PM Poshan Yojana 2026- পশ্চিমবঙ্গে মিড-ডে মিলের নতুন আপডেট, LPG সংযোগ ও ভাতা বৃদ্ধি

১৪ অগাস্ট, ২০২৬ লেখক: Deb Sarkar পড়তে ৮ মিনিট PM Poshan Yojana
PM Poshan Yojana Guide

পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবার এক বড়সড় পদক্ষেপ নিয়েছে—সরকারি ও সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের পরিকাঠামো আর ছাত্রছাত্রীদের পুষ্টি দুটোই ভালো রাখতে চায় তারা। ‘পিএম পোষণ প্রকল্প’-এর (আগে মিড-ডে মিল নামে সবাই চিনত) আওতায় রাজ্যের সব সরকারি স্কুলকে নিয়ে আসা হচ্ছে।

আরেকটা বড় খবর—জেলার ৮,৩৭৫টি স্কুলে, যেখানে এতদিনও কাঠের উনুনে রান্না হত, এবার সেগুলিতে রান্নার গ্যাস (LPG) আনতে স্কুলপিছু ৩,০০০ টাকা দিচ্ছে সরকার। শুধু তাই নয়, মিড-ডে মিল রান্নার খরচ, আর যাঁরা রান্নার কাজ করেন—তাঁদের অতিরিক্ত ভাতা একলাফে বাড়িয়েছে স্কুল শিক্ষা দফতর। এ নিয়ে ইতিমধ্যেই সরকারি বিজ্ঞপ্তিও বেরিয়েছে।

জেলা অনুযায়ী LPG সংযোগ ক্যালকুলেটর – আপনার জেলায় কত স্কুল পাবে?

আপনার জেলা নির্বাচন করুন। টুলটি জানিয়ে দেবে আপনার জেলায় কতটি স্কুলে LPG সংযোগ দেওয়া হবে।

এই জেলায় LPG পাবে
✅ LPG সংযোগ আসছে
জেলার নাম
স্কুলের সংখ্যা

📋 বিস্তারিত তথ্য

এই তথ্য সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তৈরি। প্রকৃত সংখ্যা সামান্য পরিবর্তন সাপেক্ষে।

কাঠের ধোঁয়া থেকে মুক্তি, স্বাস্থ্য-পরিবেশে স্বস্তি

এ উদ্যোগের মূল কথা—পুরোনো কাঠের উনুনের ধোঁয়ার ভোগান্তি বাদ দেওয়া। ছোট ছোট ছেলেমেয়ে ও রান্নার লোকজন, কারও শরীরের পক্ষে কাঠের ধোঁয়া ভালো না, এটা সোজাসাপটা। উপরন্তু পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কী অবস্থা ছিল? হিসেব বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রাজ্যের মোট ৮১,০১২টি স্কুলের মধ্যে ৭২,৬৩৭টিতেই আগে থেকেই গ্যাস রয়েছে। কিন্তু ওই ৮,৩৭৫টি স্কুলে এখনো কাঠ চলে। এবার এই নতুন অনুদান পাওয়ার ফলে খুব তাড়াতাড়ি সেখানেও এলপিজি ঢুকবে। এতে পরিষ্কার, স্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না হবে, মানও ভালো থাকবে।

এক নজরে পরিসংখ্যান:
● মোট স্কুল: ৮১,০১২টি
● আগে থেকেই LPG আছে: ৭২,৬৩৭টি
● নতুন LPG পাবে: ৮,৩৭৫টি
● প্রতি স্কুলে অনুদান: ₹৩,০০০

পিএম পোষণ প্রকল্প আসলে কী করতে চায়?

এটা আসলে ভারত সরকারের এক দুর্দান্ত ইনিশিয়েটিভ। উদ্দেশ্য—সব সরকারি আর সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে, মূলত প্রাথমিক আর উচ্চ-প্রাথমিক স্তরে, প্রতিদিন নিখরচায় গরম, পুষ্টিকর খাবার দেওয়া। তিনটে জিনিসকে ওরা টার্গেট করে—ছাত্রদের বেশি স্কুলে নিয়ে আসা, মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে চলে যাচ্ছে যারা তাদের থামানো, আর অপুষ্টি কমানো।

নেহাতই ছোটবেলার থেকে, মানে প্রাক-প্রাথমিক বা বালবাটিকা থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লাখ লাখ পড়ুয়া এই প্রকল্পের আওতায় নিয়মিত খাবার পাচ্ছে—এটাই বড় কথা।

PM Poshan Yojana-র মূল লক্ষ্য:
১. স্কুলে ভর্তি বাড়ানো
২. ড্রপআউট রোধ করা
৩. অপুষ্টি ও পুষ্টিহীনতা কমানো
৪. শিশুদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য উন্নত করা
৫. সামাজিক সমতা ও সংহতি তৈরি করা

জেলা অনুযায়ী LPG সংযোগ – কোথায় কত?

