Chorbagan durga puja 2026: শিশু থেকে বৃদ্ধ—চোরবাগানের সেই মণ্ডপে কারওই রক্ষা হয়নি। পদপিষ্ট হয়ে চলে গেলো ১৯টা প্রাণ

১৮ অক্টোবর, ২০২৬ লেখক: Deb Sarkar পড়তে ৮ মিনিট
চোরবাগান পদপিষ্ট ঘটনা - মৃতদের তালিকা

শিশু থেকে বৃদ্ধ—চোরবাগানের সেই মণ্ডপে কারওই রক্ষা হয়নি। পদপিষ্ট হয়ে চলে গেলো ১৯টা প্রাণ, আর সেই তালিকা শনিবার রাতের পর থেকেই ঘুরছে গোটা বাংলার মনে। কারও বয়স অল্প, কেউ বা বহু বছর দেখে ফেলেছেন এই পৃথিবী। শোকের আবরণে ঢাকা পড়েছে শুধু কলকাতা নয়, চারপাশের বহু এলাকা।

মৃতদের নামের তালিকা এসে গেছে সামনে—অভিষেক শ্রীবাস্তব, শ্রীপর্ণা পোদ্দার, মিঠু মণ্ডল, আকৃতি কুমারী, বর্ণালী হালদার, শুভম সোনকর, আরতি সরকার বিশ্বাস। তাদের পাশাপাশি আছেন তানিয়া বিশ্বাস, বিকাশ ভট্টাচার্য, স্নেহা ভাণ্ডারি, সন্দীপ ভেজ, পিয়ালি প্রামাণিক, টগর ভেজ, কল্পনা জানা, প্রিয়া সমাদ্দার, এবং দিলীপ ঘোষ। মৃতদের মধ্যে প্রাঞ্জল সরকার, অন্যাস শ্রীবাস্তব, বরানগরের দিলীপ ঘোষ ও দীপালি ঘোষও রয়েছেন। নামের পাশে ক্ষেত্র কোড—কলকাতা, হুগলি, হাওড়া, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, এমনকি বিহারও বাদ যায়নি।

বেশিরভাগের শেষ নিঃশ্বাস এমসিএইচ হাসপাতালে। একজনের মৃত্যু অ্যাপোলো হাসপাতালে, আর একজন চলে গিয়েছেন আর জি কর মেডিকেলে। দুর্গাপুজোর আনন্দের মধ্যেই এমন মৃত্যুমিছিল, বাংলার বুক জুড়ে শুধু শোক আর হতশ্চর্যতা।

⚠️ ঘটনার সারসংক্ষেপ: মহাসপ্তমী শনিবার সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় মোট ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন [citation:2][citation:4]। নিহতদের মধ্যে ৭ বছরের শিশু থেকে ৬৬ বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত রয়েছেন।

নিহতদের সম্পূর্ণ তালিকা

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে নিহতদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে [citation:2]। তালিকায় যাদের নাম রয়েছে, তারা হলেন:

# নাম বয়স ঠিকানা
১ অভিষেক শ্রীবাস্তব ৩৮ ভাগবানপুর, মুজফ্ফরপুর, বিহার
২ শ্রীপর্ণা পোদ্দার ২৬ বৈদ্যবাটি, হুগলি
৩ মিঠু মণ্ডল ৪৫ শ্যামপুকুর, কলকাতা
৪ আকৃতি কুমারী ১৭ বালি, হাওড়া
৫ বর্ণালী হালদার ১৭ নিউ টাউন
৬ শুভম সোনকর ৩৩ মানিকতলা, কলকাতা
৭ আরতি সরকার বিশ্বাস ৪৫ চাকদহ, নদিয়া
৮ তানিয়া বিশ্বাস ১৮ গৌরাঙ্গনগর, নিউ টাউন
৯ বিকাশ ভট্টাচার্য ৬৬ সালকিয়া, হাওড়া
১০ স্নেহা ভাণ্ডারি ২০ বিষ্ণুপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা
১১ সন্দীপ ভেজ ১৪ মাধবডিহি, পূর্ব বর্ধমান
১২ পিয়ালি প্রামাণিক ২৫ আরামবাগ, হুগলি
১৩ টগর ভেজ ৩৭ মাধবডিহি, পূর্ব বর্ধমান
১৪ কল্পনা জানা ৪৬ সোদপুর, পানিহাটি
১৫ প্রিয়া সমাদ্দার ১৮ নিউ ব্যারাকপুর
১৬ দিলীপ ঘোষ ৫৯ বরানগর
১৭ প্রাঞ্জল সরকার ১৩ বিটিএ রোড, আগরপাড়া
১৮ অন্যাস শ্রীবাস্তব (আয়াংশ কুমার) ৭ মুজফ্ফরপুর, বিহার
১৯ দীপালি ঘোষ ৫৪ বরানগর

