কে এই ‘জেন জি বাবা’?

কিছুদিন আগেই বাগেশ্বর বাবা নামে পরিচিত তরুণ সন্ন্যাসী ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী দুর্গাপুজোয় নিরামিষ খাওয়া নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ান। সোশাল মিডিয়ায় তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি, বিশেষত তাঁর বয়সের জন্যই। ছোট বয়সে আধ্যাত্মিক কথা বলে ভাইরাল হয়েছিলেন। কিন্তু এখন আলোচনার কেন্দ্রে জেন জি বাবা। অনেকেই বলেন, এবার বাগেশ্বর বাবাও যেন কার্যত ফিকে হয়ে যাচ্ছেন তাঁর সামনে।

জেন জি বাবার বয়স এখনও মাত্র ১৯। জন্ম বৃন্দাবনেই। পুরো নাম স্বামী শাশ্বত আচার্যজি মহারাজ, তবে সবার মুখে এখন একটিই নাম—জেন জি বাবা। ইনস্টাগ্রামে একটু দেখলেই চোখে পড়বে তাঁর ভগবত কথা, গীতার ব্যাখ্যা—সবই তরুণের কণ্ঠে, সহজ ভাষায়। শুধু ভারত নয়, তরুণদের মধ্যেও জনপ্রিয়তা বাড়ছে। মজার ব্যাপার, যারা নিজেদের ধর্মীয় বলে মনে করেন না, তাদের অনেকেই মন দিয়ে শুনছেন শাশ্বত আচার্যের কথা।

বয়স
১৯ বছর
জন্ম
৫ আগস্ট ২০০৭
পদ
পীঠাধীশ্বর
ইনস্টাগ্রাম
~৪৫ হাজার ফলোয়ার

চার বছর বয়স থেকেই গীতার শ্লোক

জেন জি বাবার বিশেষত্ব—তিনি কখনও চমকপ্রদ মন্তব্য করেন না। গীতার কথা ছাড়া মুখে অন্য কিছু নেই। মাত্র চার বছর বয়স থেকেই গীতার শ্লোক মুখস্থ বলতেন। তাঁর বাবা, স্বামী বৃন্দাবন আচার্যজি মহারাজ, বৃন্দাবনের বিখ্যাত শ্রীধাম গোড়া বিহার মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই চারপাশে কৃষ্ণভক্তি, ভগবত গীতা, মন্দিরের ভক্তিময় পরিবেশে বড় হয়েছেন তিনি। দিনগুলো কেটেছে নিয়মিত মন্দির যাওয়া, গীতা পাঠ, আর ভগবত আলোচনা শুনে-শিখে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, ধর্মের দিকেই আরও বেশি টান অনুভব করেছেন তিনি। এখন শ্রীধাম গোড়া বিহার মন্দিরেরই পীঠাধীশ্বর। মাত্র ১৯ বছর বয়সে জোর গলায় ভগবত কথা প্রচার করছেন দেশে-বিদেশে। বিশেষ করে, ভগবত গীতার যে অংশে কৃষ্ণের কথা উঠে এসেছে, সেই অংশের ব্যাখ্যাই প্রধান। তাঁর ভিডিও বা লাইভ সেশনগুলো নিয়মিত ভাইরাল হচ্ছে।

১৯ বছরেই পীঠাধীশ্বর

শুধু ধর্ম প্রচার নয়, নিজেই গাইছেন ভজন, ভাগবত পাঠ করছেন, শাস্ত্রের নানা অংশ ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। শান্ত গলায়, মধুর হাসিতে আট থেকে আশি সবাই মুগ্ধ। কেউ কেউ বলেন, তিনি সোশাল মিডিয়ায় আসার আগে থেকেই মন্দিরে নিয়মিত ভাগবত পাঠ করতেন। স্কুলবেলার কিশোর বয়স থেকেই শাস্ত্র-আলোচনায় টান চিরকালীন।

