Pink card apply west bengal: কারা পাবেন পিঙ্ক কার্ড? পিঙ্ক কার্ড থাকলেই ফ্রি বাস!
পশ্চিমবঙ্গ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে মহিলাদের জন্য ফ্রি বাস ভ্রমণ প্রকল্প ঘোষণা করেছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এবার সেটা বাস্তবে রূপ নিয়েছে। এর পাশাপাশি, অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পও চালু হতে চলেছে — পুরো ব্যাপারটাই নারীর ক্ষমতায়ন আর জনকল্যাণের অংশ।
এই ফ্রি বাস প্রকল্পে, পশ্চিমবঙ্গের সব মহিলা এখন রাজ্য চালিত বাসে বিনা পয়সায় যাতায়াত করতে পারবেন। শুধু শহরেই না, গ্রামেও—যে কোনও স্বল্প বা দীর্ঘ রুটের রাজ্যবাসেই এই সুবিধা মিলবে। সরকার চায় ট্রান্সপোর্ট খরচ কমাতে, যাতে পড়াশোনা, স্বাস্থ্য, অফিসের কাজ বা অন্যান্য জরুরি পরিষেবায় মেয়েরা সহজেই পৌঁছাতে পারে।
ছাত্রী, চাকুরিজীবী, বাড়ির কাজ করা নারী, প্রবীণ মহিলা কিংবা নিম্ন আয়ের পরিবার—সবার জন্যই এই স্কিম বিশাল সুবিধা এনে দেবে। সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করে নারীরা আরও স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবে, আর্থিক দিক থেকে স্বাবলম্বী হবে, আর সমাজ ও অর্থনীতির মূল স্রোতে আরও ভালোভাবে অংশ নিতে পারবে — সরকার সে কথাই বলছে।
সরকার জানিয়ে দিয়েছে, প্রতিটি যোগ্য মহিলা একটি স্মার্ট কার্ড পাবে। তাতে থাকবে QR কোড, ছবি, ও পরিচয় সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য। কার্ডের জন্য আবেদন করতে হবে BDO বা SDO অফিসে। ততদিন স্মার্ট কার্ড হাতে না পেলে, সরকারি অনুমোদিত ফটো আইডি দেখালেই কন্ডাক্টর আপনাকে বাসে চড়ার অনুমতি দেবেন।
শুরুতে, বাস কন্ডাক্টররা আইডি দেখে নারী যাত্রীদের “জিরো ভ্যালু টিকিট” বা “থার্মাল পেপার টিকিট” দেবে। চাইলেই আধার কার্ড, ভোটার আইডি, আয়ুষ্মান ভারত কার্ড, প্যান, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, স্কুল-কলেজ বা সরকারি কর্মী আইডি, পেনশন নথি—এসব যে কোনও একটা দেখালেই হবে।
সরকার চায় এই প্রকল্প ভারতের মধ্যে সবচেয়ে বড় মহিলা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সহায়তামূলক প্রকল্প হয়ে উঠুক। দিল্লি, কর্নাটক, পাঞ্জাব বা তামিলনাড়ুতে এরকম স্কিম বেশ সফল। এবার পশ্চিমবঙ্গেও সেটা চালু হলে, মেয়েদের ক্ষমতায়ন আরও মজবুত হবে, শহর-গ্রাম —সবখানেই, সামাজিক ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়বে।
মূল সুবিধাগুলি তাহলে সংক্ষেপে:
সারা রাজ্যের সব বাসে মেয়েরা ফ্রি ট্রাভেল করতে পারবে।
ছোট বা বড়, সমস্ত রুটের বাসেই এই সুবিধা।
ট্রান্সপোর্ট খরচে আর চাপ থাকবে না।
ছাত্রীদের পড়াশোনা বা কোচিংয়ে যাতায়াত অনেক সহজ হবে।
চাকুরীরত নারীরা আর দিনে দিনে খরচ নিয়ে ভাববেন না।
নিম্ন আয়ের পরিবারের মহিলারা হাসপাতালে, বাজারে, সরকারি পরিষেবায় এখন আরও সহজেই পৌঁছাতে পারবেন।
নারীর ক্ষমতায়ন, চলাফেরা এবং আর্থ-সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ—সবটাই বাড়বে।
যারা এই সুবিধা নিতে চান, তাদের:
অবশ্যই মহিলা হতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
বাসে যাতায়াত করতে হবে।
পরিচয় প্রমাণপত্র দেখিয়ে স্মার্ট কার্ডের জন্য আবেদন করতে হবে।
স্মার্ট কার্ড পেতে লাগবে যেকোনো একটা পরিচয়পত্র, যেমন—আধার কার্ড, ভোটার আইডি, রেশন কার্ড, আয়ুষ্মান ভারত কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, প্যান কার্ড, পাসপোর্ট, পেনশন নথি, সরকারি বা স্কুলের আইডি, বা সম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
এই স্মার্ট কার্ডেই থাকবে QR কোড, ছবি ও যাবতীয় তথ্য। আপনি রাজ্যের যে কোনও বাসে উঠলেই কন্ডাক্টর সেটা দেখে হিসাব বুঝে নেবেন। আর, স্মার্ট কার্ডটা যত্ন করে রাখতে হবে, কারণ এটা ছাড়া আর ফ্রি বাসে চাপা যাবে না।
মোট কথা—পশ্চিমবঙ্গ সরকার ভীষণই জোর দিয়ে চাইছে, মেয়েরা যেন আর বাড়ি বসে না থাকেন, বাইরে বেরিয়ে নিজেদের কাজটা গড়ে তুলতে পারেন। এই ফ্রি বাস স্কিম সে পথকেই সহজ করবে।
পিঙ্ক কার্ড পেলেই সরকারি বাসে ফ্রি-তে যাতায়াত, কীভাবে পাবেন?
