আদালতের বাইরে ‘গায়ে হাত দিছোস কেন?’
ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিনের জন্য গেলে পুরো ঘটনাটা ঘটে। বোট ক্লাবের সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার মামলার জন্য হাজির হয়েছিলেন তিনি। জামিন মঞ্জুর হতেই আদালত ভবন থেকে বেরোনোর পরপরই সাংবাদিকদের সঙ্গে তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। অভিযোগ—এক সাংবাদিক তাঁকে ‘ব্যাড টাচ’ করেছেন। সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষেপে যান পরীমণি।
‘তুই আমার গায়ে হাত দিয়েছিস কেন!’—এ কথা বলেই তিনি সাংবাদিকের দিকে তেড়ে যান। আদালত প্রাঙ্গণ বেরোতেই সাংবাদিক আর হাজারো মানুষের ভিড়। সেখানেই এক সাংবাদিক তাঁকে ‘খারাপভাবে’ ছুঁয়েছেন বলে দাবি করেন পরীমণি।
সাংবাদিকের পাল্টা দাবি ও ভিডিয়ো ফুটেজ
যদিও সেই সাংবাদিক স্পষ্টভাবেই বলেন, তিনি এমন করেননি। ভিডিয়ো ফুটেজেও কিছুই ধরা পড়েনি। তবু ক্ষোভে কড়াকড়ি গালাগালি থেকে শুরু করে খারাপ ভাষা ব্যবহার করেন পরীমণি—উঁচু স্বরে ঝাড়ি দেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ ছাড়েন না। এরপর তাঁর সঙ্গে থাকা অন্তত ১০ জন নিরাপত্তারক্ষী পরিস্থিতি সামলাতে দৌড়ে আসেন, ভিড় একটু হালকা হয়।
ঘটনার ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে এবং বাংলাদেশের বিনোদন মহলে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ পরীমণির পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, কেউ আবার এই আচরণের সমালোচনা করেছেন।
৫০০ টাকার মুচলেকায় জামিন
এর আগে, বুধবার শারীরিক অসুস্থতার (অ্যালার্জির সমস্যা) কারণে আদালতে না যেতে পেরে জামিন বাতিল হয়েছিল, বেরিয়েছিল গ্রেফতারি পরোয়ানা। বৃহস্পতিবার সকালে পরীমণি ব্যক্তি হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁর আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীর আরজিতে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহফুজুর রহমান ৫০০ টাকার মুচলেকায় জামিন দেন পরীমণিকে।
বোট ক্লাব মামলার পেছনের গল্প
২০২১ সালের ৬ই জুলাই, বোট ক্লাবের ঘটনাকে ঘিরে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ মামলা করেন পরীমণির বিরুদ্ধে, সঙ্গে ছিলেন তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমিও। পরে পিবিআই-এর তদন্তে মারধর আর ভয় দেখানোর প্রমাণ মেলে। এই মামলা বহুদিন আইনি টানাপোড়েন গেছে, এখনো বিচার চলছে।
এই ঘটনার পর থেকে পরীমণি একাধিকবার সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। সমর্থকদের একাংশ তাঁকে সমর্থন করলেও, সমালোচকদের মতে এই ধরনের প্রকাশ্য আচরণ নায়িকার ভাবমূর্তির পক্ষে ক্ষতিকর।