how to earn from share market
আজকের দিনে শুধুমাত্র মাসিক বেতনের উপর ভরসা করে ভবিষ্যৎ নিরাপদ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বাড়ছে খরচ, কমছে সঞ্চয়ের সুযোগ। ঠিক এই পরিস্থিতিতে অনেক সাধারণ মানুষই ভাবছেন—শেয়ার মার্কেট থেকে কি সত্যিই ইনকাম করা যায়?
কেউ বলে শেয়ার বাজার মানেই ঝুঁকি, আবার কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করে এখান থেকেই নাকি রাতারাতি ধনী হওয়া যায়। বাস্তবটা কিন্তু এই দুইয়ের মাঝামাঝি। শেয়ার মার্কেট কোনো জুয়া নয়, আবার ম্যাজিকও নয়। সঠিক জ্ঞান, ধৈর্য আর বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে শেয়ার মার্কেট ধীরে ধীরে একটি শক্ত আয় ও সম্পদ তৈরির মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।
এই প্রতিবেদনে একদম সহজ, স্বাভাবিক ভাষায় আলোচনা করা হবে—ভারতের প্রেক্ষাপটে শেয়ার মার্কেট থেকে কিভাবে নিরাপদ ও বাস্তব উপায়ে ইনকাম করা যায়।
সহজভাবে বললে, শেয়ার মার্কেট হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে বিভিন্ন কোম্পানির মালিকানার অংশ (শেয়ার) কেনা-বেচা করা হয়। আপনি যখন কোনো কোম্পানির শেয়ার কেনেন, তখন আপনি সেই কোম্পানির একজন অংশীদার হন।
ভারতে মূলত দুটি স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে এই লেনদেন হয়—
বর্তমানে অনলাইন ব্রোকার ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে খুব সহজেই শেয়ার বাজারে প্রবেশ করা যায়।
শেয়ার মার্কেট থেকে আয় করার সবচেয়ে নিরাপদ ও পরীক্ষিত উপায় হলো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। এতে ভালো ও বিশ্বস্ত কোম্পানির শেয়ার কিনে বহু বছর ধরে ধরে রাখা হয়।
এই পদ্ধতির সুবিধা
যাঁরা চাকরি করেন বা নিয়মিত বাজার দেখতে পারেন না, তাঁদের জন্য এই পদ্ধতি সবচেয়ে উপযোগী।
অনেক কোম্পানি তাদের লাভের একটি অংশ শেয়ারহোল্ডারদের দেয়, যাকে ডিভিডেন্ড বলা হয়। এটি এক ধরনের অতিরিক্ত ও তুলনামূলক স্থায়ী আয়।
ডিভিডেন্ড ইনকাম কাদের জন্য ভালো
এক্ষেত্রে শেয়ার বিক্রি না করেও আয় পাওয়া সম্ভব।
এখানে কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেয়ার কেনা-বেচা করা হয়। লাভের সুযোগ যেমন থাকে, তেমনই ঝুঁকিও বেশি।
যা মাথায় রাখা জরুরি
নতুনদের জন্য এটি শুরুতেই নেওয়া উচিত নয়।
একই দিনে শেয়ার কিনে বিক্রি করাকে ইন্ট্রাডে ট্রেডিং বলা হয়। বাইরে থেকে আকর্ষণীয় মনে হলেও বাস্তবে এটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথ।
বাস্তব সত্য
বিশেষ প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা ছাড়া এই পথে না যাওয়াই ভালো।
যাঁরা সরাসরি শেয়ার বাছতে স্বচ্ছন্দ নন, তাঁদের জন্য মিউচুয়াল ফান্ড একটি নিরাপদ বিকল্প।
মিউচুয়াল ফান্ড কেন ভালো
নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি খুবই কার্যকর পথ।
শেয়ার বাজারে তাড়াহুড়ো মানেই লোকসান। সময়কে কাজ করতে দিতে হয়।
কোম্পানি কীভাবে আয় করে, বাজার কেন ওঠানামা করে—এই বিষয়গুলো বোঝা জরুরি।
