Bigg Boss Bangla

যন্ত্রণা লুকিয়ে পুজোয় হইহুল্লোড়! এবার অপারেশন নিয়ে মুখ খুললেন ঝিলম

Deb Sarkar Deb Sarkar ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৮ মিনিট পড়ার সময়

বিগ বস বাংলার ঘর থেকে বেরিয়ে পুজোর আনন্দে মেতে ছিলেন ঝিলম গুপ্ত — কিন্তু ভিতরে লুকিয়ে ছিল তীব্র যন্ত্রণা। (ছবি: সৌজন্যে)

‘ডিজে মাউস’ বিগ বস বাংলা হাউসে একেবারে জমিয়ে খেলছিলেন—হাসি, মজা, টাস্ক, কাজ, সবই ছিল। মাঝে মাঝে চেয়ারে-টেবিলে বাজিয়ে ‘ইঁদুর’ র‍্যাপের ছন্দে পুরো হাউসে নতুন ভোল এনে দিচ্ছিলেন, বাইরের সবার থেকে আলাদা। বেশ কয়েকবার নমিনেট হলেও তাঁর সৃষ্টিশীলতা আর ক্যারিজমায় দর্শকের ভোটে সেফও হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু শরীরের জটিল সমস্যায় শেষ পর্যন্ত ছাড়তেই হলো জনপ্রিয় এই রিয়েলিটি শো। বিগ বস বাংলার চলতি সিজনের সদ্য প্রাক্তন প্রতিযোগী ঝিলম গুপ্তকে যখন বাড়ি ছাড়তে হয়, সবার চোখে জল এসে যায়। ভিতরে ভিতরে কান্না চাপলেও, যন্ত্রণা চেপে রাখেন। পুজোর সময় পুরোটা হাসিমুখে কাটিয়ে দিলেন, যেন কিছুই হয়নি। এবার পুজো শেষেই নিজের অপারেশনের খবর দিলেন ঝিলম—সোশ্যাল মিডিয়ায় লম্বা ভিডিও বার্তা দিয়ে জানালেন আরও অনেক কিছু।

বিগ বসের ঘর থেকে বেরিয়ে আসার আসল কারণ

পুজোর ঠিক আগেই বিগ বস বাংলার বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন ঝিলম। বিগ বসই জানিয়ে দিয়েছিলেন, অসুস্থতার কারণেই যেতে হচ্ছে তাঁকে। পরে জানা যায়, তাঁর গলব্লাডারে বড় আকারের স্টোন তৈরি হয়েছে—অপারেশন দরকার, আর দেরি নয়। ওই সময় প্রচণ্ড যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে পড়েছিলেন, ঠিকমতো খেলতেও পারছিলেন না। মেডিক্যাল রিপোর্ট বেরোনোর পরই বিগ বস যাত্রা থামাতে হয় তাঁকে।

সোমবার রাতে নমিনেশন প্রক্রিয়া চলাকালীন হঠাৎই বিগ বসের গম্ভীর ঘোষণায় কেঁপে ওঠে পুরো বাড়ি। চিকিৎসকদের পরামর্শে ঝিলমকে আর খেলানো সম্ভব নয়—তাই অবিলম্বে তাঁকে বাড়ি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন নির্মাতারা। এই ঘোষণায় হকচকিয়ে যান ঝিলম-সহ সব প্রতিযোগী। প্রথম কয়েক সেকেন্ড দর্শকও নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারেননি।

বিগ বস স্নেহের সুরে ঝিলমকে বলেছিলেন, “আশা করি, বিগ বসের ঘর থেকে নিজের প্রতি নতুন বিশ্বাস আর অসংখ্য মানুষের ভালবাসা নিয়ে যাবেন। আপনার আগামী দিনগুলো সাফল্য, আনন্দে ভরে উঠুক। সুস্থ হয়ে উঠুন।” ক্ষীণ কণ্ঠে বিগ বসকে ধন্যবাদ জানান ঝিলম। বাড়ি ছাড়ার আগে শেষবারের মতো সবাইকে জড়িয়ে ধরেন। অনেকেই কেঁদে ফেলেন ঝিলমকে ধরে। সেই মনখারাপের মুহূর্তে ঝিলম গেয়ে ওঠেন আগমনী গান। কান্নাভেজা গলায় সবাই মিলিয়ে গান গেয়ে বিদায় জানান তাঁকে।

ঝিলমের বাবা পরে জানান, পিত্তথলিতে পাথর বড় হয়ে গিয়েছে। প্রচণ্ড যন্ত্রণা হচ্ছে, অপারেশন করাতে হবে। সমাজমাধ্যমে এক চিকিৎসক কারণ জানতে চাইলে তিনি মন্তব্যের ঘরে লেখেন, “পিত্তথলির পাথর বড় হয়ে গিয়েছে। প্রচণ্ড যন্ত্রণা হচ্ছে, অস্ত্রোপচার করাতে হবে। আপনি চিকিৎসক বলে জানতে চাইলেন, তাই জানালাম। আমি ওর বাবা।”

