কলকাতার পুজো দেখতে গিয়ে ভেঙে গেল পুরো পরিবার! চোরবাগানের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু মা-ছেলে ও আত্মীয়ের
কলকাতার পুজো দেখতে গিয়ে ভেঙে গেল পুরো পরিবার। চোরবাগানের মণ্ডপে মারাত্মক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন বর্ধমানের মা-ছেলে ও তাঁদের এক আত্মীয়—সব মিলিয়ে তিনজন। মেয়েটি এখনও হাসপাতালে।
চোরবাগানের পুজো মণ্ডপে ভিড়ে হঠাৎ বিশৃঙ্খলা, পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারালেন মাধবডিহি থানার বীরপুর গ্রামের টগর বেজ (৩৭), তাঁর ছেলে সন্দীপ বেজ (১৪), ও পিয়ালী প্রামাণিক (২৫)। আহত হয়েছে টগর বেজের মেয়ে আগমনী। প্রথম বর্ষের কলেজ ছাত্রী, এখনও হাসপাতালে ভর্তি।
পুজো দেখার প্ল্যান ছিল গত বৃহস্পতিবার থেকে। কলকাতায় ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলেন টগরবাবু, তাঁর পরিবার, এবং হুগলির বালিয়ার আত্মীয়রা। রবিবার বাড়ি ফেরার কথা ছিল, কিন্তু তার আগেই গ্রামে পৌঁছল মৃত্যুসংবাদ। খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা বীরপুর শোকস্তব্ধ। সবাই স্তব্ধ হয়ে গেছে, কল্পনাও করেনি এমন কিছু ঘটবে।
পুলিশ খবর পেয়েই গ্রামে যায়। আগমনী হাসপাতালে লড়াই করছেন। পরিবারে এত মৃত্যুতে যেন চারপাশেই শোকের পরিবেশ।
স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার ইচ্ছে নিয়েই কলকাতায় যাওয়ার প্ল্যান ছিল। পুজোর মণ্ডপে উৎসবের বদলে নেমে এল বিষাদ। যে বাড়িতে উৎসবের অপেক্ষা, সেখানেই এখন শুধুই শোক।
ঘটনার বিবরণ—চোরবাগানে কী ঘটেছিল?
২০২৬ সালের মহাষষ্ঠী/সপ্তমীর সন্ধ্যায় কলকাতার উত্তর অংশে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই সময় মণ্ডপে প্রচণ্ড ভিড় ছিল। হঠাৎ বৃষ্টি নামলে মানুষ মণ্ডপের ভেতরে আশ্রয় নিতে ছুটে আসে। ইতিমধ্যে ভেতরে থাকা মানুষরা বেরোতে না পারায় এবং পেছন থেকে ভিড়ের চাপ বাড়তে থাকায় পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে [citation:3]।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মণ্ডপের এক্সিট গেটের কাছে একটি সিঁড়ি ছিল। ভিড়ের চাপে অনেকেই সিঁড়ি থেকে পড়ে যান এবং একের পর এক মানুষ তাঁদের ওপর দিয়ে চলে যান। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং মণ্ডপের একটি অংশ ভেঙে অনেককে বের করে আনেন [citation:3]।
এই দুর্ঘটনায় মোট ১৯ জনের মৃত্যু হয় এবং ২৫ জন আহত হন। এর মধ্যে বীরপুর গ্রামের তিনজনও রয়েছেন—টগর বেজ, তাঁর ছেলে সন্দীপ এবং আত্মীয় পিয়ালী প্রামাণিক ।
📌 দুর্ঘটনার মূল তথ্য:
• স্থান: চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপ, উত্তর কলকাতা
• সময়: মহাষষ্ঠী/সপ্তমীর সন্ধ্যা (২০২৬)
• কারণ: হঠাৎ বৃষ্টি ও ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট
• মোট মৃত: ১৯ জন
• মোট আহত: ২৫ জন
• বীরপুর গ্রামের মৃত: টগর বেজ (৩৭), সন্দীপ বেজ (১৪), পিয়ালী প্রামাণিক (২৫)
• আহত: আগমনী (টগর বেজের মেয়ে, প্রথম বর্ষের কলেজ ছাত্রী)
যে স্বপ্ন ছিল, তার শেষ কোথায়?
