‘অপারেশন সাকসেসফুল’ — পোস্টে ঠিক কী লিখলেন ঝিলম?

দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তার অবসান। অবশেষে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে ঝিলম গুপ্তর। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে হাতে স্যালাইনের চ্যানেল লাগানো অবস্থায় নিজের ছবি পোস্ট করেছেন তিনি। ছবির সঙ্গে লেখা ছোট্ট একটি বাক্য—‘অপারেশন সাকসেসফুল’। এই তিনটি শব্দই যথেষ্ট ছিল তাঁর অনুরাগীদের জন্য, যাঁরা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিন্তায় ছিলেন।

তবে ঝিলমের পোস্ট শুধু একটি আপডেট নয়, বরং একটি দীর্ঘ, আবেগঘন স্বীকারোক্তি। তিনি জানিয়েছেন, গুরুতর সংক্রমণের কারণে অনেকদিন ধরেই তিনি কষ্ট পাচ্ছিলেন। গলব্লাডারে অতিরিক্ত সংক্রমণ হয়েছিল, জমে ছিল প্রচুর পরিমাণ পুঁজ, আর সেই সঙ্গে ছিল একটি কয়েনের আকারের পাথর। চিকিৎসকদের মতে, এই অবস্থায় অপারেশন ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না।

পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের পরও পেটে ব্যথা রয়েছে। তবে চিকিৎসকদের দেওয়া ভরসা এবং সাহসই তাঁকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ছবিতে তাঁর এলোমেলো চুল, ক্লান্ত চোখ আর মুখে হালকা হাসি—সব মিলিয়ে একটি অকৃত্রিম মুহূর্ত ধরা পড়েছে। কোনো তারকাসুলভ আড়ম্বর নেই, বরং এক সাধারণ রোগীর চেহারা—যা তাঁকে আরও বেশি মানুষের কাছের করে তুলেছে।

অবস্থা
অস্ত্রোপচার সফল
সমস্যা
পিত্তথলিতে পাথর ও সংক্রমণ
হাসপাতাল
মেডিক্যাল কলেজ
পাশে
পৌলমী গুহ

পিত্তথলির সমস্যা আসলে কী? সংক্রমণ ও পাথরের ভয়

পিত্তথলি বা গলব্লাডার হলো লিভারের নিচে অবস্থিত একটি ছোট থলির মতো অঙ্গ, যেখানে পিত্তরস জমা থাকে। এই পিত্তরস হজম প্রক্রিয়ায়, বিশেষ করে চর্বিযুক্ত খাবার হজমে সাহায্য করে। কিন্তু যখন এই থলিতে পাথর তৈরি হয়, তখন সমস্যা শুরু হয়। শুরুতে ছোট পাথর তেমন উপসর্গ না দিলেও, সময়ের সঙ্গে তা বড় হতে থাকে এবং তীব্র ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ঝিলমের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও জটিল ছিল। তাঁর পিত্তথলিতে শুধু একটি কয়েনের আকারের বড় পাথরই ছিল না, বরং সেই সঙ্গে তৈরি হয়েছিল তীব্র সংক্রমণ এবং প্রচুর পরিমাণে পুঁজ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় অ্যাকিউট কোলেসিস্টাইটিস—এমন অবস্থায় পিত্তথলি ফুলে যায়, তীব্র ব্যথা হয়, জ্বর আসতে পারে এবং চিকিৎসা না হলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত অস্ত্রোপচার করানো জরুরি। কারণ পিত্তথলি ফেটে গেলে বা সংক্রমণ পেটের ভিতরে ছড়িয়ে পড়লে অবস্থা প্রাণঘাতীও হতে পারে। ঝিলম যে দীর্ঘদিন ধরে অ্যান্টিবায়োটিক এবং ব্যথানাশক ওষুধের ওপর ভর করে শো চালিয়ে যাচ্ছিলেন, সেটাই তাঁর শারীরিক অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছিল।

এখানেই একটি বড় শিক্ষা লুকিয়ে আছে। অনেকেই পেটে ব্যথাকে গ্যাস্ট্রিক বা হজমের সমস্যা ভেবে ওষুধ খেয়ে চালিয়ে দেন। কিন্তু বারবার পেটের ডান দিকে ব্যথা, বমি ভাব, খিদে কমে যাওয়া বা খাওয়ার পর অস্বস্তি হলে সেটি পিত্তথলির পাথরের লক্ষণ হতে পারে। সময়মতো আল্ট্রাসাউন্ড করালে সহজেই ধরা পড়ে। ঝিলমের ক্ষেত্রেও প্রাথমিকভাবে পাথর ধরা পড়েছিল, কিন্তু পরে সেটি বড় আকার নেয় এবং সংক্রমণ তৈরি করে।