এক নজরে মূল তথ্য

  • কারণ: গলব্লাডারে বড় আকারের পাথর (Gallbladder Stone)
  • শো ছাড়ার ধরন: ভোটে নয়, চিকিৎসাজনিত কারণে
  • অপারেশন: আগামী সপ্তাহে হওয়ার কথা
  • পুজো: যন্ত্রণা লুকিয়ে হাসিমুখে কাটিয়েছেন
  • বাড়ি: শ্রীরামপুর, হুগলি

পুজোর সময় হাসিমুখ, ভিতরে কান্না

গ্রুপ থেকে ফিরে দুর্গাপুজোয় ঝিলম একেবারে ফুরফুরে ছিলেন—কখনও হলুদ-লাল, কখনও কালো-সাদা ধুতি আর পাঞ্জাবিতে বান্ধবীদের সঙ্গে প্যান্ডেলে ঘোরা, কখনও বিজয়ায় সিঁদুরখেলা, বিগ বসের পুরনো প্রতিযোগীদের সঙ্গে মিলে উৎসবের ছবি–সবই ফেসবুকে পোস্ট করছিলেন। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে ভিতরে ভিতরে তিনি কতটা যন্ত্রণায় ছিলেন।

পুজোর চতুর্থীর দিন শ্রীরামপুরের বাড়ি ফিরে সমাজমাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করে ঝিলম লেখেন, “ওগো মা... এসো মা... এই বাড়িতেও থাকতে এসো মা... ঘরে ফিরে এসেছি। একটু ভালো আছি।” এই পোস্ট দেখে অনেকে ভেবে বসেছিলেন, বুঝি তিনি সুস্থ হয়ে গেছেন। কিন্তু আসল সত্যি ছিল ভিন্ন।

ঝিলম নিজে বলছিলেন, “আপনারা পুজোর সময়ে আমাকে প্যান্ডেলে ঘুরতে দেখেছেন। কিন্তু সেটাই সব নয়। ভালো মতো খেতে পারিনি, আনন্দও ঠিকভাবে করতে পারিনি। যন্ত্রণায় ভুগেছি; অনেকদিন ধরে শুধু পেনকিলার আর অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে থাকছিলাম। আমার ছবিগুলো দেখে হয়তো কেউ বুঝবে না, কিন্তু আমার ওজন অনেক কমে গেছে। পুজোর সময় ডাক্তারও হাতে পাইনি, তাই অপারেশন হয়নি। আগামী সপ্তাহেই হবে।”

এইসব দেখে অনেকেই সন্দেহ করছিলেন, তাহলে ঝিলম কি সুস্থ? তাঁর অপারেশন লাগবে না? কীভাবে বাড়ি ছেড়ে চলে গেলেন—এই প্রশ্ন উঠছিল। পুজো মিটতেই ঝিলম নিজের ভিডিও বার্তায় জল্পনার মুখে জল ঢেলে জানিয়ে দিলেন—পরের সপ্তাহে তাঁর অপারেশন। স্পষ্ট করে বলেছেন তিনি।

অপারেশন নিয়ে ঝিলমের আবেগঘন বার্তা

ঝিলমের কথায়, “পুজোর সময়ে আমাকে প্যান্ডেলে ঘুরতে দেখেছেন। কিন্তু খেতে পারিনি, আনন্দও তেমন হয়নি। তীব্র যন্ত্রণায় ভুগছিলাম; অনেকদিন ধরে শুধু পেনকিলার আর অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে কাটিয়েছি। ছবিতে আপনারা বুঝবেন না, আমার ওজন অনেক কমে গেছে। পুজোর সময় ডাক্তার পাইনি, তাই অপারেশন হয়নি। তবে এবার হবে। আপনারা আশীর্বাদ করুন, যাতে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে আবার কাজে ফেরত আসতে পারি। আপনারাই আমার শক্তি।”

ঝিলমের এই কথায় অসংখ্য অনুরাগী প্রত্যাশা করছেন—তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুন, ফিরে আসুন। কেউ কেউ লিখেছেন, “তুমি আমাদের কাছে শুধু প্রতিযোগী নও, তুমি এক অনুপ্রেরণা।” আবার কেউ কেউ বলেছেন, “পুজোর সময় তোমার হাসিমুখ দেখে আমরা কেউ বুঝতেই পারিনি তুমি কতটা কষ্টে আছো।”

“আপনারা আশীর্বাদ করুন, যাতে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে আবার কাজে ফেরত আসতে পারি। আপনারাই আমার শক্তি।” — ঝিলম গুপ্ত

গলব্লাডার স্টোন আসলে কী?

