Ayushman Bharat: বাড়ি বাড়ি ফর্ম, WhatsApp-এ কার্ড তৈরি করুন

১২ জুলাই, ২০২৬ লেখক: Deb Sarkar পড়তে ৫ মিনিট
Ayushman Bharat WhatsApp Card

আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে রাজ্যে এখন বেশ তোড়জোড় চলছে। অনেক জায়গায় ইতিমধ্যেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবেদনপত্র বিলি শুরু হয়ে গেছে। যাদের পরিবারের নাম প্রকল্পের জন্য তালিকাভুক্ত, তাদের হাতে সরাসরি আবেদন ফর্ম পৌঁছে যাচ্ছে। সাধারণত, এই কাজটা আশাকর্মীরা করছেন—ফল, যদি কোথাও কোনো গোলমাল ধরা পড়ে কিংবা ফর্ম হাতে না পান, তখন স্থানীয় কাউন্সিলর বা পঞ্চায়েত সদস্যর সঙ্গে যোগাযোগ করলেই হতে পারে।

কী কী তথ্য থাকছে ফর্মে?

ফর্মের একটা বড় অংশে আপনার নাম, আধার নম্বর, রেশন কার্ড নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং জন্মতারিখ আগেভাগেই লেখা থাকবে। আপনাকে শুধু ঠিকানা, পরিবারের মোট কতজন সদস্য, প্যান নম্বর, ভোটার কার্ডের তথ্য, বার্ষিক আয় বা আয়কর দেন কি না—এসব অংশ পূরণ করতে হবে। অনেকটা আগেই কাজ এগিয়ে রাখার জন্য এসব তথ্য তারা দিয়ে দিচ্ছে, যেন আপনার সময় কম লাগে।

কারা পাচ্ছেন ফর্ম? মূলত যাদের কাছে অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা (AAY), বিশেষ অগ্রাধিকার পরিবার (SPHH), কিংবা অগ্রাধিকার পরিবার (PHH) রেশন কার্ড আছে, তাদের ফর্ম দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, ৭০ বছরের বেশি বয়স্ক নাগরিকরাও সরাসরি আবেদন করতে পারবেন, তাদের আর্থিক পরিস্থিতি তেমন দেখা হবে না।

যদি ফর্ম এখনো হাতে না এসে থাকে, তাহলে পুরসভা বা গ্রাম পঞ্চায়েতে গিয়ে খোঁজ নিন—ওখানে আপনাকে নির্দেশনা মেলে যাবে।

বিকল্প ব্যবস্থা: আর যাদের নাম এই প্রকল্পে আসবে না, তাদের জন্য অন্য সুবিধা থাকছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিমার সুযোগ মিলবে। যদিও, এই স্কিমে কবে থেকে কিভাবে আবেদন করা যাবে, সেটা নিয়ে কিছু এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি। সরকারি সূত্রে বলছে, খুব শিগগির এ নিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

WhatsApp-এ তৈরি করুন Ayushman Card

এখন আয়ুষ্মান কার্ড তৈরি করতে আর লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে সরকারি অফিসে ঘুরে ঘুরে সময় নষ্ট করতে হবে না। কেন্দ্রীয় সরকার আয়ুষ্মান সারথি নামে একটা নতুন পরিষেবা চালু করেছে, যা আসলে হোয়াটসঅ্যাপে কাজ করার মতো চ্যাটবট। ঘরে বসে সহজেই, শুধু ফোনটাতেই, টুক করে কার্ডের জন্য আবেদন করা যায়।

ন্যাশনাল হেলথ অথরিটি তৈরি করেছে এই চ্যাটবটটা। যে কেউ রাতে হোক বা দিনে, যখন খুশি, রিয়েল-টাইমে নানা সার্ভিস নিতে পারবেন এর মাধ্যমে। মানে, এখন পরিষেবা পাওয়ার জন্য জটিল কোনো ঝামেলা নেই।

হোয়াটসঅ্যাপে কি কি করতে পারবেন?

