ম্যাচের সারসংক্ষেপ: শেষ পাঁচ মিনিটে ছন্নছাড়া ইস্টবেঙ্গল

এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর ম্যাচে ওমানের আল সিবের কাছে ২-০ গোলে হেরে গেছে ইস্টবেঙ্গল। এই হারের পর, এশিয়ার মঞ্চ থেকে কার্যত বিদায়ের দোরগোড়ায় লাল-হলুদরা।

যুবভারতীতে গ্যালারিতে তখনও ব্যানার—'WE DIDN'T COME THIS FAR TO FALL AGAIN - STAND UP, BE COUNTED'। মাঠে অবশ্য সেই লড়াই বা আবেগ পরিষ্কার ছিল না ইস্টবেঙ্গলের খেলায়। আবারও সহজ সুযোগ নষ্ট, ফিনিশিং-এ খামতি—এই পুরনো সমস্যার জন্যই হারতে হলো। চার ম্যাচে তাদের দশ পয়েন্ট হওয়ার কথা ছিল। অথচ আল হুসেন, আল শোরতার মতো দলের বিরুদ্ধে গোল মিস করে, দরকারি পয়েন্ট ফেলে এসেছিল তারা। আর এখন আল সিবের কাছে হার—এশিয়ার দৌড়ে কার্যত সাহারা মরুভূমিতেই গিয়েছে তারা।

ফলাফল
আল সিব ২-০ ইস্টবেঙ্গল
গোল
মেয়ে ৮৫', আগবারি ৯০+১'
গ্রুপ পয়েন্ট
ইস্টবেঙ্গল ২ (৪ ম্যাচ)
অবস্থান
গ্রুপ ডি-তে তলানি

প্রথমার্ধ: সুযোগের মিছিল, গোলের খরা

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ইস্টবেঙ্গলের দখলেই ছিল। প্রথম দশ মিনিটে আক্রমণে অনেকটা সময় কাটালেও শেষ ধাপে গিয়ে যেন সব গড়বড়। গোলবক্সের ঠিক সামনে থেমে যাচ্ছিল সব ঝাঁঝ। কোথাও যেন প্রয়োজনীয় সেই 'জোশ' মিসিং।

তার মাঝেই ১৭ মিনিটে চোট পান আনোয়ার আলি। জাতীয় দল আর ইস্টবেঙ্গলের হয়ে লাগাতার খেলার ধকলেই শরীর এবার আর সায় দিল না। আনোয়ারের ওঠার পর হয়ে গেল বড় ফাঁক, আর তার ঠিক পরেই গোলের সামনে সুবর্ণ সুযোগ ইস্টবেঙ্গলের সামনে।

২০ মিনিটে সবার চোখের সামনে কাঁচি মেরে গোল ফেলে দিলেন মহম্মদ রশিদ। এডমুন্ড লালরিনডিকার ক্রস আল সিব গোলকিপার ইব্রাহিম প্রথমে রুখলেও, প্রত্যাবর্তী বলটা পেয়েছিলেন বিপিন সিং। তিনি আবার বল বাড়িয়েছিলেন অধিনায়ক রশিদকে, যিনি গোলের সামনে একদম ফাঁকা। কিন্তু মাথা দিয়ে বল পোস্টের বাইরে পাঠিয়ে আরেকবার হতাশ করলেন। দ্বিতীয় পোস্টে বল রাখা, এই ছোট্ট ভুলটা তাঁকে বড় পেনাল্টি দিল।

তবুও প্রথমার্ধে বেশ কিছু ভালো সুযোগ পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। ডানি রামিরেজ কমপক্ষে তিন বার গোলমুখে শট নিয়েছেন, কিন্তু গোল আর হয়নি। খেলার ছন্দ আবার আল সিব নিজেদের পক্ষে টেনে নেয়, আনোয়ারের অনুপস্থিতিতে ইস্টবেঙ্গলের ডিফেন্সও একটু দুর্বল হয়ে পড়ে। তারপরেও, প্রথমার্ধ ইস্টবেঙ্গলের গোলকিপার ফুরবা লাচেনপার জন্য সহজ থাকে, বড় কোনো পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি। দু'দলের জোর লড়াই চলেছিল, স্কোর ছিল ০-০।

