‘দাদার দরবার’-এর খেলা: পুরনো মন্তব্য ফাঁস
শনিবার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ‘দাদার দরবার’-এ এসেই শুরু করেন একটি মজার খেলা। প্রতিযোগীদের পুরনো মন্তব্য একে একে তুলে ধরা হয়—কে কাকে নিয়ে কী বলেছেন, কেন বলেছেন, সব খোলসা হতে থাকে। এই খেলায় বেশ কিছু পুরনো অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়, আবার নতুন কিছু বিতর্কও মাথাচাড়া দেয়। এই পর্বেই সৃজলা গুহ ও সোনামণি সাহার মধ্যে তুমুল কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
সৃজলার অভিযোগ, সোনামণি বারবার তাঁর বিশ্বাস ভেঙেছেন। এর পক্ষে তিনি বেশ কিছু যুক্তিও দেন। কিন্তু সোনামণি সেই অভিযোগ মানতে চাননি। তিনি পাল্টা জানান, সৃজলার চোট লাগার পর তিনিই সব দায়িত্ব নিঃশর্তভাবে সামলেছিলেন। এই দ্বিমুখী অভিযোগের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল বন্ধুত্ব ভাঙার আসল কারণ।
বন্ধুত্ব ভাঙার আসল কারণ: সেবা বনাম ‘একা’ অনুভব
সোনামণির দাবি, সৃজলা যখন গুরুতর আহত হয়ে ঘরে ফেরেন, তখন সোনামণিই তাঁকে খাইয়ে দিয়েছেন, স্নান করিয়েছেন, এমনকি জামা পরাতেও সাহায্য করেছেন। কিন্তু তারপরও সৃজলা ‘দাদার দরবার’-এ জানান, তিনি নাকি খুব ‘একা’ অনুভব করছেন। সোনামণির মতে, এই মন্তব্যের পরেই তাঁর পক্ষ থেকে বন্ধুত্বে চিড় ধরেছে।
সৃজলার চোটের প্রসঙ্গটি বিগ বস বাংলার দর্শকদের কাছে খুবই পরিচিত। ক্যাপ্টেন্সি টাস্কের সময় ঘোড়া থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন সৃজলা, হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। সেই সময় সোনামণি তাঁর পাশে থেকেছেন বলে দাবি করলেও, সৃজলার ‘একা’ অনুভবের অভিযোগই দুজনের সম্পর্কের অবনতির ট্রিগার পয়েন্ট হয়ে ওঠে। এই মানসিক দূরত্বই ‘পথের কাঁটা’ খেলায় প্রকাশ্যে রূপ নেয়।
‘পথের কাঁটা’ খেলা: সোনামণির নাম সৃজলা
এদিনের অন্যতম আকর্ষণীয় খেলা ছিল ‘ফাইনালে জেতার পথে কে কার পথের কাঁটা’—এই খেলায় প্রত্যেককে নিজের মতো করে একজনকে চিহ্নিত করতে হয়। একে একে সবাই নাম নেন। আর এই খেলাতেই সোনামণি সরাসরি সৃজলার নাম নেন। শুধু নাম নেওয়াই নয়, সোনামণি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সৃজলার এই ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়াই উচিত। তাঁর যুক্তি—সৃজলা বহুবার বলেছেন তিনি এই বাড়িতে আর থাকতে চান না; তাহলে থাকতে না চাইলে বেরিয়ে যাওয়াই উচিত।
এই মন্তব্য কার্যত সোনামণির পক্ষ থেকে সৃজলার বিরুদ্ধে একটি প্রকাশ্য ‘এভিকশন রিকোয়েস্ট’-এর মতো। বিগ বস বাংলার ঘরে এমন প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব এর আগে খুব একটা দেখা যায়নি। বিশেষ করে যখন দুজনের সম্পর্ককে ঘিরে দর্শকদের একাংশ এখনও আবেগী, তখন এই ঘটনা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সৃজলার অবস্থান: বিশ্বাস ভাঙার অভিযোগ
অন্যদিকে সৃজলা তাঁর অভিযোগে অটল। তাঁর দাবি, সোনামণি বারবার তাঁর বিশ্বাস ভেঙেছেন এবং সেই কারণেই তিনি সোনামণিকে আর বিশ্বাস করতে পারেন না। ‘দাদার দরবার’-এ এই নিয়ে দুজনের মধ্যে বেশ বাদানুবাদ হয়। যদিও সোনামণি সৃজলার অভিযোগ অস্বীকার করেন, তবে এই ঘটনা স্পষ্ট করে দেয় যে দুজনের মধ্যে আর আগের মতো বন্ধুত্ব নেই।
প্রসঙ্গত, এর আগেও সোনামণি-সৃজলা সম্পর্ক নিয়ে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কখনও দুর্নিবার সাহাকে নিয়ে, কখনও বা অন্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে সৃজলার সম্পর্ক নিয়ে সোনামণি মুখ খুলেছেন। কিন্তু এবার সরাসরি ‘ঘর থেকে বের করে দেওয়ার’ দাবি আসায় বিষয়টি অনেকটাই ব্যক্তিগত ও গুরুতর রূপ নিয়েছে।
নমিনেশন ও ফাইনালে প্রভাব
এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই বিগ বস বাংলার গ্র্যান্ড ফিনালের নমিনেশন পর্বও চলছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সৃজলা এই সপ্তাহে ‘সেফ জোন’-এ আছেন, অন্যদিকে সোনামণি এবং আরও কয়েকজন ‘আনসেফ জোন’-এ রয়েছেন। অর্থাৎ, এই মুহূর্তে সৃজলা ভোট আউটের ঝুঁকিতে নেই বললেই চলে। কিন্তু সোনামণির প্রকাশ্য দাবি এবং দুজনের দ্বন্দ্ব যদি দর্শকদের ভোটিং প্যাটার্নে প্রভাব ফেলে, তাহলে সমীকরণ বদলাতে পারে।
ফাইনালের আগে এই ধরনের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব শোয়ের গল্পকে আরও জটিল করে তুলবে—এটা নিশ্চিত। সোনামণি ও সৃজলা—দুজনের কেউ যদি শেষ পর্যন্ত ঘরে থাকেন, তাহলে আগামী পর্বগুলোতে আরও সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দর্শকদের জন্য এই দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রার বিনোদন নিয়ে আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে।