আবার মা হচ্ছেন করিনা? ভাইরাল ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন সাবা পাটৌদি, দিলেন কড়া বার্তা

২২ অগাস্ট, ২০২৬ লেখক: Deb Sarkar পড়তে ৭ মিনিট বিনোদন
Kareena Kapoor Pregnancy Rumor - Saba Pataudi Reaction

সোশ্যাল মিডিয়ায় হঠাৎ করেই ভাইরাল হয়ে গেল করিনা কাপুর খানের একটি ভিডিও। শুক্রবার সকালে মুম্বইয়ের একটি জিম থেকে বেরিয়ে আসার সময় করিনাকে দেখে অনেকেই অবাক। কালো টপ আর প্যান্টে একেবারে ক্যাজুয়াল লুকে তিনি গাড়িতে ওঠার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু ক্যামেরার ফ্রেমে যখন তাঁর পুরো শরীর এল, নেটিজেনদের চোখ থামল তাঁর পেটের দিকে। খানিকটা ফুলে ওঠা পেট দেখে মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুঞ্জন শুরু হয়ে গেল— “আবার কি মা হচ্ছেন করিনা? তৃতীয় সন্তান নিয়ে কি প্ল্যান করছেন বেবো?”

এই গুঞ্জন এতটাই জোরালো হয়ে ওঠে যে ট্রেন্ডিং টপিকেও জায়গা করে নেয় করিনা কাপুরের নাম। ভক্তরা যেমন খুশি হয়েছেন, তেমনই অনেকেই আবার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এই নিয়ে এবার মুখ খুললেন স্বয়ং সইফ আলি খানের বোন এবং পেশাদার অভিনেত্রী সাবা পাটৌদি। তিনি তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি দীর্ঘ পোস্ট করে সবার উদ্দেশে সাফ বার্তা দিলেন— “সব কিছু নিয়ে কথা বলা যেতে নেই...”

সাবা পাটৌদির এই পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে যথেষ্ট আলোচনা তৈরি করেছে। তিনি শুধু করিনার গর্ভাবস্থার গুজব খারিজই করেননি, বরং সকলকে নিজেদের ব্যক্তিগত স্পেসকে সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সাবা শুধু করিনার প্রসঙ্গেই থেমে থাকেননি, তিনি নিজের বোন সোহা আলি খানকে নিয়েও মজা করে একটি মন্তব্য করেছেন, যা নেটিজেনদের হাসির খোরাক জোগাচ্ছে।

সাবা পাটৌদি যা লিখেছেন: “একদম বাজে অ্যাঙ্গেল ছিল ওটা। লোকজন এতটা বাড়িয়ে ভাবতে পারে, সত্যি অবাক লাগে! এয়ারপোর্টে যখন দেখল, তখন তো ওকে একদম স্লিম, ক্লাসি লাগছিল; আজ জিমের বাইরে নিলেই এমন জল ঘোলা?”

ভাইরাল ভিডিওটি দেখে কেন নেটিজেনরা ভুল বুঝলেন?

ভিডিওটি দেখলে বোঝা যায়, করিনা জিম থেকে বেরিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁর দেহরক্ষী ছাতা ধরে রেখেছিলেন, যাতে প্যাপারাজ্জির ক্যামেরা থেকে তিনি কিছুটা নিরাপদ থাকেন। হাতে ছিল পানির বোতল। গাড়ি এগিয়ে আসতেই করিনা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে সিটে বসেন। কিন্তু অনেকেই লক্ষ্য করেছেন, ওই দিন তাঁর পরনের ট্রাউজারটা হয়তো একটু হাইওয়েস্ট ছিল, আর টি-শার্টটা শরীরের সঙ্গে একটু আটসাঁট ছিল। ক্যামেরার সেই বিশেষ এঙ্গেলটি তাঁর পেটকে খানিকটা ফোলা দেখিয়েছে, যা নেটিজেনদের মনে প্রশ্ন জাগিয়েছে।