বিগ বসের ঘরে যন্ত্রণার দিন: ‘সবাই আমাকে অলস ভেবেছিল’

‘বিগ বস বাংলা’-র ঘরে ঢোকার আগেই ঝিলমের পিত্তথলিতে পাথর ধরা পড়েছিল। কিন্তু শোয়ের সুযোগ হাতছাড়া করতে না চেয়ে তিনি খেলায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ঘরে ঢোকার পর প্রথম দিকে সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু কিছুদিন পর থেকেই শুরু হয় তীব্র পেটে ব্যথা। ব্যথা সামলাতে তিনি নিয়মিত পেনকিলার খেতে শুরু করেন।

শো থেকে বেরিয়ে আসার পর এক সাক্ষাৎকারে ঝিলম বলেন, “আমার গলব্লাডার স্টোন ধরা পড়ার পরেও আমি বিগ বসে যাই। কিন্তু কিছু সময় পর থেকেই প্রচণ্ড পেটে ব্যথা হতো। পেনকিলার খেয়ে থাকতাম।” তিনি আরও জানান, ব্যথার তীব্রতা এতটাই ছিল যে একাধিক ইনজেকশন নেওয়ার পরেও কমেনি।

কিন্তু এই যন্ত্রণার কথা ঘরের বাকি প্রতিযোগীরা বা দর্শকদের অনেকেই জানতেন না। ফলে ঝিলমের কাজকর্মে কিছুটা ধীরগতি বা একটু চুপচাপ থাকা স্বভাবকে অনেকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। কেউ কেউ তাঁকে ‘অলস’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন। সেই সমালোচনার জবাবে ঝিলম বলেন, “লোকে ভেবেছেন আমি অলস। কাজ করি না, কিন্তু শারীরিক অবস্থার কথা কেউ বুঝতে পারেনি।”

এই একটি বাক্যেই তাঁর গোটা যাত্রার করুণ সত্যিটা বেরিয়ে আসে। একটি রিয়্যালিটি শো-তে ক্যামেরার সামনে থাকা মানেই প্রতিটি মুহূর্ত বিচারের মুখোমুখি হওয়া। শরীর খারাপ হলেও মুখে হাসি ধরে রাখতে হয়, কারণ পেছনে সেটআপ, টাস্ক আর প্রতিযোগিতা থামে না। ঝিলমের ক্ষেত্রে সেই লড়াইটা ছিল আরও কঠিন—কারণ তাঁর যন্ত্রণা ক্যামেরায় ধরা পড়েনি, শুধু তাঁর আচরণে ছাপ পড়েছিল।

সরকারি হাসপাতালের লাইনে দাঁড়িয়ে তারকা: ‘মাটির মানুষ’ প্রশংসা

‘বিগ বস’-এর ঘর থেকে বেরিয়ে আসার পর ঝিলমকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়, তবে এবার ভিন্ন কারণে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় একটি সরকারি হাসপাতালের ভর্তির লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন ঝিলম। হাতে কাগজ, পাশে ঘনিষ্ঠ বান্ধবী—একদম সাধারণ রোগীর মতোই লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন এই জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার।

এই ছবি দেখে নেটপাড়ায় প্রশংসার ঝড় ওঠে। অনেকেই মন্তব্য করেন, চাইলেই তিনি একটি বড় বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে সরকারি হাসপাতালে সাধারণ মানুষের লাইনে দাঁড়িয়েছেন—এই ব্যবহারই তাঁকে আলাদা করে তুলেছে। কেউ লিখেছেন, ‘কতটা মাটির মানুষ’, কেউ আবার বলেছেন, ‘এই কারণেই মেয়েটা সবার মনে জায়গা করে নিয়েছে।’

বাংলা বিনোদন জগতে তারকাদের অনেকেই চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতাল বা বিদেশের সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতাল বেছে নেন। সেই প্রেক্ষাপটে ঝিলমের এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে ভিন্ন। তাঁর এই আচরণ শুধু বিনয়ের পরিচয় দেয় না, বরং সাধারণ মানুষের সঙ্গে একাত্মতারও বার্তা দেয়।

