বাজারে এসেই একদম বাজিমাত করল জিও প্ল্যাটফর্মস! শেয়ার ২১% লাফিয়ে, ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম সংস্থা

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ লেখক: Deb Sarkar পড়তে ১০ মিনিট
Jio Platforms IPO Listing Market Debut Second Largest Company

Jio Platforms IPO: বাজারে এসেই একদম বাজিমাত করল জিও প্ল্যাটফর্মস। বুধবার স্টক এক্সচেঞ্জে শুরুতেই ওদের শেয়ারের দাম ইস্যু প্রাইস থেকে ২১ শতাংশেরও বেশি বাড়ল। ১১১৯ টাকা থেকে শুরু, এক লাফে ১৩৫৮ টাকায় পৌঁছে গেল। প্রথম দিনেই মুকেশ আম্বানির সংস্থা দারুণ লাভ তুলে দিল বিনিয়োগকারীদের। এ নিয়েই জিও এখন বাজার মূলধনে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম সংস্থা। সবাই বেশ আগে থেকেই আন্দাজ করেছিল এমনই কিছু হতে চলেছে।

প্রথম শেয়ার বিক্রিতেই বিপুল উত্তেজনা ছিল বাজারে। আইপিও-তে সারা দেশের মানুষ ভিড় জমিয়েছে, প্রায় ৭.৩ লক্ষ কোটি টাকার দরপত্র জমা পড়ে গেছে, যা আগে কখনও হয়নি। ইস্যুটা সাবস্ক্রাইব হয়েছিল ২২ গুণেরও বেশি।

স্টক এক্সচেঞ্জে দুর্দান্ত অভিষেক—দিন শেষে ১৪১৭.৫০ টাকা

বুধবার সকালে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (BSE) এবং ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে (NSE)-তে জিও প্ল্যাটফর্মসের শেয়ার ১,৩৫৮ টাকায় লিস্টিং হয়, যা ইস্যু প্রাইস ১,১১৯ টাকার তুলনায় ২১.৩৫ শতাংশ বেশি। লিস্টিংয়ের পর শেয়ারটি আরও উপরে উঠে যায় এবং দিনের শেষে ১,৪১৭.৫০ টাকায় ক্লোজ হয়। এই লিস্টিংয়ের সাথে সাথে জিও প্ল্যাটফর্মসের বাজার মূলধন দাঁড়ায় প্রায় ১২.৫ লক্ষ কোটি টাকা, যা ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

ইস্যু প্রাইস ₹১,১১৯
লিস্টিং প্রাইস (BSE/NSE) ₹১,৩৫৮
লিস্টিং প্রিমিয়াম ২১.৩৫%
দিনের সর্বোচ্চ ₹১,৪১৭.৫০
বাজার মূলধন ~₹১২.৫ লক্ষ কোটি
সাবস্ক্রিপশন ২২ গুণের বেশি

মুকেশ আম্বানির আবেগঘন মুহূর্ত—ছেলের কথায় কেঁদে ফেললেন

নিজেদের আইপিওর এই ইতিহাস গড়ে মুকেশ আম্বানি বেশ খুশি। বিনিয়োগকারীদের উন্মাদনা ও প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে গিয়েছে, বললেন তিনি। দেশের মানুষের জন্য জিওকে আরও বড়, আরও কার্যকর করার অঙ্গীকার দিয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে শেয়ার তালিকাভুক্তির অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ধন্যবাদও দিয়েছেন তাঁর ছোট ছেলে অনন্ত, বলছেন—মোদিই জিও-কে সঠিক দিশা দেখিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে ছেলে মেয়ে—অনন্ত আর ঈশা—এমন আবেগ নিয়ে কথা বলছিলেন যে, মুকেশ নিজেই কেঁদে ফেললেন। ছেলে বলল, “আপনি জিও তৈরি করেছেন। আপনার স্বপ্নকে সফল করাই আমাদের লক্ষ্য। দেশভরে সবাই জিওকে আশীর্বাদ করছে—মা বলেছে, ‘জিও মেরে লাল’, ঠাকুমা বলেছে, ‘যুগ যুগ জিও’, বন্ধুরা বলেছে, ‘জিও ইয়ার’।” শুনতে শুনতে আবেগে ভেসে গেলেন মুকেশ; অডিটোরিয়ামে করতালিতে গমগম করে উঠল।

"আপনি জিও তৈরি করেছেন। আপনার স্বপ্নকে সফল করাই আমাদের লক্ষ্য। মা বলেছে, ‘জিও মেরে লাল’, ঠাকুমা বলেছে, ‘যুগ যুগ জিও’, বন্ধুরা বলেছে, ‘জিও ইয়ার’।"
— অনন্ত আম্বানি (জিও লিস্টিং অনুষ্ঠানে)

