West Bengal Sarathi Scheme 2026: সারথী প্রকল্প – সবুজ সাথীর পরিবর্তে নতুন সাইকেল বিতরণ ২০২৬

২৯ জুলাই, ২০২৬ লেখক: Deb Sarkar পড়তে ৬ মিনিট নতুন উদ্যোগ
Sarathi Scheme

'সবুজ সাথী' এখন অতীত। নতুন শাসকদলের অধীনে সেই জায়গা নিতে চলেছে 'সারথী'। শুধু নাম বদলাচ্ছে না—সাইকেলের রঙ, লোগো, এমনকি বণ্টনের পুরো পদ্ধতিই পালটে যাচ্ছে। সরকারের এবার লক্ষ্য, কম সময়ে বেশি স্বচ্ছতা নিয়ে প্রকৃত ছাত্রছাত্রীদের হাতে আধুনিক সাইকেল তুলে দেওয়া।

সারথী প্রকল্প – যোগ্যতা ও বিতরণ স্ট্যাটাস চেকার

আপনি কি সারথী প্রকল্পে সাইকেল পাওয়ার যোগ্য? আপনার আবেদনের অবস্থা কী? নিচের টুলটি ব্যবহার করে জানুন।

শুধু ৯-১২ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা যোগ্য
একাধিকবার পাবেন না
শুধু সরকারি ও সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল
প্রধান শিক্ষক পোর্টালে যাচাই করেছেন
🚲
--
যোগ্যতা
📋
--
আবেদনের অবস্থা
📦
--
বিতরণ স্থিতি
যোগ্যতা ফলাফল
--
সাইকেলের রঙ
--
প্রকল্পের নাম
--
পরবর্তী ধাপ
--
🚲 আপনার যোগ্যতা যাচাই করুন
উপরের তথ্য দিয়ে চেক করুন
West Bengal Sarathi Scheme 2026: এটি একটি আনুমানিক যোগ্যতা যাচাই টুল। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্কুল ও প্রশাসনের ওপর নির্ভরশীল। সরকারি পোর্টালে নিবন্ধন আবশ্যক।

কয়েক বছর আগে পশ্চিমবঙ্গের স্কুলপড়ুয়াদের চলাফেরা সহজ করতে আর স্কুল ছুট কমাতে জনপ্রিয় 'সবুজ সাথী' প্রকল্প শুরু হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়ে লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া সেই সাইকেল পেয়েছে। এবার বদলের হাওয়া। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে নতুন কাঠামো গড়েছে, নাম দিয়েছে 'সারথী'। বলাই বাহুল্য, শুধু নাম নয়—নতুন রঙ, নতুন লোগো, সব কিছুতেই টানটান বদল। মূলত পরিষ্কার এবং আধুনিক সিস্টেম গড়ে, যোগ্য ছাত্রছাত্রীরাই সাইকেল পাবেন—এই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে সরকার।

বড় পরিবর্তন: এবার 'সারথী' সাইকেলগুলো আর সেই পুরনো নীল নয়। গেরুয়া টান পাওয়া নতুন রঙেই সাজবে এই বাইসাইকেল। আগের সরকারের লোগোও ইতিহাস—এখন থেকে থাকছে নতুন প্রকল্পের নতুন লোগো।

প্রশাসনিক সূত্রে, কিছু জেলায় এখনও পুরনো লোগোওয়ালা বাইসাইকেল জমা আছে। সেগুলোও নতুন লোগো দিয়ে বিলি হবে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই রাজ্যে রঙ পাল্টানো, লোগো পাল্টানো 'সারথী' সাইকেল ঢুকে পড়বে।

আর পুরো বিতরণ প্রক্রিয়া এবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। দুর্নীতি বন্ধে শক্ত নিয়মাবলি কার্যকর। প্রতি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে 'সারথী' পোর্টালে গিয়ে নবম শ্রেণীর প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর প্রোফাইল যথাযথভাবে যাচাই করতে হবে। এই যাচাই না হলে কেউ বাইসাইকেল পাবে না। স্বচ্ছতার জন্য এটা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে বাইসাইকেল প্রকৃতই যার প্রাপ্য, তার হাতেই যায়।