গলব্লাডার বা পিত্তথলি হলো যকৃতের নিচে অবস্থিত একটি ছোট থলির মতো অঙ্গ, যেখানে পিত্তরস জমা থাকে। এই পিত্তরস হজমে সাহায্য করে। যখন পিত্তরসে থাকা কোলেস্টেরল, বিলিরুবিন বা ক্যালশিয়ামের মতো পদার্থ জমে গিয়ে শক্ত পাথরের মতো আকার নেয়, তখন তাকে গলব্লাডার স্টোন বা পিত্তথলির পাথর বলা হয়।

ছোট পাথর অনেক সময় কোনো উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে। কিন্তু যখন পাথর বড় হয়ে যায় বা পিত্তনালীতে আটকে যায়, তখন তীব্র পেটের ব্যথা, বমি ভাব, পেট ফাঁপা, গ্যাসের সমস্যা এবং খাবার হজমে সমস্যা দেখা দেয়। ঝিলমের ক্ষেত্রে পাথর বড় আকার ধারণ করায় তীব্র যন্ত্রণা হচ্ছিল এবং দ্রুত অপারেশনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল।

চিকিৎসকদের মতে, গলব্লাডার স্টোনের সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা হলো ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি, যেখানে পিত্তথলি সরিয়ে ফেলা হয়। এটি একটি সাধারণ অস্ত্রোপচার, এবং সুস্থ হতে বেশি সময় লাগে না। ঝিলমের ক্ষেত্রেও এই ধরনের অপারেশন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিগ বস বাংলায় ঝিলমের যাত্রা

বিগ বস বাংলার ঘরে ঝিলম গুপ্ত ছিলেন অন্যতম জনপ্রিয় প্রতিযোগী। তাঁর সৃষ্ট ‘ডিজে মাউস’ চরিত্র এবং ‘ইঁদুর’ র‍্যাপ দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিল। শুধু বিনোদন নয়, তাঁর লেখা, সৃজনশীলতা এবং উপস্থিত বুদ্ধিও প্রশংসিত হয়েছিল।

প্রতিযোগিতার মাঝে একাধিকবার নমিনেশনে পড়েছিলেন ঝিলম। কখনও সহপ্রতিযোগীদের সঙ্গে মতবিরোধ, কখনও বা গেম প্ল্যানের অংশ হিসেবে তিনি নমিনেশন পেয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিবারই দর্শকের ভালোবাসায় তিনি টিকে গিয়েছিলেন। বিশেষ করে দুর্নিবার সাহার সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব এবং পরবর্তী সময়ে মতবিরোধ শো-এর অন্যতম চর্চিত বিষয় হয়ে উঠেছিল।

শো ছাড়ার আগে শেষ মুহূর্তে সবাইকে জড়িয়ে ধরে কান্না, আগমনী গান গেয়ে বিদায়—এই দৃশ্য ভক্তদের মন ছুঁয়ে যায়। বিগ বসের ঘরে তাঁর উপস্থিতি শুধু প্রতিযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তিনি তাঁর সৃজনশীল প্রকাশভঙ্গি দিয়েও দর্শকদের মন জয় করেছিলেন।

অনুরাগীদের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ

ঝিলমের অপারেশনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুরাগীদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে পোস্ট করেছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, “তুমি খুব সাহসী, এই কঠিন সময়েও হাসিমুখে পুজো উপভোগ করেছ। আমরা তোমার সঙ্গে আছি।”

তবে সমাজমাধ্যমে কিছু নেতিবাচক মন্তব্যও দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, অসুস্থ হয়ে বিগ বস থেকে বেরিয়ে এসে কীভাবে এত আনন্দে পুজো করছেন। এই প্রসঙ্গে ঝিলমের বাবা জানিয়েছেন, মেয়ের অসুস্থতা লুকোনোর question নয়—বরং পুজোর সময় ডাক্তার না পাওয়ায় অপারেশন পিছিয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, “অনেকে দুঃখ পেয়েছেন জেনে ভালো লাগল। অনেকে আবার আনন্দ করছেন। তাঁদের শুভেচ্ছা জানাই।”

আপাতত শ্রীরামপুরে পরিবারের সান্নিধ্যে রয়েছেন ঝিলম। আগামী সপ্তাহে অপারেশন হওয়ার কথা রয়েছে। সুস্থ হয়ে তিনি আবার কাজে ফিরবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর এই লড়াই শুধু একজন প্রতিযোগীর নয়—বরং একজন শিল্পীর, যিনি যন্ত্রণার মধ্যেও হাসিমুখে জীবনকে উদযাপন করতে জানেন।

শেষ কথা

বিগ বস বাংলার মঞ্চ থেকে হঠাৎ বিদায় মন খারাপ করেছে বহু ভক্তের। কিন্তু ঝিলম গুপ্ত প্রমাণ করেছেন, আসল তারকা হওয়া মানে শুধু টিভি পর্দায় থাকা নয়—বরং কঠিন পরিস্থিতিতেও সাহস আর ইতিবাচকতা ধরে রাখা। পুজোর আনন্দে যন্ত্রণা লুকিয়ে তিনি দেখিয়েছেন এক অনন্য মানসিক শক্তি।

আমরাও তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। ফিরে আসুন ঝিলম, আরও নতুন সৃষ্টি নিয়ে, আরও নতুন energia নিয়ে। আপনার ভক্তরা অপেক্ষা করছেন।

এই খবর শেয়ার করুন

Deb Sarkar

Deb Sarkar

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি প্রকল্প, কেন্দ্রীয় সরকারি স্কিম, ডিজিটাল পরিষেবা এবং বিনোদন জগতের খবর নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। তিনি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করে পাঠকদের কাছে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করেন।