৬০ দিন পেরিয়ে শেষ এক মাস: কারা বিপদে?

শনিবার-রবিবার এলেই বিগ বস প্রতিযোগীদের মুখে টেনশনের ছাপ ফুটে ওঠে। ৬০ দিন হুড়মুড়িয়ে পেরিয়ে গেল ঘরের ভিতর। এখন শুধু এক মাস বাকি। তারপরেই জানা যাবে, কে হবে বিজয়ী। কিন্তু সময় যত এগোচ্ছে, খেলা তত কঠিন হয়ে উঠছে।

এই সপ্তাহে সৃজলা আগে থেকেই সেফ। বাদ পড়ার ঝুঁকিতে আছে নন্দিনী, রাজবীর আর তনুশ্রী। কে যাবে আজ, এই প্রশ্ন পুরো ঘরে আলোড়ন তুলেছে। দিন যত যাচ্ছে, উত্তেজনাও বাড়ছে। সম্প্রতি বিগ বস বাংলার নতুন প্রোমো দেখে উত্তেজনা যেন দ্বিগুণ।

সেফ
সৃজলা (আগে থেকেই)
ঝুঁকিতে
নন্দিনী, রাজবীর, তনুশ্রী
চূড়ান্ত নির্দেশ
‘হাত ছাড়ো’
বাকি সময়
মাত্র এক মাস

প্রোমোর টুইস্ট: ‘রাজবীর, হাত ছাড়ো’

নতুন প্রোমোতে দেখা গেছে, রবিবারের দাদার দরবারে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এসেছেন প্রতিযোগীদের সামনে। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, আজ কারও না কারও বিদায় অবশ্যম্ভাবী। এই একটা কথাতেই সবার মন খারাপ হয়ে গেল। বিশেষ করে রাজবীর, তনুশ্রী, নন্দিনীর জন্য টেনশন রয়ে যায়।

এরপরে সৌরভ একেবারে চমক দেন। তিনি রাজবীর আর নন্দিনীকে পাশাপাশি দাঁড়াতে বললেন, তনুশ্রীকে বসে থাকতে বললেন—মানে স্পষ্ট, এই সপ্তাহে তনুশ্রী সেফ। এরপর রাজবীর ও নন্দিনীকে হাত ধরে রাখতে বললেন। দমবন্ধ উত্তেজনার মধ্যে সৌরভ হঠাৎ বলেন, “রাজবীর, নন্দিনীর হাত ছাড়ো।” এখানেই জমে ওঠে নাটক। মানে কি রাজবীর বেরিয়ে যাচ্ছে, না কি নন্দিনী? কেউ কেউ ভাবছে, রাজবীর কি এত সহজে বেরিয়ে যাবে? নাকি এবার বিদায়ের পালা নন্দিনীর?

তনুশ্রী সেফ: সৌরভের প্রথম নির্দেশ

প্রোমোর প্রথম ইঙ্গিতেই স্পষ্ট হয়ে যায়—তনুশ্রী এই সপ্তাহে সেফ। সৌরভ তাকে বসে থাকতে বলার পরেই বোঝা যায়, বাদ পড়ার তালিকা থেকে তিনি বাদ পড়েছেন। এই সিদ্ধান্তে তনুশ্রীর ভক্তদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে, তবে ঘরের বাকি প্রতিযোগীদের মধ্যে টেনশন বেড়েছে।

তনুশ্রীর সেফ হওয়ার অর্থ দাঁড়ায়—বাকি তিনজনের মধ্যে থেকেই একজনকে বিদায় নিতে হবে। আর সেখানেই শুরু হয়েছে আসল জল্পনা। কারণ রাজবীর আর নন্দিনী—দুজনেই এই মুহূর্তে দর্শকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। তাদের একজন বেরিয়ে গেলে শোয়ের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যাবে।

রাজনন্দিনী জুটি ভাঙার ভয়

আসলে যেটা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে, সেটা হল “রাজনন্দিনী” জুটি ভেঙে গেলে অনেকেই মুষড়ে পড়বে। কারণ এ জুটি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দর্শকদের বেশ কাছের হয়ে গেছে। এখন দেখার বিষয়, আজ রাতে বিগ বস কী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। প্রত্যেকেই অধীর আগ্রহে সেই ঘোষণার অপেক্ষায়।

বিগ বস বাংলার ইতিহাসে একাধিক জুটির ভাঙা-গড়া দেখা গেছে। কিন্তু রাজনন্দিনী জুটির বিশেষত্ব হলো—এই জুটিকে ঘিরে দর্শকদের একাংশ বেশ আবেগী। তাই হাত ছাড়ার সেই দৃশ্য প্রোমোতেই দর্শকদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন—কেন এমন নির্দেশ দিলেন সৌরভ?

সিক্রেট রুমের জল্পনা: নন্দিনীর ভবিষ্যৎ

তবে অনেকেই বলছে, নন্দিনী নাকি সোজা সিক্রেট রুমে যাবে। তা হলে কি প্রতিবার এইভাবে কেউ না কেউ বেঁচে যাবে? তাহলে শেষ পর্যন্ত ফাইনালে কারা উঠবে, আর বাকিদের কী হবে? এত প্রশ্ন, জবাব এখনও অধরা।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, নন্দিনী এখনও শোয়ের সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র। জীতু কমলের প্রাক্তন স্ত্রীর প্রসঙ্গ, সৃজলার সঙ্গে বিবাদ, রাজবীরের সঙ্গে সম্পর্ক—সব মিলিয়ে তিনি লাইমলাইটে আছেন। তাই শোয়ের আকর্ষণ বজায় রাখতে মেকার্সরা তাঁকে ঘরে রাখতে চাইছেন। আর তাই ‘হাত ছাড়ো’ নির্দেশের পরেও নন্দিনীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে বিগ বস বাংলার ঘরে এখন প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ। আজ রাতের ‘দাদার দরবার’ কী বলবে, সেটাই এখন দেখার। রাজবীর বেরোবেন, নাকি নন্দিনী—নাকি সিক্রেট রুমের টুইস্ট অপেক্ষা করছে? জবাব মিলবে কিছুক্ষণ পরেই।