অগাস্টের বাকি দিনগুলিতে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা – কারা পাবেন, কারা একেবারেই পাবেন না? সব আপডেট এক নজরে

১৮ অগাস্ট, ২০২৬ লেখক: Deb Sarkar পড়তে ৮ মিনিট অন্নপূর্ণা আপডেট
Annapurna August Payment Guide

আগস্টের শেষ দিনগুলোতে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন আছে—কাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে, কাদের আবেদন বাতিল হলো, আর কবে নতুন মাসের টাকা পাওয়া যাবে?

সরকার যা জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ ও শ্রমজীবী মহিলাদের জন্য আগস্টে সবচেয়ে আশার খবরটা এসেছে। অনেকেই কয়েক সপ্তাহ ধরে ভাবছিলেন, এই মাসে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা ঠিক কবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পড়বে।

আপনার অন্নপূর্ণা স্ট্যাটাস ডায়াগনোসিস – কখন টাকা পাবেন?

আপনার বর্তমান স্ট্যাটাস ও আবেদনের তারিখ নির্বাচন করুন। টুলটি জানিয়ে দেবে আপনার টাকা কখন আসতে পারে।

✅ সমস্যা চিহ্নিত
আপনার স্ট্যাটাস
—
আবেদনের তারিখ
—
টাকা পাওয়ার সময়
—
সিদ্ধান্ত
—

📋 করণীয় – কী করবেন?

  • প্রথমে পোর্টালে স্ট্যাটাস চেক করুন
  • ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও আধার লিঙ্ক যাচাই করুন
  • প্রয়োজনে BDO/SDO অফিসে যোগাযোগ করুন

📌 গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • ১৭ অগস্ট থেকে টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে
  • জেলা ভিত্তিতে ধাপে ধাপে টাকা আসছে
  • ২০ অগস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করুন
  • সেপ্টেম্বর থেকে নিয়মিত হবে
এই ডায়াগনোসিস সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে।

নতুন সরকার আসার পর, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জায়গায় অন্নপূর্ণা যোজনা চালু হয়েছে। এই প্রকল্পে প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাচ্ছে। কিন্তু আগস্টের শুরুতে অনুদানের টাকা না পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই অনেকের উদ্বেগটা বেড়ে গিয়েছিল।

উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্তারা আর মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার করে বলেছেন, ১৭ আগস্ট থেকে টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে। বিভিন্ন জেলার যোগ্য মহিলাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ধাপে ধাপে টাকা ঢুকছে। এতদিন অপেক্ষা করা হাজার হাজার মহিলার জন্য এটা নিঃসন্দেহে ভালো খবর। প্রশাসন চেষ্টা করছে, যেন কোনো যোগ্য ব্যক্তিকে বাদ না যায়।

এখন অনেকেই জানতে চেয়েছেন, এই মাসে টাকা পেতে কেন দেরি হলো?

সরকারি সূত্র বলেছে, মূলত অনেকগুলো প্রশাসনিক আর প্রযুক্তিগত কারণ ছিল। ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রায় দুই কোটি ষোল লক্ষ মহিলা আবেদন করেছেন, এত বিশাল তথ্য যাচাই করা সহজ নয়। অর্থ ও সমাজকল্যাণ দফতরের আধিকারিকরা একেবারে দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন, আবেদনগুলো ঠিকঠাক খুঁটিয়ে দেখেছেন। এই বিপুল সংখ্যার জন্য একসঙ্গে টাকা পাঠাতে গিয়ে সরকারি সার্ভারে প্রচণ্ড চাপ পড়েছে। তাই টাকা দিতে কিছুটা সময় লেগেছে। প্রশাসন দেরি করলেও সঠিক হিসাব রাখার চেষ্টা করেছে।

কিন্তু কারা টাকার প্রথম কিস্তি পেলেন?

নির্ভর করছে আবেদন কতটা ঠিক ছিল, কোনো ভুলভ্রান্তি ছিল কিনা। যারা ১০ জুলাই বা তার আগে আবেদন জমা দিয়েছেন এবং সব নথি সঠিক ছিল, তাদের টাকা ১৭ আগস্ট থেকেই পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, যারা ১১ থেকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আবেদন করেছেন, তাদের যাচাই এখনো চলছে। যাচাই হয়ে গেলে, তাদেরও টাকা পাঠানো হবে। সরকার স্পষ্টই বলছে—যে মহিলা যোগ্য, তিনিই টাকা পাবেন, বাদ যাবেন না।

সব মিলিয়ে, সরকার যেভাবে কাজ করছে, আগস্টের শেষ দিনগুলোতে অনেকেই নিজেদের টাকা হাতে পাবেন। আবেদন আটকে থাকলে নিশ্চিন্ত থাকুন—যাচাই হয়ে গেলেই টাকা আসবে।

কারা এই প্রকল্পের টাকা একেবারে পাবেন না?

