মনামীর সামনে মন খুললেন রাজবীর
নন্দিনী দত্ত যখন বিগ বসে ছিল, রাজবীরের বেশিরভাগ সময়টাই কাটত নন্দিনীর সঙ্গে। কিন্তু নন্দিনী এখন সিক্রেট রুমে, তাই রাজবীর এখন বাড়ির অন্যদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছে, গল্প করছে। একটা মুহূর্তে দেখা গেল, মনামী ঘোষ সোফায় বসে আর রাজবীর তার পায়ের কাছে বসে মন খুলে কথা বলছে— ঠিক তখনই উঠে এল ছোটবেলার সেই দুঃখের গল্প।
রাজবীর বললো, “আমি তখন ছয় বছরের। ক্লাস টু-তে পড়ি। ভাইটা তখনও জন্মায়নি, মায়ের পেটে। আলিপুরদুয়ারের একটা হোস্টেলে থাকতাম। বাড়িতে প্রচুর সমস্যা চলছিল। বাড়ির ঝামেলা, টাকা-পয়সা— সবাই যেমন ভাবে। বাবা তখন অনেকটা ভেঙে পড়ে, ডিপ্রেশনে চলে যায়। এমনকি বাড়ির বিদ্যুৎ কেটে দেয়, জলও নেই। ভাই যেহেতু তখন মায়ের পেটে, মা চলে যায় মামাবাড়িতে…”
৬ বছর বয়স, ক্লাস টু, আলিপুরদুয়ারের হোস্টেল
রাজবীর জানান, সেই সময় তাঁর পরিবারে চূড়ান্ত আর্থিক অনটন আর চরম অশান্তি ছিল। পারিবারিক ঝামেলার জেরে বাবা ক্রমশ ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলেন। অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে, ঘরে বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়া হয়, ব্যবহারের জল পর্যন্ত ছিল না।
অন্তঃসত্ত্বা মায়ের কথা বলতে গিয়ে রাজবীরের গলা ধরে আসে। তিনি জানান, সেই কঠিন সময়ে তাঁর মা আলিপুরদুয়ারে মামাবাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু রাজবীরের বাবা সেখানে যাননি। আত্মসম্মানবোধ আর ইগোর কারণে তিনি কারও কাছে মাথা নত করতে চাননি। অভাবের সংসারে একা একাই গুমরে থাকতেন।
বাবার ডিপ্রেশন ও আত্মসম্মানের লড়াই
রাজবীর আরও বলল, “বাবা তখন মামাবাড়ি যাননি, একটু ইগোর ঝামেলা ছিল। খুব ভেঙে পড়েছিল। নিজেকে দোষ দিত, কেন এত অসহায়, কেন জল নেই, কিছু করতে পারছি না— এইসব মাথায় ঘুরত। তবু কারও কাছে মাথা নিচু করতে চাইত না।”
রাজবীরের বক্তব্য অনুযায়ী, বাবার মনে একটা অভিমান এবং আত্মসম্মানের বিষয় কাজ করত। তিনি ভাবতেন, নিজের পরিবারকে যখন ঠিক ভাবে চালাতে পারছেন না, তখন কী ভাবে কারও কাছে সাহায্য চাইবেন। রাজবীর বলেন, তাঁর বাবা নিজের কষ্ট নিজের মধ্যেই রাখতেন এবং কারও কাছে মাথা নত করতে চাইতেন না।
সবচেয়ে শকিং মুহূর্ত: ‘রাজ, তোর বাবা আর নেই’
আসল ধাক্কাটা আসে এরপরই। রাজবীরের ভাই তখন মাত্র ৪-৫ দিনের, মা ভাইয়েকে নিয়ে পড়াচ্ছিলেন— সেই সময় আচমকা খবর আসে। রাজবীর জানালো, “রাতে হঠাৎ গাড়ি বুক করে সবাই শিলিগুড়ি ছুটলাম। বাড়ি ঢুকতেই দেখি সবাই কাঁদছে। মামা এসে আস্তে বলল, ‘রাজ, তোর বাবা আর নেই।’ তখন আমার যা অবস্থা হয়েছিল… আজও চোখের সামনে ভাসে।”
আজকাল-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ওটা শুনে রাজবীরের চোখ থেকে যে গলগল করে জল বেরিয়েছিল, সেটাই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে শকিং পয়েন্ট। মনামী এদিন তাঁর সামনে বসে তাঁর মনের কথা, কষ্টের কথা শোনেন।
দর্শকদের প্রতিক্রিয়া
সবসময় যে ছেলেটা চেঁচিয়ে বেড়ায়, আজ তার কাঁদতে দেখা সত্যিই দর্শকদের মনে ধরে গেছে। অনেকে বলছে, রাজবীর যেন জিতে যায়। কমেন্ট বক্সে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছে সবাই। প্রাক্তন প্রতিযোগী মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়ও রাজবীরের কান্না দেখে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “রাজবীরের কান্না দেখে আমি কেঁদে ফেলেছি।”
যদিও তার সামনে এখনো শক্ত প্রতিযোগী রয়েছে— কার হাতে উঠবে ট্রফি, সেটা জানতে হলে সবাইকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতেই হবে। তবে রাজবীরের এই আবেগঘন মুহূর্ত ইতিমধ্যেই দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
সূত্র ও রেফারেন্স
- আজকাল — ‘ইলেক্ট্রিসিটি কেটে দেওয়া হয়, জল ছিল না…’, সংসারের সমস্যা থেকে বাবার মৃত্যু, ‘বিগ বস’-এ মনের ঝাঁপি খুললেন রাজবীর
- TV9 Bangla — বাড়িতে ছিল না কারেন্ট, চরম আর্থিক অনটন! বাবাকে হারিয়ে দিশেহারা রাজবীর, কীভাবে কেটেছে তাঁর শৈশব?
- Tollygossip — “রাজ তোর বাবা আর নেই…” বাবার মৃত্যুর সেই রাত এখনও ভুলতে পারেননি রাজবীর
- Hindustan Times — ‘শরীর নয়, ভালোবাসার শুদ্ধতা!’ রাজবীরের কান্না দেখে কাঁদলেন মানবী