PM Shri Schools: ১৪,৫০০+ স্কুলে বদলে যাচ্ছে শিক্ষার চেহারা – জানুন বিস্তারিত
পিএম শ্রী স্কুলগুলো আসলে ভারত সরকারের একটা বড় উদ্যোগ। এই প্রকল্পের দায়িত্ব, কেন্দ্রীয়, রাজ্য, বা স্থানীয় সরকার—এমনকি KVS আর NVS-এর মতো সংস্থাগুলোর অধীনে—দেশজুড়ে ১৪,৫০০-এরও বেশি স্কুল তৈরি করা। এখানে লক্ষ্য একটাই: যেন প্রতিটা ছেলেমেয়ে স্কুলে ঢুকে স্বাগত বোধ করে, সতর্ক ও যত্ন পায়, পড়াশোনার জন্য ভালো পরিবেশ পায়। শেখার সুযোগ থাকবে নানান রকমের, আর স্কুলগুলোর ফিজিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারও থাকবে একেবারে ঠিকঠাক—শেখার মতো উপকরণ অপর্যাপ্ত থাকলে সেটা আর চলবে না।
এভাবে, এই স্কুলগুলো ছাত্রছাত্রীদের তৈরি করবে এমনভাবে—তারা যেন জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০-র ভাবনায় গড়ে ওঠা ভবিষ্যতের ন্যায়সঙ্গত, অন্তর্ভুক্তিমূলক আর বৈচিত্র্যময় সমাজের জন্য সচেতন, সক্রিয় নাগরিক হতে পারে।
প্রভাব: প্রকল্পটা বাস্তবায়িত হলে, ২০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী সরাসরি এতে সুবিধা পাবে। শুধু এখানেই থেমে যাবে না—এই স্কুলগুলোয় যা যা শেখা যাবে, ধীরে ধীরে দেশের আরো অনেক জায়গার স্কুলেও ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
এই প্রকল্প চলবে মোট ৫ বছর—২০২২-২৩ থেকে শুরু করে ২০২৬-২৭ পর্যন্ত।
পিএম শ্রী স্কুলগুলো জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০-র বাস্তবায়নে নেতৃত্ব নেবে। সময়ের সঙ্গে, এগুলো দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে, অন্য স্কুলেদের জন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়াবে।
স্কুল নির্বাচনের মানদণ্ড
স্কুলগুলো কোন কোন মানদণ্ডে নির্বাচিত হবে, সেটা ভারত সরকার বেশ পরিস্কার করে দিয়েছে। PM SHRI প্রকল্পের অধীনে তিন পর্বে বাছাই চলে। দ্বিতীয় পর্বে, স্কুলগুলোকে কিছু নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করতে হয়—
- পাকা ভবন থাকতে হবে, সংস্কার হওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পুরো বিল্ডিংটা শিশুদের জন্য নিরাপদ (অ্যাক্সেস, অগ্নি নিরাপত্তা, ইত্যাদি)
- ছেলেমেয়ে উভয়ের জন্য আলাদা টয়লেট
- পানীয় জল ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা
- লাইব্রেরি ও স্পোর্টসের সামগ্রী
- শিক্ষক-স্টাফদের পরিচয়পত্র
- স্কুলে ছাত্রসংখ্যা–তাও রাজ্য গড়ের চেয়েও বেশি চাই কিছু ক্ষেত্রে।
পরবর্তী ধাপ: এই পর্ব পার করলে, স্কুলগুলোকে অনলাইনে আবেদন করতে হয় আর তার পরে আরও শর্ত—শহরে হলে ৭০%, গ্রামে হলে ৬০% স্কোরের বাধ্যবাধকতা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ডোমেনে (ইনফ্রাস্ট্রাকচার, শিক্ষার মান, PM POSHAN, লার্নিং আউটকাম, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ ইত্যাদি)।
আর খুঁটিনাটি জানতে চাইলে, https://pmshri.education.gov.in ওয়েবসাইটে দেখে নিতে হবে।
শিক্ষার নতুন ধারা
এই স্কুলগুলো শুধু বইয়ের পড়াশোনা শেখাতেই আটকে থাকবে না। আসল লক্ষ্য, এখন থেকে, হচ্ছে এমন ছাত্র তৈরি করা—যারা ঠিকঠাক ২১-শতকের কাজের জন্য তৈরি, মানে দক্ষতায় পাকা, সবদিক দিয়েই গোছানো মানুষ।
- পড়াশোনার ধরন অনেকটা বদলাবে। সবকিছু আরও হাতে-কলমে শিখতে হবে।
- পড়াশোনা হবে পুরোপুরি ছাত্রদের ঘিরে।
- ছোটদের জন্য থাকবে খেলাধুলা আর খেলনা দিয়ে শেখার সুযোগ।
- প্রশ্ন করে শেখা, নিজের মতো করে কিছু আবিষ্কার করা—এসবই ক্লাসের অংশ হবে।