বাজার সূচকের পতনের মধ্যেও জিওর উত্থান

এই দুর্দান্ত সাড়া এসেছে এমন সময়, যখন গোটা বাজার আর্থিক চাপে ধুঁকছে—তেলের দর বাড়া, মূল্যবৃদ্ধি, উচ্চ সুদ ও বন্ড ইয়িল্ড মিলিয়ে সবাই বেশ চিন্তায়। সকালে সেনসেক্স প্রায় ৭০০ পয়েন্ট আর নিফটি ১৮০ পয়েন্ট নেমে গেছিল। ইনফোসিস, টিসিএস, টেক মহিন্দ্রা, এইচসিএল টেক—সবকটার দাম পড়েছে। অথচ ২০১৬ সালে যেদিন থেকে জিও শুরু, তার পর থেকেই টেলিকম দুনিয়া বদলে দিয়েছে—সস্তায় পরিষেবা, তরতর করে ফোরজি ও ফাইভজি ছড়িয়ে দেওয়া, ডিজিটাল সার্ভিস বাড়ানো—সব মিলিয়ে ওদের গ্রোথ আলাদা জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। দিন শেষে জিও প্ল্যাটফর্মসের দাম দাঁড়ায় ১৪১৭.৫০ টাকা।

📌 কেন জিওর লিস্টিং এত গুরুত্বপূর্ণ?
• ভারতের বৃহত্তম আইপিও—প্রায় ৭.৩ লক্ষ কোটি টাকার দরপত্র
• ২২ গুণের বেশি সাবস্ক্রিপশ
• বাজার মূলধনে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম সংস্থা
• বাজার সূচকের পতনের মধ্যেও ২১% প্রিমিয়াম
• মুকেশ আম্বানির আবেগঘন মুহূর্ত
• টেলিকম ও ডিজিটাল সার্ভিসে নতুন যুগের সূচনা

জিও প্ল্যাটফর্মস—কোম্পানির আর্থিক অবস্থা

জিও প্ল্যাটফর্মস শুধু একটি টেলিকম কোম্পানি নয়, এটি একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। FY26-এ কোম্পানির আয় ছিল প্রায় ১.৪৬ লক্ষ কোটি টাকা, EBITDA ৭৬,২৫৫ কোটি টাকা এবং নিট মুনাফা ৩০,০৪৯ কোটি টাকা। কোম্পানির টেলিকম গ্রাহক সংখ্যা ৫৩৩.৩ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে। জিওর আয়ের প্রায় ৮৮% টেলিকম থেকে আসে, তবে কোম্পানি এখন AI, ক্লাউড এবং এন্টারপ্রাইজ সার্ভিসে জোর দিচ্ছে।

  • কোম্পানির নাম: জিও প্ল্যাটফর্মস লিমিটেড
  • মালিক: রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ
  • প্রধান: মুকেশ আম্বানি
  • শেয়ার লিস্টিং: BSE ও NSE
  • ইস্যু প্রাইস: ₹১,১১৯
  • লিস্টিং প্রাইস: ₹১,৩৫৮
  • বাজার মূলধন: ~₹১২.৫ লক্ষ কোটি
  • গ্রাহক সংখ্যা: ৫৩৩.৩ মিলিয়ন
  • FY26 আয়: ₹১.৪৬ লক্ষ কোটি
  • FY26 নিট মুনাফা: ₹৩০,০৪৯ কোটি

ভারতের বাজার মূলধনে শীর্ষ কোম্পানি

জিও প্ল্যাটফর্মসের লিস্টিংয়ের পর ভারতের বাজার মূলধনে শীর্ষ কোম্পানিগুলির তালিকায় বড় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলি হল:

  • রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ: ~₹১৫.৮৯ লক্ষ কোটি
  • জিও প্ল্যাটফর্মস: ~₹১২.৫ লক্ষ কোটি
  • ভারতী এয়ারটেল: ~₹১২.০৫ লক্ষ কোটি
  • এইচডিএফসি ব্যাংক: ~₹১২ লক্ষ কোটি

জিওর লিস্টিংয়ের ফলে টেলিকম সেক্টরে প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। জিও এবং এয়ারটেলের মধ্যে বাজার মূলধনের লড়াই আরও তীব্র হবে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য কী বার্তা?

জিও প্ল্যাটফর্মসের এই দুর্দান্ত লিস্টিং বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সুখবর। যারা আইপিওতে আবেদন করেছিলেন, তারা প্রথম দিনেই ২১% এর বেশি লাভ পেয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন—শেয়ার বাজারে লগ্নি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই তাড়াহুড়ো না করে দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিনিয়োগ করা উচিত।

⚠️ বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেয়ারবাজারে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকিসাপেক্ষ। আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই স্টকে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে Earningonline.tech কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।

