টেস্ট থেকে অবসর: ২২৯ উইকেটের ক্যারিয়ার

শুক্রবার রাতে শামি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানালেন, তিনি আর টেস্ট ক্রিকেট খেলবেন না। টেস্ট দলে নাম উঠছিল, তবুও ফেরা হলো না। কখনও ফিটনেস, কখনও অন্য অজুহাতে সুযোগ পাননি। অথচ ঘরোয়া ক্রিকেটে রান তুলেছেন, নিয়মিত পারফর্মও করেছেন। কেন তাঁকে দলে নেওয়া হলো না, সেটা হয়তো প্রাক্তন নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকরই সবচেয়ে ভালো জানেন।

তবে শামির ক্যারিয়ারে বিস্ময়কর কিছু মুহূর্ত আছে। ২০১৩ সালে ইডেনে অভিষেক টেস্টেই ৯ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ২০১৮ সালে পারথ টেস্টে মাত্র ৫৬ রানে ৬ উইকেট—ওটাই টেস্টে তাঁর সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। ২০১৯-এ বিশাখাপত্তনমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৩৫ রানে ৫ উইকেট। ২০২১ সালে সেঞ্চুরিয়ানে ভারতের জয়ী ম্যাচে ৪৪ রানে ৫ উইকেট শিকার করেছিলেন। Times of India-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ৬৪টি টেস্টে ২২৯ উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ করলেন তিনি।

টেস্ট ম্যাচ
৬৪
টেস্ট উইকেট
২২৯
IPL টিম
লখনউ
IPL ফি
₹১০ কোটি

সম্পত্তির হিসাব: ৪৭ থেকে ৬৫ কোটি টাকা

সম্ভবত শামির মোট সম্পদ এখন ৫৫ থেকে ৬৫ কোটি টাকার মধ্যে। বিসিসিআইয়ের চুক্তিতে তিনি গ্রেড ‘এ’ খেলোয়াড় ছিলেন, যার জন্য বছরে ৫ কোটি টাকা পেতেন। কিন্তু এ বছর সে তালিকায় নেই তিনি, জাতীয় দল থেকেও অনেক দিন বাইরে। ফলে বড় অঙ্কের টাকাও বন্ধ হয়ে গেছে। ২০২৫-এ দেশের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলেছিলেন—ওয়ানডের ম্যাচ ফি ছিল ৬ লক্ষ। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষেই জাতীয় দলে আর ডাক মেলেনি।

CricTracker-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, শামির নেট ওয়ার্থ প্রায় ৪৭ কোটি টাকা (প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার)। তবে এই অঙ্ক কোনো অফিসিয়াল তথ্য নয়—শামি নিজে কখনও সম্পত্তির হিসাব প্রকাশ করেননি। বিভিন্ন সূত্রে এই অঙ্ক ৮০ কোটি টাকাও বলা হচ্ছে।

আমরোহায় ১৫ কোটি টাকার ফার্মহাউস

আমরোহাতে শামির দুর্দান্ত একটা ফার্মহাউস আছে—১৫ কোটি টাকার মতো খরচ পড়েছে। প্রায় ১০০ একর জমি ২০১৫ সালে কিনেছিলেন। ভেতরে বিশাল সুইমিং পুল, ক্রিকেট প্র্যাক্টিসের দারুণ বন্দোবস্ত, অনেক গাছপালা, এমনকি একটা বড় আমবাগানও আছে। সময় পেলে ওখানেই নিজের কুকুরদের নিয়ে সময় কাটান। ছোট ছেলেদেরও ক্রিকেট শেখানোর ব্যবস্থা রেখেছেন। Times of India-র রিয়েল এস্টেট রিপোর্ট অনুযায়ী, ফার্মহাউসটি উত্তরপ্রদেশের আমরোহা জেলার সহসপুর আলীনগর গ্রামে অবস্থিত। প্রায় ১৫০ বিঘা (৬০-১০০ একর) জুড়ে বিস্তৃত এই ফার্মহাউসের মূল্য ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকা।

ফার্মহাউসটির নাম ‘হাসিন ফার্মহাউস’—প্রাক্তন স্ত্রী হাসিন জাহানের নামে। তবে বিবাহবিচ্ছেদের পরও এই ফার্মহাউসটিই শামির প্রধান ব্যক্তিগত ঠিকানা।

IPL ও ব্র্যান্ড চুক্তি থেকে আয়

আইপিএলে খেলা, ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি আর ব্যবসায়িক বিনিয়োগ—এই সব মিলিয়ে শামির আয় নেহাতই কম না। ৩৬ বছর বয়সে তিনি দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, পাঞ্জাব কিংস, কলকাতা নাইট রাইডার্স, গুজরাট টাইটান্স আর সানরাইজার্স হায়দরাবাদে খেলেছেন। ২০২৬ সালের আইপিএলের আগে তাঁকে লখনউ সুপার জায়ান্টস—১০ কোটি টাকায়—দলে নেয়। শুধু আইপিএল থেকেই তিনি প্রায় ৫০ কোটি টাকা রোজগার করেছেন।

ব্র্যান্ড চুক্তির জন্য শামি প্রায় এক কোটি টাকা পান। তাঁর ব্র্যান্ড পোর্টফোলিওতে রয়েছে Nike, OctaFX, Blitzpools, Puma, Stanford, Hell Energy Drink এবং Vision11। এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানিতে তাঁর শেয়ার এবং একাধিক রিয়েল এস্টেট প্রকল্পেও বিনিয়োগ রয়েছে। গাড়ির দিক থেকেও শখ কম না তাঁর—Audi, BMW 5 Series, Jaguar F-Type, Mercedes GLS এবং Toyota Fortuner—সব মিলিয়ে ব্যয়বহুল গাড়ির কালেকশন রয়েছে।

বিবাহবিচ্ছেদ ও মাসিক খরচ

তার ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই ঝামেলাপূর্ণ। স্ত্রী হাসিন জাহানের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ চলছে বহুদিন ধরে। শামির বিরুদ্ধে হাসিন একের পর এক গুরুতর অভিযোগ এনেছিলেন—বৈবাহিক ধর্ষণ, গার্হস্থ্য হিংসা, এমনকি বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কও। সেই মামলা-টানাপোড়েন এখনও চলছে। মেয়ে আর স্ত্রীর দেখভালের জন্যও মাসে চার লাখ টাকা দিতে হয় তাঁকে।

The Tribune-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কলকাতা হাইকোর্ট শামিকে মাসিক ৪ লক্ষ টাকা অন্তর্বর্তী ভাতা দেওয়ার নির্দেশ দেয়—হাসিন জাহানের জন্য ১.৫ লক্ষ টাকা এবং কন্যার জন্য ২.৫ লক্ষ টাকা।

সূত্র ও রেফারেন্স