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে লক্ষাধিক আবেদন জমা পড়েছে। যাচাইয়ের সময় দেখা গেছে, অন্তত ১৭ লাখ আবেদন সরাসরি বাতিল হয়েছে। কিছু কারণ বেশ স্পষ্ট।

💼 সরকারি চাকরিজীবী – যারা নিয়মিত সরকারি চাকরি করেন
💰 আয়করদাতা – যারা নিয়মিত আয়কর দেন
🏦 পেনশনভোগী – যারা সরকার থেকে পেনশন পান
🆔 আধার-ব্যাংক লিঙ্ক নেই – অ্যাকাউন্টে আধার লিঙ্ক না থাকলে
❌ ভুল তথ্য – ফর্মে ভুল অ্যাকাউন্ট নম্বর বা তথ্য
🏠 অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া – ঠিকানা পরিবর্তন

এ ছাড়া, যদি কেউ আবেদন ফর্মে ভুল তথ্য দেন, যেমন—ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আধার লিঙ্ক নেই, অ্যাকাউন্ট যেখানে ডিবিটি পরিষেবা চালু নেই, অথবা ফর্মের নাম ও আধার কার্ডের তথ্যে সামান্য ছেদ, তাহলেও সেই আবেদন এককথায় বাতিল। আবার, কেউ ফর্মে ভুল অ্যাকাউন্ট নম্বর, বন্ধ অ্যাকাউন্ট, বা একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য দিলে সেটাও সমস্যা। ফলে আসলে যাঁদের কাছে সরকারি ওয়েলফেয়ারের টাকা পৌছানোর কথা, শুধুমাত্র তথ্যের গরমিলেই অনেকেই বাদ পড়ছেন।

আবেদন বাতিল বা পেন্ডিং থাকলে কী করবেন?
এখনও যাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি, ভয় বা বিভ্রান্তি নয়—আগে রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট পোর্টালে নিজের আবেদন নম্বর দিয়ে স্ট্যাটাস চেক করুন। দেখলেন Approved, তাহলে চিন্তার কিছু নেই—দুই-একদিনের মধ্যেই টাকা চলে আসবে। যদি Pending দেখায়, তখন বুঝতে হবে প্রশাসন থেকে যাচাই এখনও শেষ হয়নি—এক্ষেত্রে ধৈর্য ধরাই একমাত্র উপায়। আর যাঁদের আবেদন Rejected দেখাচ্ছে, হতাশার কিছু নেই। সমস্যাটা কোথায় জানুন, ডকুমেন্ট ঠিক করে, বিডিও অফিসে আবার আবেদন জমা দিতে পারেন। ঠিকঠাক নথি থাকলে ফের টাকা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

কবে থেকে নিয়মিত টাকা আসবে?

গত আগস্টে টাকা পেতে দেরি হয়েছে, তাই অনেকের মধ্যেই দুশ্চিন্তা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন—এই দেরি শুধু আগস্ট মাসে, কারণ প্রথম দিকের কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা ছিল। সেপ্টেম্বরে যাবতীয় খুঁটিনাটি মিটলে, তারপর থেকে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই যোগ্য মহিলা-র অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে। প্রশাসন ব্যাংকগুলিকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে যাতে DBT-এর মাধ্যমে অতি সহজে, নির্ভুলভাবে প্রত্যেকের টাকা পৌঁছায়। মাসের পর মাস আর দুশ্চিন্তা না থাকলেই ভালো।

মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: “সেপ্টেম্বর থেকে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই যোগ্য মহিলাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে।”