দ্বিতীয়ার্ধ: লাচেনপার সেভ, তারপর আল সিবের জোড়া গোল

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই ইস্টবেঙ্গল পেয়েছিল গোলের সুযোগ। মাত্র তিরিশ সেকেন্ডের মাথায় জয় গুপ্তার ক্রস থেকে ডেভিড ফ্লিক করতে গিয়ে মিস—গোল পেল না দল। কিন্তু ৪৮ মিনিটে এবার চাপে পড়ে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। ওমানের দলের ফরোয়ার্ড অ্যাক্সেল মে ডং তেমনই সুযোগ নষ্ট করল।

৫৫ মিনিটে সন্দীপ মান্ডির ক্রস থেকে লালরিনডিকার হেডেও আরেকটা বড় সুযোগ মিস। একটুর জন্য গোল হল না। ৬১ মিনিটে বাঁ উইং থেকে ঢুকে জয় পাস বাড়ালেন লোবাকে, তিনি আবার সেট করে দিলেন রামিরেজকে—এইবারও ওমানের গোলকিপার ফুরিয়ে দিল আশার আলো।

এরপর ফুরবা লাচেনপার দুর্দান্ত সেভ। আল সিবের ওমের আল মালকি ঠিক বক্সের মাঝে দাঁড়িয়ে হেড করেছিলেন—লাচেনপা এবার ডানদিকে দারুণ ঝাঁপিয়ে বড়োসড়ো গোল বাঁচালেন। ওমানের মাঠে এই ক্লাবের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তের সেই এক পয়েন্ট এনে দেবার স্মৃতি এবার ফিরে এল।

কিন্তু এবার আর ডিফেন্স টিকল না। কিছু সময় ধরে চাপ বাড়িয়ে চলছিল আল সিব। ৮৫ মিনিটে ডানদিক থেকে হাসানের ক্রস—প্রথম পোস্ট দিয়ে সন্দীপ মান্ডিকে টপকে অ্যাক্সেলের গোল। সব শেষ, ৯০ মিনিটে দ্বিতীয় গোলও। সব মিলিয়ে কার্যত এশিয়ার দরজাই বন্ধ হয়ে গেল ইস্টবেঙ্গলের মুখে। গ্যালারির সেই ডাকটা শুধু দুলে গেল শূন্যতায়।

গ্রুপ ডি পয়েন্ট তালিকা

স্থানদলম্যাচপয়েন্ট
১আল শোরতা (ইরাক)৩৭
২আল হুসেন (জর্ডন)৩৫
৩আল সিব (ওমান)৪৪
৪ইস্টবেঙ্গল (ভারত)৪২

(ইস্টবেঙ্গল বনাম আল সিব ম্যাচের পর পর্যন্ত। আল শোরতা বনাম আল হুসেন ম্যাচ ছিল রাতে।)

হাবাসের প্রতিক্রিয়া: '৩-৪ গোলে জেতা উচিত ছিল'

ম্যাচ শেষে ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দৈনিক স্টেটসম্যান-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি বলেছেন, "আমাদের ৩-৪ গোলে জেতা উচিত ছিল। এত সহজ সুযোগ মিস করা যায় না।" পাশাপাশি রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা-র রিপোর্ট অনুযায়ী, পেনাল্টি না দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সামনের ম্যাচ: আল হুসেন ও আল শোরতা

এখন ইস্টবেঙ্গলের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। AFC-র অফিসিয়াল সূচি অনুযায়ী, পরবর্তী ম্যাচে ২৪ নভেম্বর কলকাতায় আল হুসেনের মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল। তারপর ৮ ডিসেম্বর ইরাকে আল শোরতার বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্ব শেষ করবে লাল-হলুদ।

তবে এই হার के बाद নকআউটে ওঠার আশা কার্যত শেষ। গণিতের খেলা থাকলেও বাস্তবে তা প্রায় অসম্ভব। আজকাল-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, শেষরক্ষা হল না ইস্টবেঙ্গলের—এশিয়া থেকে বিদায় কার্যত নিশ্চিত।

সূত্র ও রেফারেন্স