পশ্চিমবঙ্গ যুব শক্তি যোজনা ২০২৬ – ভাতা, যোগ্যতা ও আবেদন

২৩ জুন, ২০২৬ লেখক: Deb Sarkar পড়তে ৫ মিনিট
যুব শক্তি ভরসা কার্ড

পশ্চিমবঙ্গ যুব শক্তি যোজনা, অনেকে একে যুব শক্তি ভরসা কার্ড প্রকল্প বলেও চেনেন, রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য প্রস্তাবিত এক মাসিক ভাতা স্কিম। এটার মূল উদ্দেশ্য–যারা চাকরির জন্য লড়াই করছেন, পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং বা কোনো বৃত্তিমূলক কোর্স করছেন, তারা যেন পড়াশোনার খরচ, যাতায়াত বা ছোটখাটো খরচের দুশ্চিন্তায় না ভোগেন। যারা স্নাতক, তাদের জন্য মাসে ৩,০০০ টাকা আর অন্যান্যদের জন্য ২,০০০ টাকা করে পাওয়ার কথা ঘোষণা হয়েছে এই নতুন প্রকল্পে। আশা করা হচ্ছে, কর্মসংস্থান সন্ধান চলাকালীন সময়ে, এই টাকা কিছুটা হলেও আর্থিক নিশ্চয়তা দেবে।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি এই প্রকল্পের ঘোষণা করে নিজের ইস্তেহারে যোগ করে। বেকার যুবদের মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা এটাকে বড় জনকল্যাণ উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরে।

পরবর্তীতে, ২২ জুন ২০২৬–এর বাজেটে, সরকার প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে। অনেকেই একে এখনও যুব শক্তি ভরসা কার্ড বলছেন, যদিও অক্টোবর ২০২৬ থেকে ‘ভরসা কর্মসূচি’ নামে পুরো রাজ্যে চালু হবে বলেই নির্ধারিত হয়েছে। আগের ‘বাংলার যুব সাথী’ প্রকল্প, যেখানে মাসে ১,৫০০ টাকা ভাতা মিলত, সেটার স্থলাভিষিক্ত হবে এই নতুন স্কিম। সরকার বাজেটে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ও যোগ্যতার শর্তগুলোও স্পষ্ট করে বলে দেয়, আগের ৩,০০০–এর কমিটমেন্ট কিছুটা পরিবর্তন হচ্ছে।

নতুন নীতিমতো, ২১ থেকে ৪৫ বছর বয়স, পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লাখ টাকার নিচে, এমন বেকাররা আবেদন করতে পারবেন। যারা ইতিমধ্যেই অন্য কোনো সরকারি সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তারা বাদ পড়বেন এই স্কিমের আওতায়। বলা বাহুল্য, নির্বাচনের সময় ভাতা সবার জন্য ৩,০০০ টাকা করা হবে বলে জানানো হলেও, বাজেটে সেটা দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে।

এখন স্নাতক বেকাররা পাবেন মাসে ৩,০০০ টাকা, অন্য যোগ্য বেকাররা ২,০০০ টাকা। এটা চাকরির প্রস্তুতি, কোচিং ফি, পড়াশোনার খরচ, ইন্টারনেট বিল বা আসা-যাওয়ার মতো দৈনন্দিন প্রয়োজনে সাহায্য করবে। অনেকেই তো পরীক্ষার প্রস্তুতির চাপে পরিবারের ওপর নির্ভরতায় কষ্ট পান— এই স্কিম সহানুভূতির জায়গা থেকে সেই চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেবে।

পুরো নীতির নানা দিক বাজেটেই জানানো হয়েছে, যদিও আবেদন পদ্ধতি, ডকুমেন্ট লিস্ট, খুঁটিনাটি নিবন্ধনের তারিখ—এসব ব্যাপারে সরকার এখনও বিস্তারিত নির্দেশিকা দেয়নি। তবে অক্টোবর ২০২৬–এ স্কিম চালু হওয়ার কথা, তার আগেই অফিসিয়ালভাবে সব কিছু জানানো হবে।

কেন যুব সমাজ এই স্কিমের জন্য অপেক্ষা করছে?

