how to earn money by content writing
এক সময় লেখালেখি মানেই ছিল শখ। কেউ কবিতা লিখতেন, কেউ গল্প, কেউ বা ডায়েরির পাতায় মনের কথা লিখে রাখতেন। কিন্তু সময় বদলেছে। আজ লেখালেখি শুধু শখ নয়, এটি অনেকের জন্য নিয়মিত আয়ের প্রধান উৎস। বিশেষ করে ইন্টারনেট আর স্মার্টফোনের যুগে কন্টেন্টের চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে ভালো লিখতে পারলে ঘরে বসেই রোজগার করা সম্ভব।
ভারতের মতো দেশে, যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিদিন মোবাইলে খবর পড়েন, ভিডিও দেখেন, ব্লগ পড়েন, সেখানে কন্টেন্ট রাইটারদের প্রয়োজন আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। প্রশ্ন একটাই—কন্টেন্ট লিখে আসলে টাকা আয় করা যায় কীভাবে?
এই লেখায় আমরা ধাপে ধাপে বুঝব, বাস্তব উদাহরণ সহ, কীভাবে একজন সাধারণ মানুষ লেখালেখিকে আয়ের রাস্তায় পরিণত করতে পারেন।
অনেকের ধারণা, কন্টেন্ট মানেই শুধু আর্টিকেল বা ব্লগ। আসলে কন্টেন্টের পরিসর অনেক বড়।
কন্টেন্ট হতে পারে
সংবাদ প্রতিবেদন
ব্লগ পোস্ট
ওয়েবসাইটের লেখা
ইউটিউব ভিডিওর স্ক্রিপ্ট
ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের পোস্ট
পণ্যের বর্ণনা
অ্যাপ বা সফটওয়্যারের লেখা
ইমেইল
গল্প, ধারাবাহিক, স্ক্রিপ্ট
আপনি যেকোনো তথ্য বা ভাবনা যখন এমনভাবে লিখছেন, যা পড়ে মানুষ উপকৃত হয়, সেটাই কন্টেন্ট।
ভারতে প্রতিদিন হাজার হাজার নতুন ওয়েবসাইট তৈরি হচ্ছে। প্রতিটি ওয়েবসাইটের দরকার লেখা।
নতুন ইউটিউব চ্যানেল হচ্ছে, দরকার স্ক্রিপ্ট।
অনলাইন শপিং সাইটে প্রতিদিন নতুন পণ্য যোগ হচ্ছে, দরকার পণ্যের বিবরণ।
ডিজিটাল মিডিয়া বেড়েছে, দরকার খবর ও ফিচার।
একটা ছোট উদাহরণ ধরা যাক। কলকাতার কোনো নতুন রেস্টুরেন্ট যদি অনলাইনে প্রচার করতে চায়, তাকে দরকার
ওয়েবসাইটের লেখা
গুগল ম্যাপে বিবরণ
সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট
ব্লগ রিভিউ
এই সবই কন্টেন্ট। আর এই কন্টেন্ট কেউ না কেউ লিখছে।
নিজের ব্লগ খুলে লেখা শুরু করা আজও কন্টেন্ট আয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী উপায়।
ধরা যাক, আপনি স্বাস্থ্য, রান্না, ধর্মীয় গল্প, সরকারি প্রকল্প, শেয়ার বাজার বা অনলাইন আয়ের বিষয়ে ভালো জানেন। সেই বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখা শুরু করলেন।
ব্লগ থেকে আয়ের উপায়
বিজ্ঞাপন দেখিয়ে
স্পন্সরড লেখা
অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক
নিজের ডিজিটাল প্রোডাক্ট বিক্রি
