অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প ২০২৬: ২৬ লাখ মহিলার নাম বাদ, কীভাবে পাবেন টাকা?
প্রথম দফায় ২৬ লাখ মহিলার নাম বাদ পড়েছে, সেটা নিয়ে বেশ চর্চা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বচ্ছভাবে জানিয়েছেন, এবার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে আবেদন যাচাইয়ের নিয়ম বেশ কড়া। ১ জুলাই থেকে শুরু করে, প্রথম কিস্তির ৩০০০ টাকা সরাসরি ব্যাঙ্কে যাচ্ছে—এতদিনে ১ কোটি ৯ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৮ জন মহিলা টাকা পেয়েছেন। কিন্তু মোট আবেদন জমা পড়েছিল ১ কোটি ৬০ লাখ। তাহলে প্রায় ২৬ লাখ মহিলার নামে টাকা আসেনি।
একটা বড় অংশ বাদ পড়ে যাওয়ায়, স্বাভাবিকভাবেই, অনেক পরিবারে চিন্তা-বিতর্ক শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রচুর দুর্নীতি হয়েছিল—সেখানে প্রায় ১০ লাখ পুরুষ বেআইনিভাবে সুবিধা নিয়েছিলেন। এবার সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে প্রতিটি আবেদন ভালোভাবে খুঁটিয়ে দেখা হয়েছে। প্রকল্পটা শুধুই মহিলাদের জন্য—নিয়ম যাতে ঠিকঠাক মানা হয়, তাই বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে সরকার।
যাঁদের ফর্মে কোনো ভুল রয়েছে, তাদের জন্যও সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার দিয়েছেন, ফর্মের ভুল বা তথ্যের গড়মিল থাকলে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তাই সাময়িক সমস্যায় পড়লেও স্থায়ীভাবে কেউ বঞ্চিত হবেন না।
সোজা কথায়: যদি নাম বাদ পড়ে থাকে বা টাকা না এসে থাকে, তাহলে আবেদন বা তথ্য সংশোধনের পথ খোলা আছে। প্রকল্পের নিয়ম এবার কড়া, কিন্তু কর্তৃপক্ষও চেষ্টা করছে যাতে কেউ অযথা বঞ্চিত না হয়।
জুলাই-আগস্ট মাস জুড়ে নতুন আবেদন নেওয়া হচ্ছে
এখনও আবেদন করেননি? এখনও দেরি হয়নি। আগামী জুলাই আর আগস্ট জুড়ে নতুন করে আবেদন জমা নেওয়া হবে। ১ জুন থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়া পুরোটাই ৯০ দিন ধরে চলবে, তাই হাতে সময় অনেকটাই।
আগস্ট-সেপ্টেম্বরে নিয়মিত কিস্তির টাকা মিলবে
প্রথম পর্যায়ে যারা টাকা পেয়েছেন, তাঁদের জন্যও খবর আছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসেও সবাই আগের মতো এই টাকা পেতে থাকবেন। মানে, এটা একবারের জন্য নয়, এই সুবিধা নিয়মিত দিতেই সরকার পরিকল্পনা করেছে।
DBT-র সমস্যার জন্য টাকা আটকে যাচ্ছে
অনেকে টাকা পাননি, এর মূল কারণ হল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে Direct Benefit Transfer (DBT) সুবিধা না-থাকা। আধার কার্ডের সঙ্গে DBT লিঙ্ক না-থাকলে ওই অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকে না। তাই সবার আগে দেখে নিন, অ্যাকাউন্টে আধার ও DBT ঠিকমতো লিঙ্ক রয়েছে কি না।
ফর্ম যাচাই চলবে ৭-১০ দিন
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটা আবেদনপত্র ফের খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফর্ম ঠিকঠাক থাকলে আর তথ্য মিলে গেলে, ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই টাকা চলে আসবে অ্যাকাউন্টে। যারা প্রথম দফায় বাদ পড়েছেন, একটু অপেক্ষা করলেই আপনিও সুযোগ পাবেন।
প্রতি সপ্তাহে তালিকা আপডেট হচ্ছে
সরকার জানিয়েছে, উপভোক্তাদের তালিকা প্রতি ৭ দিনে একবার করে আপডেট করা হচ্ছে। তাই প্রথম তালিকায় নাম না-থাকলেও হতাশ হবেন না, যাচাই শেষ হলে আপনার নাম পরের তালিকায় চলে আসতে পারে।