নারী স্বশক্তিকরণে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পটা নিঃসন্দেহে অনেক পিছিয়ে পড়া বা মধ্যবিত্ত নারীর জন্য বিশাল ভরসা। প্রত্যেক মাসে তিন হাজার টাকা করে পাওয়ায়, বহু মহিলার আর্থিক স্বচ্ছলতা এসেছে—নিত্য চাহিদা মেটানো যায়, অসুখ-বিসুখে পরিবারকে হাত বাড়িয়ে সাহায্য করা যায়। স্বনির্ভরতা বাড়ছে। শুধু তাই নয়, টাকার এই গতি রাজ্যের অর্থনীতিতে ইতিবাচক বদল আনছে। বাজারের ক্রয়ক্ষমতা যেমন বাড়ছে, ছোট ব্যবসায়ও সরগরম।

তাই এখনই সামান্য দেরি বা গন্ডগোল থাকলেও, এই প্রকল্প আসলে বাংলার লক্ষ লক্ষ নারীর নিশ্চিত পিছুসঙ্গ—এটা নিয়ে অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ থেকে সাধারণ মানুষ, সকলেরই প্রায় এক কথা। রাজ্য সরকার নারী কল্যাণে সত্যিই নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন ১: অগাস্ট মাসে অন্নপূর্ণার টাকা কবে আসবে?

১৭ অগস্ট থেকে টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে। জেলা ভিত্তিতে ধাপে ধাপে ২০ অগস্ট পর্যন্ত টাকা আসতে পারে।

প্রশ্ন ২: ১০ জুলাইয়ের পরে আবেদন করলে টাকা পাব?

হ্যাঁ, যারা ১১-৩১ জুলাইয়ে আবেদন করেছেন, তাদের যাচাই চলছে। যাচাই শেষ হলে টাকা পাবেন।

প্রশ্ন ৩: কত আবেদন বাতিল হয়েছে?

প্রায় ১৭ লাখ আবেদন বাতিল হয়েছে। সরকারি চাকরি, আয়কর, পেনশন, বা তথ্যগত ভুলের কারণে।

প্রশ্ন ৪: আবেদন বাতিল হলে পুনরায় আবেদন করা যায়?

হ্যাঁ, ভুল সংশোধন করে বিডিও অফিসে পুনরায় আবেদন করতে পারেন।

প্রশ্ন ৫: স্ট্যাটাস কোথায় দেখব?

socialregistry.wb.gov.in পোর্টালে লগইন করে দেখতে পারেন।

প্রশ্ন ৬: কেন টাকা আসতে দেরি হচ্ছে?

২.১৬ কোটি আবেদন যাচাই করতে সময় লাগছে। একসঙ্গে টাকা পাঠাতে সার্ভারে চাপ পড়েছে।

প্রশ্ন ৭: সেপ্টেম্বর থেকে কি নিয়মিত টাকা আসবে?

হ্যাঁ, মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে সেপ্টেম্বর থেকে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে টাকা আসবে।

প্রশ্ন ৮: কার আবেদন বাতিল হয়?

সরকারি চাকরিজীবী, আয়করদাতা, পেনশনভোগী, বা ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হয়।

প্রশ্ন ৯: Rejected দেখলে কী করব?

কারণ জানুন, ভুল সংশোধন করুন এবং বিডিও অফিসে পুনরায় আবেদন করুন।

প্রশ্ন ১০: অন্নপূর্ণা প্রকল্পের উদ্দেশ্য কী?

মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি করা এবং নারী স্বশক্তিকরণ নিশ্চিত করা।

শেষ কথা: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প বাংলার লক্ষ লক্ষ নারীর জন্য এক আশীর্বাদ। আগস্টে টাকা পেতে সামান্য দেরি হলেও, সেপ্টেম্বর থেকে সবকিছু নিয়মিত হবে। ধৈর্য ধরুন, স্ট্যাটাস চেক করুন, এবং কোনো সমস্যা হলে BDO/SDO অফিসে যোগাযোগ করুন। আপনার টাকা অবশ্যই আসবে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

শেয়ার বাটনে ক্লিক করলেই সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শেয়ার হবে।

Deb Sarkar

লেখক: Deb Sarkar

Deb Sarkar পশ্চিমবঙ্গের সরকারি প্রকল্প, কেন্দ্রীয় সরকারি স্কিম, শিক্ষা ও ডিজিটাল পরিষেবা বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। তিনি বিভিন্ন সরকারি বিজ্ঞপ্তি, অফিসিয়াল পোর্টাল এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করে পাঠকদের কাছে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করেন। অন্নপূর্ণা যোজনা, Social Registry ও মহিলা কল্যাণ প্রকল্প বিষয়ে তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।

✓ Fact Checked Content ✓ Social Welfare Expert ✓ Government Scheme Researcher