ভারতের অনেক মানুষ আছেন যারা বাংলায় ব্লগ লিখে মাসে কয়েক হাজার থেকে কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। শুরুতে সময় লাগে, কিন্তু একবার গতি এলে ব্লগ দীর্ঘদিন আয় করে।
অনেক অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং কনটেন্ট ওয়েবসাইট আছে, যারা ফ্রিল্যান্স লেখক নেয়।
এখানে কাজের ধরন
খবর লেখা
ফিচার লেখা
লাইফস্টাইল বা বিনোদন সংক্রান্ত লেখা
লোকাল নিউজ
কিছু জায়গায় প্রতি লেখার জন্য টাকা দেয়, কোথাও আবার শব্দ অনুযায়ী পারিশ্রমিক। নতুন লেখক হলেও যদি লেখার মান ভালো হয়, সুযোগ পাওয়া যায়।
ফ্রিল্যান্স মানে নিজের মতো করে কাজ করা। আপনি কোনো অফিসে বাঁধা নন।
ফ্রিল্যান্স কন্টেন্ট রাইটাররা কাজ করেন
ওয়েবসাইটের লেখা
ব্লগ পোস্ট
এসইও কন্টেন্ট
প্রোডাক্ট ডিসক্রিপশন
ভারতের অনেক স্টার্টআপ, ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি এবং ছোট ব্যবসা নিয়মিত ফ্রিল্যান্স লেখক খোঁজে। শুরুতে কম পারিশ্রমিক হলেও অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আয়ও বাড়ে।
আজ ইউটিউব মানেই ভিডিও, আর ভিডিও মানেই স্ক্রিপ্ট।
অনেক ইউটিউবার নিজেরা স্ক্রিপ্ট লেখেন না। তারা বাইরে থেকে লেখক নেন। বিশেষ করে
ইনফরমেশন ভিডিও
ধর্মীয় গল্প
ইতিহাস
মোটিভেশন
নিউজ ব্যাখ্যা
যদি আপনি গল্প বলার ভঙ্গিতে লিখতে পারেন, তাহলে স্ক্রিপ্ট রাইটিং আপনার জন্য বড় সুযোগ হতে পারে।
আজকাল ব্যবসা মানেই সোশ্যাল মিডিয়া। কিন্তু সবাই ভালো লিখতে পারে না।
অনেক দোকান, কোচিং সেন্টার, অনলাইন ব্যবসা এমন লোক খোঁজে, যে
ফেসবুক পোস্ট লিখবে
ইনস্টাগ্রাম ক্যাপশন লিখবে
প্রমোশনাল লেখা তৈরি করবে
লোকাল ব্যবসার সঙ্গে কাজ করে মাসে নির্দিষ্ট টাকা পাওয়াও সম্ভব।
যাঁরা গল্প বা নন-ফিকশন ভালো লেখেন, তাঁদের জন্য এই পথটা আলাদা।
আজকাল অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ইবুক বিক্রি হচ্ছে। অনেকে নিজের লেখা গল্প বা অভিজ্ঞতা বই আকারে প্রকাশ করছেন। সরাসরি বড় অঙ্কের আয় না হলেও, এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিচিতি ও আয়ের রাস্তা তৈরি করে।
অনেকেই ভাবেন, খুব বড় লেখক না হলে বুঝি আয় করা যায় না। বাস্তবে বিষয়টা এমন নয়।
প্রয়োজন
সহজ ভাষায় লেখার ক্ষমতা
পাঠকের সমস্যা বোঝা
ধৈর্য
নিয়মিত লেখা
শিখতে আগ্রহ
আপনি যদি এমনভাবে লিখতে পারেন, যেন একজন সাধারণ মানুষ পড়ে বুঝতে পারেন, তাহলেই যথেষ্ট।
ধরা যাক, আপনি পশ্চিমবঙ্গে থাকেন। আপনি লিখতে পারেন
রাজ্য সরকারের প্রকল্প
স্থানীয় মন্দিরের ইতিহাস
লোকাল উৎসব
চাকরির খবর
স্কুল ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য