  • PM-JAY-এর জন্য নিজে যোগ্য কি না, সেটা যাচাই করতে পারবেন।
  • নতুন আয়ুষ্মান কার্ডের জন্য অ্যাপ্লাই করা যাবে।
  • e-KYC সম্পূর্ণ করা যাবে অনলাইনে।
  • আধার নম্বর লিঙ্ক করার সুযোগ আছে।
  • কার্ড ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।
  • PM-JAY কার্ড লক বা আনলক—সবই হোয়াটসঅ্যাপে।
  • ৭০ বছরের বেশি হলে বন্দনা কার্ড সংক্রান্ত কিছু পরিষেবাও পাবেন।
  • নিজস্ব মেডিক্যাল হিস্ট্রি দেখা, ওয়ালেট ব্যালান্স দেখতে পারবেন।
  • কাছাকাছি কোন হাসপাতাল রয়েছে সেটা খুঁজে বের করা যাবে।
  • কমপ্লেন জানানো, সেটা কতদূর এগিয়েছে দেখা, প্রয়োজনে অভিযোগ তুলেও নিতে পারবেন।
  • হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর নিজের মতামত জানাতে পারবেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দাবি: এতে সরকারি অফিসে যাওয়া, কলসেন্টার ধরে থাকাটা অনেক কমে যাবে, আর পরিষেবাও হবে দ্রুত, স্বচ্ছ ও সুবিধাজনক।

খুব সহজভাবে কীভাবে করবেন?

  1. প্রথমে এই নম্বরটা মোবাইলে সেভ করুন: 7290823838
  2. এরপর হোয়াটসঅ্যাপে এই নম্বরে একটা Hi লিখে সেন্ড করুন।
  3. চ্যাটবটের মেনু থেকে 'Create Ayushman Card' বেছে নিন।
  4. মোবাইল নম্বর, আধার নম্বরসহ কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য দিন।
  5. OTP আসবে, সেটা দিয়ে ভেরিফিকেশন করুন আর e-KYC শেষ করুন।
  6. ব্যাস! আয়ুষ্মান কার্ড তৈরি হয়ে যাবে। চাইলে চ্যাটবট থেকেই সঙ্গে সঙ্গে ডাউনলোডও করে নিতে পারবেন।

মনে রাখবেন: আসলে এখন সময়টাও বাঁচবে, ঝামেলাও কমবে, আর পরিষেবার মানও আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত হয়েছে।

আয়ুষ্মান ভারত – সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন ১: আয়ুষ্মান ভারত কার্ড কারা পাবেন?

যাদের কাছে AAY, SPHH বা PHH রেশন কার্ড আছে এবং ৭০ বছরের বেশি বয়স্ক নাগরিকরা আবেদন করতে পারবেন।

প্রশ্ন ২: WhatsApp-এ কার্ড তৈরি করতে কী কী লাগবে?

শুধু একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বর এবং আধার নম্বর লাগবে। OTP দিয়ে ভেরিফিকেশন করতে হবে।

প্রশ্ন ৩: ফর্ম হাতে না পেলে কী করবেন?

স্থানীয় কাউন্সিলর, পঞ্চায়েত সদস্য বা পুরসভা/গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে যোগাযোগ করুন।

প্রশ্ন ৪: এই প্রকল্পে কারা আবেদন করতে পারবেন না?

যারা আয়কর দেন, সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগী, তারা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না। তবে তাদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার ব্যবস্থা থাকছে।

প্রশ্ন ৫: চ্যাটবটে কী কী পরিষেবা পাওয়া যায়?

যোগ্যতা যাচাই, কার্ড তৈরি, e-KYC, আধার লিঙ্ক, কার্ড ডাউনলোড, হাসপাতাল খোঁজা, অভিযোগ জানানো—সহ অনেক কিছু।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

শেয়ার বাটনে ক্লিক করলেই সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শেয়ার হবে।

Deb Sarkar

লেখক: Deb Sarkar

Deb Sarkar পশ্চিমবঙ্গের সরকারি প্রকল্প, কেন্দ্রীয় সরকারি স্কিম, ডিজিটাল পরিষেবা এবং অনলাইন আয়ের বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। তিনি বিভিন্ন সরকারি বিজ্ঞপ্তি, অফিসিয়াল পোর্টাল এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করে পাঠকদের কাছে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করেন।

✓ Fact Checked Content ✓ Government Scheme Researcher ✓ Updated Information