VB–G RAM G: ভিবি-জি রাম জি প্রকল্প

১ জুলাই , ২০২৬ লেখক: Deb Sarkar পড়তে ৬ মিনিট
VB–G RAM G: ভিবি-জি রাম জি প্রকল্প

VB–G RAM G: ভিবি-জি রাম জি প্রকল্প বাংলায় চালু, বাড়ল দৈনিক মজুরি, বাংলার শ্রমিকরা কত পাবেন?

১ জুলাই ২০২৬ থেকে সারা দেশে চালু হয়েছে VB–G RAM G প্রকল্প। এর পুরো নাম ‘বিকশিত ভারত—গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন গ্রামীণ’, যেটা সংক্ষেপে ভিবি-জি রাম জি নামে বেশি চেনা। এই নতুন প্রকল্পে কেন্দ্র সরকার দৈনিক মজুরির নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে। সব রাজ্যেই মজুরি বেড়েছে— এবার দৈনিক মজুরি ন্যূনতম ৩০০ টাকা, বেশিরভাগ জায়গায় ১০ শতাংশ বা তার চেয়েও বেশি বৃদ্ধি। পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, অসম, অরুণাচল প্রদেশ, হিমাচল প্রদেশের মতো রাজ্যে মজুরি প্রায় ১৫-২৫ শতাংশ বেড়েছে। আর কেরালা, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, কর্নাটকে এখন মজুরি ৩৬০ টাকা থেকে ৪০৯ টাকার মধ্যে।

এখন থেকে আগের মতো ১০০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা নয়, বরং ১২৫ দিনের গ্যারান্টি দেবে সরকার— এটা আগেই জানানো হয়েছিল। এবার দৈনিক মজুরির অঙ্ক বাড়ল অফিসিয়ালি।

১ জুলাই থেকে বাংলাতেও চালু হচ্ছে এই ভিবি-জি রাম জি প্রকল্প। রাজ্যে আড়াই কোটির বেশি জব কার্ড হোল্ডার এবার নতুন নিয়মে উপকৃত হবেন। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট আছে— কেন্দ্র থেকে খরচের ৬০ শতাংশ জোগান আসবে, বাকি ৪০ শতাংশ রাজ্য সরকার দেবে। প্রথম বছরে কেন্দ্রের খরচ ৮,৫০৮ কোটি টাকা, রাজ্যের ৫,৬৭২ কোটি।

সেই টাকার বড় অংশ— ৬০ শতাংশ— সরাসরি শ্রমিকদের মজুরির জন্যই বরাদ্দ। বাকি টাকা কাজের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেই খরচ হবে।

মনরেগার জায়গায় নতুন ভিবি-জি রাম জি আইন এনেছে কেন্দ্র। আগের ১০০ দিনের কাজ ১২৫ দিনে উন্নীত হয়েছে, আর কেন্দ্রীয় অনুদান কমে হয়েছে ৬০ শতাংশ— এটা নিয়ে অনেক বিরোধিতা হলেও, সংসদে বিল পাস হয়ে গিয়েছে। এবার সেটা রাজ্যের গ্রামে গ্রামে চালু হচ্ছে।

এদিকে পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানালেন, মনরেগার বকেয়া টাকাও দ্রুত কেন্দ্র মিটিয়ে দেবে। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানও জানালেন, সব ভাউচার আর বিল জমা দিলে বাকি পাওনাও মিটে যাবে।

সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে কোথাও যেন গাফিলতি না হয়, এই বার্তাটাই স্পষ্ট করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দিল্লির ‘সেবা তীর্থ’-এর চার ঘণ্টার সেই বৈঠকে মোদী বারবার বললেন, সবাইকে একসঙ্গে টিম হিসেবে কাজ করতে হবে। আলাদা আলাদাভাবে কোন বিভাগ বা মন্ত্রক যেন নিজেদের মধ্যে ভাগ হয়ে না পড়ে। কাজটা সহজ নয়, কিন্তু দরকারি। তিনি চান, সবাই মিলে একটা সমন্বিত পরিকল্পনা করুক এবং সিদ্ধান্তগুলো যেন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হয়। আর তার জন্য সবাই আরও বেশি করে ‘পিএম গতিশক্তি’ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করুক—এটাই তাঁর পরামর্শ।

এদিন বৈঠকে দেশের প্রায় সব মন্ত্রক ও বিভাগের সচিবরা হাজির ছিলেন। তারা দু’টি দিককে মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তুলে ধরেন—কীভাবে ব্যবসা আরও সহজ করা যায় (ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস) এবং সাধারণ মানুষের জীবন কতটা সহজ করা যায় (ইজ অফ লিভিং)। তার সঙ্গে, আত্মনির্ভর ভারত গড়ার ছবি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে আলোচনায়। কে কী করেছে বা করতে চলেছে, সেই প্রসঙ্গও উঠে এসেছে।

মোদী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত দেশের সারিতে তুলতেই হবে। তাঁর লক্ষ্য, স্বাধীনতার শতবর্ষ পালনের আগেই দেশের চেহারা বদলাতে হবে। আর এর জন্য দ্রুতগতিতে, দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতেই হবে প্রত্যেকটি স্তরে। কোথাও যেন অযথা দেরি বা গাফিলতি না হয়, বিশেষ করে সরকারি প্রকল্পে, নাগরিক পরিষেবায়—এ নিয়ে সচিবদের বাড়তি সতর্ক থাকতে বললেন তিনি।

এছাড়া, সরকারি প্রকল্প সফল কি না, সেটা শুধু বাস্তবায়নেই নয়—সেটা সাধারণ মানুষের জীবনে সত্যিই কতটা বদল আনছে, সেটাও দেখতে হবে বলে পরিষ্কার নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী। কাজটা শুধু কাগজে কলমে শেষ হলেই চলবে না, তার প্রভাব যেন মানুষের জীবনেও পড়ে—এটাই মোদীর জোর।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

শেয়ার বাটনে ক্লিক করলেই সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শেয়ার হবে।

Deb Sarkar

লেখক: Deb Sarkar

Deb Sarkar পশ্চিমবঙ্গের সরকারি প্রকল্প, কেন্দ্রীয় সরকারি স্কিম, ডিজিটাল পরিষেবা এবং অনলাইন আয়ের বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। তিনি বিভিন্ন সরকারি বিজ্ঞপ্তি, অফিসিয়াল পোর্টাল এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করে পাঠকদের কাছে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করেন।

✓ Fact Checked Content ✓ Government Scheme Researcher ✓ Updated Information