পশ্চিমবঙ্গে প্রচুর পড়াশোনা করা ছেলেমেয়ে কলেজ–ইউনিভার্সিটি শেষ করেও উপযুক্ত চাকরির খোঁজে বছরের পর বছর হাল ছাড়ে না। বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষার কোচিং, ফর্ম ফি, অনলাইন ক্লাস, যাতায়াত– এসব খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয়। অনেকের পরিবার সামলাতে পারে না এতখানি চাপ।

এমন সময় এই যুব শক্তি প্রকল্প কিছুটা অক্সিজেনের মতো। চাকরির প্রস্তুতি, স্কিল ডেভেলপমেন্ট, অনলাইন কোর্স— এসব চালিয়ে যেতে এবার কিছুটা আর্থিক নিশ্চয়তা থাকবে তাঁদের হাতে।

বিশেষ করে যাদের লক্ষ্য:

  • সরকারি চাকরির পরীক্ষা
  • ব্যাঙ্কিং ও SSC পরীক্ষা
  • রেলওয়ে নিয়োগ
  • টেকনিক্যাল ট্রেইনিং
  • বেসরকারি চাকরির সুযোগ

মাসে ৩,০০০ টাকা পেলে একজন চাকরিপ্রার্থী:

  • কোচিং সেন্টারের মাসিক ফি-র একটা ভালো অংশ মেটাতে পারবেন
  • রেগুলার ইন্টারনেট বিল দিতে পারবেন অনলাইন ক্লাসের জন্য
  • অ্যাপ্লিকেশন ফি জমা দিতে পারবেন
  • চাকরির ইন্টারভিউ বা ট্রেনিংয়ের জন্য যাতায়াতে আর্থিক দুশ্চিন্তা কমবে
  • আর সবচেয়ে বড় কথা, পরিবারের ওপর নির্ভরতাও কিছুটা কমানো যাবে

‘বাংলার যুব সাথী’ প্রকল্পে ৮৪ লাখেরও বেশি আবেদন পড়েছিল। এটা থেকেই বোঝা যায়, রাজ্যে এমন আর্থিক সহায়তার প্রকৃত চাহিদা ঠিক কতটা।

🔹 প্রধান সুবিধা গুলো
  1. স্নাতক বেকাররা মাসে ৩,০০০ টাকা, আর অন্যদের জন্য ২,০০০ টাকা।
  2. বছরে স্নাতকদের টোটাল ৩৬,০০০ টাকা পর্যন্ত পাবেন, আর বাকিরা ২৪,০০০।
  3. কোচিং, পড়াশোনা, ইন্টারনেট, যাতায়াত—সব খাতে ব্যবহার করা যাবে।
  4. পরিবার নির্ভরতায় কমবে চাপ।
  5. টাকা ডাইরেক্ট উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যাবে (ডিবিটি/DBT)।

অনলাইন আবেদন কীভাবে করা যাবে

সরকার আবেদনপত্রের পোর্টাল চালু করলে, এভাবে আবেদন করা যাবে:

  • সরকার নির্ধারিত লিঙ্ক বা পোর্টালে ঢুকতে হবে
  • হোমপেজ থেকে রেজিস্ট্রেশনের অপশন পাবে
  • মোবাইল নম্বর ও আধারের সাহায্যে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে, OTP ভেরিফিকেশন লাগবে
  • এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ রেজিস্ট্রেশন নম্বরও থাকতে হবে
  • সফল রেজিস্ট্রেশনের পর লগইন করে আবেদন ফর্ম পূরণ করা যাবে
  • ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বেকারত্বের তথ্য, ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ডেটেলস সাবধানে দিতে হবে
  • প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে
  • যাবতীয় তথ্য যাচাই করে জমা দিতে হবে

আবেদন জমার পরে একটা রসিদ বা অ্যাপ্লিকেশন আইডি দেয়া হবে, সেটা দেখে পরে পোর্টালে আবেদন স্ট্যাটাস, অনুমোদন, বা পেমেন্ট আপডেট ট্র্যাক করা সম্ভব।