ঘটনাটি যদিও খুব ছোট, কিন্তু বলিউড তারকাদের ক্ষেত্রে ছোটখাটো ঘটনাও বড় খবরে পরিণত হয়। করিনা কাপুর যে কোনো সময়েই সংবাদ শিরোনাম হন, তাঁর এই ভিডিও দেখে অনেকে অনুমান করতে শুরু করেন যে হয়তো তিনি তৃতীয়বারের মতো মা হওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। তবে সাবা পাটৌদি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ একটি অপটিক্যাল ইলিউশন বা ক্যামেরার বাজে অ্যাঙ্গেলের কারণে তৈরি হওয়া বিভ্রম

তথ্যটি লক্ষ্য করুন: সাবা লিখেছেন, তিনি করিনাকে সম্প্রতি এয়ারপোর্টে দেখেছেন এবং সেখানে করিনা ছিলেন “একদম স্লিম, ক্লাসি”। সাবা আরও লিখেছেন, “আজ জিমের বাইরে নিলেই এমন জল ঘোলা?”— যা থেকে বোঝা যায়, প্যাপারাজ্জির ক্যামেরার এঙ্গেলই মূল ভিলেন।

সোহা আলি খান প্রসঙ্গে সাবা যা বললেন

শুধু করিনার গল্পই নয়, এদিন সাবা নিজের ছোট বোন সোহা আলি খান নিয়েও মজা করে কিছু লিখেছেন। সাবা লিখেছেন, “কতদিন ধরে ওকে বলছি, দ্বিতীয় বাচ্চার কথা ভাবতে! আল্লাহ্‌ যেন সেই ইচ্ছেপূরণ করেন। যদিও ও এটা শুনে আমায় নিশ্চয়ই মারতে আসবে!”

প্রসঙ্গত, সোহা আলি খান এবং কুণাল খেমু-র এক মেয়ে রয়েছে— ইনায়া খেমু। পরিবারের সবার অনেকদিন ধরেই মনে হয়, ইনায়ার একটি ভাই বা বোন হওয়া উচিত। সাবা এই কথা বলেছেন অনেকটা মজা করে এবং ভক্তদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানিয়েছেন যে করিনার গুজব নিয়ে আলোচনা করার সময় তিনি নিজের বোনের কথাও ভুলে যাননি। এই পোস্টটি পড়ে নেটিজেনরা যেমন হেসেছেন, তেমনই সোহা-কুণালের অনুরাগীরাও সাবাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন যে তিনি এত মিষ্টি করে তাদের পরিবারের কথা বলেছেন।

সাবা পাটৌদির কড়া বার্তা: “নিজে ভালো থাকো, আর অন্যদেরও বাঁচতে দাও। কিছু ব্যাপার একেবারেই ব্যক্তিগত রাখা দরকার। গুজব ছড়াবার দরকার নেই।” — সাবা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অহেতুক জল্পনা-কল্পনা করা মোটেই উচিত নয়।

কেবল ২০২৬ নয়, ২০২২-তেও হয়েছিল একই ঘটনা

এটা কিন্তু প্রথমবার নয় যে করিনা কাপুরের গর্ভাবস্থা নিয়ে এত বড় গুঞ্জন উঠেছে। ২০২২ সালেও ঠিক একই রকম একটি ঘটনা ঘটেছিল। তখন করিনাকে একটি ইভেন্টে দেখা গিয়েছিল এবং তাঁর পোশাকের আঁচল কিংবা দেহের ভঙ্গির কারণে অনেকে ধরে নিয়েছিলেন যে তিনি তৃতীয় সন্তানের প্রত্যাশায় রয়েছেন। করিনা নিজেও সেই সময় খুব মজা করে এই গুজব খারিজ করে দিয়েছিলেন।

২০২২ সালে করিনা তাঁর ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন, “আমি যখনই একটু বেশি খাই, বা আমার পোশাক একটু আলগা হয়, তখনই মনে হয় আমি প্রেগন্যান্ট! প্লিজ, আমি ঠিক আছি, এটা আমার ফুড বেবি।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি খুব হালকাভাবে গুজব উড়িয়ে দিয়েছিলেন। এবারও হয়তো করিনা চুপ করে আছেন, কিন্তু তাঁর শ্যালিকা সাবা পাটৌদি প্রেসের সামনে না এলে হয়তো আরও বেশি জল্পনা তৈরি হতো।

