adani group share fall
এক সময় আদানি গোষ্ঠীর শেয়ার মানেই ছিল দ্রুত বাড়তে থাকা দাম আর মোটা লাভের আশা। অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারী ভরসা করে এই গ্রুপের শেয়ারে টাকা ঢেলেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই একের পর এক আদানি কোম্পানির শেয়ারের দাম বড়সড় ধাক্কা খায়। যাঁরা বাজার নিয়মিত দেখেন না, তাঁদের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, হঠাৎ করে আদানি গোষ্ঠীর শেয়ারে এমন ধস নামল কেন?
এই লেখায় খুব সহজ ও স্বাভাবিক ভাষায় পুরো বিষয়টা বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে শেয়ার বাজার সম্পর্কে কম জানলেও ছবিটা পরিষ্কার হয়।
আদানি গোষ্ঠী শুধু একটি-দুটি কোম্পানি নয়। ভারতের বহু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের সঙ্গে এই গ্রুপ জড়িয়ে আছে। যেমন—
খুব দ্রুত একের পর এক ব্যবসা বাড়ানোর কারণেই আদানি গোষ্ঠী আলোচনায় ছিল। কিন্তু এই দ্রুত বৃদ্ধির মধ্যেই লুকিয়ে ছিল কিছু ঝুঁকি।
আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় যে অভিযোগটা ওঠে, তা হলো ঋণের পরিমাণ। বড় বড় প্রকল্প কিনতে এবং চালাতে বিপুল টাকা ধার নেওয়া হয়েছে।
এই প্রশ্নগুলোই বিনিয়োগকারীদের ভাবিয়ে তোলে।
একটি বিদেশি গবেষণা সংস্থা আদানি গোষ্ঠী নিয়ে একটি নেতিবাচক রিপোর্ট প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়—
আদানি গোষ্ঠী এই অভিযোগ মানেনি, কিন্তু শেয়ার বাজারে অনেক সময় খবরই দাম নাড়িয়ে দেয়। এই রিপোর্ট প্রকাশের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শেয়ার বাজারে বিশ্বাস খুব বড় বিষয়। বড় বিনিয়োগকারীরা যখন শেয়ার বিক্রি শুরু করেন—
আদানি শেয়ারের ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটাই দেখা যায়।
বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) সাধারণত বড় অঙ্কের টাকা নিয়ে বাজারে ঢোকেন। তাঁরা যখন কোনও শেয়ার থেকে বেরিয়ে যান—
আদানি গোষ্ঠীর কিছু শেয়ার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সরে যাওয়াও দামের পতনে বড় ভূমিকা নিয়েছে।
যখন কোনও বড় কোম্পানির শেয়ারে এমন ধস নামে, তখন স্বাভাবিকভাবেই নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলি বিষয়টি খতিয়ে দেখে।
তদন্ত মানেই যে দোষ প্রমাণ, তা নয়। কিন্তু তদন্ত চলাকালীন বাজারে অনিশ্চয়তা থেকেই যায়।
অনেক সাধারণ মানুষ আদানি শেয়ার কিনেছিলেন ভবিষ্যতের বড় লাভের আশায়। কিন্তু দাম পড়ে যাওয়ায়—
এই অবস্থায় আবেগের বশে সিদ্ধান্ত নিলে ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।
শেয়ার বাজারে সবচেয়ে বড় শত্রু হলো আতঙ্ক। তাই—
সব শেয়ার একরকম নয়, আর সব পতনও স্থায়ী হয় না।
এই মুহূর্তে চাপ থাকলেও আদানি গোষ্ঠীর হাতে অনেক বড় প্রকল্প রয়েছে।
তাই ভবিষ্যৎ পুরো ভালো বা পুরো খারাপ—এমন সিদ্ধান্ত এখনই টানা ঠিক নয়।
আদানি গোষ্ঠীর শেয়ারে ধস কোনও একদিনে তৈরি হওয়া ঘটনা নয়। ঋণের চাপ, বিদেশি রিপোর্ট, বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতি এবং নিয়ন্ত্রক নজর—সব মিলিয়েই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো আবেগ নয়, তথ্য দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া। কারণ শেয়ার বাজারে সচেতন থাকলেই ঝুঁকি কিছুটা হলেও কমানো যায়
ঝুঁকি অবশ্যই আছে। তবে ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করে আপনি কতদিনের জন্য বিনিয়োগ করছেন এবং কতটা ঝুঁকি নিতে পারেন তার উপর।
এর কোনও নিশ্চিত উত্তর নেই। বিনিয়োগের আগে নিজের আর্থিক অবস্থা ও লক্ষ্য বুঝে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
স্বল্পমেয়াদে কিছুটা অস্থিরতা এলেও ভারতীয় শেয়ার বাজারের ভিত এখনো যথেষ্ট মজবুত।
Know more: পুজোয় শেয়ার বাজারে লক্ষ্মীর কৃপা? কোন স্টকে মিলতে পারে লাভ?
Know more: শেয়ার মার্কেট থেকে কিভাবে ইনকাম করা যায়? সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ বাস্তব গাইড
আমি অনলাইনে আয় ও ক্যারিয়ার বিষয়ক তথ্য শেয়ার করি, যাতে নতুনরাও সহজে শুরু করতে পারে। নির্ভরযোগ্য গাইডলাইন ও আপডেট দিতে নিয়মিত লিখে যাচ্ছি।
সপ্তাহের শেষ ট্রেডিং সেশনে পতনের ধারা কাটিয়ে উঠতে পারবে স্টক মার্কেট? নাকি চিন্তার ভাঁজ বাড়বে…
আজকের দিনে শুধুমাত্র মাসিক বেতনের উপর ভরসা করে ভবিষ্যৎ নিরাপদ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বাড়ছে…
ডিজিটাল যুগে ব্লগিং এখন আর শুধুমাত্র ব্যক্তিগত মত প্রকাশের মাধ্যম নয়। সঠিক পরিকল্পনা ও বিশ্বাসযোগ্য…
বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় প্রতিদিন টাকা আয় করার বিষয়টি আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।…
নতুন যুগের আয়ের বাস্তব পথ, সুযোগ আর চ্যালেঞ্জ এক সময় আয় মানেই ছিল চাকরি বা…
একটা সময় ছিল, যখন কন্টেন্ট রাইটিং মানেই একজন মানুষ টেবিলে বসে কলম বা কিবোর্ড নিয়ে…