* নাম ও বয়সের তথ্য রাজ্য সরকারের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী [citation:2][citation:4]।

📌 নিহতদের পরিসংখ্যান:
• মোট মৃত্যু: ১৯ জন
• আহত: ২৫ জন
• সবচেয়ে কম বয়সী: ৭ বছরের আয়াংশ কুমার শ্রীবাস্তব (বিহার)
• সবচেয়ে বেশি বয়সী: বিকাশ ভট্টাচার্য (৬৬), হাওড়া
• মহিলা নিহত: অধিকাংশ [citation:2]
• বিহার থেকে: ২ জন (বাবা-ছেলে)

যাদের ঝরে গেল অকালে—শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা

এই তালিকায় সবচেয়ে হৃদয়বিদারক部分是 শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের নাম। ৭ বছরের আয়াংশ কুমার শ্রীবাস্তব—বিহার থেকে বাবার সঙ্গে দুর্গাপুজো দেখতে এসেছিল কলকাতায়। কে জানত, এই পুজোই তাদের শেষ হবে? বাবা অভিষেক শ্রীবাস্তব (৩৮)-ও একই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। বাবা-ছেলে একসঙ্গে চলে গেলেন [citation:2]।

১৪ বছরের সন্দীপ ভেজ—পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহি থেকে। ১৩ বছরের প্রাঞ্জল সরকার—আগরপাড়ার বিটিএ রোড থেকে। ১৭ বছরের আকৃতি কুমারী (বালি, হাওড়া) এবং বর্ণালী হালদার (নিউ টাউন)—দুজনেই ছিলেন কিশোরী। ১৮ বছরের তানিয়া বিশ্বাস এবং প্রিয়া সমাদ্দার—দুজনেই সবে প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছেন।

এই শিশু-কিশোরদের মৃত্যু যেকোনো পুজো উদযাপনের আনন্দকে মুহূর্তে শোকে পরিণত করার জন্য যথেষ্ট। তাদের পরিবারগুলোর এই শোক সহজে ভুলবে না বাংলা।

একই পরিবারের একাধিক প্রাণহানি

এই ঘটনার সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক হলো—কয়েকটি পরিবারের একাধিক সদস্য একসঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন।

  • অভিষেক শ্রীবাস্তব (৩৮) ও আয়াংশ কুমার শ্রীবাস্তব (৭): বাবা-ছেলে, বিহারের মুজফ্ফরপুর থেকে পুজো দেখতে এসেছিলেন।
  • দিলীপ ঘোষ (৫৯) ও দীপালি ঘোষ (৫৪): স্বামী-স্ত্রী, দুজনেই বরানগরের বাসিন্দা [citation:2]।

একই পরিবারের দুটি প্রাণ একসঙ্গে হারানো—এই বেদনা শব্দে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। বাংলার বহু পরিবার এই দুর্গাপুজোয় শোকে মুহ্যমান।

"দুর্গাপুজোর আনন্দের মধ্যেই এমন মৃত্যুমিছিল, বাংলার বুক জুড়ে শুধু শোক আর হতশ্চর্যতা।"
— সাধারণ অনুভূতি

কোন হাসপাতালে কতজন?

বেশিরভাগের শেষ নিঃশ্বাস এসেছে এমসিএইচ (মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল)-এ। একজনের মৃত্যু অ্যাপোলো হাসপাতালে, আর একজন চলে গিয়েছেন আর জি কর মেডিকেলে। আহত ২৫ জনের মধ্যে ১১ জনকে রবিবার সকালে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, বাকি ১৪ জনকে অ্যাপোলোতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে [citation:9]।

প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ

এই ঘটনার পর রাজ্য সরকার দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘটনার ফ্যাক্ট ফাইন্ডিংয়ের কথা ঘোষণা করেছেন [citation:1]। লালবাজার সূত্রে জানা গেছে, পুজো কমিটির ৭ জন শীর্ষ কর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে—যাদের মধ্যে সম্পাদক, সহ-সভাপতি, মণ্ডপ নির্মাণকারী এবং নিরাপত্তা সংস্থার ইনচার্জ রয়েছেন [citation:6]।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিহতদের পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছেন [citation:10]। মুখ্যমন্ত্রীও আর্থিক সহায়তা ও চাকরির ঘোষণা করেছেন [citation:5]।

তবে প্রশ্ন থেকে যায়—এই ক্ষতিপূরণ কি হারানো প্রাণ ফিরিয়ে আনতে পারবে? উত্তর স্পষ্ট—না। কিন্তু এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধ করা যায় কিনা, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