বলিউডের অনেক অভিনেত্রীর সঙ্গেই এই সমস্যা দেখা যায়— তাঁরা যখন একটু স্বাভাবিকের চেয়ে আলগা পোশাক পরেন বা ওজন বাড়ে, তখনই গর্ভাবস্থার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। করিনা কাপুরের মতো বড় তারকা যখন এই গুজবের শিকার হন, তখন তা আরও বেশি ভাইরাল হয়। সাবা পাটৌদির পোস্টটি সেই দৃষ্টিভঙ্গিটিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।

করিনা কাপুর খান: ব্যক্তিগত জীবন ও ফিল্ম কেরিয়ার

২০১২ সালে সইফ আলি খান-এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন করিনা কাপুর। তাঁদের প্রথম পুত্র তৈমুর আলি খান ২০১৬ সালে জন্মগ্রহণ করে। তৈমুর জন্মের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ার ‘তারকা’ হয়ে ওঠে। তৈমুরের ছোটবেলার প্রতিটি ভিডিও, প্রতিটি ছবি ভাইরাল হয়। দ্বিতীয় পুত্র জাহাঙ্গীর আলি খান, যাকে সকলে ‘জেহ’ নামেই চেনে, ২০২১ সালে জন্মায়। দুটি সন্তানকে নিয়ে করিনা-সইফের সংসার খুব সুখের।

অভিনয়জীবনে করিনা কাপুর এখনও দাপটের সঙ্গে রাজত্ব করছেন। ২০২৪ সালে মুক্তি পেয়েছে তাঁর ‘দ্য বাকিংহাম মার্ডার্স’ (The Buckingham Murders) এবং ‘ক্রু’ (Crew) ছবি দুটি। ২০২৬ সালে তিনি রোহিত শেট্টির ছবি ‘সিংঘম অ্যাগেইন’-এ বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যা দর্শকদের বেশ সাড়া ফেলেছে। এসব কাজের মাঝেই তিনি নিজের ফিটনেস এবং পরিবারকে সময় দিয়ে চলেছেন।

পেশাগত ব্যস্ততার কথা মাথায় রেখে অনেকে আগেই বলে দিয়েছিলেন যে করিনা হয়তো তৃতীয় সন্তানের প্ল্যান এখনই করবেন না। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষুধার্ত নজর সব সময়ই নায়িকার শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পর্যবেক্ষণ করতে চায়, যা মোটেও স্বাভাবিক নয়।

ভালো দিক: সাবা পাটৌদি তাঁর পোস্টে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে করিনা শারীরিক ও মানসিকভাবে ভালো আছেন। তাঁর পোস্ট থেকে বোঝা যায়, পরিবারের সকলে করিনার পাশে আছে এবং এই ধরনের গুজবের মোকাবিলায় তাঁরা একজোট।

সেলিব্রিটি প্রাইভেসি এবং বডি শেমিং: কতটা ন্যায্য?

সাবা পাটৌদির পোস্টটি আবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দিয়েছে— সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত জীবনে আমাদের কতটুকু হস্তক্ষেপ করার অধিকার আছে? পশ্চিমে যেমন ‘বডি শেমিং’-এর বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, ভারতের সোশ্যাল মিডিয়াতেও এখন সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে। তবুও, যখনই কোনো জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামান্য বদলে যান, নেটিজেনরা তাঁকে নিয়ে ট্রোল করতে বা অযথা অনুমান করতে ছাড়ে না।

করিনা কাপুরের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়েছে। তিনি একজন ফিটনেস ফ্রিক এবং নিয়মিত যোগব্যায়াম ও ওয়ার্কআউট করেন। জিম থেকে বেরোনোর পর তাঁর শরীরের স্বাভাবিক অবস্থাকে কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করছে, সেটা দেখে সাবা পাটৌদি থামতে পারেননি। তিনি জানিয়েছেন, “একটু বাজে অ্যাঙ্গেল থেকেই এই গুজব ছড়িয়েছে।”