- পড়াটাকে একঘেয়ে না করে বরং উপভোগ্য করাই এখানে প্রধান ফোকাস।
মূল্যায়ন পদ্ধতি
কীভাবে পড়া-বইয়ের জ্ঞান, বাস্তব জীবনের পরিস্থিতিতে কাজে লাগানো যায়—এসব নিয়েই মূল্যায়ন হবে। এখানে নম্বর দেওয়া মানে কে মুখস্থ করল সেটা নয়, বরং কে প্রকৃতভাবে বুঝেছে, কে ব্যবহার করতে পারছে, সেটাই বিচার্য। ক্লাসের প্রতিটা গ্রেডে দেখা হবে, আসলেই কে কতটা শিখেছে।
মূল্যায়নের মূল কথা: নম্বর দেওয়া মানে কে মুখস্থ করল সেটা নয়, বরং কে প্রকৃতভাবে বুঝেছে, কে ব্যবহার করতে পারছে—সেটাই বিচার্য।
স্কুল – সম্প্রদায়ের গর্ব
স্কুল বলতে শুধু একটা বিল্ডিং না, বরং সম্প্রদায়ের একটা গর্বের জায়গা হবে। তাই, স্কুলের প্রতিষ্ঠা দিবস বা অন্য কোনো বড়ো দিন সম্প্রদায়ের সবাই মিলে উদযাপন করবে। বিখ্যাত বা অবদান রাখা প্রাক্তন ছাত্রদের নামও সবাইকে জানানো হবে, সম্মানও দেয়া হবে।
স্কুলে যত জায়গা বা অব্যবহৃত সুযোগ আছে, সেসব স্থান বা সুবিধা কমিউনিটির জন্য খুলে দেওয়া হবে—মানে সামাজিক, সাহিত্যিক, বা স্বেচ্ছাসেবী কাজের জন্য সবাই মিলে ব্যবহার করতে পারবে। এইভাবে স্কুল ঐ অঞ্চলের জন্য একরকম "সামাজিক চেতনার কেন্দ্র" হয়ে উঠবে।
সবাই যেন সুযোগ পায়
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার—স্কুলে যেসব বাচ্চা ভর্তি হয়েছে, তারা ঠিকঠাক উপস্থিত আছে কি না, পড়াশোনায় ঠিকমতো এগোচ্ছে কি না, কেউ বাদ পড়ছে কি না, এসব খুব খুঁটিয়ে দেখা হবে। কেউ পেছনে পড়ে গেলে, আবার স্কুলে ফিরতে চাইলেই যেন সুযোগ পায়—এ জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। স্কুলে সবাই যেন সুযোগ পায়, সেটাই থাকবে নজরে।
PM Shri Schools – সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১: PM Shri Schools কী?
এটি ভারত সরকারের একটি উদ্যোগ, যেখানে দেশজুড়ে ১৪,৫০০+ স্কুলকে আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।
প্রশ্ন ২: এই প্রকল্প কত বছর চলবে?
প্রকল্পটি ২০২২-২৩ থেকে শুরু করে ২০২৬-২৭ পর্যন্ত মোট ৫ বছর চলবে।
প্রশ্ন ৩: স্কুল নির্বাচনের মানদণ্ড কী?
পাকা ভবন, শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ, আলাদা টয়লেট, পানীয় জল, বিদ্যুৎ, লাইব্রেরি, স্পোর্টস সামগ্রী, শিক্ষকের পরিচয়পত্র ও রাজ্য গড়ের চেয়ে বেশি ছাত্রসংখ্যা—এই মানদণ্ডগুলো পূরণ করতে হয়।
প্রশ্ন ৪: PM Shri Schools-এ পড়াশোনা কেমন হবে?
পড়াশোনা হবে হাতে-কলমে, ছাত্রকেন্দ্রিক, খেলাধুলা ও খেলনার মাধ্যমে শেখা, প্রশ্ন করে শেখা—এবং মূল্যায়ন হবে বাস্তব জীবনে প্রয়োগের দক্ষতার ভিত্তিতে।
প্রশ্ন ৫: এই স্কুলগুলো কীভাবে সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত থাকবে?
স্কুলের প্রতিষ্ঠা দিবস বা বড়দিনে সম্প্রদায়ের লোকজন অংশ নেবেন, প্রাক্তন ছাত্রদের সম্মান জানানো হবে, আর স্কুলের অব্যবহৃত স্থান কমিউনিটির সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কাজের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
প্রশ্ন ৬: কতজন শিক্ষার্থী সুবিধা পাবে?
এই প্রকল্পে ২০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী সরাসরি সুবিধা পাবে।
PM Shri Schools সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ লিংক
গুরুত্বপূর্ণ ব্লগ লিংক
এই পোস্টটি শেয়ার করুন
শেয়ার বাটনে ক্লিক করলেই সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শেয়ার হবে।