কড়া যাচাই: শুধু বাড়ির ঠিকানা আর মোবাইল নম্বর সংশোধনের সুযোগ পাবেন প্রধান শিক্ষক। নাম, বাবার নাম, জন্মতারিখ—এইগুলো যদি ভুল হয়, তাহলে নতুন এন্ট্রি করতে হবে, পুরনোটা বাতিল করে। আর ছাত্রছাত্রী আগেও কোনও সরকারি প্রকল্পে বাইসাইকেল পেয়েছে কিনা, সেটাও জানাতে হবে। একই পড়ুয়া যেন একাধিকবার সুযোগ না পায়—এই লক্ষ্যেই ব্যবস্থা।

সবমিলিয়ে, পুরোনো পরিচিত চেহারা যাচ্ছেই। আধুনিক, উন্নত আর পরিষ্কার নীতিতে 'সারথী' এগিয়ে চলেছে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের জন্য।

যাচাইকরণের বিভিন্ন স্তর এবং চূড়ান্তকরণ

স্কুলগুলো প্রথমে পোর্টালে সমস্ত তথ্য ভালোভাবে দেখে নেয়। একবার দেখে নিলেই, তাদের সাবমিট অপশনে ক্লিক করতে হয়। সাবমিট করে দিলে, আরেকবার নিশ্চিত হয়ে ওঠা দরকার—সব ঠিক থাকলে এবারই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। নিয়মটা পরিষ্কার: কোনো একবার কোনো পড়ুয়ার তথ্য ফাইনালাইজ হয়ে গেলে, পরে আর বদলানো যাবে না। তাই এই প্রক্রিয়া নিয়ে স্কুলের সবাই বাড়তি সতর্ক হয়। যখন স্কুল থেকে তথ্য চূড়ান্ত হয়ে যায়, সেটা চলে যায় এসআই, এএসআই এবং ডিআই—এই তিন ধাপের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছে। তারাও একবার ভালোভাবে যাচাই করেন। বলা যায়, এই কঠিন নজরদারির মধ্যেই পুরো সাইকেল প্রকল্পটা নিশ্ছিদ্র করার চেষ্টা সরকার করছে।

বিতরণ প্রক্রিয়া এবং অডিট সংরক্ষণ

উচ্চপদস্থ অফিসাররা যখন সব ডেটা ঠিকঠাক ভ্যালিডেশন করে দেন, তখনই সাইকেল বিতরণের পরবর্তী কাজ শুরু হয়। এরপর তৈরি হয় মাস্টার ডিস্ট্রিবিউশন তালিকা। কোন ব্লক বা পুরসভায়, কোন পয়েন্টে সাইকেল দেওয়া হবে, ঠিক সেই মতো নির্দিষ্ট কেন্দ্রও ঠিক করা হয়। নির্ধারিত দিনে যখন পড়ুয়াদের হাতে সাইকেল ছোঁয়ানো শেষ, তখন সেই বিতরণ সংক্রান্ত প্রতিটা তথ্য আবার বাধ্যতামূলকভাবে 'সারথী' পোর্টালে টোকা-টিপে আপলোড করতে হয়। এখানেই শেষ নয়, বেশিরভাগ সময় সরকারের অডিটের জন্য, স্কুল ও জেলা প্রশাসনকে সেই সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র হার্ড কপিতে জমিয়ে রাখতে হয়। তা না হলে বিলি সংক্রান্ত হিসেব গড়বড় হলে ভবিষ্যতে রেহাই নেই।

গুরুত্বপূর্ণ: বিতরণের পর প্রতিটি সাইকেলের ছবি ও ছাত্রের স্বাক্ষর পোর্টালে আপলোড করতে হবে। এটি অডিট ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

বকেয়া সাইকেল বিলি এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা

গত সরকারের সময় ভোটের আগেই দ্বাদশ দফায় সাইকেল বিতরণের একটা বড় ঘোষণা হয়েছিল। প্রায় ১২ লাখ ছাত্রছাত্রী সাইকেল পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আচরণবিধি চালু হয়ে যাওয়ার পর, হাতে গোনা এক-দু’ লাখ পড়ুয়ার কাছেই সাইকেল পৌঁছায়। বাকিগুলো শুধু গুদামেই পড়ে থাকে। নতুন সরকার এগিয়ে এসে অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক ডেকে জানিয়ে দিয়েছে—এবার সেই বকেয়া সাইকেল বিলি হয়ে যাবে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নতুন রঙের, নতুন লোগো বসানো সাইকেল ঢুকলেই ব্লক, জেলা—সব জায়গায় পুরোদমে আবার বিতরণ চলবে। এবার স্পষ্ট নির্দেশ আছে—একজন যোগ্য পড়ুয়ারও সুযোগ হাতছাড়া হবে না।