পুজোর আগে কেন অপারেশন করা হলো না

শো থেকে বেরিয়ে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছিল—এত গুরুতর অবস্থায় অপারেশন কেন দেরি হচ্ছে? এর পিছনে একটি বাস্তব কারণ ছিল। চিকিৎসকদের ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছিল না এবং পুজোর সময়ে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও ছন্দপতন হয়। ফলে ঝিলম অপারেশনের ঝুঁকি নিতে চাননি।

বরং সেই সময়টাকে তিনি নিজের মতো করে কাজে লাগিয়েছিলেন। দুর্গাপুজোর সময় বন্ধুদের সঙ্গে প্যান্ডেল হপিং করতে দেখা যায় তাঁকে। সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন ঘনিষ্ঠ বান্ধবী পৌলমী গুহ, সোহিনী পাল এবং আলেকজান্দ্রা টেলরের সঙ্গে। অসুস্থতা একপাশে সরিয়ে রেখে তিনি পুজোর আনন্দে মেতে ওঠেন—যা দেখে ভক্তরা মনে হয়েছিল, তিনি হয়তো সেরে উঠছেন। কিন্তু আসল সত্যি ছিল ভিন্ন—ভিতরে তখনও বাড়ছিল সংক্রমণ।

এই সময়েই তিনি তাঁর লেখা দুর্গাপুজোর আগমনী গান ‘এই ঘরেতে থাকতে এস মা’ রেকর্ড করেন। ‘ডিজে মাউস’ নামে তাঁর তৈরি গান এর আগেও দর্শকদের মন জিতেছিল। অসুস্থ শরীরে সৃজনশীল কাজ চালিয়ে যাওয়া তাঁর মানসিক দৃঢ়তারই প্রমাণ।

পৌলমী গুহ: পাশে থাকা মানুষটির ভূমিকা

ঝিলমের পোস্টে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে একটি নাম—পৌলমী। হাসপাতালের বিছানায় তোলা ছবিতে ঝিলমের পাশে দেখা গেছে প্রিয় বান্ধবী পৌলমী গুহকে। আর পোস্টে ঝিলম স্পষ্টই লিখেছেন, পৌলমী পাশে না থাকলে হয়তো সময়মতো অপারেশন টেবিল পর্যন্ত পৌঁছানোই সম্ভব হতো না।

এই একটি স্বীকারোক্তি থেকেই বোঝা যায়, এই কঠিন সময়ে পৌলমী কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। হাসপাতালের লাইনে দাঁড়ানো, কাগজপত্রের কাজ সামলানো, চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা—এসবের পাশাপাশি মানসিক সহায়তা দেওয়াও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। একজন রোগীর জন্য এমন একজন মানুষের উপস্থিতি অনেক সময় ওষুধের চেয়েও বেশি কাজ করে।

বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত মুখ পৌলমী গুহ। ‘বিগ বস বাংলা’-র ঘরেও তিনি নিয়মিত অতিথি হিসেবে এসেছেন এবং ঝিলমের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের কথা সেখানে প্রকাশ্যে এসেছে। শো থেকে বেরিয়ে আসার পরও এই বন্ধুত্ব যে কতটা গভীর, তা হাসপাতালের ছবিতেই স্পষ্ট হয়েছে।

চিকিৎসক দল ও হাসপাতালের নাম

ঝিলমের অস্ত্রোপচার হয়েছে কলকাতার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন প্রফেসর ডক্টর সিদ্ধার্থ বিশ্বাস। অপারেশন থিয়েটারে তাঁর সঙ্গে ছিলেন চিকিৎসক আত্রেয়ী সরকার, চিকিৎসক বিদিশা দে এবং চিকিৎসক ঋতব্রত ঘোষ। এছাড়া চিকিৎসক প্রসেনজিৎ মুখোপাধ্যায়ের প্রতিও বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ঝিলম।

ঝিলমের কথায়, এই চিকিৎসকরাই তাঁকে নতুন করে উঠে বসার সাহস জুগিয়েছেন। একটি জটিল সংক্রমণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের দক্ষতা এবং রোগীর প্রতি তাঁদের আচরণ—দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ। ঝিলমের পোস্ট থেকে বোঝা যায়, তিনি শুধু চিকিৎসার জন্য নয়, বরং যত্নের জন্যও কৃতজ্ঞ।