কেন শেয়ার কিনছেন, কতদিন রাখবেন—এই সিদ্ধান্ত আগে নেওয়া দরকার।
এই ভুলগুলো এড়াতে পারলেই অনেকটা নিরাপদ থাকা যায়।
না। শেয়ার মার্কেট কোনো শর্টকাট ধনী হওয়ার রাস্তা নয়। এখানে যারা ধৈর্য ধরে, নিয়ম মেনে, দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করে—তারাই ধীরে ধীরে লাভবান হয়।
ব্যাংকের সুদের হার কম, মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ গড়ার জন্য শেয়ার বাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে সেটি হতে হবে সচেতন ও দায়িত্বশীল বিনিয়োগের মাধ্যমে।
শেয়ার মার্কেট থেকে ইনকাম করা সম্ভব—কিন্তু সেটি সময়সাপেক্ষ ও শেখার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসে। আগে জ্ঞান অর্জন, তারপর ধীরে ধীরে বিনিয়োগ—এই নিয়ম মানলে শেয়ার বাজার ভবিষ্যতে আর্থিক নিরাপত্তার বড় ভরসা হয়ে উঠতে পারে।
প্রশ্ন: কত টাকা দিয়ে শেয়ার মার্কেট শুরু করা যায়?
উত্তর: বর্তমানে ৫০০–১০০০ টাকা দিয়েও শুরু করা সম্ভব।
প্রশ্ন: শেয়ার বাজারে কি নিয়মিত আয় করা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, তবে তা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ধৈর্যের উপর নির্ভর করে।
প্রশ্ন: নতুনদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ উপায় কোনটি?
উত্তর: দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও মিউচুয়াল ফান্ড।
প্রশ্ন: শেয়ার মার্কেট কি খুব ঝুঁকিপূর্ণ?
উত্তর: ঝুঁকি আছে, তবে সঠিক জ্ঞান থাকলে তা নিয়ন্ত্রণযোগ্য।
এই আর্টিকেলটি সাধারণ তথ্য ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে লেখা। এটি কোনো বিনিয়োগ পরামর্শ নয়। বিনিয়োগের আগে নিজস্ব গবেষণা ও প্রয়োজনে SEBI-র রেজিস্টার্ড ফিনান্সিয়াল অ্যাডভাইজারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
Know more: ব্লগিং থেকে কীভাবে উপার্জন করবেন? বাস্তব অভিজ্ঞতা ও তথ্যভিত্তিক সম্পূর্ণ গাইড
Know more: কিভাবে প্রতিদিন টাকা আয় করা যায়: ভারতের বাস্তব উপায়ে নিয়মিত রোজগারের সম্পূর্ণ গাইড
আমি অনলাইনে আয় ও ক্যারিয়ার বিষয়ক তথ্য শেয়ার করি, যাতে নতুনরাও সহজে শুরু করতে পারে। নির্ভরযোগ্য গাইডলাইন ও আপডেট দিতে নিয়মিত লিখে যাচ্ছি।
এক সময় আদানি গোষ্ঠীর শেয়ার মানেই ছিল দ্রুত বাড়তে থাকা দাম আর মোটা লাভের আশা।…
সপ্তাহের শেষ ট্রেডিং সেশনে পতনের ধারা কাটিয়ে উঠতে পারবে স্টক মার্কেট? নাকি চিন্তার ভাঁজ বাড়বে…
ডিজিটাল যুগে ব্লগিং এখন আর শুধুমাত্র ব্যক্তিগত মত প্রকাশের মাধ্যম নয়। সঠিক পরিকল্পনা ও বিশ্বাসযোগ্য…
বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় প্রতিদিন টাকা আয় করার বিষয়টি আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।…
নতুন যুগের আয়ের বাস্তব পথ, সুযোগ আর চ্যালেঞ্জ এক সময় আয় মানেই ছিল চাকরি বা…
একটা সময় ছিল, যখন কন্টেন্ট রাইটিং মানেই একজন মানুষ টেবিলে বসে কলম বা কিবোর্ড নিয়ে…
View Comments