Annapurna Bhandar Under Enquiry: 'আন্ডার এনকোয়ারি' স্ট্যাটাস ও ফিল্ড ভেরিফিকেশন শুরু – জানুন বিস্তারিত

৭ জুলাই , ২০২৬ লেখক: Deb Sarkar পড়তে ৮ মিনিট
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার আন্ডার এনকোয়ারি স্ট্যাটাস ও ভেরিফিকেশন

Annapurna Bhandar Under Enquiry: অনেক মহিলা ভাবছেন, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের বাতিল তালিকায় নাম গেলে কি আবার টাকা পাওয়া যাবে কিংবা কীভাবে ফের টাকা পাওয়ার পথ খুলতে পারে।

নতুন সরকার মাসে মাসে ৩০০০ টাকা দেবার কথা ঘোষণা করেছে এবং জুন-জুলাই মাসের টাকা ইতিমধ্যেই বেশিরভাগের অ্যাকাউন্টে পৌঁছেছে। জুলাই মাসে ১ কোটি ১০ লক্ষেরও বেশি মহিলা এই সুবিধা পেয়েছেন।

এদিকে মুখ্যসচিব জানালেন, মোট ১.৬২ কোটি আবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ১.২২ কোটি আবেদন অনুমোদিত হয়েছে, আর প্রায় ২৮ লক্ষ আবেদন বাতিল হয়েছে।

বড় খবর: যারা এখনও টাকা পাননি বা যাদের আবেদন বাতিল হয়েছে – তাদেরও নতুন করে সুযোগ আসছে। আগামী ১০ জুলাই-এর মধ্যে আরও অনেক নাম ফের পোর্টালে যোগ হবে। বিশেষ করে যারা 'রিজেক্টেড' বা 'আন্ডার এনকোয়ারি' অবস্থায় ছিলেন, তাদের মতো আবেদনকারীদের আবার একবার করে আবেদন খুঁটিয়ে দেখছে প্রশাসন।

যাদের 'আন্ডার এনকোয়ারি' স্ট্যাটাস, তাদের জন্য সুখবর Annapurna Bhandar Under Enquiry

অনেকেরই জানা আছে—অনেক মহিলার নাম আগেই বাতিল হয়েছিল অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে। এখন সেই অবস্থা বদলাতে শুরু করেছে। যাদের আবেদন বাতিল হয়েছিল, তাদের ফর্মে এখন 'রিজেক্টেড'-এর বদলে বড় করে সবুজে দেখা যাচ্ছে 'আন্ডার এনকোয়ারি'

রাজ্যের চায়ের দোকান থেকে সোশ্যাল মিডিয়া—সব জায়গায় চলছে এই পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা। যাদের আবেদন বাতিল হয়েছিল, তাদের আবারও যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। কেউ ফোন পাচ্ছেন ব্লক অফিস থেকে, আবার কেউ দেখছেন সরকারি অফিসার হাজির হচ্ছেন বাড়ির দরজায়।

বাতিল ফর্মগুলোর নতুন পরিস্থিতি

৪ জুলাই সন্ধ্যার পর বিষয়টা স্পষ্ট হয়। এতদিন যারা বারবার 'রিজেক্টেড' দেখে হতাশ ছিলেন, তারা এবার নতুন আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন। 'আন্ডার এনকোয়ারি' মানে সরকার কারও আবেদন এক ঝটকায় বাতিল করেনি। নতুন সুযোগ মিলছে। আগের কিছু ভুল বা তথ্যের গরমিলেই অনেকের ফর্ম আটকে গিয়েছিল। সরকারি অফিসাররা এসব ফর্ম নতুন করে দেখছেন যাতে প্রকৃত উপভোক্তা সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন।

কেন ফিল্ড ভেরিফিকেশন?