বিগ বস থেকে বিদায়ের সেই আবেগঘন সন্ধ্যা

১৩ অক্টোবর, মাত্র ৪৩ দিনে ‘বিগ বস বাংলা’-র ঘর ছাড়তে হয় ঝিলমকে। তবে এটি কোনো নমিনেশন বা ভোটের ফল ছিল না—শারীরিক অসুস্থতার কারণে বাধ্য হয়ে তাঁকে শো ছাড়তে হয়। ঘর ছাড়ার আগে তিনি সবার কাছ থেকে একটু সময় চেয়ে নেন, যাতে সবাইকে শেষবারের মতো বুকে জড়িয়ে ধরতে পারেন। সহ-প্রতিযোগীদের চোখে তখন জল।

বিগ বসও তাঁর উদ্দেশে স্নেহের সুরে বলেন, এই ঘর থেকে তিনি নিজের প্রতি নতুন বিশ্বাস এবং অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা নিয়ে যাবেন। জবাবে নিচু স্বরে কেবল ‘ধন্যবাদ’ জানান ঝিলম। এরপর সেই আবহেই ঘটে এক অভাবনীয় মুহূর্ত—সবার সঙ্গে বসে তিনি গেয়ে ওঠেন আগমনী গান। ভেজা চোখে, কণ্ঠে কান্না চেপে সবাই একসঙ্গে সুর মিলিয়ে বিদায় জানায় তাঁকে।

এই দৃশ্যটি শোয়ের অন্যতম সেরা আবেগঘন মুহূর্ত হিসেবে থেকে গেছে দর্শকদের মনে। কারণ সেখানে কোনো প্রতিযোগিতা ছিল না, ছিল না কোনো ষড়যন্ত্র—শুধু কিছু মানুষ, যাঁরা কয়েক সপ্তাহে একসঙ্গে থাকতে গিয়ে একে অপরের কাছের হয়ে উঠেছিলেন।

অনুরাগীদের প্রতিক্রিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়া

‘অপারেশন সাকসেসফুল’ পোস্ট করার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বস্তির হাওয়া। কমেন্ট বক্সে অনুরাগীরা প্রার্থনা ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। কেউ লিখেছেন, ‘দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরে এসো’, কেউ আবার লিখেছেন, ‘তোমার হাসিটাই আমাদের শক্তি।’

অনেকেই মনে করিয়ে দিয়েছেন, কতটা কষ্টের মধ্যে দিয়ে তাঁকে যেতে হয়েছে। শোয়ের ভিতরে যখন অনেকে তাঁকে ‘অলস’ বলে সমালোচনা করছিলেন, তখন তাঁর শরীরের ভিতরে চলছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক লড়াই। এই সত্যটি জানার পর অনেকেরই মন পরিবর্তন হয়েছে। কেউ কেউ দুঃখ প্রকাশ করেছেন তাঁদের আগের মন্তব্যের জন্য।

একইসঙ্গে এই ঘটনা একটি বড় প্রশ্নও তুলে ধরেছে—রিয়্যালিটি শো-তে প্রতিযোগীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়? ক্যামেরার সামনে থাকা একজন মানুষের অসুস্থতা ধরা পড়তে পারে না, যদি না সে নিজে প্রকাশ করে। ঝিলম দীর্ঘদিন নিজের যন্ত্রণা লুকিয়ে রেখেছিলেন, কারণ তিনি খেলায় টিকে থাকতে চেয়েছিলেন। এই লড়াইটি হয়তো আরও অনেক প্রতিযোগীর ক্ষেত্রেও ঘটে।

সামনে কী? সুস্থ হয়ে ফেরার অপেক্ষা

অস্ত্রোপচার সফল হলেও সম্পূর্ণ সুস্থ হতে সময় লাগবে। পেটে ব্যথা এখনও রয়েছে, এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে তাঁকে বিশ্রামে থাকতে হবে। তবে সবচেয়ে বড় সংকট—সংক্রমণ ও পুঁজ জমার সমস্যা—তা কাটিয়ে উঠেছেন তিনি, এটাই স্বস্তির খবর।

অনুরাগীদের একটাই প্রার্থনা—দ্রুত সুস্থ হয়ে ঝিলম আবার তাঁর চেনা ছন্দে ফিরে আসুন। কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে তাঁর দর্শকপ্রিয়তা যেমন বেড়েছে, তেমনি ‘বিগ বস’ থেকে পাওয়া ভালোবাসাও তাঁকে আগামী দিনে আরও শক্তি দেবে।

আপাতত সবাই অপেক্ষায়—কবে হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়ে ঝিলম আবার হাসিমুখে ক্যামেরার সামনে ফিরবেন এবং বলবেন, ‘আমি পুরোপুরি সুস্থ।’