কারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাবেন না? পরিষ্কার জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
রাজ্যে ইতিমধ্যেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যোজনা চালু হয়েছে। এই প্রকল্পে মাসে মাসে যোগ্য মহিলারা ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। ইতিমধ্যেই ৭৯ লক্ষ মা-বোনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা পৌঁছে গিয়েছে। কিন্তু কারা এই টাকা পাবেন না – তা পরিষ্কার করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাবেন না যারা
নন্দীগ্রামে জনকল্যাণ শিবিরের সূচনা অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, নিচের ব্যক্তিরা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাবেন না:
- বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা – যাঁরা ভারতীয় নাগরিক নন।
- যাঁরা সন্তানদের টিকা (ভ্যাকসিন) দেন না।
- যাঁরা সন্তানদের সরকারি বা সরকারি অনুমোদিত স্কুলে ভর্তি করেন না।
- যাঁরা এমন জায়গায় ছেলে-মেয়েদের ভর্তি করান যেখানে ‘বন্দে মাতরম’ বা জাতীয় সঙ্গীত গাইতে অসুবিধা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, "যারা আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন, তাঁরা-সহ নতুন করে যারা টাকা পেতে চান, তাঁদের নতুন করে আবেদন করতে হচ্ছে।" অনলাইনে ও অফলাইনে ফর্ম জমা দেওয়া যাচ্ছে। ৩ জুন থেকে টাকা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে এবং সোমবার সকাল পর্যন্ত ৭৯ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করা হয়েছে।
ফর্ম নিয়ে সমস্যা? সরকার পাশে আছে
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আজ সকালের হিসাব ৭৯ লক্ষ মা-বোনেদের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণার ভাণ্ডারের টাকা পড়েছে। স্বচ্ছতার কারণেই এত বড় ফর্ম পূরণ করতে হচ্ছে। আপনারা সহযোগিতা করুন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব। আগের সরকারের আমলে প্রচুর দুর্নীতি হয়েছে। কয়েক লক্ষ পুরুষের অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা জমা হয়েছে। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার অধিকার শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকদের।"
তিনি আরও আশ্বস্ত করে বলেন, "ফর্ম নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ নেই। দরকারে ফর্ম ফিলআপ করাতে বাড়িতে পাঠাব কর্মচারীদের, সহযোগীদের। যাতে পোর্টালে আপলোড করা, ফর্ম ভরা ঠিকঠাক করা যায়।"
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্য
- প্রকল্পের নাম: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যোজনা
- সুবিধার পরিমাণ: মাসিক ৩,০০০ টাকা
- যোগ্যতা: ২৫-৬০ বছর বয়সী পশ্চিমবঙ্গের মহিলারা
- আবেদন প্রক্রিয়া: অনলাইনে (wb.gov.in) ও অফলাইনে (BDO/পঞ্চায়েত অফিস)
- টাকা জমা হয়েছে: ৭৯ লক্ষ সুবিধাভোগীর অ্যাকাউন্টে (১৫ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত)
আপনি কীভাবে আবেদন করবেন?
যাঁরা এখনো আবেদন করেননি, তাঁরা দ্রুত নিকটস্থ BDO অফিস, পঞ্চায়েত অফিস বা পৌরসভা থেকে ফর্ম সংগ্রহ করে জমা দিতে পারেন। প্রয়োজনীয় নথির মধ্যে আছে আধার কার্ড, রেশন কার্ড, ব্যাঙ্ক পাসবুক ও মোবাইল নম্বর। ফর্ম পূরণে সমস্যা হলে স্থানীয় কর্মচারীদের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এই পোস্টটি শেয়ার করুন
শেয়ার বাটনে ক্লিক করলেই সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শেয়ার হবে।