এখন পশ্চিমবঙ্গের সরকারি বাসে, হোক সেটা এসি বা সাধারণ, মহিলারা বিনামূল্যে চড়তে পারছেন। কন্ডাক্টরকে শুধু আধার কার্ড, ভোটার কার্ড বা যেকোনও আইডি দেখালেই, সঙ্গে সঙ্গে জিরো টিকিট মিলছে। কিন্তু এই নিয়ম বেশিদিন থাকবে না। খুব শিগগিরেই নতুন নিয়ম আসছে—সরকার এবার চালু করছে ‘পিঙ্ক কার্ড’। এই কার্ড থাকলে আর আইডি দেখাতে হবে না, সহজেই ফ্রি-তে চড়তে পারবেন সব সরকারি বাসে।
কিন্তু এই পিঙ্ক কার্ড-ই বা মিলবে কোথায়? আবেদন-প্রক্রিয়াটা কেমন?
আসলে কিছুদিন আগেই বাজেটে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়ে দিয়েছেন, মহিলা ফ্রি বাস-পরিষেবায় ৫৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। আর ভবিষ্যতে এই ফ্রি-যাত্রা শুধুই পিঙ্ক কার্ড রাখা মহিলারাই পাবেন।
এখনও সরকার থেকে নির্দিষ্ট নিয়ম বেরোয়নি। তবু শোনা যাচ্ছে, ব্লক অফিস (বিডিও), এসডিও বা পুরসভাতে গিয়ে আবেদন করতে হবে। সেখান থেকে ফর্ম পূরণ করে দিলে ভ্যারিফিকেশন হবে, তারপর সব ঠিক থাকলে হাতে তুলে দেওয়া হবে পিঙ্ক কার্ড।
অনলাইনে আবেদন করা যাবে কি না, সে ব্যাপারে এখনও পরিষ্কার কিছু জানায়নি সরকার। যদিও অনেকে বলছেন, অফলাইনের সঙ্গে সঙ্গে অনলাইনেও ফর্ম ফিল-আপের ব্যবস্থা থাকবে, ঠিক যেমন অন্নপূর্ণা যোজনায় আছে। কোন ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করতে হবে, সেটারও আপাতত কোনও ঘোষণা হয়নি।
পিঙ্ক কার্ড কারা পাবেন? রাজ্যে থাকা সব মহিলা, যাদের পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী ঠিকানা রয়েছে এবং যারা ভারতীয় নাগরিক, তারাই পিঙ্ক কার্ডের জন্য উপযুক্ত।
আর এই কার্ড পাওয়ার পর, রাজ্য সরকারের সব বাসেই কম খরচে, মানে একেবারে ফ্রি-তে, যাতায়াত যেমন চলবে, সঙ্গে ডব্লিউবিটিসি, এসবিএসটিসি, এনবিএসটিসি—সব রকম সরকারি বাসেই এই কার্ডের সুবিধা পাবেন।
চিন্তা করছেন দিঘা বা দার্জিলিংয়ের মতো দূরপাল্লার বাসেও ফ্রি-তে যাওয়া যাবে কিনা? হ্যাঁ, কলকাতা থেকে দার্জিলিং কিংবা দিঘার মতো দূরপাল্লার সরকার বাসেও বিনা টিকিটে যাওয়া যাবে। তবে এই নিয়ম পুরোটাই পিঙ্ক কার্ড চালু হওয়ার পর থেকে লাগু হবে।
তাই, এসব বিষয়ে আরও আপডেটের জন্য নজর রাখুন, আর তৈরি থাকুন নতুন পিঙ্ক কার্ডের জন্য।
ওয়েবসাইট https://transport.wb.gov.in/
গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সরাসরি লিংক
এই পোস্টটি শেয়ার করুন
শেয়ার বাটনে ক্লিক করলেই সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শেয়ার হবে।