what is llm in content writing
একটা সময় ছিল, যখন কন্টেন্ট রাইটিং মানেই একজন মানুষ টেবিলে বসে কলম বা কিবোর্ড নিয়ে নিজের মাথা খাটিয়ে লেখা তৈরি করতেন। খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন, ব্লগ বা বিজ্ঞাপনের ভাষা আসত মানুষের অভিজ্ঞতা, অনুভূতি আর পর্যবেক্ষণ থেকে। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই ছবিটা দ্রুত বদলে গেছে।
আজ কন্টেন্ট রাইটিংয়ের আলোচনায় বারবার উঠে আসছে একটি শব্দ, এলএলএম। অনেকেই নাম শুনেছেন, কেউ ব্যবহার করছেন, আবার কেউ ভয় পাচ্ছেন। প্রশ্ন উঠছে, এলএলএম আসলে কী, এটি কন্টেন্ট রাইটিংয়ে কীভাবে কাজ করছে, আর ভবিষ্যতে লেখালেখির পেশায় এর প্রভাব কতটা গভীর হতে চলেছে।
এলএলএম এমন একটি প্রযুক্তি, যা বিপুল পরিমাণ লেখা পড়ে মানুষের ভাষা বুঝতে শেখে। সংবাদ, বই, ওয়েবসাইট, কথোপকথন—এই সব ধরনের লেখার ধরণ বিশ্লেষণ করে এটি শেখে কীভাবে একটি বাক্য আরেকটি বাক্যের সঙ্গে যুক্ত হয়।
সহজ ভাষায় বললে, এলএলএম হলো এমন একটি ডিজিটাল মস্তিষ্ক, যা ভাষার গঠন, শব্দের ব্যবহার আর প্রসঙ্গ বোঝার চেষ্টা করে। এটি নিজে থেকে চিন্তা করে না, বরং আগে যা শিখেছে তার ভিত্তিতে নতুন লেখা তৈরি করে।
ভারতে ডিজিটাল কন্টেন্টের চাহিদা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এলএলএম-এর ব্যবহার বাড়তে শুরু করে। সংবাদমাধ্যম, ডিজিটাল মার্কেটিং সংস্থা, ইউটিউবার, ব্লগার—সবাই দ্রুত কন্টেন্ট চাচ্ছিলেন।
একজন মানুষ দিনে নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি লেখা তৈরি করতে পারেন না। কিন্তু এলএলএম কয়েক সেকেন্ডে বহু শব্দের খসড়া দিতে পারে। এই গতিই কন্টেন্ট রাইটিংয়ে এলএলএম-এর প্রবেশ সহজ করে দেয়।
আজ ভারতের বহু ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি সংস্থাগুলি, এলএলএম ব্যবহার করে প্রাথমিক খসড়া তৈরি করছে। পরে মানুষ সেই লেখায় নিজের ভাষা, তথ্য আর দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করছেন।
ধরা যাক, কলকাতার একটি বাংলা নিউজ পোর্টালে প্রতিদিন স্বাস্থ্য বা প্রযুক্তি বিষয়ক লেখা দরকার। সেখানে এলএলএম দিয়ে প্রাথমিক কাঠামো বানিয়ে নিয়ে একজন সম্পাদক সেটিকে মানুষের মতো করে সাজিয়ে তুলছেন।
এতে সময় বাঁচছে, কিন্তু মানুষের ভূমিকা একেবারে শেষ হয়ে যাচ্ছে না।
এই প্রশ্নটাই সবচেয়ে বেশি ঘোরাফেরা করছে। অনেক লেখক ভাবছেন, এলএলএম কি তাঁদের কাজ কেড়ে নেবে।
বাস্তবতা হলো, এলএলএম তথ্য সাজাতে পারে, ভাষার কাঠামো তৈরি করতে পারে, কিন্তু অভিজ্ঞতা, অনুভূতি আর সমাজের সূক্ষ্ম দিকগুলো ধরতে এখনও মানুষের উপরই নির্ভর করতে হয়।
একজন গ্রামবাংলার সমস্যা নিয়ে লেখা লেখক যে আবেগ আর বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে পারেন, এলএলএম তা পারে না। কারণ এলএলএম সেই জীবন যাপন করেনি।
এলএলএম-এর কিছু স্পষ্ট সুবিধা আছে, যেগুলি অস্বীকার করা যায় না।
প্রথমত, সময় বাঁচায়।
দ্বিতীয়ত, লেখার কাঠামো তৈরি সহজ হয়।
তৃতীয়ত, একাধিক বিষয় নিয়ে দ্রুত আইডিয়া পাওয়া যায়।
চতুর্থত, নতুন লেখকদের জন্য এটি এক ধরনের সহায়ক হতে পারে।
একজন নতুন ব্লগার এলএলএম থেকে প্রাথমিক ধারণা নিয়ে নিজের ভাষায় লিখতে পারেন।
এলএলএম ব্যবহার করলে একটি বড় ঝুঁকি তৈরি হয়, লেখার মধ্যে মানুষের স্বাভাবিক ছাপ কমে যায়। অনেক সময় লেখা পড়ে মনে হয়, ভাষা ঠিক আছে, কিন্তু প্রাণ নেই।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা। এলএলএম কখনও কখনও ভুল তথ্যও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে লিখে দেয়। সেই লেখা যাচাই না করলে পাঠকের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছাতে পারে।
