বিদায়ের ঘোষণা: রাজবীরের অনুরোধ

‘বিগ বস বাংলা’তে রবিবারের ‘দাদার দরবার’ মুহূর্তেই বদলে গেল বিষাদের নাট্যমঞ্চে। ইলিমিনেশন রাউন্ডে সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ঘোষণার সাথে সাথে, নন্দিনী বাদ পড়াতেই রাজবীর একেবারে ভেঙে পড়ল। প্রেমিকাকে বিদায় জানাতে একরকম জ্যাকেট দিয়ে ঢেকে, ক্যামেরার সামনে চুমু খেল রাজবীর। পুরো ঘর ভর্তি কান্না।

এদিন আনসেফ জোনে ছিল তনুশ্রী, রাজবীর আর নন্দিনী। নন্দিনীর নাম শুনে রাজবীর কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিল না। সৌরভকে হাতজোড় করে অনুরোধ, “দাদা, কিছু একটা করুন। এরকম হতে পারে না। একটা সুযোগ দিন ওকে।” কিন্তু বিগ বসের খেলা তো নিয়ম নিয়ে চলে! সৌরভ সাফ জানিয়ে দিল, “অডিয়েন্স এটাই চেয়েছে।”

এভিক্টেড
নন্দিনী দত্ত
ভাইরাল মুহূর্ত
জ্যাকেটের আড়ালে চুমু
তনুশ্রীর মন্তব্য
“মা দেখছে!”
আসল টুইস্ট
সিক্রেট রুম

রাজবীরের কান্না ও নন্দিনীর আশ্বাস

এরপর রাজবীর একদম নিজেকে সামলাতে পারল না। সে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করল। তার মাথায় ঘুরল একটাই চিন্তা, “এবার তো সবাই আমাকে টার্গেট করবে। আমি পারব না।” নন্দিনী অনেক আগে থেকেই রেডি ছিল, বলেছিল, “আমি আপফ্রন্ট খেলেছি, হারলে হারব।” বিদায় বেলায় প্রেমিককে শক্ত হাতে জড়িয়ে ধরে বোঝাল, “তুমি পারবে। আই লাভ ইউ। আমি বাইরে বসে তোমার জন্য অপেক্ষা করব, পুজো দেব যাতে তুমি জিতো।”

শেষ মুহূর্তটা ছিল আরও ইমোশনাল। রাজবীর একটা শুকনো গোলাপ দিল নন্দিনীকে, চুপিচুপি কাছে নিয়ে আদরও করল। এই আবেগময় দৃশ্য নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রও সোশ্যাল মিডিয়ায় эмоশনাল পোস্ট করেছেন—তিনি লিখেছেন, এমনকি যাঁরা এই জুটির বিরোধিতা করতেন, তাঁদেরও চোখে জল এসেছে।

জ্যাকেটের আড়ালে শেষ চুমু: ‘মা দেখছে!’

এরপর গেট পর্যন্ত এগিয়ে দেওয়ার সময় ঘটল চমক। সবাই দেখতে দেখতে নিজের কোট খুলে নন্দিনী আর তার মাথা ঢেকে দিল, তার পর গভীর চুমু। এই দৃশ্য দেখে তনুশ্রী মজা করে বলল, “মা দেখছে!” নন্দিনী যাওয়ার আগে জিতু, মনামী আর সৃজলাকে ক্ষমা চেয়ে গেল। বলল, রাজবীর যেন জেতে।

এই দৃশ্যটি কার্যত ‘আশিকি ২’-র সেই সিগনেচার পোজের পুনরাবৃত্তি—যেখানে ব্লেজারের আড়ালে নায়ক-নায়িকার চুম্বন দৃশ্য দর্শকদের মনে দাগ কেটেছিল। সংবাদ প্রতিদিন লিখেছে, নেটপাড়া এখন বলছে—‘এ তো আশিকি ৩!’

দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় নন্দিনীও চোখের জল ধরে রাখতে পারল না। বারবার “বাবা, বাবা” বলে ডাকতে থাকল রাজবীর। নন্দিনী বেরিয়ে যেতেই রাজবীরের মাথা যেন কাজ করা বন্ধ করল। বন্ধ দরজার সামনে বসে পড়ে চিৎকার করে কাঁদতে লাগল। বারবার বলে, সে নন্দিনীকে কতটা ভালোবাসে। পরিস্থিতিটা এত ভারী হয়ে উঠল যে, পরিবেশ শান্ত করতে দুর্নিবার গান ধরল।

সিক্রেট রুমের নিয়ম: ডিসপ্লে, আলো ও হেডফোন

বাড়ির সবাই ধরা দিল নন্দিনীকে বিদায় বলেই। কিন্তু কেউ জানে না আসল চমক ছিল বাইরে। বেরিয়ে গিয়ে নন্দিনী সোজা পৌঁছল ‘সিক্রেট রুম’-এ। তিনি এখনও গেমে আছেন। এ থেকে পুরো বাড়ির ওপরে নজর রাখবেন, বিগ বসের নির্দেশও পাবেন।

তবে সিক্রেট রুমে কিছু কড়া নিয়ম আছে। এখানে কেউ জানতে পারবে না তিনি কোথাও আছেন। জোরে আওয়াজ করা কিংবা কথা বলা যাবে না। বাড়িতে তাঁর উপস্থিতি চুপিসারে রাখতে হবে। বিগ বস জানিয়ে দিল, নীল আলো জ্বলে উঠলে তাঁর জন্য যা এসেছে সেটা নিতে হবে। আর সবুজ আলো জ্বলে উঠলে বুঝতে হবে বিগ বস কথা বলতে চায়।

সিক্রেট রুমে একটি বড় ডিসপ্লে রয়েছে, যেখান থেকে ঘরের সবাইকে দেখতে পাবেন নন্দিনী। হেডফোনে বিগ বসের নির্দেশ পাবেন। Ei Samay-র রিপোর্ট অনুযায়ী, সেখানে দেওয়ালজুড়ে বড় ডিসপ্লে, তিনটি নানা রঙের লাইট—প্রতিটির অর্থ আলাদা।

নন্দিনীর প্রতিক্রিয়া: ‘আমি তো কুইন’

শুনে তো নন্দিনী পুরোদস্তুর অবাক, হাসতে হাসতে বলল, “আমি ভাবলাম আমি বেরিয়ে গিয়েছি। কিন্তু আমি তো কুইন! তবে রাজবীরের জন্য কষ্ট হচ্ছে। ও জানেই না আমি এখানেই আছি।”

আপাতত বিগ বসের এই সিক্রেট রুমই সব চেয়ে বড় চমক। নন্দিনী কবে মূল ঘরে ফিরবেন, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। নন্দিনীর বাবা সন্দীপ দত্ত অবশ্য বলেছেন, সিক্রেট রুমে থেকে খেলায় থাকাটা নন্দিনীর কাছে আশীর্বাদের মতো। আর রাজবীরের কান্না দেখে তিনিও চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।

সূত্র ও রেফারেন্স