Annapurna Yojana : 'আমরা এই লোকেদের নাম কেটেছি', এরা আবেদন করলেও পাবেন না, জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অন্নপূর্ণা যোজনার ব্যাপারে বড় ঘোষণা দিলেন। বলেছেন, প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল এই প্রকল্পে। খতিয়ে দেখে দেখা গেছে, ২৬ লক্ষের মতো আবেদন বাতিল করা হয়েছে। কারণ, এদের অনেকে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতাই রাখেন না। কারও কেউ ভারতীয় নন, কারও নাম ভোটার লিস্টে নেই, কোথাও আবার মৃত ব্যক্তির নামও তালিকায় উঠে এসেছে। এমন ঘটনাও সামনে এসেছে যে, একজনের নাম তিনটি ভিন্ন ভোটার তালিকায় আছে, আর তিনটি আলাদা সরকারি অ্যাকাউন্টে অনুদান জমা পড়ছে।
সরকার জানিয়ে দিল, বৈধ ভারতীয় নাগরিক ছাড়া আর কেউ এই আর্থিক সুবিধা পাবেন না। তাই নিয়ম মেনেই অযোগ্যদের নাম কেটে ফেলা হয়েছে। ১ কোটি ৩০ লক্ষের বেশি মহিলা যোগ্য বলে মানা হয়েছে, আর সবাই সুবিধা পাচ্ছেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বললেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তাদের তথ্যও আবার খতিয়ে দেখেছে সরকার। সেখানেও অনেক অসঙ্গতি মিলেছে। তিনি এও জানালেন, বাংলাদেশ থেকে যাঁরা এতদিনে এসে CAA-র আইনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন, তাঁদের ভাতা আপাতত বন্ধ হচ্ছে না। যতদিন না তাঁদের আবেদন নিষ্পত্তি হচ্ছে, ততদিন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা চালু থাকবে। যাঁরা মামলার জন্য ট্রাইবুনালে ঝুলে আছেন, তাঁরাও আপাতত সরকারি ভাতা পাবেন।
আর যাঁরা বলেছিলেন, আগের সরকারের বরাদ্দ কমে গেছে, আধাখানা উপভোক্তা হয়ে গিয়েছে—তাদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, সরকার কোনও উপভোক্তার অধিকার কেড়ে নিচ্ছে না। বরং যাঁরা প্রকৃত উপভোক্তা, তাঁদেরকেই সরকার অধিকার দিচ্ছে। “আমরা বলি না, ওরা উপভোক্তা, আমরা বলি—এটা ওদের অধিকার।”
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে কিছু প্রশ্নোত্তর (FAQ)
প্রশ্ন ১: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে কারা আবেদন করতে পারবেন?
পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা সকল মহিলা (১৮ বছর বা তার বেশি) এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে আবেদন যাচাইয়ের সময় নথিপত্র সঠিক হতে হবে।
প্রশ্ন ২: প্রথম দফায় টাকা না পেলে কী করবেন?
প্রথমে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে DBT লিঙ্ক ঠিক আছে কিনা দেখুন। তারপর ফর্মে কোনো ভুল থাকলে সংশোধন করে পুনরায় আবেদন করতে পারেন। প্রতি সপ্তাহে তালিকা আপডেট হয়, তাই অপেক্ষা করুন।
প্রশ্ন ৩: DBT লিঙ্ক কীভাবে করবেন?
আপনার ব্যাঙ্ক শাখায় গিয়ে আধার কার্ড ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক করতে বলুন। অথবা অনলাইনে ব্যাঙ্কের মোবাইল অ্যাপ বা নেট ব্যাঙ্কিং থেকে DBT সক্রিয় করতে পারেন।
প্রশ্ন ৪: নতুন আবেদন করতে কতদিন সময় আছে?
জুলাই ও আগস্ট মাস জুড়ে নতুন আবেদন গ্রহণ চলবে। ১ জুন থেকে ৯০ দিনের প্রক্রিয়া চলছে, তাই এখনও সময় আছে।
প্রশ্ন ৫: টাকা কতদিনের মধ্যে অ্যাকাউন্টে আসবে?
ফর্ম যাচাই সঠিকভাবে শেষ হলে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চলে আসবে।
গুরুত্বপূর্ণ ব্লগ লিংক
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ লিংক
এই পোস্টটি শেয়ার করুন
শেয়ার বাটনে ক্লিক করলেই সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শেয়ার হবে।