এই স্কিমে গোটা রাজ্য থেকে প্রায় ১.৬২ কোটি আবেদন এসেছিল। এর মধ্যে ১.২২ কোটি আবেদনকেই সরকার বৈধ বলে মেনে নিয়ে ওই পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা করে পৌঁছাতে শুরু করেছে। কিন্তু প্রায় ২৭ লাখ আবেদন প্রাথমিকভাবে আটকে গিয়েছিল—তাদেরই অবস্থা ঝুলে রয়েছে।

এরপর বহু ব্লক অফিস আর পুরসভায় ক্ষোভ শুরু হয়। নবান্নে মুখ্য সচিবদের নেতৃত্বে এক জরুরি বৈঠকে ঠিক হয়, শুধু কাগজ ঘাটাঘাটি করে কোনো গরীব মানুষের আবেদন বাতিল করা ঠিক নয়। তাই তৃণমূল স্তর পর্যন্ত গিয়ে, ফিল্ড ভেরিফিকেশন এর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

কারা আসছেন, কী কী দেখে যাচ্ছেন?

৫ জুলাই থেকেই শুরু হয়েছে এই নতুন যাচাইকরণ। কারও বাড়িতে সরকারি অফিসার, কারও ফোনে ডাকা হচ্ছে ব্লক অফিসে—এরকম চলছেই।

মূলত অফিসাররা যাচাই করছেন:

  • পরিবারে কেউ আয়কর দেন কি না
  • তিনটির বেশি পাকা ঘর আছে কি না
  • পরিবারের কারও নামে জিএসটি নম্বর আছে কি না

এই মাপদণ্ডগুলোতেই সরকারের উৎসুক দৃষ্টি। যারা যাচাই করছেন, নিজেরা তথ্য আপডেট করছেন সরাসরি পোর্টালে।

গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা: সরকার আগামী ১০ জুলাই-এর মধ্যে যাদের ফর্ম আটকে ছিল, তাদের অফলাইন কাগজপত্র ও আধারের গোলমাল মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে আলোচনা

ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শুরু হতেই ফেসবুক, ইউটিউব, রেডিট — সব প্ল্যাটফর্মে আলোচনা যেন থামছেই না। সবাই নিজের নিজের স্ট্যাটাস আপডেটের স্ক্রিনশট ছেড়ে দিচ্ছে, বন্ধুরা একে অপরকে প্রশ্ন করছে, এবার কী করতে হবে? কারও ফর্ম ফেরত আসায় সে খুশিতে পোস্ট দিচ্ছে— "আবার সুযোগ পেয়েছি!"

আবার কেউ একটু নার্ভাস, যদি ফের রিজেক্ট হয়ে যায়? ইউটিউবে বিভিন্ন চ্যানেলে লাইভে মানুষ ভেরিফিকেশন সম্পর্কে জানতে পারছে। কোথাও কোথাও শোনা যাচ্ছে, সমীক্ষার কাজে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের ঘিরে মহিলারা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন — তাদের চিন্তা, যাচাইয়ের নামে পক্ষপাত হচ্ছে না তো? তবু বেশিরভাগ মানুষ এখনো আশা নিয়েই আছেন, ঠিক তথ্য থাকলে, এবার তাঁরা সহজেই এই আর্থিক সাহায্য পেয়ে যাবেন।

অফলাইন আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ নির্দেশ

অনলাইন ছাড়াও প্রচুর মানুষ জনসেবা কেন্দ্রে গিয়ে অফলাইনে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সরকার খুঁজে দেখেছে, এসব ফর্মের অনেকগুলো এখনো ঠিকভাবে পোর্টালে আপলোড হয়নি। ডেটা এন্ট্রি না হওয়ায়, যারা যোগ্য, তারাও টাকা পাচ্ছেন না।

সমাধান: এই জট কাটাতে সরকার সোজা জানিয়ে দিয়েছে— ১০ জুলাই-এর মধ্যে সব ফর্ম ডিজিটাইজ করতে হবে। সঙ্গে আধার কার্ড আর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লিংক করতে বলেছে প্রশাসন, এনপিসিআই ম্যাপিংও তাড়াতাড়ি করার নির্দেশ এসেছে।

সবাই কি টাকা পাবেন?

