Mid day meal west bengal: মিড ডে মিলে নতুন রূপ – ISKCON-এর নিরামিষ খাবার ও ডিম বাদ যাচ্ছে না ২০২৬
কলকাতার পুরসভার স্কুলগুলোয় আগস্ট থেকে মিড ডে মিলে অনেক কিছু বদলাচ্ছে। ইস্কন (ISKCON) দারুন মানের নিরামিষ খাবার দেবে—এই ঘোষণা হতেই শহরে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। মেনু কেমন হবে, পুষ্টির দিকটা ঠিকঠাক থাকবে তো? ডিম ছাড়াই চলবে?
মিড ডে মিল – পুষ্টি ও খাবার প্ল্যানার
আপনার স্কুলের খাবারের পুষ্টিমান যাচাই করুন। কোন খাবার কতটা পুষ্টিকর? নিচে নির্বাচন করে দেখুন।
এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, নিরামিষ খাবার থাকলেও ডিম বাদ যাচ্ছে না। ডিম কিন্তু ঠিকই পড়ুয়াদের পাতে আসবে, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর লোকেরা সরকারের তরফ থেকে গরম-গরম ডিম স্কুলে পৌঁছে দেবে। মানে, একদিকে থাকছে ইস্কনের রাজকীয় নিরামিষ মিড ডে মিল, তেমনই মিলবে ডিমও—যেটা বাংলার বেশিরভাগ বাচ্চার রোজকার খাওয়া।
স্পষ্ট বার্তা: ইস্কন নিরামিষ পরিবেশন করলেও ডিম সরকার বাহাদুর আলাদা করে পৌঁছে দেবে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মেয়েদের দিয়ে রান্না করা সেদ্ধ ডিম স্কুলে স্কুলে পাঠানোরও ব্যবস্থা হচ্ছে।
সত্যি বলতে, মিড ডে মিল নিয়ে অভিযোগ নতুন কিছু নয়—একঘেয়ে ডাল-ভাত, প্রোটিনের অভাব, খাবারের মান নিয়েও অনেক টানাটানি চলছিল। এবার কলকাতার পুরসভার উপরের স্কুলগুলোয় মিড ডে মিলের পুরো দায়িত্ব ইস্কনের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে, প্রথমে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে। দেশের অন্য রাজ্যেও ইস্কন এই কাজ ভালভাবেই সামলেছে—তাই আশা করা হচ্ছে, বাচ্চারা এবার রোজ সুস্বাদু আর স্বাস্থ্যকর খাবার পাবে।
তবে ইস্কন মানেই তো নিরামিষ, এদিকে বাংলা স্কুলের মিড ডে মিলে এতদিন ডিম থাকাই ছিল নিয়ম। তাই খবরটা প্রকাশ্যে আসার পর অনেকেই বুঝে উঠতে পারেননি—বাচ্চারা কি আগে যেমন ডিম পাবে? তাঁদের চিন্তা দূর করে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানালেন—ইস্কন নিরামিষ পরিবেশন করলেও ডিম সরকার বাহাদুর আলাদা করে পৌঁছে দেবে।
নতুন ব্যবস্থা: স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মেয়েদের দিয়ে রান্না করা সেদ্ধ ডিম স্কুলে স্কুলে পাঠানোর ব্যবস্থা হচ্ছে। ব্যাস, আমিষ-নিরামিষ নানান টানাপোড়েনের অবসান।
অনেকে ভাবছিলেন, নিরামিষ মানেই বোধহয় রোজ একই পাতলা ডাল-ভাত। ইস্কনের আধিকারিকরা ঠিক সে ধারণা পাল্টে দিলেন। তাঁরা জানালেন, মেনু ফাইভ-স্টার মানের—ডাল-ভাত তো থাকবেই, তার সঙ্গে রাজমা, সোয়াবিন, পনির, নানান মিলিয়ে পুষ্টিকর সব পদ থাকবে। ছোটদের শরীর যেন ঠিকঠাক বাড়ে, সে দিকেও নজর দিচ্ছেন।
আধুনিক রান্না: আর রান্না হবে অত্যাধুনিক মেগা কিচেনে—যেখানে, স্পর্শহীন নির্মল পরিবেশে একসঙ্গে হাজার হাজার প্লেট খাবার তৈরি হবে। চেইন কিচেন, স্বাস্থ্যবিধি, গরম খাবার স্কুলে সময়মতো পৌঁছানো—সব মিলিয়ে পুরো ব্যাপারটাই যেন আপডেটেড।
স্কুলের আগের রাঁধুনি ও সহায়ক দিদিদের চাকরির চিন্তা ছিল, সেটা নিয়েও সরকার পরিষ্কার করেছে—তাঁদের বসিয়ে দেওয়া হবে না। বরং খাবার বণ্টন ও তদারকিতে তাঁরা থাকবেন সেভাবেই, আর মাসিক সম্মাননিও বেড়ে গেছে—দু’হাজার থেকে তিন হাজার টাকা। মিড ডে মিলের বাজেটও বাড়ানো হয়েছে, আপাতত ছ’টাকা পঁচিশ পয়সা থেকে একেবারে দশ টাকা পর্যন্ত।
শুধু খাবার নয়—স্কুলে পরিকাঠামোর দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে। মেয়েদের স্কুল কলেজে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশুদ্ধ পানীয় জল ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ রাখার জন্যও বাড়তি বাজেট রাখা হয়েছে।
মিড ডে মিলের মেনু – কী থাকছে?