সেলিব্রিটি মানেই কি তাঁরা জনসম্পত্তি? তাঁদের কী ব্যক্তিগত কোনও গোপনীয়তা নেই? সাবা পাটৌদির মন্তব্য সেই দিকটাই ফুটিয়ে তুলেছে। একজন মানুষের ওজন বাড়তে পারে, কমতে পারে, পেট ফুলতে পারে— এর অর্থ এই নয় যে তিনি গর্ভবতী। বিশেষ করে মহিলাদের শরীর নিয়ে অহেতুক মন্তব্য সামাজিকভাবে অত্যন্ত ক্ষতিকর। অনেক সময় এই ধরনের গুজব মানসিক চাপ তৈরি করে সেলিব্রিটিদের মধ্যে, যা তাঁদের পেশাগত জীবনকেও প্রভাবিত করে।

সাবা পাটৌদির শেষ বার্তা: “নিজে ভালো থাকো, আর অন্যদেরও বাঁচতে দাও। কিছু ব্যাপার একেবারেই ব্যক্তিগত রাখা দরকার। গুজব ছড়াবার দরকার নেই।” — এই বার্তা শুধু করিনার জন্য নয়, সমস্ত সেলিব্রিটি এবং সাধারণ মানুষের জন্যই প্রযোজ্য।

পাপারাজ্জি সংস্কৃতি ও তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

পাপারাজ্জি বা প্যাপরা অনেক সময় সেলিব্রিটিদের এমন মুহূর্তে ক্যামেরাবন্দি করেন যা সাধারণত ক্যামেরার আড়ালে থাকে। জিম থেকে বেরোনো, বিমানবন্দরে যাওয়া, বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া— এই সব সাধারণ ঘটনা প্রায়শই ভাইরাল কনটেন্টে পরিণত হয়। করিনা কাপুরের এই ভিডিওও তেমনই একটি উদাহরণ।

প্যাপরা যখন একটি ছবি তোলে, তখন তারা প্রায়ই সেলিব্রিটির ‘পজ’ বা ‘ফটোজেনিক’ দিকটা বেছে নেয়। কিন্তু কখনো কখনো অ্যাঙ্গেল বা আলোর কারসাজিতে সাধারণ ছবিও অস্বাভাবিক মনে হয়। করিনার ক্ষেত্রে হয়তো সেই ‘অস্বাভাবিক’ ছবিটি ভাইরাল হয়েছে, কিন্তু পরিবারের সদস্য সেটা দেখে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

অনেক বিখ্যাত তারকা এই প্যাপারাজ্জি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। কঙ্গনা রানাউত, দীপিকা পাড়ুকোন, এমনকি করিনা নিজেও আগে প্যাপারাজ্জিদের সম্পর্কে নানা মন্তব্য করেছেন। সাবা পাটৌদির এই পোস্ট সেই বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এলো।

‘জল ঘোলা’ বলতে সাবা কী বোঝাতে চেয়েছেন?

সাবা পাটৌদি তাঁর পোস্টে ‘জল ঘোলা’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এর অর্থ হলো, কোনো বিষয়কে ইচ্ছাকৃতভাবে জটিল বা বিভ্রান্তিকর করে তোলা। এখানে তিনি ইঙ্গিত করেছেন, জিমের বাইরে একটি সাধারণ ভিডিওকে কেন্দ্র করে নেটিজেনরা বিষয়টিকে এত বড় করে তুলেছে, যা অত্যন্ত অযৌক্তিক। সাবা বলেছেন, বিমানবন্দরে যখন তিনি করিনাকে দেখেছেন, তখন তাঁর শরীর একদম স্বাভাবিক এবং ফিট ছিল। কিন্তু মাত্র কয়েকদিনের ফারাকে করিনার শরীরের পরিবর্তন হওয়ার কোনো কারণ নেই। ক্যামেরার কোণই একমাত্র কারণ।

এটা অনেক সময় দেখা যায়, রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে তোলা ছবি বা ভিডিও সেলিব্রিটিকে স্বাভাবিকের চেয়ে আলাদা দেখায়। কিন্তু বিমানবন্দরে আলাদা আলো, আলাদা ক্যামেরা সেটআপে তাঁরা সাধারণত আরও সুন্দর এবং স্লিম দেখান। সাবা সেই বিষয়টিও তুলে ধরেছেন।

নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া

সাবা পাটৌদির এই পোস্ট পড়ে নেটিজেনরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। একদল সমর্থক বলছেন, “সাবা ঠিকই বলেছেন, ওঁদের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।” অন্যদিকে, কেউ কেউ বলছেন, “পাবলিক ফিগার হলে কিছু সমালোচনা তো সহ্যই করতে হয়।”

তবে যারা করিনার অনুরাগী, তারা সাবার পোস্ট দেখে স্বস্তি পেয়েছেন। তাঁদের মতে, করিনা সুস্থ আছেন এবং শীঘ্রই নতুন কোনো সিনেমা নিয়ে আসবেন, সেটাই দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। ইতিমধ্যে টুইটার (এক্স)-এ হ্যাশট্যাগ #KareenaKapoor এবং #SabaPataudi ট্রেন্ডিংয়ে চলে এসেছে, যেখানে ভক্তরা তাঁদের সমর্থন জানাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার এই প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। মানুষ বাস্তব জীবন ভুলে অনলাইনে অযথা গুজব ছড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সাবা পাটৌদির মতো অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব যখন এই ধরণের গুজবের বিরুদ্ধে সরব হন, তখন সাধারণ মানুষও বিষয়টি নিয়ে ভাবার সুযোগ পান।

ভবিষ্যতে করিনার কর্মসূচি

এই গুজবের মধ্যেই করিনা তাঁর আগামী কাজের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছেন। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, তিনি আগামী মাসে একটি নতুন ওয়েব সিরিজের শ্যুটিং শুরু করতে চলেছেন। এছাড়া তাঁর একটি বড় ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনও আসছে। কাজের এই ব্যস্ততা বিবেচনা করে অন্তত আগামী ছয় মাস তো তিনি নতুন সন্তানের কথা ভাববেন না— এমনটাই মনে করছেন অনেকে।

তবে করিনা-সইফ দম্পতি সবসময়ই তাঁদের পারিবারিক জীবনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তারা সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে নিয়ে যান, তাঁদের সময় দেন। তারা চান তাঁদের সন্তানরা যেন স্বাভাবিক জীবনযাপন করে। তাই প্রয়োজনে হয়তো ভবিষ্যতে তৃতীয় সন্তান আসতে পারে, কিন্তু সেটা তাঁদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত— যা সবার জানার প্রয়োজন নেই।

গুজবের উৎস: ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি প্রথমে একটি প্যাপারাজ্জি অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট হয়েছিল। পরে তা হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফেসবুকে ভাইরাল হয়। সাবা পাটৌদির পোস্টের আগে করিনা বা সইফ কারও পক্ষ থেকে কোনো অফিসিয়াল প্রতিক্রিয়া আসেনি।

উপসংহার: ব্যক্তিগত স্পেসকে সম্মান জানানোর সময় এসেছে

সাবা পাটৌদির এই পোস্টটি একটি আয়নার মতো কাজ করেছে। আমাদের উচিত সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত জীবনকে সম্মান দেওয়া। তাঁরা আমাদের বিনোদনের জন্য কাজ করেন, কিন্তু তাঁরাও মানুষ। তাঁদেরও অনুভূতি আছে, তাঁদেরও ব্যক্তিগত স্পেস আছে। করিনা কাপুরের ক্ষেত্রে যেমন একটি বাজে অ্যাঙ্গেলের ভিডিও গোটা দেশে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনই সাধারণ মানুষের জীবনেও অনেক সময় ছোটখাটো বিষয়কে বড় করে দেখা হয়।

আমরা যদি সাবা পাটৌদির শেষ কথাটি মনে রাখি—“নিজে ভালো থাকো, আর অন্যদেরও বাঁচতে দাও”— তাহলে সোশ্যাল মিডিয়া অনেক বেশি সুন্দর একটি জায়গা হয়ে উঠতে পারে। করিনা কাপুর খান সুস্থ আছেন, কাজ করছেন, পরিবারকে সময় দিচ্ছেন— এটুকু জানলেই আমাদের যথেষ্ট। বাকি গুজবে কান দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