স্পষ্ট করে বলা যাক: বাতিল ফর্ম আবার যাচাই হলেও তাই বলে সবাই টাকা পাবেন না। মাঠপর্যায়ের তদন্তে কারও পরিবার যদি স্বচ্ছল বলে প্রমাণ হয়, সেই আবেদন চূড়ান্তভাবে বাদ পড়বে। যাঁরা ফর্মে ভুল তথ্য দিয়েছেন, বা পরিবারের কেউ আয়কর দেন কিংবা বড় বাড়ি আছে, তাঁদেরও ফর্ম কেটে যাবে।

ভেরিফিকেশনের উদ্দেশ্য একটাই— প্রকৃত দরিদ্রদের চিনে নেওয়া। যাঁর কাগজপত্র ঠিক, সত্যিই যোগ্য, তাঁর দুশ্চিন্তার কিছু নেই। প্রক্রিয়া শেষ হলেই টাকাটা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে যাবে।

সব মিলিয়ে, সরকার বেশ তৎপর। এত মানুষকে সুবিধা দেওয়ার জন্য নতুন করে অনেক রাস্তা খুলছে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা হাতে পেলে হাজার হাজার মহিলার মুখে সত্যিই হাসি ফুটবে, এই আশা থাকছেই।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার 'আন্ডার এনকোয়ারি' – সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন ১: আমার স্ট্যাটাস 'আন্ডার এনকোয়ারি' দেখাচ্ছে। এর অর্থ কী?

এর অর্থ আপনার আবেদন চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়নি। সরকারি অফিসাররা আপনার আবেদন পুনরায় যাচাই করছেন। ফিল্ড ভেরিফিকেশন শেষে যোগ্য প্রমাণিত হলে টাকা পাবেন।

প্রশ্ন ২: ফিল্ড ভেরিফিকেশনে কী কী চেক করা হচ্ছে?

অফিসাররা দেখবেন—পরিবারে কেউ আয়কর দেন কি না, তিনটির বেশি পাকা ঘর আছে কি না, জিএসটি নম্বর আছে কি না। এই তথ্যগুলো যাচাই করে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে।

প্রশ্ন ৩: ১০ জুলাইয়ের সময়সীমা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, ১০ জুলাইয়ের মধ্যে সব অফলাইন আবেদন ডিজিটাইজ করতে হবে এবং আধার-ব্যাঙ্ক লিংক ও NPCI ম্যাপিং সম্পন্ন করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে ফর্ম ঠিক না করলে টাকা পাওয়া বিলম্বিত হতে পারে।

প্রশ্ন ৪: ফিল্ড ভেরিফিকেশনে অফিসাররা বাড়িতে এলে কী করব?

শান্তভাবে সব কাগজপত্র (আধার, রেশন কার্ড, ব্যাংক পাসবুক) দেখান। সঠিক তথ্য দিন। আপনার তথ্য ঠিক থাকলে টাকা পাবেন। কোনো ভয় পাওয়ার কারণ নেই।

প্রশ্ন ৫: সব বাতিল আবেদনকারী কি আবার টাকা পাবেন?

না, যাচাইয়ের পর যারা প্রকৃত দরিদ্র ও যোগ্য প্রমাণিত হবেন, তারাই শুধু টাকা পাবেন। স্বচ্ছল বা ভুল তথ্য দিলে আবেদন চূড়ান্তভাবে বাতিল হবে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

শেয়ার বাটনে ক্লিক করলেই সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শেয়ার হবে।

Deb Sarkar

লেখক: Deb Sarkar

Deb Sarkar পশ্চিমবঙ্গের সরকারি প্রকল্প, কেন্দ্রীয় সরকারি স্কিম, ডিজিটাল পরিষেবা এবং অনলাইন আয়ের বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। তিনি বিভিন্ন সরকারি বিজ্ঞপ্তি, অফিসিয়াল পোর্টাল এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করে পাঠকদের কাছে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করেন।

✓ Fact Checked Content ✓ Government Scheme Researcher ✓ Updated Information