অন্নপূর্ণা যোজনায় বড় পরিবর্তন: সিভিক ভলান্টিয়ার, আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা বাদ
অন্নপূর্ণা যোজনার নতুন নিয়মে এবার সিভিক ভলান্টিয়ার, আশাকর্মী, এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা বাদ পড়লেন। এর ফলে প্রায় ২৮ লাখ আবেদনকারী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। রাজ্যজুড়ে গত কয়েক মাস ধরে একটা প্রশ্ন ঘুরছিল—আসলে কারা অন্নপূর্ণা প্রকল্পের সুবিধা পাবেন? এবার কিছুটা পরিষ্কার হলো সেটা।
কঠোর নিয়ম: সরকারি পর্যালোচনা বৈঠকের মিনিটসে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সরকারি খাত থেকে সম্মানী বা পারিশ্রমিক পেলেই সেই পরিবার অন্নপূর্ণা থেকে বাদ।
কাদের বাদ দেওয়া হচ্ছে?
মূল বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, কোনো মহিলা সরকারি চাকরিজীবী হলে বা পরিবারের কেউ আয়কর দিলে, তাদের এই প্রকল্প থেকে বাইরে রাখা হবে। এবার আরও কড়াকড়ি—
- অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী
- সিভিক ভলান্টিয়ার
- পার্শ্বশিক্ষক
- আশাকর্মী
—এদেরও রাখা হচ্ছে না। কারও পরিবারে কেউ সরকারি চাকরিজীবী থাকলেও, পেনশন পেলে অথবা আয়করদাতা হলে সেই মহিলার আবেদন বাতিল হবে।
আরও যাচাই: পরিবারে কারও GST নম্বর থাকলে, তিনটি পাকা ঘর থাকলে, কিংবা ৫০ ডেসিমেলের বেশি জমির মালিক হলে, তাঁদের বাড়িতে গিয়ে যাচাই হবে। তারপর সিদ্ধান্ত নেবেন আধিকারিকরা। এক কথায়, এইসব শর্ত মানতে না পারলে এবার আবেদনকারীর নাম নাকচ হয়েই যাবে।
আশাকর্মীদের প্রতিবাদ ও টাকা ফেরতের নির্দেশ
সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন অঙ্গনওয়াড়ি আর আশাকর্মীরা। অনেকের অ্যাকাউন্টে তো টাকা ঢুকে গিয়েছিল। এখন, সেই টাকা ফেরত চাইছে প্রশাসন। রাজ্যে এখন প্রায় ৭৫,০০০ আশাকর্মী আছেন।
আশাকর্মীদের প্রতিক্রিয়া: তাদের রাজ্য সংগঠনের সম্পাদিকা ইসমত আরা খাতুন বলছেন, "মেয়েরা খুবই কষ্ট পেয়েছে। আগে আমরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতাম, এবার অন্নপূর্ণাও বন্ধ। জেলার পর জেলা থেকে মেয়েরা ফোন করছে—কাগজে লিখিয়ে নিচ্ছে, এবার থেকে টাকা নেব না, ইতিমধ্যে যা পেয়েছি সেটাও ফেরত দিতে হবে!"
সরকারের এই সিদ্ধান্তে তারা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
সমাধানে 'এডিট অপশন' ও নতুন নিয়ম
আটকে থাকা আবেদনগুলো যাতে দ্রুত মিটে যায় এবং প্রকৃত উপভোক্তারা সময়মতো আর্থিক সহায়তা পান, সেই জন্যই রাজ্যের নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ দপ্তর এখন 'এডিট অপশন' চালু করেছে। যাদের নাম বা তথ্য ঠিকঠাক নয়, তারা জেলা আধিকারিকদের সাহায্য নিয়ে পোর্টালে গিয়ে নিজের তথ্য ঠিক করে নিতে পারবেন।
নতুন সুবিধা: রাজ্য জানিয়ে দিয়েছে, এবার আর সুপারিশপত্র আপলোড করা বাধ্যতামূলক নয়। শুধু সিল ও সই সহ নথিপত্রের হার্ড কপি জমা রেখে দিতে হবে।
যাচাই কার্যক্রমে গতি আনতে হলে, জেলা প্রশাসন চাইলে সিডিপিও, আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, সহায়িকা, সুপারভাইজার বা ইচ্ছুক বিএলওদের কাজে লাগাতে পারবে।
সময়সীমা – ১০ জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ
সরকার নির্দেশ দিয়েছে, ৩০ জুন পর্যন্ত জমা পড়া এবং যেগুলো এখন যাচাই চলছে, সেগুলো খতিয়ে দেখে যাদের যোগ্য, তাদের তালিকা ১০ জুলাই-এর মধ্যেই তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি, অফলাইনে জমা পড়া যেসব আবেদন এখনো ডিজিটাইজ হয়নি, সেটাও একই সময়ের মধ্যে শেষ করে ফেলতে হবে।
মনে রাখবেন: যারা এই নতুন নিয়মে বাদ পড়েছেন, তারা যদি মনে করেন তাঁরা আসলে যোগ্য, তাহলে সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করিয়ে নিতে পারেন।
অন্নপূর্ণা যোজনা নতুন নিয়ম – সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১: অন্নপূর্ণা যোজনায় কাদের বাদ দেওয়া হচ্ছে?
সিভিক ভলান্টিয়ার, আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, পার্শ্বশিক্ষক—এঁরা সবাই বাদ পড়েছেন। এছাড়া পরিবারে সরকারি চাকরিজীবী, পেনশনভোগী বা আয়করদাতা থাকলেও আবেদন বাতিল হবে।
প্রশ্ন ২: বাদ পড়ার অন্যান্য কারণ কী?
পরিবারে কারও GST নম্বর থাকলে, তিনটি পাকা ঘর থাকলে বা ৫০ ডেসিমেলের বেশি জমি থাকলে—এসব ক্ষেত্রেও বাড়িতে গিয়ে যাচাই হবে এবং প্রয়োজনে আবেদন বাতিল করা হবে।
প্রশ্ন ৩: আশাকর্মীরা কী প্রতিবাদ করছেন?
প্রায় ৭৫,০০০ আশাকর্মী এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তাঁদের সংগঠনের সম্পাদিকা জানিয়েছেন, অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা এসেছে কিন্তু এখন ফেরত দিতে হবে—যা অত্যন্ত কষ্টের।
প্রশ্ন ৪: 'এডিট অপশন' কী কাজে আসবে?
যাদের ফর্মে ভুল আছে, তারা জেলা আধিকারিকদের সাহায্যে পোর্টালে গিয়ে তথ্য সংশোধন করতে পারবেন। তবে যারা নতুন নিয়মে অযোগ্য, তাদের সংশোধনেও সুবিধা হবে না।
প্রশ্ন ৫: ১০ জুলাইয়ের সময়সীমা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
৩০ জুন পর্যন্ত জমা পড়া আবেদন ও অফলাইন আবেদন ডিজিটাইজ করার সময়সীমা ১০ জুলাই। এই সময়ের মধ্যে যোগ্যদের তালিকা তৈরি করতে হবে।
অন্নপূর্ণা যোজনা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ লিংক
গুরুত্বপূর্ণ ব্লগ লিংক
এই পোস্টটি শেয়ার করুন
শেয়ার বাটনে ক্লিক করলেই সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শেয়ার হবে।