PMFBY claim status check online: প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা (PMFBY) – লক্ষ্য, সুবিধা আর চ্যালেঞ্জ

২ জুলাই , ২০২৬ লেখক: Deb Sarkar পড়তে ৭ মিনিট
PMFBY প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা

PMFBY, মানে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা, এটা ভারতের কৃষকদের জন্য সরকার চালু করা এক বড় বিমা প্রকল্প। ভাবলে দেখা যায়, ২০১৬ সালের ১৮ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যেটা শুরু করেছিলেন, তার প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো— প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পোকামাকড় কিংবা রোগে ফসল নষ্ট হলে কৃষক যেন আর্থিকভাবে দুর্বল না হয়ে পড়েন, সেই ভরসা দেওয়া। আগের ‘ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল ইন্স্যুরেন্স স্কিম’ (NAIS) আর ‘মডিফায়েড ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল ইন্স্যুরেন্স স্কিম’ (MNAIS)- এই দুইটা প্ল্যানের জায়গায় এটা এসেছে।

প্রধান লক্ষ্যমাত্রা Pradhan Mantri Fasal Bima Yojana

  • দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কৃষকদের হাতে টাকা থাকবে।
  • যাতে কৃষকেরা নিয়মিত চাষাবাদ চালিয়ে যেতে পারেন, সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
  • নতুন বা আধুনিক পদ্ধতি নিতে বুক বাধিয়ে এগোতে উৎসাহ।
  • কৃষিক্ষেত্রে ব্যাংক-ঋণের অবাধ প্রবাহ।

বিমা প্রিমিয়াম কেমন?

এখানে আসল আকর্ষণ হলো, কৃষকদের খুব কম প্রিমিয়াম দিতে হয়— বাকি কেন্দ্র আর রাজ্য সরকার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেয়।

  • খরিফ শস্যে কৃষক দেবেন মোট বিমার ২%।
  • রবি শস্যে দিতে হবে ১.৫%।
  • আর বাণিজ্যিক বা বাগানের শস্যে এই হারটা ৫%।

কী ধরণের ঝুঁকি কভার হয়?

এই স্কিমে চাষাবাদের প্রাথমিক ধাপ থেকেই ফসল কাটার পর পর্যন্ত বেশ কিছুধরণের ঝুঁকি অন্তর্ভুক্ত:

  • অতিবৃষ্টি বা খরার মতো কাণ্ডে যদি বপন বা রোপণই করা না যায়, তাতেও বিমা কভার।
  • চাষ চলাকালীন খরা, বন্যা, পোকামাকড়ের আক্রমণ বা রোগে ফলন কমলে সুরক্ষা আছে।
  • ফসল কেটে মাটিতে শুকাতে দেওয়ার সময়েও যদি ঝড় বা আচানক বৃষ্টি এসে ক্ষতি করে— সেটা পর্যন্ত ১৪ দিনের মধ্যে ঘটলে বিমা থাকছে।
  • ও-হ্যাঁ, এলাকা ভিত্তিক দুর্যোগ, যেমন শিলাবৃষ্টি, ভূমিধস, মেঘভাঙা বৃষ্টি— এই ধরনগুলোর জন্য আলাদা করে ক্ষতিপূরণ হিসাব করা হয়।

প্রযুক্তির ছোঁয়া

শুধু কাগজে-কলমে নয়, আধুনিক প্রযুক্তি জুড়ে দেওয়া হয়েছে প্ল্যানটাতে। ধরুন, কৃষকরা ‘ক্রপ ইন্স্যুরেন্স অ্যাপ’ দিয়ে সোজা আবেদন করতে পারেন, আর ফসলের ক্ষতির খবরও জানাতে পারেন। ড্রোন বা স্যাটেলাইট দিয়ে মাঠে গিয়ে কেন স্যাম্পল নিতে হবে— সেটা কমিয়ে দিয়েছে। পুরো এক ডিজিটাল পোর্টাল— ‘ন্যাশনাল ক্রপ ইন্স্যুরেন্স পোর্টাল’ (NCIP)-এ সব তথ্য থাকে, যাতে সবকিছু ট্র্যাক করা যায়।

কারা সুবিধা নিতে পারে?

ভারতের যেকোনো কৃষক, যারা বিজ্ঞাপিত এলাকায় নির্দিষ্ট ফসল চাষ করেন, চান তো স্কিমে যোগ দিতে পারেন। প্রথমে যারা ঋণে চাষ করতেন, তাদের জন্য বেঁধে রাখা হলেও, এখন চাইলে সকল স্তরের কৃষক নিজ ইচ্ছেতে বিমা নিতে পারেন। অংশীদার চাষি, এমনকী বর্গাচাষী— সবাইকেই এই সুযোগে ধরা হয়েছে।

চ্যালেঞ্জ মানে, সমস্যা তো কিছু থাকেই

ব্যবস্থা ভালো হলেও কিছু চ্যালেঞ্জ সহজে মিটছে না:

  • অনেক সময় রাজ্য সরকার সময়মতো তাদের প্রিমিয়ামের অংশ না দিলে কৃষকেরা দাবি মেটাতে দেরি পান।
  • এখনও অনেক প্রত্যন্ত এলাকার কৃষক জানেনই না, এই প্রকল্পের সুবিধাগুলো বা কোথায় আবেদন করলে হবে।
  • আর যারা ছোট চাষী, তাদের ক্ষেত্রে ফলন কাটা পরীক্ষা (Crop Cutting Experiment)-এর ফল ঠিকঠাক না আসার কারণে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ মেলা নিয়ে অভিযোগও তো থাকেই।

