আর্নিং অনলাইন টেক: বঙ্গে শিল্প আসছে, Google-কে রাজ্যে বিনিয়োগের প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সরকারের (Google)।
রাজ্যে লগ্নি করতে চলেছে গুগল (Google)
বঙ্গে পালা বদলের সঙ্গে-সঙ্গেই শিল্পের পালে হাওয়া লেগেছে। এক সময়ের হারানো শিল্প গৌরব ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষয়িষ্ণু মান পুনরুদ্ধার করাই এই নতুন সরকারের পাখির চোখ। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার আসার পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আশ্বাস দিয়েছিলেন ‘সোনার বাংলা’ গড়ার আর সেই কাজেই এবার মনোনিবেশ করতে চাইছে বর্তমান রাজ্য সরকার (Google)।
গুগলের মত সংস্থা কি পশ্চিমবঙ্গে লগ্নি করতে পারে? একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে যে কেন্দ্রের তরফে এমনই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এই টেক জায়ান্ট কোম্পানিকে। কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে বড় বড় প্রকল্প গড়ে তোলার। বঙ্গে পালাবদলের পরেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে দেখা গেছে এই সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করতে। একাধিক রিপোর্টে প্রকাশ করা হলেও বিষয়টি নিয়েই নরেন্দ্র মোদী সরকার বা গুগলের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
তবে এই পুরো বিষয়টি নিয়ে একটিও শব্দ খরচ করেনি সরকার বা এই টেক জায়ান্ট কোম্পানি। তবে একাধিক রিপোর্টে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী বিশ্বের প্রথমসারির প্রযুক্তি সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা করছে এবং আরও বেশি করে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছে সরকার (Google)।
রাজ্যে সদ্য নির্বাচিত বিজেপি সরকারও সেই একই কাজে ব্রতী। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রমাগত বেড়ে চলেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদা এবং ব্যবহার। সেই দৌড়ে এবার আরও বড় পরিকল্পনার দিকে এগোচ্ছে গুগল। ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব শুক্রবার জানিয়েছেন, এআই অবকাঠামো, সার্ভার এবং ড্রোন ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে ভারতে নতুন লগ্নির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে এই সংস্থা।
সংস্থার কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন ভারতে এয়াই পরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং ইলেক্ট্রনিক্স উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে যে আলোচনা হয়েছে সেটা ইতিবাচক। কেন্দ্রের মতে আগামী কয়েক বছরে ভারত বিশ্ব প্রযুক্তির ম্যাপে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা তৈরি করবে। এবার সেই পরিকল্পনার সঙ্গী হতে পারে পশ্চিমবঙ্গ।

রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শিল্প এবং লগ্নির নতুন আশা দেখা দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গবাসীর অভিযোগ যে শিল্প বঙ্গমুখী হচ্ছে না। শিলহীনতায় ভুগছে বাংলা আর সেটা কমবেশি সবাই মেনে নিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ এখন প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল অর্থনীতির কেন্দ্র হয়ে ওঠার দৌড়ে এগিয়ে আসতে চাইছে। সেই বিষয়ে প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেই জানা যাচ্ছে। সেখানে কীভাবে পরিবেশবান্ধব হয়ে ওঠা যায় এবং এই প্রক্রিয়া সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করা যায় সেই বিষয়ে আলোচনা করা হবে (Google)।
এক্ষত্রে বাংলার বেশ কিছু ভৌগোলিক সুবিধাও রয়েছে। পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান, সমুদ্রবন্দর, রেল এবং বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা বিশেষ আকর্ষণীয়। সেখান থেকেই পশ্চিমবঙ্গকে সম্ভাবনাময় রাজ্য হিসেবে ভাবা হচ্ছে (Google)।
আরও পড়ুন : মোবাইল দিয়ে প্রতিদিন ₹৫০০ ইনকাম করার ১০টি বাস্তব উপায়
বিশ্লেষকদের মতে কৃত্রিম বুদ্ধমত্তা মানেই কেবল ফটওয়্যার নয়, বিপুল পরিমাণ ডেটা সংরক্ষণ, ক্লাউড পরিষেবা, চিপ ডিজাইন, সার্ভার উৎপাদন এবং বিদ্যুৎনির্ভর অবকাঠামো তৈরি। ফলে এই খাতে লগ্নি এলে সেখানে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এমনকি এই জায়গার আশেপাশের উন্নতিসাধনও হবে। সেখানেই মানুষও রুটি-রুজির সংস্থান করতে পারবেন। কলকাতা এবং তার পাশে ইতিমধ্যেই তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা রয়েছে সেক্ষত্রে পশ্চিমবঙ্গের সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা (Google)।
গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই গত বছরেই ভারতে বিপুল লগ্নির কথা জানিয়েছিলেন। দেশের বিভিন্ন রেল স্টেশনে নিখরচায় ওয়াইফাই পরিষেবা চালুর কথাও জানিয়েছিল তারা। ২০২৬-৩০ এর মধ্যে ভারতে ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার লগ্নির কথাও জানিয়েছে গুগল। তবে এর মধ্যেই অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে ‘গিগাওয়াট স্কেল এআই ইকোসিস্টেম’ প্রকল্প গড়ার কথা জানিয়েছে (Google)৷

গুগলের সাম্প্রতিক লগ্নি পরিকল্পনা এই জল্পনা আরও বাড়িয়েছে। এই সংস্থা অন্ধ্রপ্রদেশে ১৫ বিলিয়ন ডলারের এয়াই অবকাঠামো গড়ার ঘোষণা করেছে। ফলে সবদিক মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গবাসী আশায় বুক বাঁধছে (Google)। এই ব্যবসার জন্য অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের তরফে গুগলকে ৬০০ একর জমিও দেওয়া হয়েছে। সূত্রের দাবি অনুযায়ী সেজন্য ভারতে আরও বড় বিনিয়োগ করতে আগ্রহী গুগল কর্তৃপক্ষ৷ অশ্বিনীর সঙ্গে বৈঠকে গোটা বিষয় নিয়েই আলোচনা করেছেন গুগল-এর শীর্ষ স্তরের প্রতিনিধিরা (Google)।
ভারতে লগ্নির আশ্বাস দিয়েছে আরেক টেক জায়ান্ট সংস্থা মাইক্রোসফট। মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের পর এই সংস্থার সিইও বলেছিলেন, ‘ভারতের সামনে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স বা এআই) সম্ভাবনা আছে, তা নিয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজিকে ধন্যবাদ। ভারতের যে স্বপ্ন আছে, তাতে সহায়তা করার জন্য (ভারতে) ১৭.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ১.৪ লাখ কোটি টাকা) বিনিয়োগের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ (Google)।’