দুর্নিবারের অশান্তি: সৌরভের প্রশ্ন

এক সপ্তাহ ধরে দুর্নিবার সাহা বেশ অশান্ত, মনটা কোথাও যেন পড়ে আছে। মুখেও ধরা পড়ছে অস্বস্তি। আসলে কী হয়েছে? ‘দাদার দরবার’-এর মঞ্চে সঞ্চালক সৌরভ গাঙ্গুলি সরাসরি জিজ্ঞেস করলেন। দুর্নিবার প্রথমে এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সৌরভ তখনও পাশ থেকে হাল ছাড়লেন না। শেষে নিজেই কথাটা সামনে আনলেন।

সৌরভ গাঙ্গুলি বললেন, রণিতা দাসের সঙ্গে দুর্নিবারের কিছু কথা হয়, আর তারপর থেকেই সে একদম চুপচাপ। দাদা এবার রণিতার দিকে ঘুরলেন—অবশেষে জানতেই চাইলেন, ঠিক কী হয়েছে? রণিতা প্রথমে অন্য প্রসঙ্গ টানতে চাইলেও, দাদা ছাড়েননি। শেষে একটু না চাইলেও বলতে হয়।

মূল চরিত্র
দুর্নিবার ও সৃজলা
পর্ব
‘দাদার দরবার’
সত্যি জানালেন
রণিতা দাস
চূড়ান্ত কথা
‘নিছক বন্ধুত্ব’

রণিতার সত্যি: বাইরে থেকে বন্ধুত্ব ঠিক লাগছিল না

রণিতা জানিয়ে দেন—তিনি ‘বিগ বস’-এর ঘরে অনেক পরে ঢুকেছিলেন, বাইরের দিক থেকে দুর্নিবার-সৃজলার বন্ধুত্বটা চোখে ঠিকঠাক লাগছিল না। দর্শকরাও তার মানে খুঁজছেন। এমনকি, রণিতা চাননি কোনো সম্পর্ক ভেঙে যাক, তাই দুর্নিবারের সঙ্গে তিনি কথা বলেছিলেন।

রণিতার এই স্বীকারোক্তি কার্যত বাইরের দর্শকদের সেই সন্দেহকেই প্রকাশ্যে এনে দিল, যা অনেকেই দুর্নিবার-সৃজলার বন্ধুত্ব নিয়ে মনে মনে ভাবছিলেন। ঘরের ভেতরে থাকা প্রতিযোগীদের চেয়ে বাইরের দর্শকদের চোখে এই বন্ধুত্ব আরও বেশি করে প্রশ্নের মুখে পড়ছিল—রণিতা সেটাই সরাসরি স্বীকার করলেন।

সৃজলার চোখে জল: ‘নিছক বন্ধুত্ব’

এরপরেই, আবার নিজের নাম জড়িয়ে কানাঘুষো শুরু হওয়ায় সৃজলার চোখে জল চলে আসে। সবার সামনে সৃজলা আর দুর্নিবার বলেই দেন—তাদের মধ্যে নিছকই বন্ধুত্ব, এর বেশি কিছু নয়। দর্শকদের একাংশের কাছে এই দৃশ্য বেশ আবেগময় হয়ে ওঠে, কারণ কানাঘুষোর চাপে সৃজলার কষ্ট স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, বিগ বস বাংলার ঘরে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন কতটা চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যখন ঘরে নতুন কেউ ঢোকেন এবং বাইরের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন সেই আলোচনা সরাসরি ঘরের আবেগে প্রভাব ফেলে।

সৌরভ এরপর বাড়ির বাকিদেরও জিজ্ঞেস করেন, তাদের কাছে এই বন্ধুত্বটা কেমন লাগে? সৌরভ দাস আর জিতু কমল বলেন—সবকিছু খুব স্বাভাবিকই দেখছেন। অর্থাৎ, ঘরের বাকি প্রতিযোগীদের একাংশের কাছে দুর্নিবার-সৃজলার বন্ধুত্ব নিয়ে কোনো অস্বাভাবিকতা নেই।

এই প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ—কারণ বাইরের দর্শকদের একাংশ যেখানে সন্দেহ প্রকাশ করছেন, সেখানে ঘরের ভেতরের কিছু প্রতিযোগী বিষয়টিকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন। এই দুই দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যই বর্তমানে শোয়ের আলোচনার কেন্দ্রে।

সৌরভের পরামর্শ

তখন সৌরভ গাঙ্গুলি, দুর্নিবার আর সৃজলাকে বুঝিয়ে বলেন, যখন নিজেরা নিজেদের নিয়ে নিশ্চিন্ত, তখন কে কী বলল, সে নিয়ে মাথা না ঘামানোই ভালো। এই পরামর্শ কার্যত দুজনকেই বাইরের গুঞ্জন এড়িয়ে নিজেদের মতো থাকার বার্তা দেয়।

বিগ বস বাংলার সঞ্চালক হিসেবে সৌরভের এই ভূমিকা এর আগেও দেখা গেছে—কখনও কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে, আবার কখনও অভিভাবকের মতো বুঝিয়ে। দুর্নিবার-সৃজলার ক্ষেত্রে তিনি দ্বিতীয় পথই বেছে নিলেন। আগামী পর্বে এই বন্ধুত্ব নিয়ে আরও আলোচনা হয় কি না, সেটাই এখন দেখার।