বিশেষ করে স্বাস্থ্য, আইন বা আর্থিক বিষয়ক কন্টেন্টে এই ঝুঁকি আরও বেশি।
গুগল স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, তাদের কাছে লেখার উৎসের চেয়ে লেখার মান বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মানে লেখা মানুষ লিখুক বা প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি হোক, যদি তা পাঠকের উপকারে আসে, তাহলে গ্রহণযোগ্য।
কিন্তু একঘেয়ে, পুনরাবৃত্তিমূলক, মূল্যহীন কন্টেন্ট সহজেই চিহ্নিত হয়ে যাচ্ছে। ফলে কেবল এলএলএম দিয়ে大量 লেখা তৈরি করে লাভবান হওয়ার পথ ধীরে ধীরে বন্ধ হচ্ছে।
বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে এলএলএম-এর সীমাবদ্ধতা আরও স্পষ্ট। বাংলা একটি আবেগপ্রবণ ভাষা। আঞ্চলিক শব্দ, কথ্য ভঙ্গি, সাংস্কৃতিক ইঙ্গিত—এই সব কিছু ঠিকভাবে ধরতে এলএলএম এখনও পুরোপুরি সক্ষম নয়।
ফলে বাংলা কন্টেন্টে মানুষের সম্পাদনা না থাকলে লেখা প্রায়ই কৃত্রিম শোনায়।
এলএলএম আসার পর কন্টেন্ট রাইটারের কাজ শুধু লেখা নয়। এখন তাঁকে হতে হচ্ছে সম্পাদক, যাচাইকারী এবং গল্পকার।
একজন ভালো লেখক এলএলএমকে ব্যবহার করবেন একটি হাতিয়ার হিসেবে, নিজের বিকল্প হিসেবে নয়।
যিনি প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে বুঝে ব্যবহার করবেন, তিনিই ভবিষ্যতে টিকে থাকবেন।
অনেক তরুণ লেখক ভাবছেন, এখন কি কন্টেন্ট রাইটিং শেখা অর্থহীন। বাস্তবে উল্টোটা সত্যি।
ভালো ভাষাজ্ঞান, গবেষণা ক্ষমতা আর মানুষের মন বোঝার দক্ষতার মূল্য আরও বাড়ছে। এলএলএম এগুলি তৈরি করতে পারে না।
তাই লেখালেখি শেখা বন্ধ নয়, বরং আরও গুরুত্ব দিয়ে শেখা দরকার।
আগামী দিনে কন্টেন্ট রাইটিং হবে মানুষ ও প্রযুক্তির যৌথ কাজ। এলএলএম খসড়া বানাবে, তথ্য সাজাবে, আর মানুষ তাতে প্রাণ দেবে।
যে কন্টেন্টে মানুষের অভিজ্ঞতা, স্থানীয় বাস্তবতা আর বিশ্বাসযোগ্য তথ্য থাকবে, সেটাই পাঠকের কাছে টিকবে।
কন্টেন্ট রাইটিংয়ে এলএলএম একটি শক্তিশালী পরিবর্তনের নাম। এটি লেখালেখির শেষ নয়, বরং নতুন রূপ।
যারা শুধু কপি পেস্টের উপর নির্ভর করতেন, তাদের জন্য সময় কঠিন। কিন্তু যারা চিন্তা করেন, প্রশ্ন তোলেন, সমাজকে বোঝেন, তাদের জন্য সুযোগ আরও বড় হচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত কন্টেন্ট মানেই মানুষের কথা, মানুষের জন্য লেখা। প্রযুক্তি সেখানে সহায়ক হতে পারে, সিদ্ধান্তকারী নয়।
Know more: ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা শুরু করে কিভাবে টাকা উপার্জন করা যায় | সম্পূর্ণ গাইড
Know more: গুগল অ্যাডসেন্সের শীর্ষ আয়কারী কারা? ব্লগার ও ইউটিউবারদের বাস্তব তালিকা ও আয়ের রহস্য
আমি অনলাইনে আয় ও ক্যারিয়ার বিষয়ক তথ্য শেয়ার করি, যাতে নতুনরাও সহজে শুরু করতে পারে। নির্ভরযোগ্য গাইডলাইন ও আপডেট দিতে নিয়মিত লিখে যাচ্ছি।
নতুন যুগের আয়ের বাস্তব পথ, সুযোগ আর চ্যালেঞ্জ এক সময় আয় মানেই ছিল চাকরি বা…
ভ্রমণ মানেই শুধু ঘোরাঘুরি নয়, আজকের দিনে ভ্রমণ নিজেই একটি বড় ব্যবসা। করোনা পরবর্তী সময়ে…
অনলাইনে আয়ের কথা উঠলেই যে নামটি প্রথমে সামনে আসে, তা হলো গুগল অ্যাডসেন্স। অনেকের কাছে…
অনলাইনে আয় নিয়ে কথা উঠলেই আজকাল অনেকের চোখে একরাশ সন্দেহ। কেউ বলেন সবটাই ভুয়ো, কেউ…
লেখালেখি কি আজ সত্যিই পেশা হতে পারে? এক সময় লেখালেখি মানেই ছিল শখ। কেউ কবিতা…
অনলাইন ইনভেস্টমেন্ট শব্দটা শুনলেই অনেকের মাথায় প্রথমে আসে ঝুঁকি, প্রতারণা আর রাতারাতি ধনী হওয়ার ভ্রান্ত…
View Comments