শোকের ছায়া গোটা বাংলায়

চোরবাগানের এই ঘটনায় শোকের ছায়া পড়েছে শুধু কলকাতায় নয়—হুগলি, হাওড়া, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, এমনকি বিহারেও। মৃতদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন পুজো দেখতে আসা সাধারণ মানুষ। কেউ ছিলেন স্কুলছাত্রী, কেউ বা সদ্য প্রাপ্তবয়স্ক।

দুর্গাপুজো মানেই বাংলার মানুষের কাছে আনন্দ, মিলন, ঘরে ফেরার উৎসব। কিন্তু এই বছর চোরবাগানের সেই আনন্দ মুহূর্তে পরিণত হয়েছে শোকে। বাংলার মানুষ এই শোক ভুলবে না—অন্তত সহজে নয়।

📢 দর্শকদের প্রতি: এই ঘটনার তদন্ত চলছে। পুলিশ ও প্রশাসন তাদের কাজ করছে। পাঠকদের অনুরোধ—গুজব বা未经核实 তথ্য ছড়াবেন না। শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানান।

শেষ কথা

চোরবাগানের সেই মণ্ডপে ১৯টি প্রাণের ঝরে পড়া বাংলার বুকে এক গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ—কেউই রক্ষা পাননি। অভিষেক-আয়াংশ বাবা-ছেলে, দিলীপ-দীপালি স্বামী-স্ত্রী—একই পরিবারের একাধিক প্রাণ। এই তালিকা পড়লে বোঝা যায়, দুর্গাপুজোর আনন্দ কতটা ভঙ্গুর হতে পারে।

আমাদের দায়িত্ব—এই প্রাণগুলোকে স্মরণ করা, শোকাহত পরিবারগুলোর পাশে থাকা, এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে সেই জন্য প্রশ্ন করা। বাংলার মানুষ এই শোক ভুলবে না।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: চোরবাগান পদপিষ্ট ঘটনায় কতজন মারা গেছেন?

চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মোট ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন [citation:2][citation:4]।

প্রশ্ন ২: ঘটনাটি কোথায় এবং কখন ঘটেছে?

ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে, মহাসপ্তমী শনিবার সন্ধ্যায় [citation:1]।

প্রশ্ন ৩: নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী কে?

নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী হলেন ৭ বছরের আয়াংশ কুমার শ্রীবাস্তব, যিনি বিহার থেকে আসা অভিষেক শ্রীবাস্তবের পুত্র [citation:2]।

প্রশ্ন ৪: নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়সী কে?

নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়সী হলেন বিকাশ ভট্টাচার্য (৬৬), হাওড়ার সালকিয়ার বাসিন্দা [citation:2]।

প্রশ্ন ৫: কোন হাসপাতালে বেশিরভাগ মৃত্যু হয়েছে?

বেশিরভাগের মৃত্যু হয়েছে এমসিএইচ (মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল)-এ। একজন অ্যাপোলো হাসপাতালে এবং একজন আর জি কর মেডিকেলে মৃত্যুবরণ করেন।

প্রশ্ন ৬: এই ঘটনায় কারা গ্রেফতার হয়েছেন?

পুজো কমিটির ৭ জন শীর্ষ কর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে—যাদের মধ্যে সম্পাদক, সহ-সভাপতি, মণ্ডপ নির্মাণকারী এবং নিরাপত্তা সংস্থার ইনচার্জ রয়েছেন [citation:6]।

বিগ বস বাংলা গ্যালারি

বিগ বস বাংলার প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিযোগীদের ছবি ও ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন আমাদের স্পেশাল গ্যালারি পেজে।

বিগ বস বাংলা গ্যালারি দেখুন

গুরুত্বপূর্ণ টুলস লিংক

AC Electricity Cost Calculator AI Prompt Cost Calculator Bengali TTS Character Counter Bengali Text to Speech DA Arrear Calculator EV Charging Cost Calculator EV vs Petrol Savings Calculator FAQ Schema Generator Gemini API Cost Calculator Instagram DP Viewer Invisible Character Remover Property Registration Calculator Slug Generator Solar Savings Calculator Water Tank Capacity Calculator WhatsApp Chat Link Generator YouTube Thumbnail Downloader Twitter Photo Downloader Internet Speed Test

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

শেয়ার বাটনে ক্লিক করলেই পোস্টটি সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার হবে।

Deb Sarkar

লেখক: Deb Sarkar

Deb Sarkar পশ্চিমবঙ্গের সরকারি প্রকল্প, কেন্দ্রীয় সরকারি স্কিম, ডিজিটাল টুল, বিনোদন জগতের খবর ও প্রযুক্তি বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। তিনি বিভিন্ন সরকারি বিজ্ঞপ্তি, অফিসিয়াল পোর্টাল এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করে পাঠকদের কাছে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করেন।

✓ Fact Checked Content ✓ News Writer ✓ Updated Information