অফলাইনে আবেদন করার জন্য—

  • সরকারি দফতর বা এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ থেকে ফর্ম সংগ্রহ করতে হবে
  • ফর্মে নিজের সব তথ্য ঠিকঠাক পূরণ করতে হবে
  • অফিসিয়াল কাগজপত্র ও ছবি, ব্যাংক ডিটেলস, চাকরির রেজিস্ট্রেশন নম্বর এগুলো জমা দিতে হবে
  • জমা দেয়ার পর আনুষ্ঠানিক অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ পেতে পারেন
  • এরপর দপ্তরের যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে

আরেকটা ব্যাপার—অফিসিয়াল সরকারি পোর্টাল আর অনুমোদিত মাধ্যম ছাড়া কোনো ভুয়ো বা সন্দেহজনক লিঙ্কে বিশ্বাস করবেন না। রেজিস্ট্রেশন বা আপডেট চেক করার জন্য অফিসিয়াল সোর্সই ব্যবহার করা নিরাপদ।


বেকারদের জন্য এবার রাজ্য সরকার নিয়ে আসছে বেশ বড় কিছু। বাজেটে জানানো হয়েছে, ‘যুবশক্তি ভরসা কর্মসূচি’ আসছে আগামী অক্টোবর ২০২৬ থেকে। এর অধীনে ২১ থেকে ৪৫ বছরের শিক্ষিত বেকাররা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা পাবেন যদি তারা গ্র্যাজুয়েট হন, আর অন্যদের জন্য থাকছে ২,০০০ টাকা ভাতা।

কিন্তু সবাই এই সুযোগ পাবেন না। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শুধু সেই পরিবারগুলো যারা মাসে ১ লক্ষ টাকার কম আয় করেন এবং আগে কোনো সরকারি ভাতা বা সুযোগ নিচ্ছেন না, তারাই এই স্কিমে আবেদন করতে পারবে।

যাদের মনে প্রশ্ন—কীরকম কাগজপত্র লাগবে? দরকার পড়বে ভোটার আইডি, জন্মের সার্টিফিকেট বা মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র, মার্কশিট, ব্যাঙ্কের ডিটেলস আর আধার কার্ড। তাই, আগে থেকেই এগুলো গুছিয়ে রাখুন।

বিদায়ী সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে বেকারদের মাসে ১,৫০০ টাকা মিলত। এবার সেই অঙ্ক বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করা হচ্ছে। আরও একটা বড় খবর—যারা সরকারি বা সরকারপোষিত কলেজে পড়ে এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের এককালীন ৩০,০০০ টাকা দেওয়া হবে। বাজেটের মধ্যে ‘যুবশক্তি’ প্রকল্পের জন্য ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে ‘যুবশক্তি’ প্রকল্প নিয়ে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক-যুবতীরা নতুন করে একটু স্বস্তি পাচ্ছেন, সেটা বলাই যায়। সরকার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে, খুব শিগগির সমস্ত নিয়মকানুন ও আবেদন শুরু করার দিন জানিয়ে দেবে। নবান্ন থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিও আসছে।

রাজনীতির প্রতিশ্রুতি এবার বাস্তবে ধরা দিচ্ছে, আর অনেকের মুখে হাসি ফিরতে চলেছে।

পোর্টালের লিঙ্ক হল- https://yubasathi.wb.gov.in/

Banglar Yuba Sathi Help Desk

📞 Help Desk No : 6292248888

✉ Email : yubasathi2026@gmail.com

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

শেয়ার বাটনে ক্লিক করলেই সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শেয়ার হবে।

Deb Sarkar

লেখক: Deb Sarkar

Deb Sarkar পশ্চিমবঙ্গের সরকারি প্রকল্প, কেন্দ্রীয় সরকারি স্কিম, ডিজিটাল পরিষেবা এবং অনলাইন আয়ের বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। তিনি বিভিন্ন সরকারি বিজ্ঞপ্তি, অফিসিয়াল পোর্টাল এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করে পাঠকদের কাছে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করেন।

✓ Fact Checked Content ✓ Government Scheme Researcher ✓ Updated Information