প্লট: ছয় বন্ধুর বন্ধুত্বের নৌকা
‘আদরের নৌকা’র প্রোমোতে দেখা গেছে, ছয় কলেজ পড়ুয়া বন্ধুকে নিয়ে গঙ্গার ধারে, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল আর প্রিন্সেপ ঘাটে হেসে, কথা বলে, ঘুরে বেড়াচ্ছে। ছেলেমেয়ে মিলিয়ে—চারজন ছেলে, দুজন মেয়ে। গল্পটার ভিতরেই বোঝা যাচ্ছে, এই বন্ধুত্বে মজা, মিষ্টি ঝগড়া আর হাস্যরস থাকতে চলেছে।
বাংলা টিভি সিরিয়ালের জগতে এখন অসম প্রেম, পারিবারিক ড্রামা, কমেডি আর ঐতিহাসিক কাহিনির ছড়াছড়ি। কিন্তু এর মধ্যেই নিখাদ বন্ধুত্বের গল্প যেন হারিয়ে যেতে বসেছিল। শ্রীজিৎ রায়ের হাত ধরে এবার পর্দায় আসছে সেই বন্ধুত্বের টানে হারিয়ে যাওয়ার গল্প। জেন-জি প্রজন্মের কাছে এই ধারাবাহিকের গল্প নতুনত্ব নিয়ে আসবে বলেই মনে করছেন দর্শকরা।
কলেজ লাইফের সেই দিনগুলো—ক্যান্টিনে আড্ডা, ক্লাস ব bunk, পরীক্ষার আগের রাতের পড়া, প্রথম প্রেম, প্রথম ব্রেকআপ—সব মিলিয়ে একটা সম্পূর্ণ তরুণ প্রজন্মের ছবি উঠে আসবে এই ধারাবাহিকে। বন্ধুত্বের সেই টানই এখানে মূল থিম।
কাস্টিং: অর্কপ্রভ-শিরিন জুটি
এখনও চ্যানেলটা অফিশিয়ালি কাস্ট আর প্রিমিয়ারের তারিখ প্রকাশ করেনি। শুধু জানানো হয়েছে, শ্রীজিৎ রায়ের প্রোডাকশন হাউস বেনিয়ান ট্রি-র ব্যানারে আসছে ধারাবাহিকটা, আর এখানে কাস্টিংয়ে বড় একটা সারপ্রাইজ আছে।
শোনা যাচ্ছে, ছয় বন্ধুর একজন হতে চলেছেন অর্কপ্রভ রায়—যে আগে ‘কম্পাস’-এ দারুণ কাজ করেছে। ‘কম্পাস’ শেষ হওয়ার পর থেকেই অর্কপ্রভকে নতুন কাজে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন তাঁর অনুরাগীরা। সেই অপেক্ষার অবসান হল এবার।
আর মেয়েদের মধ্যে একজনের চরিত্রে অভিনয় করতে পারেন শিরিন পাল, যাকে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এ দেখা গিয়েছে। এরপর শিরিন বিভিন্ন সিরিজে, বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন এবং আরও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। নতুন জেনারেশনের এই দুই পরিচিত মুখ একসঙ্গে এলে, দর্শকরা অবশ্যই একটা ফ্রেশ কেমিস্ট্রি দেখতে পাবেন।
ছয় বন্ধুর বাকি চারজনও নাকি ভীষণ পরিচিত মুখ। তবে তাঁদের নাম এখনও প্রকাশ্যে আনেনি makers। কাস্টিং নিয়ে এই ধোঁয়াশাই দর্শকদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রযোজনা: বেনিয়ান ট্রি ও শ্রীজিৎ রায়
শ্রীজিৎ রায় টেলিভিশন জগতের একটি পরিচিত নাম। তাঁর প্রোডাকশন হাউস বেনিয়ান ট্রি ইতিমধ্যেই একাধিক সফল ধারাবাহিক উপহার দিয়েছে। এবার ‘আদরের নৌকা’র মাধ্যমে তিনি নতুন একটি ঘরানা নিয়ে আসছেন—যেখানে বন্ধুত্বই প্রধান চরিত্র।
বাংলা টেলিভিশনে বন্ধুত্ব-কেন্দ্রিক ধারাবাহিক বেশ কম। তাই এই ধারাবাহিক ঘরানার দিক থেকে নতুনত্ব নিয়ে আসছে। প্রযোজনা সংস্থার অভিজ্ঞতা ও চ্যানেলের প্রচার—দুটো মিলিয়ে এই শো দর্শকদের নজর কাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
কোন স্লটে আসতে পারে?
এদিকে, নতুন কিছু আসলে পুরনো কিছু ছাড়তে হয়। ‘বাবলি সুন্দরী’ কিছুদিন আগেই শেষ হয়েছে, ‘প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি’ও শেষ হওয়ার পথে। সম্ভবত, এই ‘আদরের নৌকা’ ঠিক সেই স্লটেই আসতে চলেছে। এখন শুধু আরেকটু অপেক্ষা—দেখা যাক, এই বন্ধুত্বের গল্প কতটা মন ছুঁয়ে যেতে পারে।
চ্যানেলের তরফে এখনও অফিশিয়ালি সম্প্রচারের দিন-তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। তবে খুব তাড়াতাড়িই স্টার জলসায় সম্প্রচারিত হবে ‘আদরের নৌকা’ বলে জানানো হয়েছে।
কেন এই ধারাবাহিক আলাদা?
বাংলা সিরিয়ালের দর্শকরা সাধারণত পারিবারিক ড্রামা, প্রেম-বিচ্ছেদ আর প্রতিশোধের গল্পেই অভ্যস্ত। বন্ধুত্বের গল্প সেখানে খুব একটা বেশি আসে না। ‘আদরের নৌকা’ সেই ফাঁকটাই পূরণ করতে চাইছে।
ছয় বন্ধুর মধ্যেকার রসায়ন, তাদের ব্যক্তিগত সমস্যা, পরিবারের চাপ, কেরিয়ারের সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে জেন-জি দর্শকদের সঙ্গে সহজেই কানেক্ট করতে পারবে এই ধারাবাহিক। তরুণ প্রজন্মের কাছে এটা একটা ‘রিলেটেবল’ গল্প হতে চলেছে।
পুরো বিস্তারিত জানতে হলে ধারাবাহিকটা দেখতে হবে। আপাতত দর্শকরা অপেক্ষা করছেন, কবে স্টার জলসা এই ফ্রেন্ডশিপ-ফোকাসড ধারাবাহিক শুরু করবে।