দেশু ৭ রিভিউ: দেব-শুভশ্রীর সপ্তম জুটি, অনির্বাণের দ্বৈত চরিত্র—পুজোয় ব্লকবাস্টার হতে বাধা নেই!
Deshu 7 Movie Review: দেশু ৭ নিয়ে আগেই কাঁপছিল মিডিয়া। দেব-শুভশ্রী ফিরছেন আর জমকালো কিছু হবে না, এমন হয়? সপ্তমবার জুটি বাঁধা—উৎসবের মরশুমে এর চেয়ে বড় পাওনা নেই। শেষবার 'ধূমকেতু'তে দেখা মিলেছিল, এবার সেই উৎসাহ আর অপেক্ষা নিয়েই 'দেশু ৭'।
বছরের পর বছর মানুষ এই দুই তারকার রসায়নে ফিদা, তাদের চেনা মশলা, ইমোশন, রোম্যান্স—সব কিছুর ঘাটতি মিটল যেন এই ছবিতে।
গল্পটা সীমান্তপুরের—চোরাচালান, সন্ত্রাস আর 'প্রজেক্ট দেসু'
গল্পটা সীমান্তপুরের। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে, চোরাচালান আর দুঃসহ অপরাধে পীড়িত এক শহর, যেখানে সন্ত্রাসের খেলা চলে রাত-বিরাতে। এক হানায় প্রাণ হারায় কয়েকজন ভারতীয় জওয়ান। সরকার বিপদে পড়ে রহস্য উদ্ঘাটনে জেল থেকে বার করে আনে দেবাদিত্য অধিকারীকে—একদা আইপিএস, এখন বদনামি 'কিলার'।
দেবের হাতে দেশের সুরক্ষা, 'প্রজেক্ট দেসু'র ভার। পাশে পায় তিন জন সহকারী—খালাসি কাকা, হেলিকপ্টার, আর মাসি। তারা অবশেষে হাজির হয় চৌধুরীদের ঘরে, যেখানে শুভশ্রী ওরফে ডাঃ শুভস্মিতা—দেবের পুরনো প্রেম। আর এখানেই শুরু নতুন টানাপোড়েন।
দেবের মিশন, ওদিকে শুভর বিবাহিত জীবন—দুজনের ফাটল, পুরনো স্মৃতি আর নতুন লড়াই দেখতে আপনাকে সিনেমা হলে ঢুকতেই হবে।
📌 দেশু ৭—মূল তথ্য:
• পরিচালনা: দেব (ডেবিউ ডিরেকশন)
• চিত্রনাট্য: রোহিত-সৌম্য, সম্রাট শর্মা ও দেব
• মুখ্য ভূমিকায়: দেব, শুভশ্রী গাঙ্গুলী, অনির্বাণ ভট্টাচার্য
• সহ-অভিনেতা: অপরাজিতা আঢ্য, প্রদীপ ভট্টাচার্য, কাঞ্চন মল্লিক, পার্থসারথি চক্রবর্তী, রজতাভ দত্ত, লোকনাথ দে, প্রিয়াঙ্কা মণ্ডল
• আবহ সংগীত: রথিজিৎ ভট্টাচার্য
• চিত্রগ্রহণ: শুভঙ্কর ভড়
• এডিটিং: মোঃ কালাম
• দৈর্ঘ্য: ২ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট
দেবের প্রত্যাবর্তন—আসল মশলা এখানেই
এটা একেবারে চোখে পড়ার মতো যে, অনেকদিন অ্যাকশন-রোম্যান্স মেশানো বাংলা ছবি মানুষ দেখেনি। ড্রয়িংরুম ড্রামা আর শহুরে গল্পে মন ভরছিল, কিন্তু ক্যামন যেন একটুতেই বাকি ছিল।
দেব, যিনি অনেক বছর আগেই ব্যক্তিত্ব ভেঙে পাশের বাড়ির ছেলেতে পরিণত হয়েছিলেন, সেই তিনিই আবার ফিরলেন পুরনো মেজাজে, আর তার সঙ্গে পুরনো সমর্থকরা। সত্যি বলতে, দেবের এই ঘরানায় প্রত্যাবর্তন দারুণ আনন্দের খবর।
দ্বিধাহীন মশলা, বিনোদন আর অ্যাকশন—দেশু ৭ জমজমাট।
২ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট—একঘেয়েমি আসার সুযোগই নেই
২ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট ভরপুর থ্রিল। একের পর এক সোজা ঘুষি দেওয়া সংলাপ, গল্পে টান, একঘেয়েমি আসার সুযোগই নেই। এটা দেবের ডেবিউ ডিরেকশন—বোঝার উপায় নেই।
রোহিত-সৌম্য, সম্রাট শর্মা ও দেব মিলে এমন চিত্রনাট্য গড়েছেন, কোথাও আর বিরতি চাইবে না মন (বিরতি ছাড়া ৩ ঘণ্টা প্রায়)।
