দিওয়ালির আগেই টাকা: মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

দিওয়ালির ঠিক আগে অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা মিলতে চলেছে — ব্যাপারটা মুখ্যমন্ত্রীই ঘোষণা করলেন। নভেম্বর মাসের কিস্তি নিয়ে এবার স্পেশাল খবর আছে। সাধারণত মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে টাকাটা দেওয়া হয়, কিন্তু উৎসবটা মাথায় রেখে এবার একটু তাড়াতাড়ি টাকা ঢোকানোর চেষ্টা হচ্ছে। কালীপুজো পড়েছে ৮ নভেম্বর, তাই অনেকেরই প্রশ্ন — তার আগেই টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকবে তো?

সংবাদ প্রতিদিন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বুধবার রাতে নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, দিওয়ালির আগেই ৮৪ লক্ষ বার্ধক্য ভাতা, দিব্যাঙ্গ ভাতা, ৩ লক্ষ লোকপ্রসার শিল্পী ভাতা এবং ১ কোটি ৬৫ লক্ষ অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ট্রান্সফার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাশি
₹৩,০০০/মাস
উপভোক্তা
১.৬৫ কোটি
উৎসব
৮ নভেম্বর
পরিশোধ
উৎসবের আগেই

কারা পাবেন, কতজন পাবেন?

বঙ্গে বিজেপি সরকার আসার পর থেকেই একের পর এক সারপ্রাইজ আসে। নতুন নতুন ভাতা চালু হয়েছে, কিছু ভাতা আবার দ্বিগুণ। সরকারি কর্মীদের জন্যও বেশ কিছু সুবিধা যোগ হয়েছে। এসবের মাঝে অন্নপূর্ণা যোজনাই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়েছে। বাংলার মহিলার মাসে তিন হাজার টাকা পাচ্ছেন এই যোজনায়। এবার এই ভাতা আর নভেম্বরের কিস্তি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নতুন কিছু জানালেন।

এবারের কিস্তিতে ১ কোটি ৬৫ লক্ষ উপভোক্তা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন। এর সঙ্গে ৮৪ লক্ষ বার্ধক্য ভাতা ও দিব্যাঙ্গ ভাতা প্রাপক এবং ৩ লক্ষ লোকপ্রসার শিল্পী ভাতা প্রাপকও টাকা পাবেন।

প্রসঙ্গত, ১৩ নভেম্বর আরও একটি অনুষ্ঠান আছে। সেদিন ৭ লক্ষ ২০ হাজার পশ্চিমবঙ্গ আবাস প্রাপকদের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হবে। প্রায় ৪,২০০ কোটি টাকা দেওয়া হবে এর জন্য।

নতুন আবেদন শুরু কবে?

আর একদিকে যুবশক্তি ভাতার জন্য আবেদন প্রক্রিয়াও এই মাসেই শুরু হওয়ার কথা। মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, নির্বাচনী সংকল্পপত্রে যুবদের জন্য যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেটা বাস্তবে আনতে কাজ চলছে।

এই মাসেই আবার শুরু হচ্ছে ‘অন্নপূর্ণা’ যোজনা আর রাজ্যের নানা সরকারি প্রকল্পে আবেদন নেওয়া। যারা এখনও টাকা পাননি বা আবেদন করতে পারেননি, তাদের জন্য রাজ্য সরকারের থেকে বড় খবর পাওয়া গেছে। Asianet Bangla-র রিপোর্ট অনুযায়ী, নভেম্বরের শেষ অথবা ডিসেম্বর মাসে নতুন করে জনকল্যাণ শিবির আয়োজনের কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, গ্রাম পঞ্চায়েত ও পুরসভা স্তরে এই শিবির বসবে।

জনকল্যাণ শিবির: কী কী সুবিধা পাবেন?

রাজ্য আর কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পে মানুষ যেন সহজেই আবেদন করতে পারে, সেই লক্ষ্য নিয়ে আসছে জনকল্যাণ শিবির, যাকে ‘সেবা সেতু অভিযান’ও বলে। এই শিবিরে গিয়ে আপনি সরাসরি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা হাতের নাগালে পাবেন।

অনেকেই অনলাইনে আবেদন করেও নাম বাদ পড়েছেন, আবার আধার কার্ডের সঙ্গে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক না থাকলে যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও টাকা পাননি। এবার এইসব ঝামেলার সহজ সমাধান মিলবে এই শিবিরে।

  • নতুন আবেদন: রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারি যেকোনো প্রকল্পে নতুন আবেদন করতে পারেন।
  • নাম নথিভুক্তি: নাম নথিভুক্ত করার একটা বাড়তি সুযোগও পাবেন।
  • সংশোধন: আগের কোথাও ভুল থাকলে সেই আবেদন সংশোধন করতে পারবেন।
  • নথি যাচাই: প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করে নিতে পারবেন হাতে হাতে।
  • আধার-ব্যাঙ্ক লিঙ্ক: আধার কার্ডের সঙ্গে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক করতে দেরি এমন সমস্যা থাকলেও সমাধান পাবেন।
  • টাকা আটকে গেলে: আবেদনপত্রে দেওয়া অ্যাকাউন্টে টাকা আটকে গেলে, সরাসরি প্রশাসনিক দপ্তরের কাছে জানাতে পারবেন।

এই জনকল্যাণ শিবিরে গিয়ে সরকারি প্রকল্পের যোগ্যতা, আবেদন কীভাবে করতে হবে, আর কোনো নথি লাগবে—সবকিছু পরিষ্কারভাবে শিখে নিতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই বলে দিয়েছেন, এবার গাঁয়ের পঞ্চায়েত আর শহরের পুরসভা স্তরেও এই শিবির বসবে। নভেম্বরের শেষ কিংবা ডিসেম্বর মাসে এই শিবির আয়োজন হবে—সরকার ঘোষণা করেছে, যদিও আসল তারিখটা এখনো জানায়নি।

টাকা না পেলে কোথায় অভিযোগ করবেন?

টাকা না পাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো আধার-ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক না থাকা বা ভুল তথ্য। জনকল্যাণ শিবিরে গেলে সরাসরি প্রশাসনিক সহায়তা পাবেন। এছাড়া নিকটস্থ ব্লক অফিস বা পুরসভা অফিসেও অভিযোগ জানানো যাবে।

শিবিরে আধার লিঙ্ক সমস্যা, ভুল অ্যাকাউন্ট নম্বর, নামের বানান ভুল—সব সংশোধনের সুযোগ মিলবে। তাই যাঁরা টাকা পাননি, তাঁরা শিবিরের তারিখ ঘোষণা হওয়ার পর দ্রুত যাচাই করিয়ে নিন।

West Bengal Salary Advance Scheme

এর বাইরে এবার West Bengal Salary Advance Scheme চালু হচ্ছে। কর্মীরা নিজের বেতনের ভিত্তিতে স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদে অগ্রিম টাকা তুলতে পারবেন। জরুরি কিছু হলে, এই স্কিমে হঠাৎ টাকার দরকারে পয়সা ওঠানো যাবে।

Times of India-র রিপোর্ট অনুযায়ী, স্বল্পমেয়াদি অগ্রিমে সরকারি কর্মীরা মাসিক বেতনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ তুলতে পারবেন, যা ৬০ দিনের মধ্যে ফেরত দিতে হবে। সময়মতো ফেরত দিলে কোনো সুদ বা প্রসেসিং ফি লাগবে না। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি অগ্রিমে ২ থেকে ৬০ মাস পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার সুবিধা মিলবে।

সূত্র ও রেফারেন্স