সব মিলিয়ে, PMFBY হয়তো পুরোপুরি ঝামেলামুক্ত নয়, কিন্তু কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর একটা শক্ত ব্যবস্থা তৈরি করেছে, এটা বলাই যায়।

কীভাবে আবেদন করবেন? Pmfby New farmer registration

প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা এখন রাজ্যের কৃষকদের জন্যও পাওয়া যাচ্ছে। প্রকল্পটা ২০১৬ সালে চালু হয়েছিল, তখন নরেন্দ্র মোদী নিজে ঘোষণা করেছিলেন। আগের ‘জাতীয় কৃষি বিমা প্রকল্প’ এবং ‘সংশোধিত জাতীয় কৃষি বিমা প্রকল্প’—এগুলোকে একেবারে সরিয়ে একটাই নতুন ব্যবস্থা হয়েছে। এখন রাজ্যের কৃষকদের সামনে দরজা খুলে গেছে, চাইলে সবাই এই বিমার সুযোগ নিতে পারেন।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হলে কৃষকরা আর্থিক ক্ষতি সাধন করতে পারেন। দ্রুত এবং স্বচ্ছ কাজের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি বাধ্যতামূলক হয়েছে—এখন drone, satellite image এই ধরনের টেকনোলজির ব্যবহার হচ্ছে। Crop Insurance app দিয়ে সরাসরি আবেদন করা যায়, আর ক্ষতির খবরও দেওয়া যায়। National Crop Insurance Portal (NCIP) যেটা আছে, সেখানে সব কিছু এক জায়গায় রাখা হয়— সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।

প্রিমিয়াম নিয়ে অনেকের প্রশ্ন থাকে—কত লাগবে? বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খুব কম। খরিফ ফসলের জন্য মোট বিমার টাকার ২% দিতে হয়, রবি ফসলে ১.৫%, আর ব্যবসায়ী বা উদ্যানপালন ফসলে ৫%। এই কম টাকা দিয়ে বিমা হয়ে যায়। বাকি টাকা কেন্দ্র আর রাজ্য সরকার ভাগ করে দেয়।

এখন ওয়েবসাইটে গিয়ে (https://pmfby.gov.in/) বিস্তারিত তথ্য, প্রিমিয়াম ও ব্যাংকিং সংক্রান্ত সব কিছু পাওয়া যায়। ‘Farmer Corner’-এ গিয়ে মোবাইল নম্বর আর আধার কার্ড নম্বর দিয়ে নাম রেজিস্টার করা যায়। অনলাইনে অনেকেই আবেদন করেন, কিন্তু চাইলে স্থানীয় CSC কেন্দ্র বা নিজের ব্যাংকেও আবেদন করা সম্ভব। আবেদন করতে আধার কার্ড, জমির কাগজ, ব্যাংক পাসবুক—এগুলো লাগবে।

দ্রুত পরিষ্কারভাবে জানতে চাইলে: PMFBY প্রকল্পের জন্য ৪৪৪৭ নম্বরে ফোন করা বা ৭০৬৫৫১৪৪৪৭ নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ করতে পারেন।

সব কৃষকই এই সুবিধা নিতে পারবেন। আগে ঋণগ্রহীতা কৃষকদের জন্য বাধ্যতামূলক থাকলেও, এখন সবাই চাইলে আবেদন করতে পারেন। আরও তথ্য পেতে https://pmfby.gov.in/ ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখে নিতে পারেন।

গুরুত্বপূর্ণ ব্লগ লিংক

কারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাবেন না? আয়ুষ্মমান কার্ড সরকারি সুবিধা পেতে শুরু হচ্ছে ‘জনকল্যাণ শিবির’ অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা আটকে? যুবশক্তি প্রকল্প ২০২৬ অনলাইন আবেদন yuva shakti card apply onlin বার্ধক্য ভাতা কিভাবে চেক করবেন? সহজ ভাষায় স্ট্যাটাস | Bardhoka vata status check অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার স্ট্যাটাস চেক করুন কৃষক বন্ধু স্ট্যাটাস চেক (krishak bandhu status check) মিড ডে মিল স্কিম (mid day meal scheme) তপশিলী বন্ধু প্রকল্প অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার: এক বাড়িতে শাশুড়ি-বউমা – দুজনেই কি পাবেন? পশ্চিমবঙ্গ পিঙ্ক কার্ড – Pink Card Status Check স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড Student credit card apply সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা Sukanya Samriddhi Yojana প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা | PM Ujjwala Yojana apply online VB–G RAM G: ভিবি-জি রাম জি প্রকল্প Pink card apply west bengal পিঙ্ক কার্ড Annapurna Bhandar update news অন্নপূর্ণা ভান্ডার যোজনা প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা (PMFBY)

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

শেয়ার বাটনে ক্লিক করলেই সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শেয়ার হবে।

Deb Sarkar

লেখক: Deb Sarkar

Deb Sarkar পশ্চিমবঙ্গের সরকারি প্রকল্প, কেন্দ্রীয় সরকারি স্কিম, ডিজিটাল পরিষেবা এবং অনলাইন আয়ের বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। তিনি বিভিন্ন সরকারি বিজ্ঞপ্তি, অফিসিয়াল পোর্টাল এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করে পাঠকদের কাছে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করেন।

✓ Fact Checked Content ✓ Government Scheme Researcher ✓ Updated Information