বাঁকুড়া জেলায় সবচেয়ে বেশি স্কুলে এলপিজি সংযোগ দেওয়া হবে—৩,৬৩৯টি স্কুলে। আগে এসব স্কুলে কাঠের উনুনে রান্না হতো। তালিকার পরেই আছে ঝাড়গ্রাম, সেখানে ২,২১৭টি স্কুলে গ্যাস সংযোগ আসছে। তৃতীয় স্থানে পশ্চিম বর্ধমান১,০০৭টি স্কুল।

🏛️ বাঁকুড়া৩,৬৩৯টি
🌳 ঝাড়গ্রাম২,২১৭টি
🏭 পশ্চিম বর্ধমান১,০০৭টি
🌾 উত্তর দিনাজপুর৬১৩টি
🌆 উত্তর ২৪ পরগনা৩৬৬টি
🏛️ মুর্শিদাবাদ৩১০টি
⛰️ জলপাইগুড়ি২১৭টি
🌊 পূর্ব মেদিনীপুর৬টি

আরও অন্যান্য জেলার মধ্যে—আলিপুরদুয়ার, বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান, কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর, হুগলি, হাওড়া, মালদা, নদীয়া, পুরুলিয়া, শিলিগুড়ি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও কালিম্পং—এসব জেলার সব স্কুলে আগেই শতভাগ গ্যাস সংযোগ চলে এসেছে।

শতভাগ LPG সংযোগপ্রাপ্ত জেলাসমূহ:
আলিপুরদুয়ার, বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান, কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর, হুগলি, হাওড়া, মালদা, নদীয়া, পুরুলিয়া, শিলিগুড়ি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও কালিম্পং।

খাওয়ার মান বাড়ানোর জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি

খাওয়ার মান বাড়ানোর জন্য সরকার বরাদ্দও বাড়িয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক এবং প্রাথমিকের ছোটদের জন্য গরম খাবারের খরচ বাড়িয়ে এখন প্রতিদিন মাথা পিছু ১০ টাকা করা হয়েছে, যেখানে আগে ছিল ৬.৭৮ টাকা। কর্মকর্তারা বলছেন, বাজেট বাড়াতে বাজারদরের সঙ্গে মিল রেখে শিশুদের আরও পুষ্টিকর ও সুস্বাদু খাবার দেওয়া সহজ হবে।

🍛

খাবারের খরচ বাড়ল

প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক: ₹৬.৭৮ থেকে ₹১০

👩‍🍳

রাঁধুনিদের ভাতা দ্বিগুণ

₹১,০০০ থেকে ₹২,০০০ (মাসে)

🪔

LPG সংযোগ

৮,৩৭৫ স্কুলে নতুন গ্যাস সংযোগ

রাঁধুনি আর সহকারীদের ভাতা বৃদ্ধি

রাঁধুনি আর সহকারীদের ভাতাও দ্বিগুণ করা হয়েছে। আগে মাসে ১,০০০ টাকা মিলত, এখন পাওয়া যাবে ২,০০০ টাকা। বছরে ১০ মাস পর্যন্ত এই টাকা দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য মিলিয়ে এখন ৩,০০০ টাকা প্রতি মাস পাবেন রাঁধুনি ও সহকারীরা। এতে তাঁদের কাজে উৎসাহ বাড়বে, আর পুরো রান্নার কাজটাই অনেক সুন্দরভাবে চলবে—এটাই সরকারের আশা।

রাঁধুনি ও সহকারীদের নতুন ভাতা:
● আগে: ₹১,০০০/মাস
● এখন: ₹২,০০০/মাস
● বছরে ১০ মাস
● মোট (কেন্দ্র + রাজ্য): ₹৩,০০০/মাস

