারণেই ব্যাংকগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ এই ক্রেডিট কার্ড দেয়। এখানে আয়ের উৎসের দরকার নেই। চাইলে আগে থেকে খোলা কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেও আবেদন করা যায়।
৪. একজন ছাত্র একাধিক স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড রাখতে পারে কি?
— না, একজন ছাত্রের একটিই স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড থাকতে পারে। যেহেতু ছাত্রদের নামেই নির্দিষ্টভাবে কার্ড ইস্যু হয় এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট ক্রেডিট স্কোর থাকে, তাই একাধিক কার্ডের অনুমতি নেই।
৫. কে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হিসাবে ধরা হবে?
— ছাত্র বা তার পরিবার যদি আবেদন করার তারিখের কমপক্ষে ১০ বছর আগে থেকে পশ্চিমবঙ্গে থাকেন, তাহলে তারা রাজ্যের বাসিন্দা হিসেবে গণ্য হবে।
৬. বসবাসের প্রমাণ হিসাবে কোনো নথি লাগবে?
— না, অনলাইনে আবেদন করার সময় শিক্ষার্থীর স্ব-ঘোষণা গ্রহণ করা হবে, সেটাই যথেষ্ট।
৭. স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড স্কিমে আইটেম-বাই-আইটেম খরচের কোনো সীমা আছে?
— অনুমোদিত মোট ঋণের ২০% পর্যন্ত কোর্স চলাকালীন জীবনযাত্রার খরচে ব্যবহার করা যায়। আর সর্বাধিক ৩০% কোর্সের পুরো সময়ের অ-প্রাতিষ্ঠানিক খরচসহ জীবিকা নির্বাহের জন্য খরচ করা যাবে।
ওয়েবসাইট ও কাস্টমার কেয়ার
অফিসিয়াল পোর্টাল: https://wbscc.wb.gov.in/
হেল্পলাইন নাম্বার: ১৮০০-১০২-৮০১৪
ইমেইল: wbscc@bangla.gov.in / contactwbscc@gmail.com
উচ্চ শিক্ষা বিভাগের হেল্পডেস্ক: highereducationwb@gmail.com
গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সরাসরি লিংক
এই পোস্টটি শেয়ার করুন
শেয়ার বাটনে ক্লিক করলেই সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শেয়ার হবে।