আমার ব্যক্তিগত মত: এই গুজব আমাদের শেখায় যে ক্যামেরার ফ্রেম, আলো-আঁধারি, আর একটি মুহূর্তের ভঙ্গি কোনো ব্যক্তির প্রকৃত অবস্থা নির্দেশ করে না। তাই পরের বার কোনো সেলিব্রিটির ছবি দেখে কোনোরকম সিদ্ধান্তে আসার আগে একটু ভেবে নেওয়া উচিত— এটা কি সত্যি নাকি শুধু ‘বাজে অ্যাঙ্গেল’?

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন ১: করিনা কাপুর কি সত্যিই আবার মা হচ্ছেন?

না। সাবা পাটৌদি তাঁর ইনস্টাগ্রাম পোস্টে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে এটি ক্যামেরার বাজে অ্যাঙ্গেলের কারণে তৈরি হওয়া একটি বিভ্রম। করিনা ভালো আছেন এবং সুস্থ রয়েছেন।

প্রশ্ন ২: সাবা পাটৌদি কে?

সাবা পাটৌদি হলেন বলিউড অভিনেতা সইফ আলি খানের বোন এবং অভিনেত্রী শারমিন টেগোরের মেয়ে। তিনি নিজেও একজন অভিনেত্রী এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় রয়েছেন।

প্রশ্ন ৩: করিনার ভাইরাল ভিডিওটি কীভাবে ছড়িয়েছে?

প্যাপারাজ্জির তোলা সেই ভিডিওটি প্রথমে ইনস্টাগ্রাম ও টুইটারে পোস্ট হয় এবং পরে তা বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ভাইরাল হয়ে যায়।

প্রশ্ন ৪: করিনা কাপুরের বর্তমান ছবি কী?

করিনা সম্প্রতি ‘সিংঘম অ্যাগেইন’ ছবিতে বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করেছেন এবং আগামী দিনে একটি নতুন ওয়েব সিরিজের শ্যুটিং করবেন বলে জানা গেছে।

প্রশ্ন ৫: সাবা পাটৌদি সোহা আলি খানকে নিয়ে কী বলেছেন?

সাবা মজা করে বলেছেন যে তিনি সোহাকে দ্বিতীয় সন্তানের কথা ভাবতে বলছেন, যদিও সোহা এই কথা শুনলে তাঁকে মারতে আসতে পারেন!

প্রশ্ন ৬: এই ধরনের গুজব কেন সেলিব্রিটিদের ক্ষতি করে?

বারবার ভুয়া গর্ভাবস্থার গুজব সেলিব্রিটিদের মানসিক চাপ দেয়। তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এছাড়া এটি বডি শেমিংকেও উৎসাহিত করে।

প্রশ্ন ৭: করিনা বা সইফ কি এ বিষয়ে কিছু বলেছেন?

এখনও পর্যন্ত করিনা বা সইফ কেউ এই বিষয়ে কোনো অফিসিয়াল বিবৃতি দেননি। তবে সাবা পাটৌদি তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে গুজব খারিজ করে দিয়েছেন।

প্রশ্ন ৮: ২০২২ সালের গুজবটা কী ছিল?

২০২২ সালে করিনার একটি পোশাক দেখে অনেকে অনুমান করেছিলেন যে তিনি গর্ভবতী। তবে করিনা তখন মজা করে জানিয়েছিলেন, এটি ‘ফুড বেবি’ এবং তিনি গর্ভবতী নন।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

শেয়ার বাটনে ক্লিক করলেই সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শেয়ার হবে।

Deb Sarkar

লেখক: Deb Sarkar

Deb Sarkar পশ্চিমবঙ্গের সরকারি প্রকল্প, কেন্দ্রীয় সরকারি স্কিম, শিক্ষা ও ডিজিটাল পরিষেবা বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। তিনি বিভিন্ন সরকারি বিজ্ঞপ্তি, অফিসিয়াল পোর্টাল এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করে পাঠকদের কাছে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করেন।

✓ Fact Checked Content ✓ Social Welfare Researcher ✓ Updated Information