সবাই জানতে চাইছেন, মিড ডে মিলের মেনুটা কেমন হবে? এখনো সরকার নির্দিষ্ট তালিকা ঘোষণা করেনি ঠিকই, কিন্তু ইস্কনের অন্যত্র দেওয়া খাবার দেখে আঁচ করা যায়—রোজ ভাত, ডাল, তরকারি; সঙ্গে সোয়াবিনের বা রাজমার তরকারি, ছোলার ডাল, বিশেষ দিনে পনির বা মিক্সড ভেজিটেবল। মাঝে মধ্যে খিচুরি, পোলাও। যে যা-ই হোক, সমস্ত পদই নিরামিষ আর স্বাস্থ্যকর।
গুরুত্বপূর্ণ: সব মিলিয়ে বলা যায়, ইস্কন ও রাজ্য সরকারের যুগলবন্দিতে কলকাতার স্কুলগুলোয় মিড ডে মিল একেবারে নতুন রূপ পাচ্ছে—খাবারে মান, পুষ্টি, স্বাদ ও পরিকাঠামোর আমূল পরিবর্তন আসছে। আগামী দিনে শহরের পড়ুয়ারা এই উদ্যোগের সুফল যে পাবে, তা বলাই যায়।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১: ISKCON কেন মিড ডে মিলের দায়িত্ব পেল?
ইস্কন দেশের বিভিন্ন রাজ্যে গুণগত মানের নিরামিষ খাবার সরবরাহ করে সাফল্য পেয়েছে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে কলকাতা পুরসভার স্কুলগুলোয় তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন ২: ডিম কি পুরোপুরি বাদ যাচ্ছে?
না, মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন—ইস্কন নিরামিষ পরিবেশন করলেও ডিম আলাদাভাবে দেওয়া হবে। স্বনির্ভর গোষ্ঠী থেকে সেদ্ধ ডিম স্কুলে পৌঁছবে।
প্রশ্ন ৩: পুরনো রাঁধুনি ও সহায়কদের কী হবে?
তাঁদের চাকরি যাবে না। খাবার বণ্টন ও তদারকির দায়িত্বে থাকবেন। মাসিক সম্মানী ২,০০০ থেকে বেড়ে ৩,০০০ টাকা হয়েছে।
প্রশ্ন ৪: মিড ডে মিলের বাজেট কেমন?
বাজেট বাড়ানো হয়েছে—প্রতি ছাত্রের জন্য ৬.২৫ টাকা থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। এতে খাবারের মান উন্নত হবে।
প্রশ্ন ৫: কী কী পদ থাকছে মেনুতে?
ভাত, ডাল, তরকারি, রাজমা, সোয়াবিন, পনির, মিক্সড ভেজিটেবল, ছোলার ডাল, খিচুড়ি, পোলাও—সবই নিরামিষ ও পুষ্টিকর।
প্রশ্ন ৬: রান্না কোথায় হবে?
মেগা কিচেনে—আধুনিক ও স্পর্শহীন পরিবেশে হাজার হাজার প্লেট খাবার তৈরি হবে।
প্রশ্ন ৭: মেয়েদের জন্য কী বিশেষ ব্যবস্থা হচ্ছে?
মেয়েদের স্কুলে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন বসানো হচ্ছে। বিশুদ্ধ জল ও বিদ্যুতের ব্যবস্থাও জোরালো হচ্ছে।
শিক্ষা ও পুষ্টি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ লিংক
এই পোস্টটি শেয়ার করুন
শেয়ার বাটনে ক্লিক করলেই সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শেয়ার হবে।