তিনটি স্তম্ভ আর এক 'হিডেন হিরো'
দেব, শুভশ্রী—সবচেয়ে বড়ো তিনটা স্তম্ভ এবং চতুর্থ 'হিডেন হিরো' রথিজিৎ ভট্টাচার্যের ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর। অ্যাকশন সিনে টানটান উত্তেজনা যান নি, বরং পুরনো বাংলা গানের টুইস্টে মজা দ্বিগুণ হয়ে যায়।
'নাচে রে বাংলা' আর 'ইলিশ চন্দনা' গানগুলো জমিয়ে দিয়েছে স্যাভি আর নীলায়নের ছোঁয়ায়।
✅ দেশু ৭—যা ভালো লাগল:
• দেবের ডেবিউ ডিরেকশন—নজর কাড়ার মতো
• দেব-শুভশ্রীর সপ্তম জুটি—কেমিস্ট্রি ফাটাফাটি
• অনির্বাণ ভট্টাচার্যের দ্বৈত চরিত্রে অনবদ্য অভিনয়
• রথিজিৎ ভট্টাচার্যের ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর
• 'নাচে রে বাংলা' ও 'ইলিশ চন্দনা' গান
• একের পর এক ঘুষি দেওয়া সংলাপ
• ২ ঘণ্টা ৪৬ মিনিটেও একঘেয়েমি নেই
• আইটেম গানে ইধিকা পাল দুর্দান্ত
টেকনিক্যাল দিক—চিত্রগ্রহণ, এডিটিং ও সংগীত
চিত্রগ্রহণে শুভঙ্কর ভড়, এডিটিংয়ে মোঃ কালাম—দুজনেই দারুণ। আইটেম গানে ইধিকা পাল দুর্দান্ত, পারফরম্যান্সে ইকোনো উপভোগ্য। আর শেষে দেব-ইধিকার যুগলবন্দিতে পুরনো স্মৃতি ফিরে আসে।
সংলাপে দেব-অনির্বাণের স্বাক্ষর স্টাইল বারবার ধরা পড়ে, মজাও পাওয়া যায়। সিরিয়াস গল্পের মাঝেও ফান চলে সমান্তরাল—এই টানাপোড়েনটাই ফ্রেশ লাগল।
অভিনয়—অনির্বাণের দ্বৈত চরিত্র, শুভশ্রীর ফেরা
অনির্বাণ ভট্টাচার্য—দুই ভাইয়ের দ্বৈত চরিত্রে অনবদ্য। নেতিবাচক ভূমিকা, কিন্তু এত ভাল অভিনয় করেছেন যে দর্শক ঘৃণার বদলে তাকিয়ে দেখে যেতে বাধ্য। দুই চরিত্রে যেন দুই অনির্বাণ, দু'জনকেই বিশ্বাসযোগ্য আর আলাদা লাগে।
শুভশ্রী, অনেক দিন পরে দেবের নায়িকা—দুজনের কেমিস্ট্রি ফাটাফাটি। বুঝে নিতে দেরি হয় না, 'কাজটা' তারা জানে!
পাশে অপরাজিতা, প্রদীপ, কাঞ্চন যেমন পুরোদস্তুর কমেডি, তেমনি পার্থসারথি, রজতাভা, লোকনাথ, প্রিয়াঙ্কা সবাই পারেন তাদের জায়গা ধরে রাখতে।
একটু খেদও আছে—ছোট চরিত্র, বড় আফসোস
একটু খেদও আছে। প্রিয়াঙ্কার চরিত্র ছোট, লোকনাথেরও যথেষ্ট জায়গা নেই। ভালো অভিনেতাদের এমন কম সময় পাওয়াটা বড় আফসোস।
আর দেব কেন জেলে গেলেন, সেই ব্যাকস্টোরিটা একটু সাজানো মনে হয়েছে; আইপিএস অফিসার, অথচ রিভলভারে নেই সেফটি ক্যাচ—এ টুকু অসঙ্গতি নজরে পড়ে!
তবু, ওসব খুঁতেয় কেউ মন দেয় না, কারণ ফিল্মটা একেবারেই মশলা, মোটাদাগে হলভরা বিনোদন।
⚠️ ছোট খুঁত: প্রিয়াঙ্কা ও লোকনাথের স্ক্রিন টাইম কম। এছাড়া দেবের জেলে যাওয়ার ব্যাকস্টোরিতে কিছু অসমঞ্জস্য (যেমন আইপিএস অফিসারের রিভলভারে সেফটি ক্যাচ না থাকা) চোখে পড়ে।
নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশু ৭ নিয়ে তুমুল চর্চা চলছে। একদল নেটিজেন দেব-শুভশ্রীর সপ্তম জুটির কেমিস্ট্রিতে মুগ্ধ, আবার একদল অনির্বাণের দ্বৈত চরিত্রের অভিনয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, "দেব-শুভশ্রী জুটি মানেই নস্টালজিয়া। সপ্তমবারেও সেই ম্যাজিক অটুট!"