শ্রীধাম গোড়া বিহার মন্দির উত্তরপ্রদেশের বৃন্দাবনে অবস্থিত। এই মন্দিরের পীঠাধীশ্বর পদটি একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে বোঝায়। ১৯ বছর বয়সে এই পদে অধিষ্ঠিত হওয়াটা নিজেই একটি বড় অর্জন। মন্দিরের ভক্তিময় পরিবেশে বড় হয়ে ওঠা শাশ্বতের জন্য এই দায়িত্ব স্বাভাবিকভাবেই এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সোশাল মিডিয়ায় ঝড়

শাশ্বত আচার্যের ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, ইউটিউব—সব জায়গাতেই সরব উপস্থিতি। ইনস্টাগ্রামে প্রায় ৪৫ হাজার ফলোয়ার। প্রতিটি পোস্টেই কোনো না কোনো শ্লোক নিয়ে বক্তব্য—তাঁর প্রোফাইলে ধর্ম ছাড়া অন্য কোনো বিষয় নেই। তরুণ বয়সে এত সহজ ও স্বাভাবিকভাবে ধর্মের প্রচার—এই সাধারণত্বেই তিনি নেটিজেনের মন জয় করেছেন।

NewsX-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রামে তাঁর রিলস আর ভিডিও ক্লিপগুলো দ্রুত ভাইরাল হচ্ছে। ভক্তরা তাঁকে ‘জেন জি বাবা’ ও ‘পুকি বাবা’ নামেও ডাকছেন। কেউ কেউ আবার ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এর চরিত্র মাইক হুইলারের সঙ্গে তাঁর চেহারার মিল খুঁজে পাচ্ছেন।

বাগেশ্বর বাবার সঙ্গে তুলনা

বাগেশ্বর বাবা ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী কয়েক মাস আগে সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিলেন। কিন্তু জেন জি বাবার উত্থানের পর অনেকের মতে, বাগেশ্বর বাবার জনপ্রিয়তা কিছুটা ফিকে হয়ে গেছে। কারণ শাশ্বত আচার্য কোনো বিতর্কে জড়াননি, কোনো চটকদার মন্তব্য করেননি। শুধু গীতার বাণী, শুধু ভক্তির কথা। এই ভিন্নতাই তাঁকে আলাদা করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ প্রজন্ম ধর্মীয় বিষয়ে যাঁরা আগ্রহী নন, তাঁরাও শাশ্বত আচার্যের কথা শুনছেন কারণ তিনি জটিল শাস্ত্রীয় বিষয়কে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেন। কোনো জ্ঞান দেখানোর চেষ্টা নেই, আছে শুধু সরল উপস্থাপনা।

কেন এত জনপ্রিয়?

তবে খালি ধর্ম তো নয়। জেন জি বাবার মিষ্টি মুখ, গালভরা হাসি, ঝাঁকড়া চুলের জন্যও অনেকে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। ইনস্টাগ্রামে তাঁর ভিডিওতে কমেন্টে অনুরাগিনীদের ভূয়সী প্রশংসা, কেউ ‘হ্যান্ডসাম’ বলেন, কেউ বা একবাটি সন্দেশের মতো বলেও ফেলেন। প্রেমিক-নায়কের মতো উদ্দাম কিছু করেননি, তবুও জায়গা করে নিয়েছেন অনেকের মনেই।

সোশাল মিডিয়ায় তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়ার পেছনে মূল কারণ—সহজ ভাষায় গভীর আধ্যাত্মিক কথা। Moneycontrol-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, অনেকে তাঁর কমেন্ট সেকশনে স্কিনকেয়ার রুটিন নিয়েও কৌতূহল প্রকাশ করেছেন। কেউ লিখেছেন, ‘এত চার্ম নিয়ে আধ্যাত্মিকতা আসবে জানতাম না।’

সূত্র ও রেফারেন্স