বিরাট পরিবর্তন: সব শোনা মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের স্কুলপড়ুয়াদের জন্য এটা দারুণ বড় খবর। 'সবুজ সাথী' থেকে 'সারথী'—নাম বদল, প্রযুক্তি বদল, পদ্ধতিতেও বেশ কিছু নতুনত্ব এসেছে। একদিকে গেরুয়া রঙের সাইকেলের নিয়েও রাজ্যজুড়ে কৌতূহল তুঙ্গে, আবার অন্যদিকে নতুন এই ব্যবস্থা পুরো শিক্ষাক্ষেত্রে গতিময়তা আনবে। ট্রান্সপারেন্সি বজায় রেখে এবার প্রকল্পকে সাফল্যের জায়গায় নিয়ে যাওয়ার আশা সবাই করছে। সত্যি বলতে, সরকারের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে রাজ্যের শিক্ষা আর সামগ্রিক উন্নয়নের পথে একটা বড় মাইলফলক হয়ে থাকবেই।

West Bengal Sarathi Scheme 2026: প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন ১: সারথী প্রকল্প কী?

এটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন সাইকেল বিতরণ প্রকল্প, যা আগের 'সবুজ সাথী' প্রকল্পের স্থান নিচ্ছে। নতুন গেরুয়া রঙের সাইকেল ও ডিজিটাল বিতরণ ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

প্রশ্ন ২: কারা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন?

৯ম থেকে ১২শ শ্রেণির সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। আগে কোনো প্রকল্পে সাইকেল না পেয়ে থাকলে তারা যোগ্য।

প্রশ্ন ৩: আবেদন প্রক্রিয়া কী?

স্কুলের প্রধান শিক্ষক 'সারথী' পোর্টালে ছাত্রছাত্রীদের তথ্য যাচাই করে নথিভুক্ত করেন। শিক্ষার্থীদের নিজেদের কিছু করতে হয় না।

প্রশ্ন ৪: সাইকেলের রঙ কী?

নতুন সাইকেলের রঙ গেরুয়া (saffron) হবে। আগের নীল রঙ বদলে গেছে। লোগোও নতুন।

প্রশ্ন ৫: পুরনো সবুজ সাথী সাইকেল কি চলবে?

হ্যাঁ, যারা আগে পেয়েছেন তারা ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু নতুন বিতরণে শুধু 'সারথী' সাইকেল দেওয়া হবে।

প্রশ্ন ৬: বকেয়া সাইকেল কবে বিতরণ হবে?

সরকার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নতুন সাইকেল বিতরণ শুরু করবে বলে জানিয়েছে। জেলা ও ব্লক স্তরে প্রস্তুতি চলছে।

প্রশ্ন ৭: ডিজিটাল যাচাই কেন বাধ্যতামূলক?

দুর্নীতি রোধ ও প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করতে ডিজিটাল যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিটি তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

প্রশ্ন ৮: সারথী পোর্টাল কোথায় পাওয়া যাবে?

পোর্টালটি সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে চালু করা হবে। শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মীরা সেখানে প্রবেশ করতে পারবেন।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

শেয়ার বাটনে ক্লিক করলেই সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শেয়ার হবে।

Deb Sarkar

লেখক: Deb Sarkar

Deb Sarkar পশ্চিমবঙ্গের সরকারি প্রকল্প, কেন্দ্রীয় সরকারি স্কিম, শিক্ষা ও ডিজিটাল পরিষেবা বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। তিনি বিভিন্ন সরকারি বিজ্ঞপ্তি, অফিসিয়াল পোর্টাল এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করে পাঠকদের কাছে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করেন।

✓ Fact Checked Content ✓ Education & Scheme Researcher ✓ Updated Information