আরেকজন লিখেছেন, "অনির্বাণ দাদা দু'জন চরিত্রে যেভাবে আলাদা হয়ে গেছেন—অসাধারণ। এটা তাঁর অন্যতম সেরা কাজ।"
তবে কিছু নেটিজেন মনে করছেন, ব্যাকস্টোরি আরও সাজানো যেত এবং কিছু চরিত্রে আরও স্ক্রিন টাইম দেওয়া উচিত ছিল।
বক্স অফিস প্রেডিকশন—পুজোয় ব্লকবাস্টার?
এই পুজোয় ব্লকবাস্টার হতে আর কোনো বাধা নেই। এগুলোর জন্যই হলে যাওয়ার মজা আছে—দেশু ৭ দারুণভাবে সেই স্বাদটাই ফিরিয়ে এনেছে।
দেবের ফ্যান বেস, শুভশ্রীর জনপ্রিয়তা, অনির্বাণের অভিনয় এবং পুজোর মরশুম—সব মিলিয়ে দেশু ৭ বক্স অফিসে বড়সড় সাফল্য পেতে পারে বলেই আশা করা যায়।
চূড়ান্ত রায়
দেশু ৭ আসলে কী? একটু বলি—এটা একেবারে পুরনো বাংলা মশলা সিনেমার আধুনিক সংস্করণ। যেখানে অ্যাকশন, রোম্যান্স, কমেডি, ইমোশন—সবই আছে একসঙ্গে। দেবের ডেবিউ ডিরেকশন, শুভশ্রীর প্রত্যাবর্তন, আর অনির্বাণের অভিনয়—এই তিনে মিলেই দেশু ৭ দর্শকদের জন্য আনন্দের প্যাকেজ।
দুর্গাপুজোয় পরিবার নিয়ে হলে যাওয়ার জন্য পারফেক্ট ছবি। মোটাদাগে বলতে গেলে—দেশু ৭ দেখতেই হবে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: দেশু ৭ ছবির পরিচালক কে?
দেশু ৭ ছবিটি পরিচালনা করেছেন দেব নিজেই। এটি তাঁর ডেবিউ ডিরেকশন।
প্রশ্ন ২: দেশু ৭-এ দেব-শুভশ্রী কততম বার জুটি বেঁধেছেন?
দেশু ৭ হলো দেব-শুভশ্রীর সপ্তম ছবি একসঙ্গে। এর আগে শেষবার তাঁদের 'ধূমকেতু' ছবিতে দেখা গিয়েছিল।
প্রশ্ন ৩: দেশু ৭ ছবির গল্প কী?
সীমান্তপুরের গল্প—ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চোরাচালান ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই। জেল থেকে ছাড়া পান দেবাদিত্য অধিকারী (দেব), যিনি 'প্রজেক্ট দেসু'র দায়িত্ব পান। চৌধুরীদের ঘরে হাজির হয়ে তিনি দেখেন তাঁর পুরনো প্রেম ডাঃ শুভস্মিতা (শুভশ্রী) এখন বিবাহিত।
প্রশ্ন ৪: দেশু ৭ ছবির দৈর্ঘ্য কত?
দেশু ৭ ছবির দৈর্ঘ্য ২ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট।
প্রশ্ন ৫: অনির্বাণ ভট্টাচার্য কী চরিত্রে অভিনয় করেছেন?
অনির্বাণ ভট্টাচার্য দেশু ৭-এ দুই ভাইয়ের দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেছেন। দুটো চরিত্রেই তিনি অনবদ্য এবং বিশ্বাসযোগ্য।
প্রশ্ন ৬: দেশু ৭ ছবির সংগীত কে করেছেন?
দেশু ৭ ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর করেছেন রথিজিৎ ভট্টাচার্য। গানে 'নাচে রে বাংলা' ও 'ইলিশ চন্দনা'-র মতো ট্র্যাক জমিয়ে দিয়েছে।
প্রশ্ন ৭: দেশু ৭ ছবি কি পুজোয় দেখার মতো?
হ্যাঁ, দেশু ৭ দর্শকদের জন্য পারফেক্ট পুজো এন্টারটেইনার। পরিবার নিয়ে হলে গিয়ে উপভোগ করা যেতে পারে।
বিগ বস বাংলা গ্যালারি
বিগ বস বাংলার প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিযোগীদের ছবি ও ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন আমাদের স্পেশাল গ্যালারি পেজে।
বিগ বস বাংলা গ্যালারি দেখুনপ্রাসঙ্গিক লিংক
গুরুত্বপূর্ণ টুলস লিংক
এই পোস্টটি শেয়ার করুন
শেয়ার বাটনে ক্লিক করলেই পোস্টটি সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার হবে।