টগর বেজ ছিলেন বীরপুর গ্রামের একজন সাধারণ মানুষ। পরিবার নিয়ে কলকাতায় ঠাকুর দেখতে যাওয়ার প্ল্যান ছিল অনেক দিনের। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছিল সেই যাত্রা। সঙ্গে ছিলেন হুগলির বালিয়ার আত্মীয়রা। সবার মনে ছিল একটাই আনন্দ—একসঙ্গে কলকাতার পুজো দেখা, ঠাকুর দর্শন, আর স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটানো।
রবিবার বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই গ্রামে পৌঁছল সেই মর্মান্তিক খবর। গ্রামের লোকজন প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি। কেউ কেউ ছুটে গিয়েছিলেন কলকাতায়। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ।
টগর বেজের মেয়ে আগমনী এখনও হাসপাতালে লড়াই করছেন। প্রথম বর্ষের কলেজ ছাত্রী তিনি। তাঁর অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা তাঁর সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। পরিবার ও গ্রামবাসীরা তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন।
💔 শোকের ছায়া: বীরপুর গ্রামে এখন শোকের পরিবেশ। যে বাড়িতে উৎসবের অপেক্ষা ছিল, সেখানে এখন শুধুই শোক। প্রতিবেশীরা সবাই স্তব্ধ। এই ঘটনা যেন গোটা গ্রামের বুকে একটা বড় দাগ হয়ে গেল।
সরকারের প্রতিক্রিয়া ও ক্ষতিপূরণ
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করেন। সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং একটি সরকারি চাকরির ঘোষণা করা হয়। আহতদের জন্য ৫ লক্ষ টাকা এবং সম্পূর্ণ চিকিৎসার খরচ বহন করার কথা ঘোষণা করা হয়।
এছাড়া এই ঘটনার তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের একজন বিচারপতি। পুলিশ ইতিমধ্যেই পুজো কমিটির সদস্য এবং নিরাপত্তা কর্মীদের মধ্যে কয়েকজনকে আটক করেছে ।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারগুলিকে ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছেন ।
✅ সরকারি সহায়তা:
• নিহতদের পরিবার পিছু ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ
• প্রতি পরিবারকে একটি সরকারি চাকরি
• আহতদের জন্য ৫ লক্ষ টাকা ও সম্পূর্ণ চিকিৎসা খরচ
• হাইকোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে SIT তদন্ত
• পুজো কমিটি ও নিরাপত্তা কর্মীদের আটক করা হয়েছে
চোরবাগান পুজো—যে মণ্ডপ বারবার বিতর্কে
চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় পুজো। প্রতিবছর লক্ষাধিক মানুষ এই মণ্ডপ দেখতে আসেন। কিন্তু এই মণ্ডপের অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ ছিল। সরু গলির ভেতরে অবস্থিত এই মণ্ডপে ভিড় সামলানো সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং।
এবারের ঘটনায় আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে—পুজো কমিটির পরিবর্তন। সূত্রের খবর, নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর ভিড় ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞ লোকজন আর ছিলেন না। মণ্ডপের ডিজাইনও ভিড়ের চাপ সামলাতে সক্ষম ছিল না ।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, পর্যাপ্ত পুলিশ বা স্বেচ্ছাসেবক ছিল না। ভিড় নিয়ন্ত্রণের কোনো সঠিক ব্যবস্থা ছিল না। এই সমস্ত বিষয় এখন তদন্তের আওতায় এসেছে।
দর্শকদের প্রতিক্রিয়া
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনা নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। একদল মানুষ সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন, আবার একদল প্রশ্ন তুলেছেন—কেন এমন ঘটনা ঘটল? দোষ কার?