PM Poshan Yojana-র ইতিহাস ও বিবর্তন

  • ১৯৯৫: জাতীয় মিড-ডে মিল কর্মসূচি (MDM) চালু
  • ২০০১: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সকল সরকারি স্কুলে বাধ্যতামূলক
  • ২০০৬: রান্নার খরচ ও মান উন্নয়ন
  • ২০২০: PM Poshan Yojana নামে পুনঃনামকরণ
  • ২০২৬: নতুন আপডেট – LPG সংযোগ, খরচ বৃদ্ধি, ভাতা দ্বিগুণ

পশ্চিমবঙ্গে PM Poshan Yojana:
● ৮১,০১২টি স্কুল
● ৭২,৬৩৭টিতে LPG আছে
● ৮,৩৭৫টিতে নতুন LPG আসছে
● লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী উপকৃত

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন ১: PM Poshan Yojana কী?

এটি ভারত সরকারের একটি প্রকল্প যা সরকারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিখরচায় গরম, পুষ্টিকর খাবার প্রদান করে। আগে এটি মিড-ডে মিল নামে পরিচিত ছিল।

প্রশ্ন ২: কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি স্কুলে LPG সংযোগ দেওয়া হবে?

বাঁকুড়া জেলায় সবচেয়ে বেশি – ৩,৬৩৯টি স্কুলে LPG সংযোগ দেওয়া হবে।

প্রশ্ন ৩: প্রতি স্কুলে কত টাকা অনুদান দেওয়া হচ্ছে?

স্কুলপিছু ₹৩,০০০ টাকা করে LPG সংযোগের জন্য দেওয়া হচ্ছে।

প্রশ্ন ৪: রাঁধুনিদের ভাতা কত বাড়ানো হয়েছে?

আগে ₹১,০০০ ছিল, এখন ₹২,০০০ দেওয়া হচ্ছে। বছরে ১০ মাস পর্যন্ত।

প্রশ্ন ৫: প্রতিদিন মাথাপিছু খাবারের খরচ কত?

প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিকের জন্য ₹১০ (আগে ছিল ₹৬.৭৮)।

প্রশ্ন ৬: মোট কতটি স্কুলে LPG সংযোগ দেওয়া হবে?

মোট ৮,৩৭৫টি স্কুলে নতুন LPG সংযোগ দেওয়া হবে।

প্রশ্ন ৭: কোন জেলাগুলোতে শতভাগ LPG সংযোগ রয়েছে?

আলিপুরদুয়ার, বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান, কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর, হুগলি, হাওড়া, মালদা, নদীয়া, পুরুলিয়া, শিলিগুড়ি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও কালিম্পং।

প্রশ্ন ৮: PM Poshan Yojana কাদের জন্য?

সরকারি ও সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের প্রাক-প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সকল ছাত্রছাত্রীদের জন্য।

প্রশ্ন ৯: কবে থেকে এই নতুন নিয়ম চালু হয়েছে?

২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি ইতিমধ্যেই জারি হয়েছে।

প্রশ্ন ১০: LPG সংযোগের সুবিধা কী?

কাঠের ধোঁয়া থেকে মুক্তি, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, দ্রুত রান্না, এবং পরিবেশ দূষণ কমানো।

শেষ কথা: PM Poshan Yojana পশ্চিমবঙ্গের স্কুলছাত্রদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কাঠের ধোঁয়া থেকে মুক্তি, আরও পুষ্টিকর খাবার, এবং রাঁধুনিদের ন্যায্য মজুরি—এই তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে সরকার এগিয়ে চলেছে। আমাদের সকলের উচিত এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানো এবং এর সঠিক বাস্তবায়নে সহায়তা করা।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

শেয়ার বাটনে ক্লিক করলেই সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শেয়ার হবে।

Deb Sarkar

লেখক: Deb Sarkar

Deb Sarkar পশ্চিমবঙ্গের সরকারি প্রকল্প, কেন্দ্রীয় সরকারি স্কিম, শিক্ষা ও ডিজিটাল পরিষেবা বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। তিনি বিভিন্ন সরকারি বিজ্ঞপ্তি, অফিসিয়াল পোর্টাল এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করে পাঠকদের কাছে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করেন। শিক্ষা, পুষ্টি ও শিশু কল্যাণ বিষয়েও তাঁর গভীর আগ্রহ রয়েছে।

✓ Fact Checked Content ✓ Education & Nutrition Expert ✓ Government Scheme Researcher