জিওর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

জিও প্ল্যাটফর্মসের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বেশ বড়। কোম্পানি AI, ক্লাউড, এন্টারপ্রাইজ সার্ভিস এবং ডিজিটাল সার্ভিসে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। ৭,২২০টি পেটেন্টের মাধ্যমে কোম্পানি প্রমাণ করেছে যে তারা শুধু টেলিকম নয়, একটি প্রযুক্তি কোম্পানি হিসেবেও এগিয়ে যেতে চায়। জিওর লক্ষ্য ২০২৭ সালের মধ্যে আরও বেশি ডিজিটাল সার্ভিস চালু করা এবং গ্রাহকদের আরও উন্নত অভিজ্ঞতা দেওয়া।

নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া

সোশ্যাল মিডিয়ায় জিও প্ল্যাটফর্মসের লিস্টিং নিয়ে তুমুল চর্চা চলছে। একদল বিনিয়োগকারী তাদের লাভ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

টুইটারে একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, "আইপিওতে আবেদন করেছিলাম, আজ ২১% লাভ পেয়েছি। ধন্যবাদ জিও!"

আরেকজন লিখেছেন, "মুকেশ আম্বানির আবেগঘন মুহূর্ত দেখে চোখ ভিজে গেল। এই মানুষটাই ভারতের টেলিকম দুনিয়া বদলে দিয়েছেন।"

তবে কিছু নেটিজেন ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, শেয়ার বাজারে লগ্নি করার আগে ভালোভাবে গবেষণা করা উচিত।

উপসংহার

জিও প্ল্যাটফর্মসের স্টক এক্সচেঞ্জে অভিষেক সত্যিই 역사적। ভারতের বৃহত্তম আইপিও, ২২ গুণ সাবস্ক্রিপশ এবং ২১% প্রিমিয়াম লিস্টিং—সব মিলিয়ে এটি একটি মাইলফলক। মুকেশ আম্বানির আবেগঘন মুহূর্ত এবং ছেলেমেয়ের কথা শুনে তাঁর কেঁদে ফেলা এই লিস্টিংকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে।

এখন দেখার, জিও প্ল্যাটফর্মসের শেয়ার ভবিষ্যতে কেমন পারফর্ম করে এবং কোম্পানি তার ডিজিটাল সার্ভিস ও AI পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়ন করতে পারে। সব মিলিয়ে, ভারতের শেয়ার বাজারে জিও প্ল্যাটফর্মসের আগমন একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: জিও প্ল্যাটফর্মসের ইস্যু প্রাইস কত ছিল?

জিও প্ল্যাটফর্মসের ইস্যু প্রাইস ছিল ₹১,১১৯।

প্রশ্ন ২: লিস্টিং প্রাইস কত?

লিস্টিং প্রাইস ছিল ₹১,৩৫৮, যা ইস্যু প্রাইসের তুলনায় ২১.৩৫% বেশি।

প্রশ্ন ৩: জিও প্ল্যাটফর্মস ভারতের কোন স্থানে আছে বাজার মূলধনে?

জিও প্ল্যাটফর্মস বাজার মূলধনে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম সংস্থা।

প্রশ্ন ৪: আইপিও কত গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছিল?

আইপিওটি ২২ গুণেরও বেশি সাবস্ক্রাইব হয়েছিল।

প্রশ্ন ৫: জিও প্ল্যাটফর্মসের মালিক কে?

জিও প্ল্যাটফর্মস রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের মালিকানাধীন, যার প্রধান মুকেশ আম্বানি।

প্রশ্ন ৬: বিনিয়োগকারীদের জন্য কী পরামর্শ?

শেয়ার বাজারে লগ্নি ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে এবং দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিনিয়োগ করা উচিত।

বিনোদন গ্যালারি

বিনোদন জগতের প্রতিটি মুহূর্ত, তারকাদের ছবি ও ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন আমাদের স্পেশাল গ্যালারি পেজে।

বিনোদন গ্যালারি দেখুন

গুরুত্বপূর্ণ টুলস লিংক

AC Electricity Cost Calculator AI Prompt Cost Calculator Bengali TTS Character Counter Bengali Text to Speech DA Arrear Calculator EV Charging Cost Calculator EV vs Petrol Savings Calculator FAQ Schema Generator Gemini API Cost Calculator Instagram DP Viewer Invisible Character Remover Property Registration Calculator Slug Generator Solar Savings Calculator Water Tank Capacity Calculator WhatsApp Chat Link Generator YouTube Thumbnail Downloader Twitter Photo Downloader Internet Speed Test

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

শেয়ার বাটনে ক্লিক করলেই পোস্টটি সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার হবে।

Deb Sarkar

লেখক: Deb Sarkar

Deb Sarkar পশ্চিমবঙ্গের সরকারি প্রকল্প, কেন্দ্রীয় সরকারি স্কিম, ডিজিটাল টুল, বিনোদন জগতের খবর ও প্রযুক্তি বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। তিনি বিভিন্ন সরকারি বিজ্ঞপ্তি, অফিসিয়াল পোর্টাল এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করে পাঠকদের কাছে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করেন।

✓ Fact Checked Content ✓ Entertainment Writer ✓ Updated Information