কেউ কেউ লিখছেন, "পুজো কমিটির দায়িত্বশীলতার অভাবেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।"
আরেকজন লিখছেন, "সরকারের ক্ষতিপূরণ ভালো উদ্যোগ, কিন্তু প্রাণ তো ফিরে আসবে না।"
অনেকে এই ঘটনার পর অন্যান্য পুজো মণ্ডপগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
নিরাপত্তা—যা মেনে চলা জরুরি
এই মর্মান্তিক ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে পুজো মণ্ডপগুলিতে কিছু বিষয় মেনে চলা জরুরি:
- ভিড় নিয়ন্ত্রণ: পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের পর্যাপ্ত সংখ্যায় উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
- প্রবেশ ও প্রস্থানের আলাদা পথ: যাতে ভিড়ের চাপ কমে।
- আলো ও চিহ্ন: মণ্ডপের ভেতরে পর্যাপ্ত আলো এবং সঠিক দিকনির্দেশনা থাকতে হবে।
- আপৎকালীন পরিকল্পনা: কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা থাকতে হবে।
- ভিড়ের সীমা: মণ্ডপের ধারণক্ষমতার বেশি মানুষ ঢুকতে দেওয়া যাবে না।
উপসংহার
এই দুর্ঘটনা গোটা বাংলার জন্য এক মর্মান্তিক ঘটনা। উৎসবের সময় এমন ঘটনা কারও কাম্য নয়। টগর বেজ, সন্দীপ বেজ, পিয়ালী প্রামাণিক—তাঁদের পরিবারগুলির এই ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ করার নয়। আগমনীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই।
সরকারের ক্ষতিপূরণ এবং তদন্তের ঘোষণা স্বাগত জানিয়েছেন অনেকে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে এড়ানো যায় কীভাবে? পুজো কমিটি, পুলিশ প্রশাসন, এবং সাধারণ মানুষ—সবাইকে মিলিতভাবে দায়িত্ব নিতে হবে।
পুজো মানেই আনন্দ, উৎসব, আর মানুষে-মানুষে মিলন। সেই আনন্দ যেন কোনো পরিবারের শেষ আনন্দ না হয়ে ওঠে—সেটাই হোক এই ঘটনার সবচেয়ে বড় শিক্ষা।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: চোরবাগান পদপিষ্ট দুর্ঘটনায় কারা মারা গেছেন?
বর্ধমানের মাধবডিহি থানার বীরপুর গ্রামের টগর বেজ (৩৭), তাঁর ছেলে সন্দীপ বেজ (১৪) এবং আত্মীয় পিয়ালী প্রামাণিক (২৫) মারা গেছেন। টগর বেজের মেয়ে আগমনী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রশ্ন ২: দুর্ঘটনাটি কোথায় এবং কবে ঘটেছে?
২০২৬ সালের মহাষষ্ঠী/সপ্তমীর সময় কলকাতার উত্তর অংশে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। ভিড়ের চাপে এবং বৃষ্টির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রশ্ন ৩: এই দুর্ঘটনায় মোট কতজন মারা গেছেন?
পদপিষ্টের ঘটনায় মোট ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে বীরপুর গ্রামের তিনজনও রয়েছেন।
প্রশ্ন ৪: আহত আগমনীর অবস্থা এখন কেমন?
প্রথম বর্ষের কলেজ ছাত্রী আগমনী এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরিবার ও গ্রামবাসীরা তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন।
প্রশ্ন ৫: সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে?
পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং একটি সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেছে। আহতদের জন্য ৫ লক্ষ টাকা ও সম্পূর্ণ চিকিৎসা খরচ বহন করা হবে। হাইকোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে SIT তদন্ত চলছে।
প্রশ্ন ৬: দুর্ঘটনার কারণ কী?
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হঠাৎ বৃষ্টির কারণে মানুষ মণ্ডপের ভেতরে আশ্রয় নিতে ছুটে আসে। ইতিমধ্যে ভেতরে থাকা মানুষরা বেরোতে না পারায় এবং পেছন থেকে ভিড়ের চাপ বাড়ায় পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। পুজো কমিটির ভিড় ব্যবস্থাপনায় অভাবও একটি কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিগ বস বাংলা গ্যালারি
বিগ বস বাংলার প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিযোগীদের ছবি ও ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন আমাদের স্পেশাল গ্যালারি পেজে।
বিগ বস বাংলা গ্যালারি দেখুনপ্রাসঙ্গিক লিংক
গুরুত্বপূর্ণ টুলস লিংক
এই পোস্টটি শেয়ার করুন
শেয়ার বাটনে ক্লিক করলেই পোস্টটি সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার হবে।