এই ধরনের কন্টেন্টের পাঠক সবসময় থাকে। বড় ইংরেজি ওয়েবসাইটের সঙ্গে প্রতিযোগিতা না করে, লোকাল বিষয় নিয়ে লেখা অনেক সময় বেশি সফল হয়।
এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
সত্যি কথা বলতে গেলে, কন্টেন্ট লেখা কোনো রাতারাতি টাকা কামানোর স্কিম নয়।
প্রথম ৩ থেকে ৬ মাস
শেখা
ভুল করা
নিজের লেখা ঠিক করা
এরপর ধীরে ধীরে
কাজ আসতে শুরু করে
পাঠক বাড়ে
আয় শুরু হয়
অনেকে এক বছর সময় নিয়ে ভালো জায়গায় পৌঁছেছেন।
অনেকেই শুরুতেই হাল ছেড়ে দেন।
সাধারণ ভুলগুলো হল
অতিরিক্ত তাড়াহুড়ো
অন্যের লেখা নকল করা
অতিরিক্ত কঠিন ভাষা ব্যবহার
নিয়মিত না লেখা
শুধু টাকার দিকে তাকানো
লেখালেখিকে যদি পেশা করতে চান, আগে লেখাটাকে ভালোবাসতে হবে।
আগামী দিনে কন্টেন্টের চাহিদা আরও বাড়বে। কারণ
ডিজিটাল মিডিয়া বাড়ছে
লোকাল ভাষার গুরুত্ব বাড়ছে
ভারতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বাড়ছে
বিশেষ করে বাংলার মতো ভাষায় ভালো কন্টেন্টের চাহিদা এখনো অনেক।
কন্টেন্ট লিখে টাকা আয় করা সম্ভব, কিন্তু সেটা ধৈর্য আর পরিশ্রমের সঙ্গে। আপনি যদি সত্যিই লিখতে ভালোবাসেন, মানুষের কাজে লাগে এমন লেখা তৈরি করেন, তাহলে এই পথ আপনার জন্য খুলে যাবে।
লেখালেখি শুধু আয়ের রাস্তা নয়, এটি পরিচিতি তৈরি করে, আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং নিজের ভাবনাকে হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়।
আজ হয়তো আপনি ছোট করে শুরু করবেন, কিন্তু নিয়মিত লিখতে থাকলে একদিন লেখাই আপনার পরিচয় হয়ে উঠতে পারে।
Know more: ২০২৬ সালে অনলাইনে টাকা ইনভেস্ট করে দ্রুত আয় করার সেরা উপায়গুলো সম্পূর্ণ গাইড
know more: AI দিয়ে অনলাইন ইনকাম: ঘরে বসে আয়ের নতুন সুযোগ ও বাস্তব পথ
আমি অনলাইনে আয় ও ক্যারিয়ার বিষয়ক তথ্য শেয়ার করি, যাতে নতুনরাও সহজে শুরু করতে পারে। নির্ভরযোগ্য গাইডলাইন ও আপডেট দিতে নিয়মিত লিখে যাচ্ছি।
নতুন যুগের আয়ের বাস্তব পথ, সুযোগ আর চ্যালেঞ্জ এক সময় আয় মানেই ছিল চাকরি বা…
একটা সময় ছিল, যখন কন্টেন্ট রাইটিং মানেই একজন মানুষ টেবিলে বসে কলম বা কিবোর্ড নিয়ে…
ভ্রমণ মানেই শুধু ঘোরাঘুরি নয়, আজকের দিনে ভ্রমণ নিজেই একটি বড় ব্যবসা। করোনা পরবর্তী সময়ে…
অনলাইনে আয়ের কথা উঠলেই যে নামটি প্রথমে সামনে আসে, তা হলো গুগল অ্যাডসেন্স। অনেকের কাছে…
অনলাইনে আয় নিয়ে কথা উঠলেই আজকাল অনেকের চোখে একরাশ সন্দেহ। কেউ বলেন সবটাই ভুয়ো, কেউ…
অনলাইন ইনভেস্টমেন্ট শব্দটা শুনলেই অনেকের মাথায় প্রথমে আসে ঝুঁকি, প্রতারণা আর রাতারাতি ধনী হওয়ার ভ্রান্ত…
View Comments