Pradhan mantri awas yojana: বকেয়া ২য় কিস্তির টাকা আসছে? রাজ্যের বড় পদক্ষেপ
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (PMAY): বকেয়া আবাস যোজনার টাকা নিয়ে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। বহুদিন ঝুলে থাকা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা বা গ্রামীণ আবাসন প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তি পেতে এবার কেন্দ্রের কাছে সরাসরি আর্থিক সহায়তার আবেদন করেছে নবান্ন। রাজ্যের প্রায় ১৬ লক্ষ উপভোক্তা এখনো দ্বিতীয় কিস্তির টাকার জন্য অপেক্ষা করছেন। নবান্ন চাইছে, দ্রুত কেন্দ্রীয় টাকা ঢোকা মাত্র এই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানোর কাজ শুরু করতে।
প্রশাসনিক সূত্র বলছে, কেন্দ্র সবুজ সংকেত দিলেই আর দেরি করা হবে না—টাকা তুলতে পারবেন সুবিধাভোগীরা।
কেন আটকে ছিল প্রকল্পের টাকা? Pradhan mantri awas yojana
প্রসঙ্গত, এই মেগা প্রকল্পটা আগে রাজ্যে 'বাংলার বাড়ি' নামে চলতো। তৃণমূল সরকার ও কেন্দ্রের টানাপোড়েনের জেরে বরাদ্দ বন্ধ হয়েছিল, যার ফলে গরিব মানুষ তাঁদের বাড়ি তৈরির স্বপ্ন কার্যত হাতছাড়া হতে বসেছিল।
সেসময় রাজ্য সরকার নিজেদের তহবিল থেকে ৬০ হাজার টাকার প্রথম কিস্তি দিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু বিশাল অঙ্কের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দিতে গিয়ে প্রশাসনের হাঁসফাঁস অবস্থা হয়েছিল। এতেই লক্ষাধিক মানুষের বাড়ির নির্মাণ মাঝ পথে আটকে যায়।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখ: ২০২২ সালের ৯ মার্চ থেকে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী রাজ্যে আর এক টাকাও ঢোকেনি এই প্রকল্পে।
বিজেপি সরকারের নতুন উদ্যোগ
বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর নয়া প্রশাসন আটকে থাকা প্রকল্প শেষ করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। নবান্নের এক উর্ধ্বতন কর্তা মানছেন, এখনও বহু উপভোক্তা অপূর্ণ বাড়িতে কাটাচ্ছেন দিন। কেন্দ্র থেকে টাকা মিলে গেলে বাকি নির্মাণ দ্রুত শেষ করা যাবে—এই নিয়েই এখন আশাবাদী প্রশাসন।
আর্থিক কাঠামো:
নিয়ম অনুযায়ী, একেকটা পাকাবাড়ির জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। এর মধ্যে কেন্দ্র সরকার দেয় ৭০ হাজার টাকা, বাকি ৫০ হাজার টাকা দেয় রাজ্য।
স্বচ্ছতা আনতে কড়া যাচাই
এখন শুধু টাকা চাওয়া নয়, প্রকল্পের স্বচ্ছতা আনতেও প্রশাসন কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে। সব জেলাকে আবারও উপভোক্তার তালিকা যাচাই করতে বলেছে।
- ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নাম
- SIR-এ গড়মিল থাকা আবেদন
- যাদের নামে অভিযোগ আছে—সব কিছু খতিয়ে দেখার পরেই চূড়ান্ত তালিকা হবে।
যে কেউ যোগ্য, সে যেন বাদ না পড়ে—এই বিষয়টা নিশ্চিত করাই এবার প্রধান লক্ষ্য।
আশার আলো: এতদিন পুরো ব্যাপারটা রাজ্য নিজেই সামলেছে, কিন্তু এখন কেন্দ্র আর রাজ্য মিলে কাজটা শেষ করতে চাইছে। এ কারণে দরিদ্র পরিবারের মানুষেরা এবার একটু আশার আলো দেখছেন—পাকা বাড়ি পাওয়ার স্বপ্নটা হয়তো এবার সত্যি হবে।
কেন্দ্রের সবুজ সংকেতের অপেক্ষা
কেন্দ্র দ্রুত টাকা দিলে, দ্বিতীয় দফার টাকা দেওয়া শুরু হবে ঝটপট—এটাই এখন সবার প্রত্যাশা। নবান্ন আশাবাদী, খুব শীঘ্রই কেন্দ্র থেকে ইতিবাচক সাড়া আসবে।
আপাতত যা করতে হবে: উপভোক্তাদের জন্য আবেদনের নতুন কোনো ব্যবস্থা চালু হয়নি। যাঁরা আগে থেকে এই প্রকল্পের আওতায় আছেন, তাঁদের নিজ নিজ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং নথিপত্র আপডেট রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের টাকা এলে সরাসরি অ্যাকাউন্টে টাকা চলে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (PMAY) – সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১: PMAY-এর দ্বিতীয় কিস্তির টাকা কবে আসবে?
রাজ্য সরকার কেন্দ্রের কাছে আবেদন করেছে। কেন্দ্র থেকে টাকা এলে খুব দ্রুত (সপ্তাহখানেকের মধ্যে) উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে।
প্রশ্ন ২: কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন?
যাঁরা আগে থেকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (পূর্বে বাংলার বাড়ি) প্রকল্পের আওতায় নিবন্ধিত হয়েছেন এবং যাঁদের আবেদন যাচাইয়ে সঠিক পাওয়া গেছে, তাঁরাই এই সুবিধা পাবেন।
প্রশ্ন ৩: প্রতি বাড়ির জন্য মোট কত টাকা বরাদ্দ?
১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এর মধ্যে কেন্দ্র দেয় ৭০,০০০ এবং রাজ্য দেয় ৫০,০০০ টাকা।
প্রশ্ন ৪: নতুন করে আবেদন করতে হবে?
না, যাঁরা আগে থেকে নিবন্ধিত হয়েছেন, তাঁদের নতুন আবেদন করতে হবে না। তবে যাঁদের তথ্যে ভুল আছে, তাঁদের সংশোধন করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন ৫: ২০২২ সালের পর থেকে টাকা বন্ধ কেন ছিল?
তৃণমূল সরকার ও কেন্দ্রের মধ্যে বিরোধের কারণে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর নতুন করে প্রকল্পটি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
PMAY সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ লিংক
গুরুত্বপূর্ণ ব্লগ লিংক
এই পোস্টটি শেয়ার করুন
শেয়ার বাটনে ক্লিক করলেই সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শেয়ার হবে।