গল্পের মূল কাঠামো: ১৯৪২ থেকে ফিরে আসা জিলিপি

গল্পের কেন্দ্রটা জিলিপি। সাত বছরের একটা ছোট্ট মেয়ে, কিন্তু সে আসলে ভবিষ্যৎ থেকে ফিরে আসা একটা ৮০ বছরের ভূত। ১৯৪২ সাল থেকে ফিরে আসা এই ভূতের চেহারা ছোট্ট মেয়ের, কিন্তু মন-মানসিকতা একেবারে বাড়ির বড় ঠিকুরুনের মতো। জমিদারবাড়ির ঐতিহ্য, নিয়ম-কানুন আর পারিবারিক শৃঙ্খলা—সবকিছু তার নখদর্পণে। একটাই লক্ষ্য—পুরো পরিবারকে শৃঙ্খলার মধ্যে রাখা।

কিন্তু এই চেষ্টাতেই সে প্রায়ই বিপাকে পড়ে যায়। বাড়ির সদস্যরা কেউ এক কথা মানে না, কেউ আবার জিলিপির অদ্ভুত ভূতুড়ে কাণ্ডে নাজেহাল। কখনও সে হঠাৎ vanishing করে, কখনও বা অদৃশ্য হয়ে কারও পিছনে লেগে থাকে। তার ছোট ছোট ভূতের কাণ্ডে পরিবারের সদস্যরা হাসতে হাসতে ক্লান্ত, আবার ভয়ে আতঙ্কিতও। এই মজার টানাপোড়েনই ধারাবাহিকের মূল আকর্ষণ।

চ্যানেল
সোনি আট
প্রিমিয়ার
২৩ নভেম্বর ২০২৬
মূল চরিত্র
জিলিপি (৭ বছরের ভূত)
প্রযোজক
সাহানা দত্ত

জিলিপি চরিত্রটি কেন আলাদা?

বাংলা টেলিভিশনে ভূত নিয়ে অনেক ধারাবাহিক এসেছে। কিন্তু ‘ভূত গিন্নি জিলিপিলতা’-র জিলিপি সম্পূর্ণ আলাদা। সাধারণত ভূতের চরিত্র মানেই ভয়, আতঙ্ক আর রহস্য। কিন্তু এখানে উল্টো—জিলিপি ভয়ের চরিত্র নয়, বরং সে পরিবারের সবার ‘দিদিমণি’। তার আচরণে আছে দুষ্টুমি, কিন্তু তার নিচে লুকিয়ে আছে খাঁটি ভালোবাসা আর স্নেহ।

সাত বছরের একটি মেয়ে যখন বড় ঠাকুরুনের ভঙ্গিতে কথা বলে, পরিবারের সদস্যদের শাসায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই হাসির উদ্রেক হয়। আবার সেই একই মেয়ে যখন ভূতুড়ে কাণ্ড ঘটায়, তখন পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়—কেউ হাসে, কেউ ভয় পায়। এই মিশ্র আবেগই চরিত্রটিকে দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলে।

প্রযোজকের মুখে জিলিপির গল্প

প্রযোজক সাহানা দত্ত বলেছিলেন, “জিলিপির মতো চরিত্র আগে দেখিনি। মাত্র সাত বছরের হলেও সে নিজেকে বাড়ির বড় ঠিকুরুন ভাবতে ভালোবাসে। বাড়ির সবাইকে কেয়ার করার দায়িত্ব নেয়—এখান থেকেই হাসির ও মজার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই ভূতের চরিত্রে দুষ্টুমি আর অদ্ভুত সব কাণ্ডের নিচে আছে খাঁটি ভালোবাসা আর স্নেহ। মূলত এটিই পরিবারের গল্প, একটু অন্যভাবে বলা। দর্শকেরা জিলিপিকে দেখে আনন্দ পাবেন, এটাই আশা।”

তাঁর এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট—ধারাবাহিকটি শুধু ভূতের গল্প নয়, বরং পারিবারিক বন্ধন, ভালোবাসা ও একসঙ্গে থাকার গল্প। ভূতের অলৌকিক উপাদান এখানে মজার মোড়ক হিসেবে কাজ করছে, মূল বিষয় পরিবার।

অভিনয়ে কারা আছেন?

জিলিপির চরিত্রে অভিনয় করছে শ্রীজয়ী মজুমদার। শিশুশিল্পী হিসেবে তার অভিনয়ই ধারাবাহিকের প্রাণ। ধারাবাহিকে আরও আছেন কাঞ্চন মল্লিক চাঁদমোহন তালুকদার, পুষ্পিতা মুখার্জি, সুমিত সমাদ্দার, সংঘশ্রী সিনহা, প্রীতি বিশ্বাস, অরিত্র দত্ত, চন্দ্রনিভ মুখার্জি, সুপ্রদীপ খাটুয়া (ফুগলা), জিয়ানা এবং প্রিয়ংশী। এছাড়াও কাস্ট লিস্টে রয়েছেন চন্দ্রেয়ী দত্ত, ইন্দ্রনীল, দেবপর্ণা, প্রীতি কুণ্ডু, ঋষভ, মধুরিমা, অনন্যা সেন, কৌশিকী, রুথভিক প্রমুখ।

বড় কাস্ট থাকলেও মূল ফোকাস জিলিপির চরিত্রেই। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কে কেমন, তাদের সঙ্গে জিলিপির সম্পর্ক কেমন—সেটাই ধারাবাহিকের মূল আকর্ষণ।

কখন ও কোথায় দেখা যাবে?

‘ভূত গিন্নি জিলিপিলতা: ফ্রম ১৯৪২’ শুরু হচ্ছে ২৩ নভেম্বর থেকে সোনি আট চ্যানেলে। যারা টিভিতে দেখতে পারবেন না, তারা সোনি লিভেও ধারাবাহিকটি দেখতে পাবেন। প্রযোজনা করেছেন সাহানা দত্ত ও রোহিত সামন্ত।

সম্প্রচারের সময় নিয়ে চ্যানেলের তরফে বিস্তারিত এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে সাধারণত সন্ধ্যা বা রাতের সময়সূচিতে ধারাবাহিকটি সম্প্রচারিত হয়। দর্শকদের জন্য পরামর্শ—সোনি আটের অফিসিয়াল সূচি বা সোশ্যাল মিডিয়া পেজে চোখ রাখা, যাতে সঠিক সময় জানা যায়।

কেন এই ধারাবাহিক ছোটদের মন জয় করতে পারে?

শিশু-দর্শকদের জন্য ‘ভূত গিন্নি জিলিপিলতা’ বেশ আকর্ষণীয় হতে পারে। কারণ এখানে ভূত মানেই ভয় নয়—বরং মজার সঙ্গী। জিলিপির মতো একটি মেয়ে, যে নিজেকে বড় ঠাকুরুন ভাবে, শিশুদের কাছে সেটি মজার এবং relatable। তার দুষ্টুমি, অদৃশ্য হওয়া, অদ্ভুত কাণ্ড—সবই শিশুদের কল্পনাকে উসকে দেবে।

পাশাপাশি পরিবারের বড়দের জন্যও ধারাবাহিকটি হালকা বিনোদন। ভূতের ভয় নয়, বরং হাসি আর পারিবারিক আবেগের মিশেল। ফলে শিশু থেকে বড়—সবাই একসঙ্গে বসে দেখতে পারবেন। এটাই এই ধারাবাহিকের সবচেয়ে বড় USP।